ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ র‍্যাগিং ও ব্যাচকল ঠেকাতে এবার কঠোর জাককানইবি প্রশাসন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার সেমিফাইনালের আগে ফের আলোচনায় স্কালোনি-বেকহ্যামের পুরোনো দ্বন্দ্ব এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন, ৪ জন খালাস ইংল্যান্ড দলে কোনো বিভক্তি নেই: কেইন ঈশ্বরগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রোডাক্ট ম্যানেজার ও প্রজেক্ট ম্যানেজারের কাজের মধ্যে পার্থক্য আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের টিকিট ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের দ্বিগুণেরও বেশি ফরিদপুরে ৫ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘কাগজের মানুষ’ সাংবাদিকতার ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে: ডা. জাহেদ মৌলভীবাজারে বন্যায় আটকা ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, মেলেনি সহায়তা পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ জিতলে সোনার চেইন দুর্নীতির শিকারে শীর্ষে ময়মনসিংহ, ঘুষে খুলনা: টিআইবি মেসিকে নয়, নিজেদের শান্ত রাখাই লক্ষ্য ইংল্যান্ডের: জর্ডান পিকফোর্ড আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তি পানি কমতেই ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সুন্দরবনের ডাকাত ছোট জাহাঙ্গীরসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ বেরোবিতে র‍্যাগিং ঠেকাতে নেই কার্যকর পদক্ষেপ ‘ফেভারিট শেফ’-এর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি মাদিহা বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১১০৪ এখনো কোটায় ভর্তি আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্ণফুলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা ফ্রান্সের বিপক্ষে নিজেদের খেলাই খেলতে চায় স্পেন এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় পড়া চলছে

পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডব শেষে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে আকাশ মেঘমুক্ত হয়েছে, কমতে শুরু করেছে মাতামুহুরী নদীর পানি। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই লোকালয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন। নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

টানা বর্ষণ আর ঢলের পানিতে লোকালয়ের হাজার হাজার নলকূপ ও শৌচাগার তলিয়ে গেছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে এখন এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও স্যানিটেশন সংকট। অধিকাংশ ঘরে কয়েকদিন ধরে চুলা না জ্বালিয়ে শুকনা খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনও সরকারি সাহায্য না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন চরম সংকটে থাকা ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বন্যাকবলিত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার দূষিত পানি চারদিকে থৈ থৈ করলেও পানযোগ্য এক ফোঁটাও পানি নেই। নলকূপগুলো পানির নিচে নিমজ্জিত থাকায় বিশুদ্ধ পানির উৎস সম্পূর্ণ অচল। জীবন বাঁচাতে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বন্যার নোংরা ও দূষিত পানি ব্যবহার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাহাড়ি ঢলে গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় চকরিয়া উপজেলার কাকারা, বরইতলী, রসুলাবাদ, ডেইঙ্গাকাটা, বিবিরখীল ও হারবাং ইউনিয়নের বিশাল এলাকা এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। এই বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় বন্যাকবলিত মানুষের পক্ষে বাজারে গিয়ে চাল, ডাল বা শিশুখাদ্য সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, মানুষ ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে আছে। হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। বাজার থেকে কোনোকিছু কিনে খাওয়ার উপায়ও নেই। বেশিরভাগ পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত সরকারি ত্রাণ না এলে মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষুধা আরও চরম আকার ধারণ করবে। আশ্রয়হীন হাজারও পরিবার বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় রান্নার কোনো পরিবেশ নেই। দুর্গতদের দিন কাটছে কেবল শুকনো খাবার খেয়ে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশিরভাগ ঘরের ভেতরে এখনও পানি। রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। চুলা জ্বলছে না কয়েকদিন ধরে। নলকূপ আর শৌচাগার তলিয়ে থাকায় নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। এই মুহূর্তে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট (জলকপাট) ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা দায়ী। স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় এলাকার কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করছে। ফলে বন্যার সময়ও তারা সময়মতো গেট খোলে না।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শাহীন দেলোয়ার দৈনিক খবরে কাগজকে জানান, বন্যাকবলিত এলাকার জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ মিলেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে। যে সমস্ত দুর্গম এলাকায় যাতায়াত কঠিন, সেখানে নৌকার মাধ্যমে ত্রাণ পাঠানোর কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারই সহায়তার বাইরে থাকবে না। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজু দাশ/থিওটোনিয়াস/

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

তিন দফা দাবিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছে এইচএসসির শতাধিক পরীক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে কুমিল্লা কান্দিরপাড় পূবালী চত্বর থেকে কর্মসূচি নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অভিমুখে যাবার পথে পুলিশি বাঁধার মুখোমুখি হয় শিক্ষার্থীরা।

বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান করে তারা এবং তিন দফা দাবিতে স্লোগান দেয়। এ সময় তারা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, রূপসী বাংলা কলেজ, কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, সোনার বাংলা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন।  

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি উত্থাপন করে বলেন, 'দেশের সকল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবিগুলো হলো দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে, যারা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করতে হবে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে।'

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাউদ্দিন, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার এ সময় শিক্ষা বোর্ড ফটকের সামনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাদের কথা শুনেন। পরে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমরা পরীক্ষার্থীদের কথা শুনেছি। যেগুলো আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব সেগুলোর দায়িত্ব আমরা নিব। আর যেগুলো আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয় সেগুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।'

জহির শান্ত/তামান্না রুপা/

ঈশ্বরগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
অভিযুক্ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পালের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

জানা যায়, উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নিখিল চন্দ্র বিশ্মশর্মার কাছ থেকে লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৩ হাজার টাকা নেন। 

ভুক্তভোগী নিখিল চন্দ্র জানান, আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফায়ার লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলে ২৫ হাজার টাকা দাবি করলে আমি ২৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। 

সরকারি বিধি অনুযায়ী নগদ অর্থ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু ওই কর্মকর্তা লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলে ২৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে, ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের  সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী পিএফএম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, নগদ অর্থ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। এটি একটি গুরুতর অপরাধ। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত স্টেশন অফিসার রামপ্রসাদ পাল বলেন, টাকা নেওয়াটা আমার ভুল হয়েছে।

ফয়সল আহমেদ/আজহার/ 

ফরিদপুরে ৫ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
ফরিদপুরে ৫ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে  শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের কঠিনতা, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, ফলাফল মূল্যায়ন এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান।

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রশ্নপত্রের কঠিনতা ও পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত কঠোর গার্ডের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ, বন্যাজনিত কারণে পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগের ন্যায্য ব্যাখ্যা প্রদান, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব খাতা মূল্যায়নের জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান, পদার্থবিজ্ঞানসহ কঠিন বিষয়গুলোর ফলাফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করে অযৌক্তিক ক্ষতি রোধ এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

শিক্ষার্থীরা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কিছুক্ষণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

আগামীকাল (বুধবার) দুপুর ১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে পরীক্ষা বাতিল ও পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী শর্মিষ্ঠা কর্মকার বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়।

তাজুল ইসলাম তুহিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বর্তমান কারিকুলামে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও মনন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে সক্ষম নয়। সারাদেশের বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় অবিলম্বে সকল পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানাই। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/ 

মৌলভীবাজারে বন্যায় আটকা ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, মেলেনি সহায়তা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
মৌলভীবাজারে বন্যায় আটকা ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, মেলেনি সহায়তা
ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে বন্যার পানিতে চারদিক প্লাবিত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন ১১ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ। যাতায়াতের পথ বন্ধ, কোনো ত্রাণ বা সাহায্য না পৌঁছায় অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাদের।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের হাওরপারের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ১১ জন হলেন- ফখরুল মিয়া, কামাল মুন্সি, সোহান মিয়া, সুফি বেগম, শারমিন বেগম, জগলু মিয়া, ফাইজা বেগম, সাজক মিয়া, আনিকা, লাউল মিয়া ও আকবর আলী।

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়িটির চারপাশ পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। চলাচলের সব পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় আশেপাশের কেউ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না, আবার তারাও বের হতে পারছেন না সাহায্যের খোঁজে। 

স্থানীয়রা জানান, এই মানুষগুলো ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিয়েই দিন পার করছেন। কিন্তু খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠার মধ্যে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে কথা হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সুফি বেগমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ’আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। বাড়ির চারদিকে পানি। আগে মানুষের বাড়িতে কাজ করতাম, কিছু সাহায্যও পেতাম। এখন আর পারি না। এক বেলা খেলে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।’

 প্রবীণ নারী কবিতুন বেগম বলেন, কেউ যদি সাহায্যের হাত বাড়ায়, তাহলে তারা একটু বাঁচতে পারে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কামাল মুন্সি জানান, ‘জন্মের পর থেকেই তারা দৃষ্টিশক্তিহীন। ডাক্তার বলেছেন আমাদের দৃষ্টি আর ফিরে আসবে না। এরপর থেকে চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে।’

সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা আজাদুর রহমান জানান, ১১ জনের মধ্যে আটজন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। বাকি তিনজন আবেদন না করায় এখনও তালিকাভুক্ত হননি।

তিনি বলেন, তারা আবেদন করলে দ্রুত ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা সাধ্যমতো তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, ’বিষয়টি জানা পর আমরা খবর নিয়েছি। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাঠিয়েছি। তাদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’

পুলক পুরকায়স্থ/খাদিজা রুমি/

পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
পানি কমলেও কমেনি কষ্ট, চকরিয়া-মাতামুহুরীতে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডব শেষে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে আকাশ মেঘমুক্ত হয়েছে, কমতে শুরু করেছে মাতামুহুরী নদীর পানি। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই লোকালয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন। নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

টানা বর্ষণ আর ঢলের পানিতে লোকালয়ের হাজার হাজার নলকূপ ও শৌচাগার তলিয়ে গেছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে এখন এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও স্যানিটেশন সংকট। অধিকাংশ ঘরে কয়েকদিন ধরে চুলা না জ্বালিয়ে শুকনা খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনও সরকারি সাহায্য না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন চরম সংকটে থাকা ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বন্যাকবলিত বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যার দূষিত পানি চারদিকে থৈ থৈ করলেও পানযোগ্য এক ফোঁটাও পানি নেই। নলকূপগুলো পানির নিচে নিমজ্জিত থাকায় বিশুদ্ধ পানির উৎস সম্পূর্ণ অচল। জীবন বাঁচাতে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বন্যার নোংরা ও দূষিত পানি ব্যবহার করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাহাড়ি ঢলে গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় চকরিয়া উপজেলার কাকারা, বরইতলী, রসুলাবাদ, ডেইঙ্গাকাটা, বিবিরখীল ও হারবাং ইউনিয়নের বিশাল এলাকা এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। এই বিচ্ছিন্ন জনপদগুলোতে নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় বন্যাকবলিত মানুষের পক্ষে বাজারে গিয়ে চাল, ডাল বা শিশুখাদ্য সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। 

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, মানুষ ঘরের ভেতর বন্দি হয়ে আছে। হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। বাজার থেকে কোনোকিছু কিনে খাওয়ার উপায়ও নেই। বেশিরভাগ পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত সরকারি ত্রাণ না এলে মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষুধা আরও চরম আকার ধারণ করবে। আশ্রয়হীন হাজারও পরিবার বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় রান্নার কোনো পরিবেশ নেই। দুর্গতদের দিন কাটছে কেবল শুকনো খাবার খেয়ে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশিরভাগ ঘরের ভেতরে এখনও পানি। রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানোর জায়গা পর্যন্ত নেই। চুলা জ্বলছে না কয়েকদিন ধরে। নলকূপ আর শৌচাগার তলিয়ে থাকায় নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। এই মুহূর্তে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছরই বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট (জলকপাট) ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা দায়ী। স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় এলাকার কিছু স্লুইসগেট ইজারা নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মাছ চাষ করছে। ফলে বন্যার সময়ও তারা সময়মতো গেট খোলে না।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শাহীন দেলোয়ার দৈনিক খবরে কাগজকে জানান, বন্যাকবলিত এলাকার জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ মিলেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে। যে সমস্ত দুর্গম এলাকায় যাতায়াত কঠিন, সেখানে নৌকার মাধ্যমে ত্রাণ পাঠানোর কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারই সহায়তার বাইরে থাকবে না। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজু দাশ/থিওটোনিয়াস/