ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি ছোটবেলা থেকেই: লাউতারো মার্তিনেস নবীগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ আড়াইহাজারে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন পাট প্রতিমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন মেসি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৮ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস ফটিকছড়িতে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান নির্ধারণের দাবিতে হরতাল চলছে জুলাই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির পাবলিক পরীক্ষা শুষ্ক মৌসুমে নেওয়া উচিত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে পর যা বললেন মেসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভটভটির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তিতাস নদীর তীর ভরাট করায় এনসিপি নেতাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা চাপের মুখেই আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে: স্কালোনি মেট্রোরেলের ৭৩০ বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, পিয়ার হেডে ফাটল ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ১৬ বছরে বরাদ্দের ৫৬ শতাংশ খরচ আবু সাঈদ হত্যার রায়: ৫ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ৪ আসামির আপিল আজ মিঠামইনে বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যা ৮৫ ফুটের মেসি এই আন্দোলন শতভাগ প্রশাসনিক ব্যর্থতা মেজাজ হারিয়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে চড় দিলেন বেলিংহাম করোনাকাল ও কোচিং সেন্টার দায়ী থাকতে পারে আল-আরাফাহ ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন বাংলাদেশ রেলওয়ের ১ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় হয় ৮ কোটি, লোপাট ৭ কোটি টাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ছিদ্র রয়ে গেছে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সাজেক ২৬ বছরেও সাংবাদিক শামছুর রহমান হত্যার বিচার হয়নি

ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা
সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বিল পাসের প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিবছর সাধারণত দুই দলের সর্বসম্মত সমর্থনে পাস হওয়া ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) নামের এই বিলটি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিনেটে আটকে যায়। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গোলাগুলি ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত মাসেই যুদ্ধ বন্ধের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।

সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ চলতে থাকা অবস্থায় তার দল প্রতিরক্ষা বিলে সমর্থন দেবে না। তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা চাইছে সিনেট এমনভাবে এই বিল নিয়ে আলোচনা করুক যেন দেশে কিছুই ঘটছে না। দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা সংকটকে উপেক্ষা করে আমরা এই বিল এগিয়ে নিতে পারি না।’ ডেমোক্র্যাটদের একযোগে বিরোধিতার কারণে বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট পেতে ব্যর্থ হয়।

ভোটাভুটিতে উপস্থিত সব ডেমোক্র্যাট বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। ফলে বিলটি সিনেটে পরবর্তী ধাপে যেতে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পায়নি। সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ‘নিরাপত্তা ফি’ আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। যদিও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ফি আরোপের পক্ষে নন। তবে বিশ্বের সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।

অবশ্য ট্রাম্পের এই পিছু হটাতেও ডেমোক্র্যাটদের মন গলেনি। চাক শুমার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ইরান নিয়ে ট্রাম্প কী করছেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এটি এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত। তিনি অবিবেচকের মতো যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই এর থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজেননি। যুদ্ধের ১৩৬তম দিন চললেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি।’

এদিকে বিলটি আটকে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। বিলটির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের কথা রয়েছে। এতে সামরিক সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি, নতুন চালকবিহীন অস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবও রয়েছে।

ভোটের আগে সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন বলেন, গত দেড় বছরে ডেমোক্র্যাটরা বারবার বাধা দেওয়ার রাজনীতি করেছে। আমি আশা করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমর্থনের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দেবে না।’

এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি ও পিটার ওয়েলচ গত সপ্তাহে সহকর্মীদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। যেখানে তারা বলেন, বিতর্কিত ধারাগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এনডিএএ এগিয়ে নেওয়া উচিত হবে না। ডেমোক্র্যাট হিসেবে আমরা এমন কোনো ভোট দিতে পারি না, যা ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর চরমপন্থি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে উৎসাহিত করবে।’

ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভ্যান হলেন বলেন, এই বিলের মাধ্যমে পেন্টাগনের জন্য বড় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থান ইসরায়েল-নীতির পরিবর্তিত মনোভাবেরই প্রতিফলন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঝুঁকিতে জ্বালানি সরবরাহ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্বের অন্যতম সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘লয়েড’স লিস্ট’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সংঘাতপূর্ণ জলপথে সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে অ-ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিতে থাকায় বৈশ্বিক নৌপরিবহন সংস্থাগুলো এই রুট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকছে।

ডার্ক ট্রানজিট নিচ্ছেন নৌচালকরা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতেও যে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করছে, তারা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে। নজরদারি এড়াতে জাহাজের মালিক ও চালকেরা নিজেদের অবস্থান জানানোর স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছেন। সামুদ্রিক বাণিজ্যের ভাষায় একে বলা হয় ডার্ক ট্রানজিট বা অন্ধকার যাত্রা। ফলে আন্তর্জাতিক এ সীমানায় চলাচলকারী জাহাজের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিকল্প হিসেবে আলোচনায় ‘কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইন’

হরমুজ প্রণালির এই নতুন অবরোধ ও অচলাবস্থা ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। লয়েড’স লিস্ট জানায়, এ সংকট দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয় ইরাক-সিরিয়া ও কিরকুক-বানিয়াস পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনাকে আরও জোরদার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। এ ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প রুট হিসেবে ইরাক থেকে সিরিয়ার বানিয়াস বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইনটি পুনরায় সচল করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বিশাল অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা

থিওটোনিয়াস/

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের হাসপাতাল-সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র গত রাতে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ‘যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র তার আগ্রাসন বন্ধ করছে’ ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, কোনারাক, রাস্ক, খোন্দাব এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খোররামাবাদসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আহভাজেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। 

ইরানের মেহর নিউজ অ্যাজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন বোমাবর্ষণে শহিদ বাঘাই হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতালটির শিশু ক্যান্সার চিকিৎসা বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুসহ ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি সেবা দেওয়া হাসপাতালটি খালি করে দিতে হয়েছে।

মার্কিন হামলায় একটি ইরানি সেনা ব্যারাকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশজুড়ে অন্তত সাতজন সেনা নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

তেহরানের দাবি, এখন পর্যন্ত মার্কিন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ‘শত্রুভাবাপন্ন হুমকি’ মোকাবিলায় রাজধানী তেহরানেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। 

এর আগে কেশম ও বন্দর ইমাম খোমেনিসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর দেওয়া হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নতুন করে চালানো মার্কিন হামলায় ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিককেন্দ্র বুশেহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে অবাধে চলাচলকারী জাহাজকে হুমকি দিতে ব্যবহৃত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও জানায়, তাদের একটি বিমান ইরানের বন্দরগুলোর নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দিয়েছে।

সেন্টকম জানায়, বিমান থেকে জাহাজটির চিমনিতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর কুরাকাওয়ের পতাকাবাহী এম টি বেলমা জাহাজটিকে থামানো হয়েছে। 

এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘জাহাজটি আর ইরানের দিকে যাচ্ছে না।’ সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
ইরান ইস্যুতে প্রতিরক্ষা বিল আটকালেন ডেমোক্র্যাটরা
সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতির প্রতিবাদে এবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বিল পাসের প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিবছর সাধারণত দুই দলের সর্বসম্মত সমর্থনে পাস হওয়া ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) নামের এই বিলটি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিনেটে আটকে যায়। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গোলাগুলি ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত মাসেই যুদ্ধ বন্ধের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন ডেমোক্র্যাটরা।

সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ চলতে থাকা অবস্থায় তার দল প্রতিরক্ষা বিলে সমর্থন দেবে না। তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা চাইছে সিনেট এমনভাবে এই বিল নিয়ে আলোচনা করুক যেন দেশে কিছুই ঘটছে না। দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা সংকটকে উপেক্ষা করে আমরা এই বিল এগিয়ে নিতে পারি না।’ ডেমোক্র্যাটদের একযোগে বিরোধিতার কারণে বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০টি ভোট পেতে ব্যর্থ হয়।

ভোটাভুটিতে উপস্থিত সব ডেমোক্র্যাট বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। ফলে বিলটি সিনেটে পরবর্তী ধাপে যেতে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পায়নি। সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ‘নিরাপত্তা ফি’ আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। যদিও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ফি আরোপের পক্ষে নন। তবে বিশ্বের সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।

অবশ্য ট্রাম্পের এই পিছু হটাতেও ডেমোক্র্যাটদের মন গলেনি। চাক শুমার কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘ইরান নিয়ে ট্রাম্প কী করছেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। এটি এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত। তিনি অবিবেচকের মতো যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই এর থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজেননি। যুদ্ধের ১৩৬তম দিন চললেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি।’

এদিকে বিলটি আটকে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। বিলটির মাধ্যমে আগামী অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের কথা রয়েছে। এতে সামরিক সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি, নতুন চালকবিহীন অস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবও রয়েছে।

ভোটের আগে সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন বলেন, গত দেড় বছরে ডেমোক্র্যাটরা বারবার বাধা দেওয়ার রাজনীতি করেছে। আমি আশা করি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমর্থনের প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রাজনীতিকে প্রাধান্য দেবে না।’

এদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি ও পিটার ওয়েলচ গত সপ্তাহে সহকর্মীদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। যেখানে তারা বলেন, বিতর্কিত ধারাগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এনডিএএ এগিয়ে নেওয়া উচিত হবে না। ডেমোক্র্যাট হিসেবে আমরা এমন কোনো ভোট দিতে পারি না, যা ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর চরমপন্থি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে উৎসাহিত করবে।’

ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভ্যান হলেন বলেন, এই বিলের মাধ্যমে পেন্টাগনের জন্য বড় বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’

বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এই অবস্থান ইসরায়েল-নীতির পরিবর্তিত মনোভাবেরই প্রতিফলন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প
তেহরানে ‘ইসলামিক রেভল্যুশন স্কোয়ার’-এ ট্রাম্পবিরোধী বার্তাসংবলিত একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন একজন আর্মি ক্যাডেট

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ইতি টানতে নতুন কৌশল খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৩ জুলাই) হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার মাত্র এক দিন পরই তিনি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত না করে সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এ নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে পরদিন মঙ্গলবার নিজের অবস্থান বদলান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির প্রস্তাব দেন। ইঙ্গিত দেন, যারা এ চুক্তিতে যুক্ত হবে, তাদের হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমন নীতিগত পরিবর্তন ইঙ্গিত করে, ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত থামাতে মাসখানেক আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু কয়েক দফা আলোচনার পরও স্থায়ী সমাধানের অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও তাদের মিত্র দেশগুলোতে ইরানি হামলার ঝুঁকিও বেড়েছে। ফলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করার বদলে বিকল্প সমাধানের পথেই হাঁটতে চাইছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতা চান, যা ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পরমাণু চুক্তির চেয়ে ‘ভালো’ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক বলেন, ‘সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি হলো যুদ্ধের দ্রুত কোনো সমাপ্তি না হওয়া। এটি এখন হিসাব-নিকাশের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, আর এ ধরনের সংঘাত সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়।’

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকও যুদ্ধ থামানোর নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। নতুন করে মার্কিন হামলার মধ্যেই মঙ্গলবার ট্রাম্প আবারও ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা করেন। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়ায় ইরান। পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল আবারও ব্যাহত হয়। মাসখানেক ধরে বারবার শান্তি আলোচনা শুরু ও স্থগিত হওয়ার পাশাপাশি সংঘর্ষও চলেছে। এতে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে ইরানের কিছু সক্ষমতা দুর্বল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের মতে, ইরান এখনও হরমুজ প্রণালিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ধরে রেখেছে। আর বড় পরিসরে সামরিক অভিযান ছাড়া সেই অবস্থান বদলানো ওয়াশিংটনের জন্য সহজ হবে না।

হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাও ছিল নতুন চাপ তৈরির একটি কৌশল। তবে বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দেয়। কারণ জুনে ইরান একই ধরনের প্রস্তাব দিলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারে না; এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।

কিন্তু পরে ট্রাম্প নিজেই একই ধরনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে আবার তা প্রত্যাহার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখনও সুস্পষ্ট কোনো কৌশল নেই। তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন দুটি পথ খোলা। একদিকে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে সংঘাত বাড়ানো; অন্যদিকে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যাতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাই ক্ষমতায় থেকে যায়।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সিনিয়র ফেলো এলিয়ট আব্রামস বলেন, ‘আমরা আবার সেই পুরোনো প্রশ্নেই ফিরে এসেছি। শেষ পর্যন্ত কার ধৈর্য বেশি থাকবে? ইরানের, নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলনির্ভর দেশগুলোর?’ সূত্র: বিবিসি

এজিআই আসছে, প্রস্তুতির তাগিদ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
এজিআই আসছে, প্রস্তুতির তাগিদ
ছবি: এআই

গুগলের এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ডের প্রধান নির্বাহী ও নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ডেমিস হাসাবিস বলেছেন, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) বাস্তবে আসতে আর মাত্র কয়েক বছর বাকি। এই প্রযুক্তি যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে এখনই জরুরি বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত ব্লগে এ কথা লিখেছেন হাসাবিস। তিনি বলেন, এজিআই এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাব্যবস্থা, যা মানুষের প্রায় সব ধরনের জ্ঞানগত সক্ষমতার সমান বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। গত জুনেও তিনি বলেছিলেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই এজিআই বাস্তবে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে এজিআই প্রতিযোগিতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এজিআই যত এগোবে, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও তত বাড়বে। ভবিষ্যতে পারমাণবিক ও জীববৈজ্ঞানিক নিরাপত্তাও বড় উদ্বেগ হয়ে উঠতে পারে। তাই আরও শক্তিশালী ও স্বয়ংক্রিয় এআই নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজিআইয়ের ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এতে যেমন বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি অজানা ঝুঁকিও রয়েছে।’

অ্যানথ্রপিকের গবেষণার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, এআই ইতোমধ্যে নিজেকে আরও উন্নত করার সক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এটি মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই আরও শক্তিশালী মডেল তৈরি করতে পারে। এতে প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে এর জন্য সময়, সমন্বিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্ব এখনো সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে না।

বৈশ্বিক তদারকি সংস্থার প্রস্তাব
হাসাবিস যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বৈশ্বিক এআই তদারকি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফিনরা’র আদলে এই প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা বলেন। এতে শীর্ষ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন। বাজারে ছাড়ার আগে উন্নত এজিআই মডেলগুলোকে নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় তাদের মডেল পরীক্ষার জন্য জমা দেবে। বাজারে ছাড়ার অন্তত ৩০ দিন আগে তা মূল্যায়ন করা হবে। 

হাসাবিস বলেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানে না। তাই সতর্কতার সঙ্গে এবং আশাবাদী হয়েই এগোনো উচিত।

তার মতে, এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। পরে এর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এজিআই পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে। তাই বড় ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে সবাই যেন এই প্রযুক্তির সুফল পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

হাসাবিস বলেন, ‘এজিআই আসার আগের এই সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন নেওয়া সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ মানবসভ্যতার পথ নির্ধারণ করবে।’

মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত?
হাসাবিস এই সময়কে মানবজাতির ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বিশ্বাস, দায়িত্বশীলভাবে এজিআই তৈরি ও ব্যবহার করা গেলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে উপকারী প্রযুক্তিগুলোর একটি হবে।

তিনি বলেন, এজিআইকে শুধু ইন্টারনেট বা মোবাইল প্রযুক্তির সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এটি বিদ্যুৎ বা আগুন আবিষ্কারের মতো যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। সিলিকন চিপকে চিন্তা করার সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটি প্রযুক্তির এক বিস্ময়কর অর্জন। এজিআইয়ের প্রভাব শিল্পবিপ্লবের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি হবে। পরিবর্তনের গতিও হবে প্রায় ১০ গুণ দ্রুত।

তিনি বলেন, এজিআই ওষুধ আবিষ্কারের গতি বাড়াবে, নতুন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্ভাবনে সহায়তা করবে। উন্নত উপকরণ তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। একসময় সম্পদের সীমাবদ্ধতাও মানব অগ্রগতির বড় বাধা নাও থাকতে পারে।

 সূত্র: এনডিটিভি