ঢাকা ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এবার বাস্তবের ‘মোয়ানা’ আসছে পর্দায় দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ মার্কিন বিমান হামলায় ৩ আইআরজিসি সদস্য নিহত সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী আরও দুটি নতুন ইলেকট্রিক বাইক আনলো রিভো বাংলাদেশ ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি আর্জেন্টিনা কি সত্যিই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে? আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ একটু অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে অসামান্য উপহার জামালপুরে সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ শোন অ্যারেস্ট বহিরাগত প্রবেশে নিরাপত্তা শঙ্কায় ইবির শিক্ষার্থীরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন আদনান আজাদ জনপ্রশাসনে বড় পদোন্নতি, ১৭২ জন হলেন যুগ্মসচিব কারেনের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের পুঁজি ২৪৭ প্রিয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে সংসদে এমপিদের অসন্তোষ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস আহসান হাবীব: কবিতায় নিবিড়, গভীর অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র ব্র্যাক ব্যাংকের ৫০ হাজার কোটি টাকার রিটেইল ডিপোজিট মাইলফলক শিশুশিক্ষায় প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল বাড়াতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ ইউজিসির টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা: পাঁচ মাস পর বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড রক্ত পরীক্ষায় ভয় নয় দেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি অপশন নিয়ে এলো পাঠাও পার্সেল সিলেট সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, সতর্ক বিজিবি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও ত্রাণ সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি: ত্রাণমন্ত্রী

সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সাঙ্গুর পানি বিপৎসীমার উপরে, সাতকানিয়ায় পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। ছবি: খবরের কাগজ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম ও ডলু নদীর পাড় ভাঙনের ফলে পানি লোকালয়ে ঢুকে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
 
অনেক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে শত শত হেক্টর ধানি জমি, সবজিখেত ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।
 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছেই। এতে বৃহত্তর বড়দুয়ারা, মাহালিয়া, কাটাখালীকুল, নতুনপাড়া ও বটতল হিন্দুপাড়ার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
 
আবার অনেক ইউনিয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজার ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দি পরিবারগুলোর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
 
গতকাল বুধবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার রামপুর বায়তুশ শরফ এলাকায় ডলু নদীর পাড় ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করলে বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় স্থানীয়রা পাড় রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
 
পৌরসভার থানা ঘাট ও নুরুর দোকান এলাকায় পাড় উপচে পানি ঢুকে থানা, চৌকি আদালত, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, পৌরসভা, সরকারি কলেজ, সার্কেল অফিস, ভূমি অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি ঢুকে পড়ে।
 
এ ছাড়াও সামিয়ার পাড়া, আশেকর পাড়া, বোয়ালিয়া পাড়া, খলিফা পাড়া, গোয়াজর পাড়া, চর পাড়া ও ইছামতিকুলের অসংখ্য বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে।
 
পানি বিজ্ঞান উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ৬.৬০ মিটার, ৯টায় ৬.৬৯ মিটার এবং বেলা ১২টায় ৬.৭৫ মিটার সীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতি ৩ ঘণ্টা পর পর পানির স্তরের তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রতিমুহূর্তেই সাঙ্গু নদীর পানি বাড়ছে।
 
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ০.২০ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এ সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডলু নদীটি ছোট হওয়ায় এর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।
 
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচের তলা পানিতে ডুবে গেছে। এসবের মধ্যেও আমরা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পানিবন্দি পরিবারগুলোর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেড় হাজার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার পৌঁছানোর কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। এরপরও যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছাতে আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
 
আরিফুল ইসলাম/আজহার/

দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
দুই বছর পর খুলল আখাউড়া-ভারত ভ্রমণ ভিসার পথ
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ভ্রমণ ভিসায় আবারও ভারতে যাওয়া শুরু করেছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।
 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভ্রমণ ভিসায় প্রথম একজন বাংলাদেশি ভারতে প্রবেশ করেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলো।
 
সরেজমিনে আখাউড়া স্থলবন্দরে দেখা যায়, এদিন ভারত থেকে ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসা যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া অধিকাংশ যাত্রী চিকিৎসা ভিসায় গেলেও ভ্রমণ ভিসায় প্রথম যাত্রীর পারাপার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
 
ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরেই আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার বাড়ছে। ভ্রমণ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশি যাত্রীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
সূত্র আরও জানায়, প্রায় দুই বছর পর দেওয়া ভ্রমণ ভিসায় প্রথম ভারতে যাওয়া ওই যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনি গত ২৮ জুন ভিসার জন্য আবেদন করেন এবং ৮ জুলাই ছয় মাস মেয়াদি ভিসা পান।
 
আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একজন বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসায় ভারতে গেছেন। ৮ জুলাই থেকে ভ্রমণ ভিসা ইস্যু শুরু হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। প্রায় দুই বছর পর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলস্থ ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে গত ২৮ জুন থেকে ভ্রমণ ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ৮ জুলাই থেকে আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়া শুরু হয়েছে।
 
জুটন বনিক/এসএন

সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে ভেসে উঠলো ৩টি মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সাঙ্গু নদী থেকে লোকালয়ে প্রবেশ করা পানির প্রবল স্রোতে একটি কবরস্থান থেকে তিনটি মরদেহ ভেসে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাজালিয়া আলতাব আলী চৌধুরী জামে মসজিদের কবরস্থান থেকে মরদেহ তিনটি ভেসে উঠে ঝোপঝাড়ের সঙ্গে আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর তারা মরদেহগুলো মসজিদের খাটিয়ায় রাখেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ মুরাদ বলেন, পানির প্রবল স্রোতে মরদেহ তিনটি কবরস্থান থেকে ভেসে উঠেছে। এরপর সেগুলো অন্য কবরস্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিবছর বন্যার সময় সাঙ্গু নদীর পানির স্রোতে এ মসজিদের কবরস্থান থেকে অনেক মরদেহ ভেসে যায়। কিন্তু এ সমস্যা সমাধানের জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। আজিজ কেরানির বাড়ি থেকে মো. ইলিয়াছের বাড়ি পর্যন্ত নদীর পাড়ের অংশে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি লাখো মানুষ
পেকুয়ার মেহেরনামায় প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে কবরস্থানের একাংশ তলিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থান রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। ছবি: খবরের কাগজ

চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা ডবলতলী এলাকায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে তাওসিফ (১০) ও রুমি আক্তার (১২) নামে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে মৃত্যুর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধসে নিহত শিশু রুমির মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও চাল সহায়তা দিয়েছেন। এ ঘটনা ছাড়াও পেকুয়ার শিলখালীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ, ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও ফসলি জমি।

পেকুয়ার মেহেরনামা এলাকায় প্রবল স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধের সঙ্গে স্থানীয় একটি কবরস্থানের অংশবিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্রোতের তোড়ে একটি মরদেহও ভেসে গেছে, যা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে পেকুয়ায় এক মানবিক ঘটনা ঘটেছে। শিলখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ এনামের মেয়ের প্রসবব্যথা উঠলে পরিবারের সদস্যরা কোমর সমান পানি মাড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। 

বিষয়টি জানতে পেরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দ্রুত গাড়ির ব্যবস্থা করেন। অতিরিক্ত পানির কারণে গাড়িটি আটকে গেলেও পরবর্তীতে বিকল্প উপায়ে প্রসূতিকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিচু এলাকাগুলো সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা। কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুতের পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যে-সব  এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং পানি ঢুকেছে, সেসব স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল ফোনের টাওয়ারগুলোও কার্যক্রম চালাতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট টাওয়ারগুলোতে পর্যাপ্ত জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুৎ (সোলার ব্যাকআপ) ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নেটওয়ার্ক সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষ চরম যোগাযোগ সংকটে পড়েছেন এবং জরুরি তথ্য আদান-প্রদানেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ব্যাপক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে যাওয়া এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের সব টিম মাঠে নিরলসভাবে কাজ করছে।

টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রকিবুল/নাঈম

মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
মালা নয়, হাতে উঠল হাতকড়া
সবুজ গাজী। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় বিয়ে করতে এসে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সবুজ গাজী।
 
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। 
 
এর আগে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাচৌকিদার মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 
হাইমচর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ২০১৬ সালের একটি মাদক মামলার পরোয়ানা ভুক্ত আসামি শহিদ গাজী ওরফে সবুজ গাজী হাইমচর থানার চরভাঙ্গা (পূর্ব নাম গাজীপুর) এলাকার নুর ইসলাম গাজী ওরফে নুরুল হক গাজীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি ২য় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ের কনে দেখার প্রস্তুতির আগেই তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
 
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি সবুজকে কালাচৌকিদার মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠালে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।
 
এসএন/

টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
টানা বৃষ্টিতে কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পানির নিচে
ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের দস্তিদার হাট ব্রিজ, বুড়ির দোকান ব্রিজ ও অলি আহমদ কলেজ এলাকার অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে এ মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করা শুরু করলে, বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে।

অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ভ্যানের সাহায্যে পানিতে তলিয়ে যাওয়া অংশ অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

বুড়ির দোকান এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদী ও আশপাশের খালের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেসরকারি চাকুরিজীবী আল আমিন বলেন, আমি চট্টগ্রাম শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। আর আমার বাড়ি বান্দরবান পৌরসভার আর্মি পাড়ায় অবস্থিত। সেখানেও পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই পরিবারের কাছে ছুটে যাচ্ছি। কিন্তু মহাসড়কের বেশ কয়েকটি অংশ তলিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য একাধিক গাড়ি পরিবর্তন করে হলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের সাতকানিয়ার ৩টি অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বান্দরবানের কয়েকটা অংশে মহাসড়কের উপর পাহাড়ধস হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম