ঢাকা ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
আজ দুপুরে ছায়াহীন থাকবে পবিত্র কাবা শরিফ জয়ের পর ইয়ামালের পোস্ট ‘আলহামদুলিল্লাহ’ স্পেনকে হারানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল না: দিদিয়ে দেশম স্পেন বিশ্বের সেরা দল: দে লা ফুয়েন্তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার দাবি চাঁদপুরে ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ নিহত, আহত আরেক গৃহবধূ ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্ত্রী চলে যাওয়ায় হতাশা! সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ লক্ষ্মীপুরে দাদাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার আসামি নাতি গ্রেপ্তার ১৫ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ফতুল্লায় গ্যাস পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ ঈশ্বরদীতে চতুর্থ শ্রেণির শিশুকে যৌন নিপীড়ন, যুবক গ্রেপ্তার এয়ারএশিয়ার মূল দর্শনই হচ্ছে সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত করা ধোনির কানে থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রের কাজ কী? ফাঁস হলো আসল রহস্য জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আইজেনকট জিআই সনদ পাচ্ছে আরও ৪ পণ্য ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি আইআরজিসি কমান্ডারের অতিবৃষ্টিতে দাম বেড়েছে সবজি, মাছ ও মাংসের আল-আকসা মসজিদের সব ফটক বন্ধ করল ইসরায়েল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড: ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও সম্ভাবনার লড়াই ব্যবসায়ী শওকতের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণের অপেক্ষায় দুদক কৃচ্ছ্রসাধনে সরকারের নানা পদক্ষেপ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: অনিয়মই যেখানে নিয়ম ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই এক সপ্তাহে সাপে কেটেছে ১০৫ জনকে স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ ‍তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বাসিন্দারা বন্যায় ঝুঁকিতে শিশুরা

ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ক্যালেন্ডারে কিছু ম্যাচ থাকে, যেখানে বাঁশি বাজে মাঠে, কিন্তু প্রতিধ্বনি শোনা যায় ইতিহাসের পাতায়। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ঠিক তেমনই এক মহারণ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, ম্যারাডোনার জাদু, বিতর্ক আর প্রতিশোধ। এবার তাতে যোগ হয়েছে মেসির নতুন অধ্যায়। সব মিলিয়ে ম্যাচটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি মহাকাব্য রচনার মঞ্চ। তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের কাঁপন তুলে আজ আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। জিতলে ফাইনাল, হারলে বিদায়। এমন আবহ ছাপিয়েও থাকবে গৌরব, অহংকার আর ইতিহাসকে নতুন করে লেখার সুযোগও।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে দেখানো বিতর্কিত লাল কার্ড। আর্জেন্টিনার অনেকের বিশ্বাস, ওই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোল নিয়েও বিতর্ক ছিল। অনেক আর্জেন্টাইন আজও সেই ম্যাচকে ‘শতাব্দীর সেরা ডাকাতি’ বলেই মনে করেন।

এরপর আসে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওই সংঘাতে প্রাণ হারান ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং তিনজন দ্বীপবাসী। যুদ্ধ শেষ হলেও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর তার ছায়া আজও রয়ে গেছে। যুদ্ধের মাত্র চার বছর পরই মেক্সিকো বিশ্বকাপে সেই আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমে ‘হ্যান্ড অব গড’। এরপর পাঁচজনকে কাটিয়ে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’; দুটি গোলেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে জেতে শিরোপাও। ফলে মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর ম্যারাডোনা শুধু ফুটবল নায়ক নন, অসংখ্য আর্জেন্টাইনের কাছে জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠেন।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের বিদায় এই দ্বৈরথে নতুন মাত্রা যোগ করে। আর ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে কিছুটা প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি দুই দলের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিতে মুখোমুখি দুই দল। শেষ চারের লড়াইটি একদিক থেকে বিশেষ। তা হলো লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে নামা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে এখন দলকে সপ্তমবারের মতো ফাইনালে তোলার সুযোগ। ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনো হারে না আলবিসেলেস্তারা। 

আটলান্টায় যুদ্ধের আমেজ থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রবীণ যুদ্ধ-সেনাদের সংগঠন ‘এপ্রিল টু ওয়ার ভেটেরানস ফেডারেশন’ এবার সমর্থকদের ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। তাদের ভাষায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সেমিফাইনাল ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ নয়।’ তারা সমর্থকদের ঘৃণা বা উগ্র জাতীয়তাবাদ নয় বরং যুদ্ধে নিহতদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ম্যাচটিকে কেবল ফুটবলের চোখেই দেখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সমাধান হয় কূটনীতির টেবিলে; ফুটবল মাঠে নয়।

তবে এমন আহ্বান কতটা প্রভাবিত করতে পারবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে, তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চোখ টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল। গ্রুপ সেরা হয়ে নক আউট পর্ব; সব ম্যাচেই অবশ্য ভীষণ লড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে থেকে শুরু করে, মাঝে মিসর, শেষটা সুইসদের বিপক্ষে মেসিদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিশ্বকাপে বাড়তি রোমাঞ্চ তৈরি করেছিল। 

আর্জেন্টিনার স্বস্তি, দলটিকে মেসিনির্ভর বলা যাচ্ছে না। আর্জেন্টিনার শক্তি অবশ্য তাদের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা। মেসির সঙ্গে হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোদের নিয়ে গড়া দলটি সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় রয়েছে।

তবে দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা অতীতের উত্তাপকে মাঠে টেনে আনতে চান না। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, এই ম্যাচে ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো বিষয় জড়িত নয়। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কণ্ঠেও একই সুর, ‘এটা দুই গর্বিত জাতির লড়াই। তবে মাঠে ফুটবলই কথা বলবে।’

অন্যদিকে ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ছন্দে আছে। জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন ও ডেকলান রাইসদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তুলেছে থ্রি লায়ন্সরা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসও আকাশছোঁয়া। তবে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর ইংলিশরা সেমির গেরোতে আটকা। ঘরের মাঠে সেবার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনোবারই ফাইনালে উঠতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা। ১৯৯০ সালে সেমিতে উঠলেও তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৮ বিশ্বকাপে আবারও সেমিতে নাম লেখায় কাগুজে বাঘ খ্যাত ইংল্যান্ড। এবার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তাদের ধূলিসাৎ হয় ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে। 

চলমান বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বেশ ভারসাম্য দল। ইংলিশ মিডিয়াও অনেকটা সংযত। হুলিগান নামে একটা সময় উগ্র সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল ইংলিশ শিবিরে। এবার সেখানেও ব্যতিক্রম। ইংল্যান্ডের ম্যাচে তেমন উগ্র আচরণ দেখা যায়নি তাদের মধ্যে। সব মিলিয়ে নীরবে-নিভৃতে যেন এগিয়ে চলেছে দলটি। যেখানে দলের দুই কান্ডারি হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। দুজনই করেছেন ৬টি করে গোল। যা একটি দলের আক্রমণভাগের বলিষ্ঠ রূপেরই বহিঃপ্রকাশ। লক্ষ্য একটাই–সেমির বৈতরণি পার হয়ে ষাট বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখা। 

হেড টু হেডের হিসাব স্বস্তি দিচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ১৪ বারের মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের জয় ছয়টিতে। আর্জেন্টিনা জিতেছে তিনটিতে। বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসও ইংল্যান্ডে পক্ষে। বৈশ্বিক মঞ্চে দুই দল পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ইংল্যান্ডের জয় তিনটি, আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটি ম্যাচ। তবে পরিসংখ্যান অনেক সময় হিসাবের খাতাতেই লিপিবদ্ধ থাকে। মাঠের খেলাই আসল কথা।

আটলান্টার রাতে এটি শুধু আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একটি সেমিফাইনাল নয়। এটি ম্যারাডোনার স্মৃতির সঙ্গে মেসির স্বপ্নের মিলন, ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ এবং বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর আরেকটি নতুন অধ্যায়। যে দল জিতবে, তারা শুধু ফাইনালে উঠবে না; নিজেদের নামও লিখে রাখবে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় রাতে।

জয়ের পর ইয়ামালের পোস্ট ‘আলহামদুলিল্লাহ’

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
জয়ের পর ইয়ামালের পোস্ট ‘আলহামদুলিল্লাহ’
স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডালাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে ফুটবল খেলে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের ছিটকে দেয় লা রোজা। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্ট করে আলোচনায় আসেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।

ম্যাচ শেষে এক্সে দুই হাত তুলে দোয়ার ভঙ্গিতে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন ইয়ামাল। ক্যাপশনে ছিল মাত্র একটি শব্দ-‘আলহামদুলিল্লাহ’। মুহূর্তেই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ১৬ বছর পর আবারও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে উঠল ইউরোপের দেশটি। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন এখন স্প্যানিশদের সামনে।

সেমিফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। ২২তম মিনিটে ফরাসি বক্সে ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল।

বিরতির পর ৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোর সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ার পর বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করেন তিনি।

২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। প্রায় দুই দশক পর সেই হারের প্রতিশোধ নিল লা রোজা।

পাপ্পু/ অন্তরা/

স্পেনকে হারানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল না: দিদিয়ে দেশম

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ এএম
স্পেনকে হারানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল না: দিদিয়ে দেশম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। ম্যাচ শেষে হতাশ ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশম স্বীকার করেছেন, স্পেনকে হারানোর মতো পারফরম্যান্স তার দলের ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, ‘জয়ের আশা করতে হলে আমাদের সেরাটা খেলতে হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা তা পারিনি। স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং জয়টি তাদেরই প্রাপ্য।’

ম্যাচের শুরুতেই মিকেল ওয়ারজাবালের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লা রোজা।

পরিসংখ্যানও স্পেনের আধিপত্যেরই প্রমাণ দেয়। পোরোর গোলের সময় পর্যন্ত স্পেনের আটটি শটের বিপরীতে ফ্রান্স নিতে পেরেছিল মাত্র দুটি শট। বল দখল ও মাঠের দ্বৈরথেও ছিল স্প্যানিশদের স্পষ্ট প্রাধান্য। পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের ১০টি শটের মধ্যে মাত্র তিনটি ছিল লক্ষ্যে, আর গোলপোস্টের ১৩ মিটারের ভেতর থেকে তারা নিতে পেরেছিল মাত্র একটি শট।

দেশম বলেন, ‘স্পেন রক্ষণে অসাধারণ খেলেছে। তারা আমাদের খুব কম জায়গা দিয়েছে। তার ওপর আমরা নিজেরাও টেকনিক্যাল ভুল করেছি, যা প্রতিপক্ষের জন্য কাজ আরও সহজ করে দিয়েছে। আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় আজ আমাদের টেকনিক্যাল মান অনেক নিচে ছিল।’

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের আক্রমণভাগও এদিন নিষ্প্রভ ছিল। আগের ছয় ম্যাচে এই তিন ফরোয়ার্ড মিলে ১৩টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট করলেও স্পেনের বিপক্ষে তারা মাত্র পাঁচটি শট নিতে সক্ষম হন। তাদের সম্মিলিত এক্সপেক্টেড গোল ছিল মাত্র ০.১৫।

দেশমের ভাষ্যে, ‘আমাদের পাসিং কম্বিনেশন ও আক্রমণাত্মক ছন্দের তুলনায় স্পেনের পাস ইন্টারসেপ্ট করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। আমরা কোনো সমাধান খুঁজে পাইনি। তবে এটাও ঠিক, আমাদের শক্তি হঠাৎ করেই হারিয়ে যায়নি; প্রতিপক্ষও অসাধারণ ফুটবল খেলেছে।’

পাপ্পু/অন্তরা/

স্পেন বিশ্বের সেরা দল: দে লা ফুয়েন্তে

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৫ এএম
স্পেন বিশ্বের সেরা দল: দে লা ফুয়েন্তে
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার দলকে বিশ্বের সেরা দল বলে অভিহিত করেছেন।

সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। শক্তিশালী ফ্রান্সকে ছাপিয়ে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করে লা রোজারা। এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল স্পেন।

ম্যাচ শেষে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘প্রায় চার বছর আগে আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দর্শন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। সেই পরিকল্পনার প্রতি আমরা সবসময় অটল থেকেছি এবং আজ তারই ফল পাচ্ছি।’

ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোর পর নিজের দলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলেছি। কিন্তু তাদের সামনে যে দলটি ছিল, সেটিই বিশ্বের সেরা দল। এখানেই পার্থক্য।’

দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছে। তার কোচিংয়েই ২০২৪ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল স্পেন। এবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাল দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যারা।

নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে স্প্যানিশ এই কোচ বলেন, ‘এই খেলোয়াড়রা সম্ভাব্য সবকিছুরই যোগ্য। তারা প্রতিদিন নিজেদের প্রতিশ্রুতি, সংহতি, আত্মত্যাগ ও অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ দিচ্ছে। কঠিন কাজকেও তারা সহজ করে তুলতে পারে।’

পাপ্পু/অন্তরা/

ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
ফুটবলের সীমানা ছাপানো এক লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের ক্যালেন্ডারে কিছু ম্যাচ থাকে, যেখানে বাঁশি বাজে মাঠে, কিন্তু প্রতিধ্বনি শোনা যায় ইতিহাসের পাতায়। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ঠিক তেমনই এক মহারণ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, ম্যারাডোনার জাদু, বিতর্ক আর প্রতিশোধ। এবার তাতে যোগ হয়েছে মেসির নতুন অধ্যায়। সব মিলিয়ে ম্যাচটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি মহাকাব্য রচনার মঞ্চ। তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের কাঁপন তুলে আজ আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। জিতলে ফাইনাল, হারলে বিদায়। এমন আবহ ছাপিয়েও থাকবে গৌরব, অহংকার আর ইতিহাসকে নতুন করে লেখার সুযোগও।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে দেখানো বিতর্কিত লাল কার্ড। আর্জেন্টিনার অনেকের বিশ্বাস, ওই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোল নিয়েও বিতর্ক ছিল। অনেক আর্জেন্টাইন আজও সেই ম্যাচকে ‘শতাব্দীর সেরা ডাকাতি’ বলেই মনে করেন।

এরপর আসে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওই সংঘাতে প্রাণ হারান ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং তিনজন দ্বীপবাসী। যুদ্ধ শেষ হলেও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর তার ছায়া আজও রয়ে গেছে। যুদ্ধের মাত্র চার বছর পরই মেক্সিকো বিশ্বকাপে সেই আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমে ‘হ্যান্ড অব গড’। এরপর পাঁচজনকে কাটিয়ে করা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’; দুটি গোলেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে জেতে শিরোপাও। ফলে মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর ম্যারাডোনা শুধু ফুটবল নায়ক নন, অসংখ্য আর্জেন্টাইনের কাছে জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠেন।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের বিদায় এই দ্বৈরথে নতুন মাত্রা যোগ করে। আর ২০০২ বিশ্বকাপে বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে কিছুটা প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি দুই দলের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিতে মুখোমুখি দুই দল। শেষ চারের লড়াইটি একদিক থেকে বিশেষ। তা হলো লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে নামা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে এখন দলকে সপ্তমবারের মতো ফাইনালে তোলার সুযোগ। ইতিহাস আর্জেন্টিনার পক্ষে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনো হারে না আলবিসেলেস্তারা। 

আটলান্টায় যুদ্ধের আমেজ থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রবীণ যুদ্ধ-সেনাদের সংগঠন ‘এপ্রিল টু ওয়ার ভেটেরানস ফেডারেশন’ এবার সমর্থকদের ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। তাদের ভাষায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সেমিফাইনাল ‘সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ নয়।’ তারা সমর্থকদের ঘৃণা বা উগ্র জাতীয়তাবাদ নয় বরং যুদ্ধে নিহতদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ম্যাচটিকে কেবল ফুটবলের চোখেই দেখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সমাধান হয় কূটনীতির টেবিলে; ফুটবল মাঠে নয়।

তবে এমন আহ্বান কতটা প্রভাবিত করতে পারবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে, তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার চোখ টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল। গ্রুপ সেরা হয়ে নক আউট পর্ব; সব ম্যাচেই অবশ্য ভীষণ লড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে থেকে শুরু করে, মাঝে মিসর, শেষটা সুইসদের বিপক্ষে মেসিদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিশ্বকাপে বাড়তি রোমাঞ্চ তৈরি করেছিল। 

আর্জেন্টিনার স্বস্তি, দলটিকে মেসিনির্ভর বলা যাচ্ছে না। আর্জেন্টিনার শক্তি অবশ্য তাদের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য এবং কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা। মেসির সঙ্গে হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরোদের নিয়ে গড়া দলটি সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় রয়েছে।

তবে দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা অতীতের উত্তাপকে মাঠে টেনে আনতে চান না। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, এই ম্যাচে ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো বিষয় জড়িত নয়। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কণ্ঠেও একই সুর, ‘এটা দুই গর্বিত জাতির লড়াই। তবে মাঠে ফুটবলই কথা বলবে।’

অন্যদিকে ইংল্যান্ডও দুর্দান্ত ছন্দে আছে। জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন, বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেন ও ডেকলান রাইসদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তুলেছে থ্রি লায়ন্সরা। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসও আকাশছোঁয়া। তবে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর ইংলিশরা সেমির গেরোতে আটকা। ঘরের মাঠে সেবার বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনোবারই ফাইনালে উঠতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা। ১৯৯০ সালে সেমিতে উঠলেও তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৮ বিশ্বকাপে আবারও সেমিতে নাম লেখায় কাগুজে বাঘ খ্যাত ইংল্যান্ড। এবার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তাদের ধূলিসাৎ হয় ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে। 

চলমান বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড বেশ ভারসাম্য দল। ইংলিশ মিডিয়াও অনেকটা সংযত। হুলিগান নামে একটা সময় উগ্র সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল ইংলিশ শিবিরে। এবার সেখানেও ব্যতিক্রম। ইংল্যান্ডের ম্যাচে তেমন উগ্র আচরণ দেখা যায়নি তাদের মধ্যে। সব মিলিয়ে নীরবে-নিভৃতে যেন এগিয়ে চলেছে দলটি। যেখানে দলের দুই কান্ডারি হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। দুজনই করেছেন ৬টি করে গোল। যা একটি দলের আক্রমণভাগের বলিষ্ঠ রূপেরই বহিঃপ্রকাশ। লক্ষ্য একটাই–সেমির বৈতরণি পার হয়ে ষাট বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখা। 

হেড টু হেডের হিসাব স্বস্তি দিচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ১৪ বারের মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের জয় ছয়টিতে। আর্জেন্টিনা জিতেছে তিনটিতে। বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসও ইংল্যান্ডে পক্ষে। বৈশ্বিক মঞ্চে দুই দল পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ইংল্যান্ডের জয় তিনটি, আর্জেন্টিনা জিতেছে দুটি ম্যাচ। তবে পরিসংখ্যান অনেক সময় হিসাবের খাতাতেই লিপিবদ্ধ থাকে। মাঠের খেলাই আসল কথা।

আটলান্টার রাতে এটি শুধু আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একটি সেমিফাইনাল নয়। এটি ম্যারাডোনার স্মৃতির সঙ্গে মেসির স্বপ্নের মিলন, ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ এবং বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর আরেকটি নতুন অধ্যায়। যে দল জিতবে, তারা শুধু ফাইনালে উঠবে না; নিজেদের নামও লিখে রাখবে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় রাতে।

স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান বাস্তিল দুর্গ
ছবি: সংগৃহীত

বাস্তিল দিবসের বিকেলে ফ্রান্সজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। ১৭৮৯ সালের এই দিনেই বাস্তিল দুর্গের পতনের মধ্য দিয়ে বদলে গিয়েছিল ফ্রান্সের ইতিহাস। স্বাধীনতা, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের স্বপ্নে নতুন পথচলা শুরু হয়েছিল তাদের। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক দিনের আবেগকে ফুটবলের মঞ্চে আনন্দে রাঙাতে পারল না ফ্রান্স। স্পেনের ছন্দময় ফুটবলের কাছে থেমে গেল তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্নিল যাত্রা। স্প্যানিশ সিম্ফনিতে ম্লান হয়ে গেল বাস্তিল দুর্গের উৎসব। 

টানা দুই বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ চারেই থামতে হলো অপ্রতিরোধ্য কিলিয়ান এমবাপ্পেদের। দিদিয়ের দেশমের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড। 

চলমান বিশ্বকাপে অদম্য গতিতে ফরাসিরা এগোলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে এগিয়ে ছিল স্পেনই। ফ্রান্সের বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে তাদের জয় সাতটি, হার দুটি, একটি ম্যাচ ড্র। সর্বশেষ ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। এরপর ২০২৫ সালের নেশন্স লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচেও ৫-৪ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল লা রোজারা। সেই ধারাই বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রাখল তারা।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। বলের দখল, আক্রমণের ধার এবং আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে থাকা দলটি ২০ মিনিটেই পেয়ে যায় পেনাল্টি। ফ্রান্সের বক্সে লুকাস দিনিয়ে বুঝতেই পারেননি তার ঠিক পেছনে ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ামালের পায়ে আঘাত করেন তিনি। স্পষ্ট ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

২২ মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁ সঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছিলেন। কিন্তু ওইয়ারসাবালের জোরালো শট ছিল তার নাগালের বাইরে। এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও গড়েন ওইয়ারসাবাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪-তে। এর আগে এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল ডেভিড ভিয়ার। ২০০৮-০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল। সেই রেকর্ড এখন ওইয়ারসাবালের।

গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল ফ্রান্স। কিন্তু প্রথমার্ধে নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পায়নি তারা। বরং চোটের কারণে উইলিয়াম সালিবাকে হারানোয় আরও বিপদে পড়ে দেশমের দল। ৪১ মিনিটে অবশ্য সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়া ফরাসি অধিনায়ককে থামাতে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের ঝাঁপিয়ে পড়া রক্ষা করে দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের আশা আরও কঠিন করে দেন পেদ্রো পোরো। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত স্থিরতায় মাইক মাইনিয়ঁকে পরাস্ত করেন তিনি। স্পেন এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।

৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল গোল করে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু অফসাইডের কারণে তার গোল বাতিল হয়। এরপর ফ্রান্স আক্রমণে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭২ মিনিটে মাইকেল ওলিসে ও লুকাস দিনিয়েকে তুলে রায়ান শেরকি ও থিও হার্নান্দেজকে মাঠে নামান দেশম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ দিকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে আর কোনো গোল হয়নি। ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন।

গ্যালারিতেও ছিল স্পেনের ইতিহাসের সাক্ষী অনেক মুখ। ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস, জাভি, কার্লোস পুয়লদের উপস্থিতি যেন নতুন প্রজন্মের স্প্যানিশ দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হয়ে ছিল।

২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে ফিরল। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায়। তবে ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের পর নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে আসা লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের সামনে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ।