স্ত্রী হাত-পা বেঁধে ও মাথার চুল কেটে মধ্যযুগীয় কায়দায় রাতভর নির্যাতন
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের নেশার টাকা না পেয়ে ঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে রেখে স্ত্রী সোনিয়াকে (২৫) হাত-পা বেঁধে ও মাথার চুল কেটে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে মাদকসেবী স্বামী নাজমুল শেখের (২৮) বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে পুলিশ খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ও দুই শিশু সন্তানকে উদ্ধার এবং স্বামী নাজমুল শেখকে আটক করে।
সোমবার রাতে মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের গয়লাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মুন্সীগঞ্জের চরমুসুরিয়া এলাকার লোকমান সরকারের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাদকসেবী স্বামী নাজমুল প্রায়ই নেশা করে তার স্ত্রী সোনিয়াকে মারধর করতেন। এরই জেরে সোমবার রাতে নেশার টাকা চান স্বামী নাজমুল। এ সময় স্ত্রী সোনিয়া টাকা দিতে না চাইলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঘরে তালাবদ্ধ করে হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে দুই শিশু সন্তান আবু রায়হান (৮) ও আবু মুছার (৪) সামনে রাতভর নির্যাতন করেন।
পরে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা গৃহবধূর চিৎকার শুনে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার এবং স্বামী নাজমুলকে আটক করে। আহত সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূ সোনিয়া বলেন, ‘প্রায় সময়ই নেশা করে বাড়িতে এসে আমাকে সামান্য বিষয় নিয়ে মারধর করে। সোমবার রাতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় আমার দুই শিশু সন্তানের সামনে আমাকে হাত-পা বেঁধে চুল কেটে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে কুপিয়ে জখম করেছে। রাতভর নির্যাতন করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
নাজমুল শেখ বলেন, ‘আমার স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হাত-পা বেঁধে ও চুল কেটে রেখেছি। যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, নাজমুল মাদকসেবী। সে প্রায়ই মাদক খেয়ে তার স্ত্রীকে মারধর করে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গজেব জানান, খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূসহ দুই সন্তানকে উদ্ধার ও নির্যাতনকারী স্বামী নাজমুলকে আটক করে মুকসুদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। স্ত্রী মামলা করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাদল সাহা/আজহার/