ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ব্যাঙের শিক্ষা নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫ জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা মেঘের সৌধ থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা বৃষ্টি ভেজার কাঁপন বরষা, এ চল্লিশে আষাঢ়ের রূপ বাউরি বর্ষার ঝোড়ো রাত আষাঢ়ি পূর্ণিমায় স্ক্রিনে বন্দি শৈশব-কৈশোর আষাঢ়ের বাদলধারা বৃষ্টিস্নাত বিশেষত তোমাকে বাদলফকির ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন মরক্কোর কোচ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার লাভ-ক্ষতি আওয়ামী লীগের জন্ম দিল্লিতে, দাফনও হয়েছে সেখানেই: সারজিস আলম এসেছ আজ কী মহাসমারোহে উপভোগ্য ছিল পদ্মায় ইলিশ ধরা গ্রাফিতিতে বিশ্বকাপ, ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে জাককানইবি মরক্কোকে বেছে নেওয়ায় আফসোস নেই বুয়াদির নজরুলের অভিযান কবিতার এক শ বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার বাঁশখালীতে জামায়াত আমিরের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন

পাহাড়ধস ও ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
পাহাড়ধস ও ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু
ভারী বর্ষণে ঘরের চাল পর্যন্ত ডুবে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে নতুন করে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানের লামার আজিজনগর ইউনিয়নে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য একটি ঘটনায় এক দম্পতি মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারান।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড়ধসে দুই শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়। এ নিয়ে কক্সবাজারে গত চার দিনে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে, যার মধ্যে ১৩ জনই উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

অন্যদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পানির স্রোতে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে রাঙামাটির সাজেকে এখনো আটকা রয়েছেন তিন শতাধিক পর্যটক। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

লামায় পাহাড়ধসে পৃথক দুই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের।  এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ভোর রাত ৪টার দিকে। ওই সময় পাহাড়ধসে বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায়  মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একই এলাকার আরেকটি পাহাড়ধসে একতলা পাকা ঘরের দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫)।

স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, একই এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় নিহত হয়েছে শিশুসহ ৫ জন। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে লামাসহ বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন ও সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই এখনো সেখানে যেতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

চকরিয়ায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত দুই শিশুর মৃত্যু
কক্সবাজার ও পেকুয়া প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। 

নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৩ জন এবং স্থানীয় বাসিন্দা ৬ জন রয়েছেন। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করায় আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবশেষ গতকাল বুধবার মধ্যরাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। 

নিহতরা হলেন, বরইতলী ইউনিয়নের আবদুল মজিদের ছেলে ওবাইদুল ইসলাম (১৩) ও মো. কাজলের মেয়ে রুমী আক্তার (১৩)। এ ঘটনায় আহত হন এক নারী। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন দেলোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে তাদের বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা তিনজন মাটিচাপা পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর লাইলা বেগমকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও রুমি ও তৌছিফকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ইউএনও শাহীন দেলোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসন রয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে গত রবিবার রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। একই রাতে কক্সবাজার শহরের সাত্তারঘোনা এলাকায় একজন এবং পেকুয়ায় একজনের মৃত্যু হয়। 

গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর বড় ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় একজন মারা যান। এদিন বেলা ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামবাগান এলাকায় দেয়াল চাপা পড়ে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়।

গত বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ-৩ এলাকায় অবস্থিত খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হিফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় এবং বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুরা হলো- চকরিয়ার মাইজ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদের ছেলে ওয়াকিম (২) ও মাতামুহুরীর চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্প (৩)।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মাছ ধরার সময় পানির প্রবল স্রোতে তলিয়ে যাওয়া মোহাম্মদ সাঈদ (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরতি ইউনিয়নের পশ্চিম দুরদুরী গ্রামের একটি ব্রিজের পাশে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় সাঈদ। এর প্রায় ৩ ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিল থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। মোহাম্মদ সাঈদ চরতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম দুরদুরী গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে।

খাগড়াছড়িতে কমতে শুরু করেছে পানি, সাজেকে এখনো আটকা ৩ শতাধিক পর্যটক
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরে উন্নতি হচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন ছড়া-খালের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে সন্ধ্যার দিকে আবারও হালকা ঝিরঝিরি বৃষ্টি হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। পানি খুব ধীরে নামছে। তাই জেলা সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি, পানছড়ি ও মাটিরাঙা উপজেলার অনেক নিম্নাঞ্চল এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী, বাঘাইহাট ও মাচালং এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেক, বাঘাইছড়ি ও রাঙামাটির লংগদুর সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে গতকাল বিকেলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শতাধিক পর্যটক নৌকায় পানি পেরিয়ে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছেন। এখনো সাজেকে আটকা পড়ে আছেন তিন শতাধিক পর্যটক। তবে তাদের জন্য থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা আজ খাগড়াছড়িতে ফিরতে পারবেন। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এখনো বন্ধ রয়েছে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের যান চলাচল।

এদিকে অব্যাহত বর্ষণের কারণে তৈরি হওয়া পাহাড়ধসের শঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে প্রশাসনের নির্দেশনা বহাল রয়েছে। 

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, পুরো জেলায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। তবে গতকাল আরও ১৪টি বাড়িয়ে ১৪৯টি করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কার মাঝেই বন্যার পদধ্বনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ মানুষ
রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কার মাঝেই বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার ৮ উপজেলা ও দুই পৌর এলাকায় ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার ৬ উপজেলায় ছোট-বড় ১০০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি, সাজেক ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জরুরি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করেছে।

অতিবর্ষণ ও উজানের ঢলে গত বুধবার সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যেই বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সেখানে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০৭ পরিবারের ৩ হাজার ২৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া সেখানকার ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সেখানে ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় সেখানে ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ছোট-বড় ১০০টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বাঘাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি এবং নানিয়ারচর উপজেলায় ২টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তার জন্য দ্বিতীয় দিনের মতো জেলায় বন্ধ রাখা হয় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে তিনবেলা খাবারসহ  সুপেয় পানি দেওয়া হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সরবরাহ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:০১ পিএম
নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী বৃদ্ধা ববি বেগম হত্যা ও টাকা লুটের মামলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ। 

তিনি জানান, ভৈরব থানা রেলেওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব সহ যৌথবাহিনীর অভিযানে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে রিফাত, সাকিব আহমেদ, দ্বীন ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, ইলিয়াছ মিয়াসহ ৫জনকে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে শিগগিরই এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

উল্লেখ্য, নরসিংদীতে রায়পুরা উপজেলায় মেথিকান্দা রেলস্টেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন ববি বেগম (৭০)। গত ৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালিয়ে তার জমানো টাকা লুট করা হয়। বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও তার পাশে দাঁড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ৭ জুলাই মারা যান। এ বৃদ্ধা নারী কোনো আত্মীয় স্বজন না থাকায় তাকে রেলওয়ে কবস্থানে দাফন করা হয়।

এ দিকে ববি বেগমের মৃত্যুর খবরে রায়পুরা উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘরবাড়ি ও স্বজনহীন এই নারীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে শোক প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সর্বস্তরের মানুষ। ৫ জন গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শাওন শাহিন/খাদিজা রুমি/

হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:১০ পিএম
হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ গবাদিপশুসহ পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালিগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর দ্রুতগতিতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে।রাতেই স্থানীয় যুবসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবীরা নৌকার সাহায্যে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ’দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে কালিগঞ্জ এলাকার বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর ফলেই বাঁধ ভেঙে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেনবালু তারা।’

এ দিকে বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, উজানে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কাজল সরকার/খাদিজা রুমি/

লালপুরে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ এএম
লালপুরে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার সাইফুল ওরফে সাইদুল ইসলাম ও ওবাইদুল/ ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১৪ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মানবেন্দ্র বালো।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি দল।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকার মো. সাইফুল ওরফে সাইদুল ইসলাম (৩৭) এবং মো. ওবাইদুল (৪০)।

ডিবি পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় সাইফুল ওরফে সাইদুল ইসলামের কাছ থেকে ৬ গ্রাম এবং ওবাইদুলের কাছ থেকে ৮ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া হেরোইনের মোট পরিমাণ ১৪ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ডিবির তথ্যমতে, গ্রেপ্তার সাইফুল ওরফে সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি এবং ওবাইদুলের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।

মানবেন্দ্র বালো বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সিংগাইর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।’

আসাদ জামান/তামান্না রুপা/

খুলনায় বস্তাবন্দি মৃত স্কুলছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
খুলনায় বস্তাবন্দি মৃত স্কুলছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি মৃত তরুণী আরফানা হোসেন নির্জনার (১৬) পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংবাদ দেখে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের মরদেহ খুঁজে পান মা।

নিহত তরুণী খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বস্তা দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। 

পুলিশ এসে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মাকসুদ/খাদিজা রুমি/

কক্সবাজারের পৃথক স্থানে বন্যার পানিতে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:০১ এএম
কক্সবাজারের পৃথক স্থানে বন্যার পানিতে দুই শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় এবং বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকায় এ দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো, চকরিয়া উপজেলার মাইজ কাকারা এলাকার সোলতান আহমদের ছেলে ওয়াকিম (২) এবং মাতামুহুরী উপজেলার চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্প (৩)

স্থানীয়রা জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লোকালয়ে দ্রুত বন্যার পানি ঢুকে পড়ে। এতে গ্রামের সড়ক, বাড়ির উঠান ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ির পাশে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায় দুই শিশু। পরে দীর্ঘক্ষণ স্বজনরা তাদের খোঁজা শুরু করেন। একপর্যায়ে পানি থেকে তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, ’বন্যার পানিতে থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে বুধবার (৮ জুলাই) মধ্যরাতে চকরিয়ায় ঘরের ওপর পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

তারেকুর রহমান/খাদিজা রুমি