ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন এক জনমত জরিপ। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত চ্যানেল ১২ এর জরিপে দেখা গেছে, দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান (আইডিএফ) গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান ৪৩ শতাংশ ভোটার, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। ৫০৯ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর চ্যানেল ১২ এর জন্য জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মিডগাম জরিপটি পরিচালনা করে। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জরিপ চালানো হয়।
জরিপ অনুযায়ী, নেসেটে ১২০ আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেতে পারে ৫৯টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে দুই আসন কম। নেতানিয়াহুপন্থি জোট পেতে পারে ৫১টি আসন। বাকি ১০টি আসন পেতে পারে আরব দলগুলো, যারা সাধারণত সরকারি জোটে থাকে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি আইজেনকটের বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ হিসেবে অবস্থান আরও শক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আরও কয়েকটি সাম্প্রতিক জরিপেও দেখা গেছে, এখনই নির্বাচন হলে আইজেনকটের দল সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটকে নিয়ে করা পৃথক এক মুখোমুখি জরিপে নেতানিয়াহুর পক্ষে ৩৭ শতাংশ এবং বেনেটের পক্ষে ৩৫ শতাংশ ভোটার মত দেন।
জরিপে দেখা যায়, দলগুলোর মধ্যে আইজেনকটের দল ইয়াশার সবচেয়ে বেশি ২৩টি আসন পেতে পারে । নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২২টি আসন এবং বেনেটের মধ্য-ডানপন্থি দল টুগেদার পেতে পারে ১৬টি আসন। এ ছাড়া নেতানিয়াহুবিরোধী ডেমোক্র্যাটস ও ইসরায়েল বেইতেনু-উভয় দলই পেতে পারে ১০টি করে আসন।
নেতানিয়াহুপন্থি শিবিরে শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবং কট্টর ডানপন্থি ওতজমা ইয়েহুদিত–প্রতিটি দল পেতে পারে ৮টি করে আসন। আর রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেতে পারে ৫টি আসন।
আরব দল হাদাশ-তাআল ও রা’আম–উভয় দলই পেতে পারে ৫টি করে আসন। এ ছাড়া কয়েকটি ছোট মধ্য-ডানপন্থি দল নেসেটে যাওয়ার জন্য ন্যূনতম ভোট পাবে না বলেও জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরিপে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়। এতে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, ওই ঘটনার পর তারা আরও ডানপন্থি হয়েছেন। ৪৯ শতাংশ বলেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আর ৭ শতাংশ জানান, তারা বামপন্থার দিকে ঝুঁকেছেন।
নেতানিয়াহু সরকার হেরেদি (অতি রক্ষণশীল ইহুদি) দলগুলোর সঙ্গে যে সমঝোতা করেছে, সে বিষয়েও জরিপে প্রশ্ন রাখা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, তোরাহ অধ্যয়নকে ‘মৌলিক মূল্যবোধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সামরিক খসড়া এড়ানো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার স্থগিত রাখা এবং এর বিনিময়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা কমানোসহ কয়েকটি বিতর্কিত আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন। ২২ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন এবং বাকিরা কোনো মত দেননি। সরকারপন্থি ভোটারদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এই সমঝোতার বিরোধিতা করলেও বিরোধী শিবিরের ভোটারদের মধ্যে এ হার ৯৫ শতাংশ। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল