কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই এখনো কোটার ভিত্তিতে ভর্তি চলমান রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছেন পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, পোষ্যা কোটা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটাসহ বিভিন্ন কোটায় ভর্তি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও চূড়ান্ত নোটিশে কোটা-ভিত্তিক ভর্তির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল ও শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল কোটা সংস্কার, এবং এই কোটা সংস্কার আন্দোলনে গিয়েই প্রথম শহিদ হন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কেন কোটা বহাল? এই প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আন্দোলনের মূল পটভূমি ছিল মেধাবৃত্তিক ও বৈষম্যহীন নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা। তাই শহিদ আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোটায় ভর্তি বিরাজমান থাকায় দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আবু সাইদের সহযোদ্ধা ও সচেতন মহল।
এ বিষয়ে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শামসুর রহমান সুমন বলেন, ’কোটাবিরোধী আন্দোলনে আমাদের এক সহযোদ্ধাকে জীবন দিতে হয়েছে সেই কোটা দিয়েই ভর্তি চলছে আবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি নিশ্চয়ই দুঃখজনক। এটির একটি সুষ্ঠু সুরাহা দরকার। তা না হলে আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঠে নামব। এবং আবারও এই কোটা প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হবে।’
শিক্ষার্থী আরিফ হাসান বলেন, ’এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমাদের আবু সাঈদ ভাই জীবন দিয়েছে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো কোটা প্রথা বিদ্যমান। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে যুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য গড়ে তুললে এর ভবিষ্যৎ ভালো হবে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি সুরাহা করা। তা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থী কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনের ঘোষণা দেবে।’
এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-নাতনি বাদ দিয়ে শুধু বাবা-মায়ের আছে। পোষ্য কোটা ২ শতাংশ আছে, আমাদের নির্ধারিত সিট রয়েছে এই সিটের বাইরে এগুলো। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আমরা এক-দুজন পাই, পাই না। এগুলো খুব বেশি তা কিন্তু না। সবদিক বিবেচনা করে নামমাত্র কোটা রাখা হয়েছে। মেধাবীদের ওপর যাতে কোনো ইফেক্ট (প্রভাব) না পড়ে সেটাও দেখা হচ্ছে।’
সেলিম সরকার/আজহার/