ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
নীলফামারীর ডোমারে ট্রাকচাপায় নিহত ৪ দুর্গতদের ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র টেকনাফ সীমান্তে বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ প্রাথমিকে বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ, কার্যকর ২০২৬ থেকে নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন ঈশ্বরদীতে বৃত্তির হাসি ২০৬ শিক্ষার্থীর মুখে রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি মিয়ানমার সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে পাচারচক্র, আটক দুই যুবক নরওয়ে ‘ডাকাতির’ শিকার: আলফ-ইঙ্গে হালান্ড যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, হামলায় আহত ১০ সিআইপিএস এশিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের চার পুরস্কার বাংলালিংকের ত্রাণ বিতরণের পর হারুয়ালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ১০ লাখ নগরবাসীর সেবায় কাজ করছে রসিক: প্রশাসক বীরের মর্যাদায় দলকে বিদায় জানালেন সুইসরা বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল বাতেনের রাজকীয় বিদায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু ‘আমি সকালে টাইগার খেয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে জানি না’ পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প এক দিনে হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের ত্রাণ বিতরণ বেলিংহাম হতে পারেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ফুটবলার: লিনেকার প্রতারণা মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার ভবন ভাঙার সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ২ শ্রমিক আহত ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে সাংবাদিক-শিক্ষক দম্পতির মেয়ে দেশজুড়ে আকিজ পাইপস নিয়ে এলো ‘ফুঁ-বল চ্যাম্পিয়নশিপ’ চুয়েটে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে সেরার মুকুট প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলমারীতে পানিতে ডুবে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

নোবিপ্রবির ২০ বছর পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প

উচ্চশিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের চার দেয়ালের অধ্যয়ন বা পরীক্ষার ফলাফলেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, ভাঙা-গড়ার গল্প আর অমলিন কিছু অনুভূতি। উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) গত দুই দশকে যেমন গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, ঠিক তেমনি এটি হয়ে উঠেছে হাজারও শিক্ষার্থীর আবেগ ও স্বপ্নের এক জীবন্ত ক্যানভাস। 


ক্লাস, ল্যাব আর অ্যাসাইনমেন্টের চিরচেনা ব্যস্ততার ফাঁকে শিক্ষার্থীরা এখানে খুঁজে নিয়েছে কিছু প্রিয় আশ্রয়, যা তাদের বন্ধুত্ব, প্রেম আর সৃষ্টিশীলতার নীরব সাক্ষী। বিকেল নামলেই শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে জমে ওঠে শহীদ মিনার গোল চত্বর। রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের নানা আলোচনা কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত বন্ধুদের গিটারের সুর ও আড্ডায় এটি হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
আবার প্রকৃতির কাছাকাছি একটু মানসিক প্রশান্তির খোঁজে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় ক্যাম্পাসের পেছনের সবুজাভ পরিবেশে অবস্থিত ‘ময়না দ্বীপ’-এ, যা চারপাশের জলধারা ও নির্জনতার কারণে একটি ‘গোপন স্বর্গ’। মেছোবাঘ, রেসাস বানর, সোনালি শেয়াল কিংবা বেগুনি কালিম ও তুলা হাঁসের মতো বিরল বন্যপ্রাণী ও পাখির দেখা মেলায় এটি ক্যাম্পাসের এক অনন্য বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যও বটে। এখানেই গোধূলিবেলায় বন্ধুরা মিলে সূর্যাস্ত দেখার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। 


ঠিক একইভাবে কেন্দ্রীয় মাঠের একপাশে অবস্থিত ছায়াঘেরা ‘শান্তিনিকেতন’ কবিতা আবৃত্তি, মেঠো সংস্কৃতি ও গিটারের তারে নতুন সুর তোলার এক পরম আশ্রয়স্থল। এর অনতিদূরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশে শান্ত রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘নীলদীঘি’, যার জলরাশি দুপুরের সূর্যের আলোয় নীলাভ আভা ছড়িয়ে দেয় এবং লাইব্রেরির পড়া শেষে শিক্ষার্থীরা এখানে এসে মৃদু বাতাস ও জলের আয়নায় নিজেকে নতুন করে খুঁজে পায়। 
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের পাশের ‘প্রশান্তি পার্ক’ বিশাল বৃক্ষের শীতল ছায়া আর সারি সারি চায়ের টং নিয়ে শিক্ষার্থীদের অন্যতম মিলনমেলা। এখানে সকাল থেকে মধ্যরাতের চায়ের আড্ডায় অনেক আজীবন বন্ধুত্বের সূচনা হয় এবং ক্যারিয়ারের হতাশা ভুলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা স্বস্তি পায়। 
তারুণ্য ও উদ্দীপনার প্রতীক নোবিপ্রবির ‘কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ’ প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে। কুয়াশাঘেরা সকালে শরীরচর্চা, বিকেলে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল-ক্রিকেট খেলা কিংবা জ্যোৎস্না রাতে গোল হয়ে গান গাওয়ার এই মাঠটি সমাবর্তন ও বড় বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ। 


ক্যাম্পাস জীবনের এই কোলাহলের মাঝেও আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক স্থিরতার এক নিরিবিলি পরিসর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কেন্দ্রীয় মসজিদ’। আর শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক লড়াইয়ের আরেক নাম ‘গ্যারেজ’, যা শুধু বাস টার্মিনাল নয়, বরং ক্লাস শেষে শহরের বাসের সিট ধরার হুড়োহুড়ি, যান্ত্রিক জীবনে ছুটে চলা এবং সন্ধ্যার অবসরে টঙের দোকানে চা-নাশতার আড্ডায় সেরা সব স্মৃতি তৈরির স্থান। 
দুই দশকের এই দীর্ঘ পথচলায় নোবিপ্রবি শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে হাজারও শিক্ষার্থীর স্মৃতির নোঙর। যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবে, কিন্তু এই চিরসবুজ প্রাঙ্গণগুলো তাদের তারুণ্যের দিনগুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে রয়ে যাবে। কারণ নোবিপ্রবির প্রকৃত সৌন্দর্য এর অবকাঠামোয় নয়, বরং এর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা মানুষের গল্প ও আত্মিক সম্পর্কের স্পন্দনে।

লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী

নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম
নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন
নাজমুল আবেদীন সৈকত

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে একসঙ্গে ছয়টি বিষয়ে ব্যাকলগ এবং সিজিপিএ মাত্র ২.৪৫– এমন বিপর্যয়কর ফলাফল থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল আবেদীন সৈকত এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম ও অটুট আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ভোলার পশ্চিম উকিলপাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক ডা. মো. নাসির উদ্দিন ও নার্গিস বেগমের ছোট সন্তান সৈকত ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সাময়িক বিপর্যয়ে পড়লেও তা কাটিয়ে সিজিপিএ ৩-এর ওপরে নিয়ে স্নাতক শেষ করেন।
পরিকল্পিত প্রস্তুতির জন্য তিনি ঢাকায় বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মেসে থাকা শুরু করেন এবং প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার জন্য সমন্বিত নোট তৈরি করেন। ৪৬তম বিসিএসে ব্যর্থ হলেও প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিজের দুর্বলতা দূর করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।
সৈকত তার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের সীমাহীন ত্যাগ ও প্রিয়জনদের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুজদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ, সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে লেগে থাকলে সফল হওয়া সম্ভব, তবে স্বপ্নের চেয়ে জীবন বড় হওয়ায় বিকল্প প্রস্তুতিও রাখা উচিত। ভবিষ্যতে সততার সঙ্গে মানুষের সেবা করাই সৈকতের মূল লক্ষ্য।

রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত ‘সামাজিক স্কুল’

‘জ্ঞানই শক্তি, শিক্ষাই মুক্তি’– এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলো ছড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত ‘সামাজিক স্কুল’। প্রখর মেধা ও তীব্র আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যে শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, তাদের স্বপ্ন দেখাতেই এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির পথচলা।
২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একঝাঁক তরুণের উদ্যোগে রাজশাহীর নামোভদ্রা রেলওয়ে মাঠ এলাকায় স্কুলটি যাত্রা শুরু করে। এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে আলমগীর কবির সবুজ এবং মো. রাকিবুল ইসলাম। বর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করছেন মনিমা খানম ও ফাতেমা-তুজ-জোহরা।
রেলওয়ে পাড় বস্তির প্রায় শতাধিক শিশুকে মৌলিক, নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষা দেওয়াই এর লক্ষ্য। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিশুকে শিক্ষার আলো দিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে এখানে অর্ধশত শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৪০ শিক্ষার্থী। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত এখানে ক্লাস নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলম, ব্যাগ ও দুই ঈদে উপহারসহ যাবতীয় খরচ বহন করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।
স্কুলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতে, সঠিক সুযোগ পেলে এই প্রতিভাবান শিশুরাও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। আগামীতে এই শিশুরা সুশিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবে– এটাই সবার প্রত্যাশা।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল বাতেনের রাজকীয় বিদায়

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল বাতেনের রাজকীয় বিদায়

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেনকে লাল গালিচা ও ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাজকীয় সম্মানে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকতার দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের পর প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতেই গত বুধবার এ আয়োজন করেন তারা।
অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। জাপান থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তার শতাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তার তত্ত্বাবধানে পাঁচজন শিক্ষার্থী পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন বলেন, এই অনুভূতিটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শিক্ষার্থীরা আমাকে এতটা ভালোবাসে, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। আনন্দে আমার চোখে জল চলে এসেছিল। তারা আমার চেম্বারের সামনে লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে আমাকে বিদায় জানায়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আবেগঘন পরিবেশে ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে আমাকে বিদায় দিতে চেয়েছিল। তবে ক্যাম্পাসে চলমান ক্লাসের যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণে আমি তাদের শব্দ করতে নিষেধ করি। পরে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে আমার বাসভবনে পৌঁছে দেয়।

নোবিপ্রবির ২০ বছর পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প

উচ্চশিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের চার দেয়ালের অধ্যয়ন বা পরীক্ষার ফলাফলেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, ভাঙা-গড়ার গল্প আর অমলিন কিছু অনুভূতি। উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) গত দুই দশকে যেমন গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, ঠিক তেমনি এটি হয়ে উঠেছে হাজারও শিক্ষার্থীর আবেগ ও স্বপ্নের এক জীবন্ত ক্যানভাস। 


ক্লাস, ল্যাব আর অ্যাসাইনমেন্টের চিরচেনা ব্যস্ততার ফাঁকে শিক্ষার্থীরা এখানে খুঁজে নিয়েছে কিছু প্রিয় আশ্রয়, যা তাদের বন্ধুত্ব, প্রেম আর সৃষ্টিশীলতার নীরব সাক্ষী। বিকেল নামলেই শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে জমে ওঠে শহীদ মিনার গোল চত্বর। রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের নানা আলোচনা কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত বন্ধুদের গিটারের সুর ও আড্ডায় এটি হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
আবার প্রকৃতির কাছাকাছি একটু মানসিক প্রশান্তির খোঁজে শিক্ষার্থীরা ছুটে যায় ক্যাম্পাসের পেছনের সবুজাভ পরিবেশে অবস্থিত ‘ময়না দ্বীপ’-এ, যা চারপাশের জলধারা ও নির্জনতার কারণে একটি ‘গোপন স্বর্গ’। মেছোবাঘ, রেসাস বানর, সোনালি শেয়াল কিংবা বেগুনি কালিম ও তুলা হাঁসের মতো বিরল বন্যপ্রাণী ও পাখির দেখা মেলায় এটি ক্যাম্পাসের এক অনন্য বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যও বটে। এখানেই গোধূলিবেলায় বন্ধুরা মিলে সূর্যাস্ত দেখার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। 


ঠিক একইভাবে কেন্দ্রীয় মাঠের একপাশে অবস্থিত ছায়াঘেরা ‘শান্তিনিকেতন’ কবিতা আবৃত্তি, মেঠো সংস্কৃতি ও গিটারের তারে নতুন সুর তোলার এক পরম আশ্রয়স্থল। এর অনতিদূরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশে শান্ত রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘নীলদীঘি’, যার জলরাশি দুপুরের সূর্যের আলোয় নীলাভ আভা ছড়িয়ে দেয় এবং লাইব্রেরির পড়া শেষে শিক্ষার্থীরা এখানে এসে মৃদু বাতাস ও জলের আয়নায় নিজেকে নতুন করে খুঁজে পায়। 
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের পাশের ‘প্রশান্তি পার্ক’ বিশাল বৃক্ষের শীতল ছায়া আর সারি সারি চায়ের টং নিয়ে শিক্ষার্থীদের অন্যতম মিলনমেলা। এখানে সকাল থেকে মধ্যরাতের চায়ের আড্ডায় অনেক আজীবন বন্ধুত্বের সূচনা হয় এবং ক্যারিয়ারের হতাশা ভুলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা স্বস্তি পায়। 
তারুণ্য ও উদ্দীপনার প্রতীক নোবিপ্রবির ‘কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ’ প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে। কুয়াশাঘেরা সকালে শরীরচর্চা, বিকেলে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল-ক্রিকেট খেলা কিংবা জ্যোৎস্না রাতে গোল হয়ে গান গাওয়ার এই মাঠটি সমাবর্তন ও বড় বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ। 


ক্যাম্পাস জীবনের এই কোলাহলের মাঝেও আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক স্থিরতার এক নিরিবিলি পরিসর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কেন্দ্রীয় মসজিদ’। আর শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক লড়াইয়ের আরেক নাম ‘গ্যারেজ’, যা শুধু বাস টার্মিনাল নয়, বরং ক্লাস শেষে শহরের বাসের সিট ধরার হুড়োহুড়ি, যান্ত্রিক জীবনে ছুটে চলা এবং সন্ধ্যার অবসরে টঙের দোকানে চা-নাশতার আড্ডায় সেরা সব স্মৃতি তৈরির স্থান। 
দুই দশকের এই দীর্ঘ পথচলায় নোবিপ্রবি শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে হাজারও শিক্ষার্থীর স্মৃতির নোঙর। যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীরা ডিগ্রি শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাবে, কিন্তু এই চিরসবুজ প্রাঙ্গণগুলো তাদের তারুণ্যের দিনগুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে রয়ে যাবে। কারণ নোবিপ্রবির প্রকৃত সৌন্দর্য এর অবকাঠামোয় নয়, বরং এর প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা মানুষের গল্প ও আত্মিক সম্পর্কের স্পন্দনে।

লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী

চুয়েটে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে সেরার মুকুট প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
চুয়েটে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে সেরার মুকুট প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বিতর্ক সংগঠন চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির (চুয়েটডিএস) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী 'আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসব ২০২৬' অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ও ১১ জুলাই আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক দল অংশগ্রহণ করে। বাংলা এশিয়ান পার্লামেন্টারি ফরম্যাটে উক্ত প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়।

শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি এবং ডিবেটার্স অব চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি। 'এই সংসদ মনে করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রাপ্ত মুনাফার সিংহভাগ চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে ব্যয় হওয়া উচিত'-এই প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত বিতর্কে সরকারি দলের ভূমিকায় থাকা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় জয়লাভ করে শিরোপা নিশ্চিত করে। রানার্সআপ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দল।

ফাইনালে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মোবারক হোসেন সজীব সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন। অন্য দিকে পুরো প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠ বিতার্কিকের স্বীকৃতি যৌথভাবে পান প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তন্ময় তাহসিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকরামুল হোসেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর ও স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সজীব পাল, মানবিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ক্লাবের মডারেটর নাহিদা সুলতানা, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ড. ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুদ্দিন মুন্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সহসভাপতি সোহানুর রহমান সোহান এবং চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি কামরুল আহসান মাহির। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চুয়েটডিএস এর সহসভাপতি (প্রশাসন) আদিল রায়হান।

আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর ও মানবিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাহিদা সুলতানা বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং তাদের পাশে থাকবেন। বিতর্ক আমাদের একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে, ভিন্নমত গ্রহণ করতে এবং যুক্তির মাধ্যমে নিজের মতামত উপস্থাপন করতে শেখায়। যারা আজ জয়ী হতে পারোনি, তারা হতাশ হবে না। লিওনেল মেসির মতো বারবার ফিরে এসে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করবে। আগামী মাসে আমি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছি। তবে যেখানেই থাকি না কেন, চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির প্রতি আমার শুভকামনা ও সমর্থন সবসময় থাকবে ‘

বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুদ্দিন মুন্না বলেন, ‘চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি কামরুল আহসান প্রায় দুই মাস ধরে এই আয়োজন সফল করতে আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। আমি সিটি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০০৭ সালে প্রথম চুয়েটে এসেছিলাম এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত নিয়মিত বিতর্ক করেছি। চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে গৌরবের সঙ্গে পথচলা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের দলগুলো ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রতিযোগিতা থেকে তোমরা যে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কাজে লাগবে।’

চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি কামরুল আহসান বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে প্রতিযোগিতার সূচি পরিবর্তন করতে হলেও সবাই যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এবারের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে দেশের ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছে। আমরা তারুণ্যের উৎসব নামে আমাদের সিগনেচার আয়োজনটি করার পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতের আয়োজনগুলোতেও সবাইকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

ইবাদ হোসেন/থিওটোনিয়াস/