ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ উত্তরায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্যক্তির বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘অপারেশন লাইটনিং’ ইরানের কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা হস্তান্তর করলেন স্পিকার বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে হামলা ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ আড়াইহাজারে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন পাট প্রতিমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৮ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ফটিকছড়িতে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের দাবিতে হরতাল চলছে জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তিতাস নদীর তীর ভরাট করায় এনসিপি নেতাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে যেসব জায়গায় ঘুরতে যেতে পারেন

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ১১:২৪ এএম
আপডেট: ২৯ মে ২০২৬, ১১:৩২ এএম
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে যেসব জায়গায় ঘুরতে যেতে পারেন
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়, সমুদ্র আর সবুজ প্রকৃতি দিয়ে সাজানো দেশের প্রধান বিনোদনকেন্দ্র কক্সবাজার। ঈদুল আজহার ছুটিতে যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য কক্সবাজার হতে পারে মনের মতো আদর্শ গন্তব্য। একটু অবসরে দূরে কোথাও ঘুরে বেড়ানোর কথা মনে হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল জলরাশি আর বালুকাময় সমুদ্রসৈকত।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ভালো লাগে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। তাই কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে মানুষ বরাবরই ছুটে আসেন পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। তবে বেশিরভাগ পর্যটক শুধু সমুদ্রসৈকত ঘুরেই ফিরে যান। অথচ সৈকতের বাইরেও কক্সবাজারে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যেগুলোর অনেকগুলো এখনো অনেকের অজানা।

শাহপরীর দ্বীপ:

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। টেকনাফ শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এখান থেকে সমুদ্রকে তিন ভাগে উপভোগ করা যায়। রয়েছে দীর্ঘ জেটি, যেখানে দাঁড়িয়ে খুব সহজেই উপভোগ করা যায় সমুদ্র আর চারপাশের অপরূপ দৃশ্য। এই দ্বীপ থেকে দেখা যায় মিয়ানমারের মংডু অঞ্চল, সেখানকার পাহাড় এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপও। এখানে নতুন সংযোজন হয়েছে ৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক। সেটি দেখতে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।

যেভাবে যাওয়া যায়
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে টেকনাফ যাওয়া যায়। আবার ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসে সেখান থেকে বাস, কার, চাঁদের গাড়ি (ট্যুরিস্ট জিপ) অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় শাহপরীর দ্বীপে যাওয়া যায়।

এছাড়া সাবরাং এলাকায় নির্মাণাধীন ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’ দেখতে পর্যটকরা ছুটে যান। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি প্রায় ৩৯ হাজার পর্যটক সেখানে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। বর্তমানে চলমান কাজ দেখতে পর্যটকদের ভিড় থাকে সাবরাং জিরো পয়েন্টে।

জাহাজপুরা গর্জন ফরেস্ট:

কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী গর্জন বৃক্ষ। এই বাগানে রয়েছে ৫ হাজার ৭৭২টিরও বেশি গর্জন গাছ। একেকটি গাছের উচ্চতা ৭০ থেকে ৮০ ফুট এবং বেড় ১০ থেকে ১২ ফুট। শতবর্ষী এসব গাছ আর সবুজ অরণ্যের পরিবেশ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন পর্যটকরা।

যেভাবে যাওয়া যায়
কক্সবাজার থেকে রিজার্ভ গাড়িতে ৪ হাজার টাকার মধ্যে জাহাজপুরা যাওয়া যায়। লোকাল পরিবহনে গেলে কক্সবাজার থেকে শামলাপুর পর্যন্ত জনপ্রতি ১৫০-২০০ টাকা এবং শামলাপুর থেকে ২০-৩০ টাকা ভাড়ায় জাহাজপুরা গর্জন ফরেস্ট ঘুরে আসা যায়।

স্বপ্নতরী পার্ক:

কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুটের স্বপ্নতরী পার্ক নতুন বিনোদন স্পট হিসেবে নজর কেড়েছে। প্রায় ৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা পার্কটিতে দিন দিন বাড়ছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়।

রামু উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে রশিদনগর গুচ্ছগ্রামসংলগ্ন পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই পার্ক। স্বপ্নতরী জাহাজকে ঘিরে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে পুরো এলাকা। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য রয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী বিনোদনের ব্যবস্থা।

যেভাবে যাওয়া যায়
কক্সবাজার শহর অথবা রামু স্টেশন থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সাড়ে ৩০০-৩৫০ টাকার মধ্যে পার্কটিতে যাওয়া যায়।

নিভৃতে নিসর্গ পার্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘নিভৃতে নিসর্গ পার্ক’। এটি চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। মাতামুহুরী নদী ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এই পার্ক।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন পর্যটকরা ছুটে আসছেন এখানে। পাহাড়ের মাঝখানে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি লেক। সেখানে রয়েছে ছোট ছোট নৌকা ও কায়াকিংয়ের ব্যবস্থা। নীল জলের লেকে নৌকায় ভেসে দেখা যায় সাদা পাথরের পাহাড়। শ্বেতপাথরে যাওয়ার জন্যও রয়েছে সারি সারি নৌকা।

যেভাবে যাওয়া যায়
ঢাকা থেকে আসা পর্যটকরা কক্সবাজার শহরে না গিয়ে চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে পারেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা জিপ রিজার্ভ করে সরাসরি পার্কে যাওয়া যায়। এছাড়া লোকাল পথে মানিকপুর হয়ে ৫০ টাকা ভাড়ায়ও যাওয়া সম্ভব। চকরিয়ায় রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক হোটেল রয়েছে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কে পশুপাখি মুক্ত পরিবেশে বিচরণ করে। তাই প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন এখানে।

যেভাবে যাওয়া যায়
কক্সবাজার থেকে সরাসরি সাফারি পার্কে যাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৫০ টাকা। রিজার্ভ গাড়িতে গেলে খরচ হতে পারে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।

রামু বৌদ্ধ বিহার:

রামু বৌদ্ধ বিহার কক্সবাজার জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনা। রামুতে রয়েছে ৩৫টিরও বেশি বৌদ্ধ মন্দির ও জাদি। রামুর উত্তর মিঠাছড়ির পাহাড়চূড়ায় রয়েছে গৌতম বুদ্ধের ১০০ ফুট দীর্ঘ সিংহশয্যা মূর্তি। অদূরেই নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে কেন্দ্রীয় সীমাবিহার। এছাড়া লালচিং ও সাদাচিং বৌদ্ধ বিহারও রয়েছে।

যেভাবে যাওয়া যায়
কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জনপ্রতি ৪০ টাকা ভাড়ায় রামু যাওয়া যায়। রিজার্ভ নিলে খরচ হবে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ৪-৫ ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘুরলে বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ বিহার দেখা সম্ভব।

আদিনাথ মন্দির:

মহেশখালীর গোরকঘাটার মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আদিনাথ মন্দির। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। মন্দির কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে রাখাইন বৌদ্ধ বিহার ও মসজিদ। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশী উপলক্ষে এখানে ১০-১৫ দিনব্যাপী মেলা বসে।

যেভাবে যাওয়া যায়
কক্সবাজার শহর থেকে রিকশা বা ইজিবাইকে কস্তুরাঘাট বা ৬নম্বর জেটিঘাটে যেতে হবে। সেখান থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়ায় স্পিডবোটে মহেশখালী যাওয়া যায়। রিজার্ভ নিলে খরচ প্রায় ১০০০ টাকা।

সোনাদিয়া দ্বীপ:

কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান সোনাদিয়া দ্বীপ। ম্যানগ্রোভ বন ও উপকূলীয় সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই দ্বীপটি মহেশখালী উপজেলার অন্তর্গত। সূর্যাস্ত উপভোগ ও চাঁদনি রাতে ক্যাম্পিংয়ের জন্য এটি খুব জনপ্রিয়।

যেভাবে যাওয়া যায়
কক্সবাজার কস্তুরাঘাট থেকে স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সোনাদিয়া যাওয়া যায়। স্পিডবোট রিজার্ভে ভাড়া পড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। মহেশখালী হয়ে যেতে চাইলে প্রথমে জনপ্রতি ৭৫ টাকা ভাড়ায় মহেশখালী যেতে হবে। এরপর গোরকঘাটা হয়ে ঘটিভাঙ্গা পৌঁছে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হতে হয়।

মেরিন ড্রাইভ:

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সড়ক। ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে কলাতলী সৈকত থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত।

যেভাবে যাওয়া যায়
যেকোনো যানবাহনে ৮-১০ ঘণ্টার মধ্যে পুরো মেরিন ড্রাইভ ঘুরে দেখা যায়। রিজার্ভ গাড়িতে ঘুরতে খরচ হতে পারে প্রায় ৬ হাজার টাকা। লোকাল পরিবহনে কক্সবাজার থেকে সাবরাং যেতে জনপ্রতি প্রায় ৩০০-৩৫০ টাকা লাগতে পারে।

টেকনাফ জেটি ও মাথিনের কূপ:

টেকনাফ শহরের পূর্ব পাশে নাফ নদীর তীরে অবস্থিত টেকনাফ জেটি। এখান থেকে মিয়ানমার খুব কাছ থেকে দেখা যায়। থানা চত্বরে রয়েছে ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ।

যেভাবে যাওয়া যায়
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ শহরের থানার সামনে গেলেই মাথিনের কূপ দেখা যাবে। বিভিন্ন যানবাহনে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। রিজার্ভ গাড়িতে গেলে খরচ হবে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা।

টেকনাফ ন্যাচার পার্ক:

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকায় অবস্থিত টেকনাফ ন্যাচার পার্ক। টেকনাফ শহর থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই শতবর্ষী পার্কে রয়েছে সবুজ পাহাড়ি পরিবেশের অপার সৌন্দর্য।

যেভাবে যাওয়া যায়
টেকনাফ শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ২৫০ টাকার মধ্যে ন্যাচার পার্কে যাওয়া যায়।

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হলেও বালুকাময় সৈকতের পাশাপাশি বন-উপবন, খাল-নদী, ঝিরি-ঝর্ণা ও বন্যপ্রাণীতে ভরপুর এ জেলায় রয়েছে আরও অনেক অজানা সৌন্দর্য। ঈদের ছুটিতে এসব স্থান ঘুরে আসতে পারেন।

অমিয়/

পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক
সাজেক ভ্যালি। ছবি : সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ৮ দিন পর গতকাল বুধবার থেকে সাজেক ভ্যালিসহ বাঘাইছড়ির সব পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এর আগে অব্যাহত ভারী বর্ষণে প্রাণহানি এড়াতে গত ৭ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় সাজেক ভ্যালি। গতকাল রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে চলতি মৌসুমে এ জেলায় চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সময় জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ৭ জুলাই জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস, পাহাড়ধস ও যোগাযোগব্যবস্থার অবনতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনসাধারণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালির সব পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময় সাজেকের সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কটেজ, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটকসহ সসর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

বেলাই বিল প্রকৃতির কোলে এক নির্মল জলভূমি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
প্রকৃতির কোলে এক নির্মল জলভূমি
বেলাই বিল।

গাজীপুর মানেই অনেকের কাছে শিল্পাঞ্চল, ব্যস্ত সড়ক আর জনবহুল নগর জীবনের ছবি। কিন্তু এই জেলার বুকেই লুকিয়ে আছে এক শান্ত, সবুজ আর জলময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাজ্য–বেলাই বিল। শহরের কোলাহল থেকে খুব বেশি দূরে নয়, অথচ এখানে পৌঁছালে মনে হয় যেন অন্য এক জগতে চলে এসেছি। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি, শাপলা-শালুকের সমারোহ, নৌকার মৃদু দোলা, পাখির কূজন আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি মিলিয়ে বেলাই বিল হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমী, আলোকচিত্রী ও ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। যারা খুব অল্প সময়ে ঢাকার কাছাকাছি কোথাও প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য বেলাই বিল হতে পারে আদর্শ একটি ভ্রমণস্থল।

বেলাই বিলের পরিচয় ও ইতিহাস

বেলাই বিল মূলত একটি প্রাকৃতিক জলাভূমি, যা গাজীপুর জেলার শ্রীপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। বহু বছর ধরেই এটি স্থানীয় মানুষের জীবিকা, কৃষিকাজ এবং মাছ ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে আশপাশের খাল ও নদীর পানি এসে পুরো বিলটি বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এর অনেক অংশ কৃষিজমিতে রূপ নেয়, যেখানে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়।
একসময় বেলাই বিল ছিল মূলত স্থানীয়দের পরিচিত একটি জলাভূমি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর মনোমুগ্ধকর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে এটি পর্যটকদের নজরে আসে। বর্তমানে সপ্তাহান্তে ও ছুটির দিনে অসংখ্য মানুষ এখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।

 

কোথায় অবস্থিত

বেলাই বিল গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ ও শ্রীপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ঢাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় এটি একদিনের ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিলের বিভিন্ন অংশে প্রবেশের একাধিক পথ রয়েছে। পর্যটকদের বেশির ভাগই কালীগঞ্জ উপজেলার দিক দিয়ে প্রবেশ করেন, কারণ সেখান থেকে নৌকা ভ্রমণের সুযোগ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বেলাই বিলে যাওয়া বেশ সহজ। রাজধানীর উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর কিংবা কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গাজীপুর বা কালীগঞ্জগামী বাসে উঠতে পারেন। কানাইয়া বাজার নেমে নির্দিষ্ট স্থান থেকে অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা স্থানীয় পরিবহনে বিলের ঘাটে পৌঁছে যাবেন।
ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরসাইকেলে গেলেও যাত্রা বেশ আরামদায়ক। সড়কপথে ঢাকার যানজটের ওপর নির্ভর করে সাধারণত দেড় থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই বেলাই বিলে পৌঁছানো সম্ভব। ঘাটে পৌঁছে স্থানীয় মাঝিদের নৌকা ভাড়া করে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। দলবেঁধে গেলে একটি নৌকা ভাড়া করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক।

 

বেলাই বিলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

বেলাই বিলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর বিশাল জলরাশি ও নিরিবিলি পরিবেশ। নৌকায় বসে চারদিকে তাকালে যত দূর চোখ যায় শুধু পানি আর সবুজের সমারোহ। বর্ষাকালে বিলজুড়ে ফুটে থাকা সাদা ও গোলাপি শাপলা প্রকৃতিকে আরও মোহনীয় করে তোলে।
নৌকার ধীরগতির সঙ্গে হালকা বাতাস, দূরে জেলেদের মাছ ধরা, কোথাও কোথাও পানির ওপর ভেসে থাকা জলজ উদ্ভিদ–সব মিলিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। সকাল কিংবা বিকেলের আলোয় বিলের সৌন্দর্য যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সূর্যাস্তের সময় আকাশের লালচে আভা পানির ওপর প্রতিফলিত হয়ে এক অপূর্ব দৃশ্যের জন্ম দেয়, যা যেকোনো দর্শনার্থীর মন ছুঁয়ে যায়।

প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার

বেলাই বিল শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা ও শীত মৌসুমে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। পানকৌড়ি, বক, মাছরাঙা, ডাহুকসহ নানা ধরনের জলচর পাখি এই বিলের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
এছাড়া বিলে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। স্থানীয় জেলেরা বছরের বিভিন্ন সময় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জলজ উদ্ভিদ, শাপলা, শালুক এবং চারপাশের সবুজ গাছপালা মিলিয়ে পুরো এলাকাটি একটি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলেছে।

 

কখন গেলে সবচেয়ে ভালো লাগবে

বেলাই বিল ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বর। এ সময় পুরো বিল পানিতে পরিপূর্ণ থাকে এবং নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর প্রকৃত আনন্দ পাওয়া যায়। বর্ষার শেষে শাপলার সমারোহও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়েও এখানে যাওয়া যায়। এ সময় আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকে এবং অনেক পরিযায়ী পাখি দেখা যায়। তবে গ্রীষ্মের শেষ দিকে বিলের পানি কমে যাওয়ায় নৌকা ভ্রমণের সুযোগ সীমিত হতে পারে।

আলোকচিত্রীদের জন্য স্বর্গ

প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালোবাসেন এমন মানুষের কাছে বেলাই বিল একটি অসাধারণ লোকেশন। ভোরের কুয়াশা, সকালের কোমল আলো, বিকেলের সোনালি সূর্যাস্ত, পানিতে ভেসে থাকা শাপলা কিংবা জেলের নৌকা–সবই ক্যামেরাবন্দি করার মতো অনন্য দৃশ্য।

খাবার ও অন্যান্য সুবিধা

বেলাই বিল এলাকায় বড় ধরনের পর্যটন অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই সেখানে উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট বা খাবারের ব্যবস্থা সীমিত। স্থানীয় ছোট দোকানে হালকা নাশতা ও পানীয় পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় খাবার সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
এছাড়া বিশুদ্ধ পানীয় জল, ছাতা, সানস্ক্রিন, টুপি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখলে ভ্রমণ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

 

ভ্রমণের সময় যে সতর্কতা মানবেন

বেলাই বিল ভ্রমণে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। নৌকায় ওঠার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে এবং সম্ভব হলে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত। শিশুদের সব সময় বড়দের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে।
প্লাস্টিক, বোতল বা খাবারের মোড়ক পানিতে কিংবা আশপাশে ফেলে পরিবেশ দূষণ করা উচিত নয়। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোও একজন দায়িত্বশীল পর্যটকের কর্তব্য। বর্ষাকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাওয়া ভালো, কারণ হঠাৎ ঝড় বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকতে পারে।

একদিনের ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য

প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, নৌকা ভ্রমণ উপভোগ করেন কিংবা শহরের কোলাহল থেকে কিছু সময়ের জন্য মুক্তি চান–সব ক্ষেত্রেই বেলাই বিল আপনাকে নিরাশ করবে না। এই জলাভূমির শান্ত পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি এবং বিস্তীর্ণ জলরাশি আপনাকে নতুন করে প্রকৃতির প্রেমে পড়তে বাধ্য করবে। তাই সুযোগ পেলেই একদিন ঘুরে আসতে পারেন গাজীপুরের এই অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঠিকানা–বেলাই বিল।

রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ এএম
রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সাজেক ভ্যালি, রাঙামাটি। খবরের কাগজ
রাঙামাটিতে অব্যাহত ভারী বর্ষণে প্রাণহানি এড়াতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। 
 
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস, পাহাড়ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনসাধারণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
 
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময় সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কটেজ, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটকসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
 
জিয়াউর রহমান/আজহার

বাল্টিক সাগরের বুকে ২২ ঘণ্টার স্বপ্নযাত্রা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
বাল্টিক সাগরের বুকে ২২ ঘণ্টার স্বপ্নযাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ইউরোপের গ্রীষ্ম যেন প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। দীর্ঘ শীতের অবসান ঘটিয়ে জুলাই মাসের উজ্জ্বল রোদ, নির্মল আকাশ আর বাল্টিক সাগরের শীতল বাতাস মানুষের জীবনে নতুন প্রাণ এনে দেয়। সেই অপার সৌন্দর্যের মধ্যেই আমরা তিন বন্ধু সপরিবারে বেরিয়ে পড়ি এক অনন্য সমুদ্রভ্রমণে।

আমি জামান সরকার। সঙ্গে ছিলেন রুবেল ভুঁইয়া ও কামরুল হাসান জনি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি টালিংক সিলজা লাইনের বিলাসবহুল প্রমোদতরি ভিক্টোরিয়া ওয়ানে চড়ে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হেলসিংকি বন্দর ছেড়ে ধীরে ধীরে বাল্টিক সাগরের নীল জলরাশির বুকে এগিয়ে যায় ১২ তলাবিশিষ্ট এই ভাসমান প্রাসাদ। পরদিন বিকেল ৪টায় আবার হেলসিংকিতে ফিরে আসা পর্যন্ত প্রায় ২২ ঘণ্টার এই সমুদ্রযাত্রা আমাদের জন্য হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

তিন বন্ধু, তিন পরিবার, তিনটি কেবিন

এই ভ্রমণে আমরা তিন বন্ধু নিজেদের পরিবার নিয়ে অংশ নিই। আমাদের জন্য জাহাজের ৯ম তলায় তিনটি পৃথক কেবিন বুক করা হয়েছিল।

আরামদায়ক, পরিচ্ছন্ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কেবিনগুলো ছিল সমুদ্রের বুকে ছোট্ট এক শান্তির আশ্রয়। কেবিনের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি, দূরের দ্বীপপুঞ্জ এবং সমুদ্রতীরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

আমরা তিনজনই নিজস্ব গাড়ি নিয়ে এসেছিলাম। ভিক্টোরিয়া ওয়ানের সুবিশাল গাড়ি রাখার ডেকে নিরাপদে গাড়ি পার্ক করার ব্যবস্থা ছিল। প্রায় ৪০০টি গাড়ি বহনের সক্ষমতা রয়েছে জাহাজটির।

ভিক্টোরিয়া ওয়ান: সমুদ্রের বুকে এক ভাসমান নগরী

২০০৪ সালে নির্মিত ভিক্টোরিয়া ওয়ান আজও বাল্টিক সাগরের অন্যতম জনপ্রিয় প্রমোদতরি। জাহাজটি শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং এটি যেন সমুদ্রের বুকে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক নগরী।

টালিংক সিলজা লাইনের ভিক্টোরিয়া ওয়ান জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১৯৩ মিটার এবং প্রস্থ ২৯ মিটার। ১২ ডেকবিশিষ্ট জাহাজটিতে রয়েছে ৭৩৯টি কেবিন। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন এবং শয্যা রয়েছে ২ হাজার ২৫০টিরও বেশি। পাশাপাশি জাহাজটিতে প্রায় ৪০০টি গাড়ি বহনের সক্ষমতা রয়েছে। জাহাজটি হেলসিংকি–তাল্লিন–হেলসিংকি রুটে চলাচল করে।

জাহাজটিতে রয়েছে আধুনিক আবাসন, আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ, কেনাকাটাকেন্দ্র, বিনোদনকেন্দ্র, নৈশক্লাব, শিশুদের খেলাধুলার স্থান এবং বিশ্রামের নানা ব্যবস্থা।

রাজকীয় খাবারের আয়োজন

ভিক্টোরিয়া ওয়ানের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল খাবারের বিপুল আয়োজন। জাহাজে রয়েছে ৮ থেকে ১০টি রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, বার ও লাউঞ্জ। সন্ধ্যায় আমরা উপভোগ করি বিখ্যাত গ্র্যান্ড বুফে, যা সত্যিই ছিল রাজকীয়।

সেখানে ছিল সামুদ্রিক মাছ, স্যামন, গ্রিল করা মাংস, বিভিন্ন ধরনের পনির, তাজা ফলমূল, সালাদ, কেক, আইসক্রিম ও ডেজার্ট; পাশাপাশি ছিল ইউরোপীয় ও স্ক্যান্ডিনেভীয় বিশেষ খাবার।

প্রতিটি খাবারের পরিবেশনা ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও যত্নশীল।

পরদিন সকালে পরিবেশন করা হয় সমৃদ্ধ রয়্যাল ব্রেকফাস্ট। গরম কফি, ক্রসাঁ, রুটি, ডিম, ফল, জুস, পনির, সসেজ এবং নানান সুস্বাদু খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সাজানো সকালের টেবিল আমাদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তোলে।

সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সকালের নাশতা উপভোগ করা ছিল ভ্রমণের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।

শুল্কমুক্ত দোকান: যেন ছোট্ট এক আন্তর্জাতিক বাজার

ভিক্টোরিয়া ওয়ানের বিশাল শুল্কমুক্ত দোকানটি যেন সমুদ্রের বুকে গড়ে ওঠা একটি ছোট আন্তর্জাতিক কেনাকাটাকেন্দ্র। এখানে পাওয়া যায় বিশ্বখ্যাত সুগন্ধি, প্রসাধনী, চকলেট, পোশাক, খেলনা, উপহারসামগ্রী, ফিনিশ ও এস্তোনীয় বিশেষ পণ্য এবং নানা ধরনের সামগ্রী।

কেরানীগঞ্জের সারিঘাট ঢাকার বুকেই এক চিলতে গ্রাম

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
ঢাকার বুকেই এক চিলতে গ্রাম
ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সারিঘাটে যাতায়াত করা বেশ সহজ এবং সাশ্রয়ী।

ধুলোবালি, ইট-পাথরের দেয়াল আর অবিরাম যান্ত্রিক কোলাহলে যখন ঢাকার নাগরিক জীবন হাঁপিয়ে ওঠে, তখন মন ব্যাকুল হয়ে খোঁজে একটুখানি সবুজ, এক ফালি খোলা আকাশ আর শান্ত কোনো নদীর হাওয়া। কিন্তু কর্মব্যস্ত জীবনে ঢাকার বাইরে দূর-দূরান্তে যাওয়ার সময়-সুযোগ সব সময় হয়ে ওঠে না। এই যান্ত্রিকতার বৃত্ত ভেঙে ঢাকার খুব কাছেই যদি গ্রামীণ নীরবতা আর প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে চান, তবে কেরানীগঞ্জের ‘সারিঘাট’ হতে পারে আদর্শ এক গন্তব্য। দিগন্তজোড়া সবুজ, খালের শান্ত জল, সারিবদ্ধ গাছের মায়াবী ছায়া আর শরতের শুভ্র কাশফুলের সমারোহ—সব মিলিয়ে সারিঘাট যেন এক টুকরো নিটোল বাংলার প্রতিচ্ছবি। খুব কম খরচে এবং অল্প সময়ে ঢাকার বুকে একদিনের ভ্রমণের জন্য এটি বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান।

 

সারিঘাটের অবস্থান

ভৌগোলিক দিক থেকে সারিঘাট ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, ঢাকার দক্ষিণ প্রান্তে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা হাসনাবাদের ‘বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্ট’ বা আবাসন প্রকল্পের ঠিক পেছনেই এই মনোরম স্থানটির অবস্থান। এটি মূলত ‘আইন্তা’ ও ‘আড়াকুল’ নামক দুটি শান্ত গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক খালের অংশবিশেষ। এই খালের পাড় ধরেই প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রকৃতির আপন খেয়ালে ও স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এক নয়নকাড়া সবুজ পরিবেশ, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

সারিঘাটের নামকরণ ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

সারিঘাটের কোনো প্রাচীন বা রাজকীয় মোগল ইতিহাস নেই, তবে এর নামকরণের পেছনে রয়েছে এক দারুণ প্রাকৃতিক রূপ। মূল কেরানীগঞ্জ অঞ্চলের রয়েছে সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমি। মোগল আমলে নবাব শায়েস্তা খানের শাসনামলে তার কর্মচারীরা বা ‘কেরানী’রা বুড়িগঙ্গার ওপারে এসে বসবাস শুরু করায় এই অঞ্চলের নাম হয়েছিল কেরানীগঞ্জ। আবার ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর নবাব সিরাজউদ্‌দৌলার পরিবারকে কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা প্রাসাদে বন্দি রাখা হয়েছিল।

 


তবে আজকের এই ‘সারিঘাট’ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে পরিচিত। আইন্তা এবং আড়াকুল গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের পাড় ধরে সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য কড়ই ও নানাবিধ গাছ রোপণ করা হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গাছগুলো যেন দলবেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে খালের জল পাহারা দিচ্ছে। এই গাছের চমৎকার সারি এবং নৌকার ঘাটের মেলবন্ধনের কারণেই স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এর নাম হয়ে যায় ‘সারিঘাট’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ভ্রমণপিপাসুদের মাঝে একটি নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে সারিঘাটে যাতায়াত করা বেশ সহজ এবং সাশ্রয়ী। নিচে সহজ কিছু রুট দেওয়া হলো–
যাত্রাবাড়ী বা পোস্তগোলা হয়ে: ঢাকার যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে আপনাকে যাত্রাবাড়ী অথবা জুরাইন রেলগেটে আসতে হবে। জুরাইন বা যাত্রাবাড়ী থেকে বাস, লেগুনা অথবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে চলে আসুন পোস্তগোলা ব্রিজের (বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতু) ওপারে, অর্থাৎ হাসনাবাদ প্রান্তে। পোস্তগোলা ব্রিজ পার হওয়ার পর সেখানে সারিঘাট যাওয়ার জন্য সরাসরি লোকাল সিএনজি বা অটোরিকশা পাওয়া যায়, যার ভাড়া জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা।
রিজার্ভ সিএনজি বা বাইকে: আপনি যদি ঝামেলা এড়াতে চান, তবে জুরাইন রেলগেট বা পোস্তগোলা থেকে সরাসরি সিএনজি রিজার্ভ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া নিজস্ব বাইক বা গাড়ি থাকলে হাসনাবাদ বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রজেক্টের রাস্তা ধরে সরাসরি সারিঘাট ব্রিজের গোড়ায় চলে যাওয়া যায়।

 

কেমন লাগবে সারিঘাট ভ্রমণ

যান্ত্রিক ঢাকা থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে যে এমন এক শান্ত পরিবেশ লুকিয়ে আছে, তা সারিঘাটে না পৌঁছালে বিশ্বাস করা কঠিন। সারিঘাটের রাস্তায় পা রাখতেই চারপাশের শান্ত পরিবেশ আপনার মন ভালো করে দেবে। পিচঢালা সরু রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ সবুজ গাছ মাথার ওপর ছাতার মতো ছায়া দিয়ে রাখে। খালের শান্ত জলে সূর্যের আলো ঝিকমিক করে।
এখানে এলে আপনি গ্রামীণ মাঝির মতো নৌকায় চড়ে বেড়াতে পারবেন। খালের মৃদু বাতাসে নৌকার ছইয়ের নিচে বসে কিংবা কায়াকিং করার অভিজ্ঞতা সত্যিই রোমাঞ্চকর। বিকেলে যখন সূর্য হেলে পড়ে, তখন পানির ওপর গোধূলির আলো এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। ঢাকা শহরের কোলাহল ভুলে সবুজের মাঝে পাখির কিচিরমিচির শব্দে কাটানো একটি বিকেল আপনার মানসিক ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেবে।

সারিঘাটের মূল আকর্ষণসমূহ

সারিঘাটে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, ভ্রমণকারীদের মন ভরাতে রয়েছে নানা আয়োজন–
বৈকালিক নৌকা ভ্রমণ ও কায়াকিং: সারিঘাটের মূল প্রাণ হলো এখানকার খালের পানি। এখানে ঘণ্টা চুক্তি হিসেবে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। বন্ধুদের নিয়ে বৈঠা বাওয়া বা মাঝির নৌকায় চিল করা দারুণ উপভোগ্য। এছাড়া ইদানীং তরুণদের মাঝে এখানে ‘কায়াকিং’ বা আধুনিক ক্যানো বোটিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শরতের কাশবন: আপনি যদি শরৎকালে সারিঘাটে যান, তবে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। খালের দুপাশে এবং রিভারভিউ প্রজেক্টের খালি জমিতে দিগন্তজোড়া সাদা কাশবনের সমারোহ ঘটে। বাতাসে দোল খাওয়া সাদা মেঘের মতো কাশফুলের মাঝে ছবি তোলা ও হেঁটে বেড়ানোর অনুভূতি অন্যরকম।
স্ট্রিট ফুড ও বিখ্যাত চাপটি: ভ্রমণ মানেই তো খাওয়া-দাওয়া। সারিঘাটের আশপাশে এবং ঐতিহ্যবাহী ‘কাজিরগাঁও’ গ্রামে রয়েছে দারুণ সব খাবারের দোকান। বিশেষ করে এখানকার হরেক রকমের ভর্তা দিয়ে গরম গরম ‘চাপটি’ এবং পরশ ভাইয়ের বিশেষ চা অত্যন্ত বিখ্যাত। সারিঘাট থেকে মাত্র ২০ টাকা অটো ভাড়ায় কাজিরগাঁও গিয়ে এই স্বাদ নেওয়া যায়।

 

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

সারিঘাটে বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়, তবে ঋতুভেদে এর রূপ বদলায়।
শরৎকাল (আগস্ট-অক্টোবর): সারিঘাট ভ্রমণের সেরা সময় হলো শরৎকাল। এই সময়ে চারপাশের কাশবনগুলো সাদা হয়ে ফোটে, যা এই জায়গার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়: বর্ষাকালে খালের পানি টইটম্বুর থাকে, ফলে নৌকাভ্রমণ ও কায়াকিং করার সেরা আমেজ পাওয়া যায় চারপাশের সতেজ সবুজের মাঝে।
দিনের কোন সময়: দিনের তীব্র রোদে না গিয়ে বিকেল ৩টা বা ৪টার দিকে যাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদ, কাশবনের হাওয়া এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।

সতর্কতা

যেকোনো পর্যটন স্থানে ভ্রমণের সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি–
পানির ব্যাপারে সতর্কতা: খালের পানিতে নৌকাভ্রমণ বা কায়াকিং করার সময় সাবধানে থাকবেন। বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না, তারা কায়াকিং করার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরবেন।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা: সারিঘাট আমাদের দেশের একটি সুন্দর প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই সেখানে গিয়ে চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল বা কোনো বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে পরিবেশ দূষিত করবেন না।
সন্ধ্যা হওয়ার আগে ফেরা: সারিঘাট এলাকাটি বিকেলের জন্য চমৎকার হলেও সন্ধ্যার পর জায়গাটি বেশ নিরিবিলি হয়ে যায়। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে অন্ধকার হওয়ার আগেই মূল সড়কের উদ্দেশে রওনা হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অতিরিক্ত খরচ এড়াতে দরদাম: নৌকা ভাড়া করা বা কাজিরগাঁওয়ে চাপটি খাওয়ার সময় আগে থেকেই দাম জেনে নেওয়া ভালো, যাতে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে না হয়।

 

শেষ কথা

ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমাদের ফুসফুস যখন একটু বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ছটফট করে, তখন সারিঘাটের মতো জায়গাগুলো আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখায়। মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাজেটের মধ্যে ঢাকার এত কাছে গ্রামীণ আবহ, শান্ত নদী আর প্রকৃতির এমন নিখাদ মেলবন্ধন সত্যিই দুর্লভ। তাই আগামী সপ্তাহের যেকোনো ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের দলবল নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন কেরানীগঞ্জের এই চমৎকার সারিঘাট থেকে। প্রকৃতির এই সান্নিধ্য আপনার কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরিয়ে আনবে এক নতুন উদ্দীপনা।