বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বেসরকারি নার্সিং ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেবাচিমের এ সিদ্ধান্তের ফলে বরিশাল বিভাগে বেসরকারি ২০ নার্সিং ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা। তবে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি নার্সিং কলেজের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো সমস্যা হবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে প্রায় ২০টি বেসরকারি নার্সিং কলেজ ছাড়াও ম্যাটস, আইএইচটি, হেলথ প্রফেশনাল, কমিউনিটি প্যারামেডিক ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পাস করে শেবাচিম হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে আসছিলেন।
সম্প্রতি বরিশালের একটি বেসরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শেবাচিম হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ নতুন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ ছাড়া নার্সিং শিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য শেবাচিম হাসপাতালে এ সুযোগ বন্ধ থাকলে তাদের কোর্স সম্পন্ন, নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) এবং ভবিষ্যৎ পেশাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের মতো প্রশিক্ষণের সুযোগ চালুর দাবি জানান তারা।
ইসলামী ব্যাংক নার্সিং ইনস্টিটিউট বরিশালের অধ্যক্ষ আকলিমা বেগম বলেন, ‘বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ নার্সিং শিক্ষার বাধ্যতামূলক অংশ। এসব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন না হলে কোনো শিক্ষার্থী কোর্স শেষ করতে, নিবন্ধন পেতে কিংবা পেশায় যুক্ত হতে পারবেন না। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।’
বরিশালের জমজম নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান এস এম সাজ্জাদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শেবাচিম হাসপাতাল দক্ষিণাঞ্চলের বেসরকারি নার্সিং শিক্ষার্থীদের প্রধান ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগ বন্ধ থাকলে প্রতিবছর প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের অনিয়মের পক্ষে নই। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তার দায় যেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত বিষয়টির সমাধান করে আগের মতো ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ চালুর ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’
শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শেবাচিম হাসপাতালের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্ত ও যাচাইয়ের স্বার্থে সাময়িকভাবে বেসরকারি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সরাসরি হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নার্সিং কলেজের মাধ্যমে বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নার্সিং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে কোনো সমস্যা হবে না।