কনের বাড়িতে ঢাকঢোল পিটিয়ে শেষ হয়েছিল আয়োজন। বিয়ের আসর থেকে শুরু করে বরপক্ষকে খাওয়ানোর আয়োজন ঘাটতি নেই কোনকিছুতেই। এমনক্ষণে যৌতুক ছাড়া বর আসেনি কনেকে নিতে। আনন্দের আয়োজন বিষাদে পরিণত হয় মুহূর্তে। এ ঘটনায় তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন কনের বাবা।
বিয়ের কথা ছিল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন চক পলাশবাড়ী এলাকার শাহ আলমের কনের সাথে তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ালকুঠি ইউনিয়নের সর্দারপাড়ার আবদুল হালিম শাহের ছেলে মিলন মিয়া ওরফে নাল্টু মিয়া সাথে।
জানা যায়, রবিবার (১২ জুলাই) ছিল বিয়ের নির্ধারিত দিন। সেই উপলক্ষ্যে রান্নাবান্না থেকে সবধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছিল কনেপক্ষ। নির্ধারিত দিনে বিয়ের পিঁড়িতে হাজির হননি বর।
কনের বাবা শাহ আলম বলেন, আমার বাজার খরচ থেকে শুরু করে রান্নাবান্না সব প্রস্তুত করেছি। হঠাৎ করে ওখান থেকে কথা আসলো বিয়ে হবে না। কেন হবে না জানতে চাইলে ওরা লোকমাধ্যম বলেছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দিতে হবে এবং তিন লাখ টাকা ঘর সাজানো বাবদ দিতে হবে। আমার মেয়ের প্রথম বিয়ে হলুদ মাখা হয়ে গেছে। এই মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব। মান সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে ওরা।
কনের ভগ্নিপতি আব্দুল হালিম বলেন, বিয়ের কেনাকাটা সব ঠিক হয়ে গেছে। গাড়ি পাঠিয়ে দেব। হঠাৎ করে তারা বলছে যৌতুক ছাড়া বিয়ে করতে আসবে না। । আমরা সেখানে আত্মীয় করার জন্য প্রস্তুত। এখন মেয়ের পরিবার অসহায় হয়ে গেছে। আমরা বাধ্য হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।
বরের বাবা আবদুল হালিম শাহ বলেন, সম্পূর্ণ বানোয়াট আমি কখনো একটা টাকাও চাইনি। ওরা বাড়াবাড়ি করেছে এখন বাড়াবাড়িই হবে। মেয়ের পরিবার যদি ক্ষতিপূরণ চায় তাহলে দেব। ছেলে আমার বাড়িতে নাই।
এদিকে যৌতুক বিরোধ আইন ২০১৮ এর ৩৯ নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিবাহের অন্য কোন পক্ষের নিকট কোন যৌতুক দাবি করেন উহা আইনের অধীন একটি অপরাধ এবং তিনি ৫ বৎসর কিন্তু অন্যূন ১ বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মোনাব্বর হোসেন বলেন,'অভিযোগ পেলাম আমরা ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে পাঠিয়ে দিয়েছি। যেহেতু এটি একটি সামাজিক বিষয় সামাজিকভাবে প্রতিহত হোক।
সেলিম সরকার/এসএন