নারী উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক সমাজ গঠনে ইসলামিক উম্মাহর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী নারী বিষয়ক ৯ম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
গত ১২-১৩ জুলাই এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে ওআইসি সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নারীর অগ্রগতি শুধু একটি সামাজিক লক্ষ্য নয় বরং মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত সমৃদ্ধির জন্য একটি কৌশলগত বিষয়। ওআইসি সর্বদাই নারীর ক্ষমতায়ন উদ্যোগের অগ্রভাগে রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নারীর অধিকারকে জাতীয় সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব নারী উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে ‘Gender-Responsive Budgeting (GRB)’-এর অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত এবং বর্তমানে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এ ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এসডিজি ৪ -এর আলোকে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত জেন্ডার সমতা অর্জিত হয়েছে, স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও উপবৃত্তি চালু রয়েছে এবং সরকার এটিকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্তরে শিশুদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম প্রদান করা হবে এবং প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে এসডিজি-৩ অর্জনে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৩৬-এ নামিয়ে আনা হয়েছে এবং ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ১ লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া কার্যক্রম সরকার হাতে নিয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবে নারী।
মন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এসডিজি ১ ও ১০ অর্জনে এ বছরের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ দরিদ্র পরিবারের নারীকে ‘পরিবার প্রধান’ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে এবং আগামী চার বছরে এ সংখ্যা ১ কোটি ৬০ থেকে ৭০ লাখে উন্নীত করা হবে।
এছাড়াও মা ও শিশু কল্যাণ ভাতা, দুঃস্থ নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী নারী-শিশু, বিধবা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত ভাতা চলমান রয়েছে।
এসডিজি-৮ অর্জনে প্রান্তিক নারীদের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রারম্ভিক মূলধন দেওয়া হচ্ছে। দেশে কৃষি, পোশাক শিল্প, সাংবাদিকতাসহ রাজনীতিতেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।
জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এসডিজি -১৩ অনুযায়ী নারীদের লাইফ স্কিলস ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে এবং তৃণমূলের জন্য স্থানীয় এনজিওগুলোকে আর্থিক মঞ্জুরী দেওয়া হচ্ছে।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়নে কিশোর-কিশোরী ক্লাব সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ডে-কেয়ার সেন্টার ও কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
এসডিজি -১৬-এর আলোকে সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচারের জন্য উন্নত ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণের অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চলমান রয়েছে।
সবশেষে তিনি মুসলিম উম্মাহর নারীদের অগ্রগতির জন্য ওআইসির প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অটূট রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।
খাদিজা রুমি/অমিয়/