সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ।
শিশুটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি আছে।
অভিযুক্ত কিশোর আহসান উল্লাহ পলাতক। সে একই এলাকার বাসিন্দা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ জুলাই বিকেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করার পর শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে প্রথমে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির খোঁজখবর ও তথ্য নিতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেখেই প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ সময় জানানো হয়, পরিচালকের লিখিত অনুমতি ছাড়া ভেতরে ঢোকা নিষেধ। তবে হাসপাতালের পরিচালকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহাকে জানানো হয়। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি না দিয়ে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
হাসপাতাল প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় উপস্থিত মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের ভয়াবহতার তথ্য লুকাতেই কর্তৃপক্ষ এমন লুকোচুরি ও পেশাগত দায়িত্বে বাধা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারের আশায় সোমবার সাতক্ষীরা সদর থানায় হাজির হয় শিশুটির মা। এ সময় অভিযুক্ত আহসান উল্লাহকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা, চাচা ও প্রতিবেশীরাও থানার সামনে অবস্থান নেয়।
ঘটনার বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'স্বদেশ'। সংগঠনের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ’গতকাল ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা পরিবারটির খোঁজখবর রাখছি। শিশুটির পরিবারকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে করা হবে। আমরা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
নাজমুল জাকির/খাদিজা রুমি/