ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা মেঘের সৌধ থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা বৃষ্টি ভেজার কাঁপন বরষা, এ চল্লিশে আষাঢ়ের রূপ বাউরি বর্ষার ঝোড়ো রাত আষাঢ়ি পূর্ণিমায় স্ক্রিনে বন্দি শৈশব-কৈশোর আষাঢ়ের বাদলধারা বৃষ্টিস্নাত বিশেষত তোমাকে বাদলফকির ফ্রান্সের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন মরক্কোর কোচ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার লাভ-ক্ষতি আওয়ামী লীগের জন্ম দিল্লিতে, দাফনও হয়েছে সেখানেই: সারজিস আলম এসেছ আজ কী মহাসমারোহে উপভোগ্য ছিল পদ্মায় ইলিশ ধরা গ্রাফিতিতে বিশ্বকাপ, ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে জাককানইবি মরক্কোকে বেছে নেওয়ায় আফসোস নেই বুয়াদির নজরুলের অভিযান কবিতার এক শ বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার বাঁশখালীতে জামায়াত আমিরের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন স্পেনকে হারাতে নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে: লুকাকু লালপুরে হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নজরুলের অভিযান কবিতার এক শ বছর

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
নজরুলের অভিযান কবিতার এক শ বছর
কাজী নজরুল ইসলাম।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বারবারই পূর্ববঙ্গে এসেছেন। তিনি প্রথম এসেছিলেন ১৯১৪ সালের মে মাসে। তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। বোহেমিয়ান নজরুল ১৯১৩ সালে স্কুল ছেড়ে বর্ধমানের অন্ডাল ব্রাঞ্চ রেলওয়ের বাঙালি খ্রিষ্টান গার্ড সাহেবের অধীনে বাবুর্চিগিরির কাজ নেন। পরে তিনি আসানসোলে এম এ বক্শ নামের এক ব্যক্তির মালিকানায় পরিচালিত একটি রুটির কারখানায় মজুরের কাজে যোগ দেন।

যাওয়া-আসার পথে নজরুলকে দেখেন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর কাজী রফিজউল্লাহ। এক সময় তিনি নজরুলের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। নজরুলের কাজকর্ম দেখে তার ভেতরে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা তিনি আঁচ করতে পারেন। তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন, নজরুলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবেন। পরে তিনি তাকে নিজের আশ্রয়ে নেন। এর মধ্যেই তার চাকরিস্থল বদলের নোটিশ আসে। পরিবার নিয়ে তিনি আসানসোল থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাজীর সিমলায় নিজের গ্রামে চলে আসেন। তখন তার পরিবারের একজন হয়ে নজরুলও আসেন। 

সে সময় নজরুল কলকাতা থেকে স্টিমারে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহে যান। ওই বছরের জুন মাসে তিনি দরিরামপুর উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই নজরুল স্কুলের শিক্ষকদের প্রিয় ছাত্রে পরিণত হন। ১৯১৪ সালের ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষায় সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথম হলেন নজরুল। অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পর তিন কিছুদিন ক্লাস করলেন। ভালোই কাটছিল তার দিনগুলো। পরে তিনি অজানা কারণে তার জন্মস্থান চুরুলিয়ায় ফিরে যান। 

১৯১৫ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল বর্ধমানের এলবার্ট ভিক্টর ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই স্কুলটি উঠে গেলে তিনি বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ সিয়ারসোল রাজ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন। মেধাবী নজরুল পড়ালেখায় ভালো করায় রাজবাড়ি থেকে নজরুলকে মাসিক পাঁচ টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়েই তার পড়ালেখা চলত। এই স্কুলে নজরুল দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন এবং প্রি-টেস্ট পরীক্ষাও দেন। ১৯২৬ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় নজরুল একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে ১০৬ চরণের ‘ক্ষমা’ নামে একটি দীর্ঘ কবিতা লেখেন। পরে নাম বদল করে কমরেড মুজফ্ফর আহমদ ‘মুক্তি’ নামে কবিতাটি প্রকাশ করেন। 

১৯১৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি যুবকদের মধ্য থেকে সৈনিক নিয়ে ব্রিটিশ সরকার ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টন গঠনের উদ্যোগ নেয়। নজরুল ও তার বন্ধু শৈলজানন্দ গোপনে নাম লেখান। কিন্তু কলকাতায় ফোর্ট ইউলিয়ামে ডাক্তারি পরীক্ষায় বাদ পড়ে শৈলজানন্দ। নজরুল টিকে গিয়ে সেনাদলে যোগ দেন। সেপ্টেম্বরে হাওড়া স্টেশন থেকে একটি বড় দলের সঙ্গে নজরুল লাহোরের পথে যাত্রা করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়। মার্চ মাসে নজরুল করাচি থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। 

দ্বিতীয়বার নজরুল পূর্ববঙ্গে আসেন ১৯২১ সালের ৩ এপ্রিল। করাচিতে সৈনিক জীবনের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য ও বিভিন্ন ভাষাচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন। সংগীতচর্চাও করতেন নিয়মিত। কলকাতায় ফিরে তিনি লেখালেখিতে মনোযোগ দেন। তার কবিতা বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হতে থাকে। শুরুতেই সবার দৃষ্টি কাড়েন তিনি। তার লেখালেখি দেখে মুগ্ধ হন প্রকাশক আলী আকবর খান। তিনি মনে মনে ঠিক করলেন, তরুণ কবি নজরুলকে দিয়ে বই লিখিয়ে নিজের ব্যবসার প্রসার ঘটাবেন। তিনি নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। এক পর্যায়ে তিনি তাকে কুমিল্লায় আমন্ত্রণ জানান। তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি কলকাতা থেকে ট্রেনে কুমিল্লায় আসেন। কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে আলী আকবরের সহপাঠী বীরেন্দ সেনগুপ্তের বাড়িতে যাত্রাবিরতি করেন। এরপর বেশ কয়েকবার তিনি পূর্ববঙ্গে স্টিমারে এসেছিলেন। স্টিমার যাত্রায় তার প্রবেশদ্বার ছিল নারায়ণগঞ্জ। 

১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নজরুল কলকাতার ৩/৪ সি তালতলা সেলের বাসায় শেষ রাতের দিকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা রচনা করেন। কবিতাটি ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি বিজলী পত্রিকায় ছাপা হয়। এই কবিতা সাহিত্যাঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কবিকে এনে দেয় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। দুই বাংলায় কবি হয়ে ওঠেন বিদ্রোহের প্রতীক। এরপর কবিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি বীরের মতোই সাহিত্যের নানা শাখায় তার উপস্থিতির জানান দেন। বলা হয়ে থাকে, পূর্ববঙ্গের মাটিই পরশপাথর হয়ে ধরা দিয়েছে নজরুলের জীবনে।  

১৯২৬ সালের জুনে নজরুল আবার আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে আহূত মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বর্ষের চতুর্থ অধিবেশনে যোগ দিতে। এ সম্মেলনে নজরুল ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’, ‘আমরা ছাত্রদল’ এবং ‘কৃষকের গান’ পরিবেশন করেন। এই রচনাগুলোও এর মধ্যেই শতবর্ষ পূরণ করল। তার সেই শতবর্ষী গান এখনো তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে উদ্দীপ্ত করে। সাহিত্য সম্মেলন শেষ হওয়ার পর ২ জুলাই নজরুল ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সফর করেন। সেখানে তিনি সাহিত্যানুরাগী মোহাম্মদ কাসেমের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। তখন তিনি মোহাম্মদ কাসেমের সম্পাদনায় প্রকাশিতব্য মাসিক ‘অভিযান’ পত্রিকার জন্য তার বাড়িতে বসেই আশীর্বাণীসূচক কবিতা ‘অভিযান’ লিখে দেন। সে হিসেবে অভিযান কবিতার শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে গত ২ জুলাই।  

কবিতাটি ১৯২৭ সালে সিন্ধু-হিন্দোল কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়। কবিতাটি পাঠকদের উদ্দেশে এখানে তুলে ধরছি:
অভিযান নতুন পথের যাত্রা পথিক/ চালাও অভিযান!/ উচ্চকণ্ঠে উচ্চারো আজ/ মানুষ মহীয়ান!/ চারদিকে আজ ভীরুর মেলা,/ খেলবি কে আয় নতুন খেলা?/ জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলা/ বাইবি কে উজান?/ পাতাল ফেড়ে চলবি মাতাল/ স্বর্গে দিবি টান।/ সমর-সাজের নাই রে সময়/ বেরিয়ে তোরা আয়,/ আজ বিপদের পরশ নেব/ নাঙ্গা আদুল গায়।/ আসবে রণ-সজ্জা কবে,/ সেই আশাতেই রইলি সবে!/ রাত পোহাবে প্রভাত হবে/ গাইবে পাখি গান।/ আয় বেরিয়ে, সেই প্রভাতে/ ধরবি যারা তান।/ আঁধার ঘোরে আত্মঘাতী/ যাত্রা পথিক সব/ এ উহারে হানছে আঘাত/ করছে কলরব।/ অভিযানের বীর সেনাদল!/ জ্বালাও মশাল, চল আগে চল!/ কুচকাওয়াজের বাজাও মাদল,/ গাও প্রভাতের গান!/ ঊষার দ্বারে পৌঁছে গাবি/ জয়নব উত্থান! 

পুরোনো পত্রিকা ও বইপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, কবি নজরুল তার পাণ্ডুলিপিতে অভিযান কবিতার শেষে স্বাক্ষর করে তারিখ লিখেছেন, নারায়ণগঞ্জ ২-৭-২৬। একই তারিখে কবি শীতলক্ষ্যার ঘাটে বসে ‘আমি পুরব দেশের পুরনারী’ গানটিও রচনা করেন। এই গান সম্পর্কে স্মৃতিচারণায় কবি নিজেই উল্লেখ করেন যে, গোয়ালন্দ থেকে স্টিমারটি এসে শীতলক্ষ্যায় পৌঁছে ঘাটে না ভিড়ে কিছুটা দূরে থামল। স্টিমার থেকে যাত্রীরা ছোট নৌকায় চড়ে ঘাটে গিয়ে নামছে। স্টিমার থেকে নৌকায় নামা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই ভয় পাচ্ছিলেন। সে সময় এক নারী লাফ দিয়ে স্টিমার থেকে নৌকায় নামলে কবি নজরুল অবাক হয়ে তাকে দেখছিলেন। নৌকায় নেমে নারী নজরুলের দিকে তাকালেন। তার নামা এবং ঘুরে তাকানো নজরুলকে বিস্মিত করে। তিনি ভাবেন, পূর্বদেশের নারীদের পক্ষেই এমনটি সম্ভব। তখনই তিনি ঘাটে বসে গানটি লিখলেন। 

কবি নজরুল তাৎক্ষণিকভাবেই তার কবিতা ও গান রচনা করতেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময়ই তিনি সোচ্চার ছিলেন। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি কবিতা ও গান লিখেছেন। কবিতা লেখার জন্য জেল খেটেছেন। তবু অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। 

বর্তমান সরকার জুন ২০২৬ থেকে জুলাই ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়কে নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেছে। এজন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আশা করছি, আগামী এক বছর রাজধানী থেকে উপজেলা পর্যন্ত সরকারিভাবে নজরুলচর্চা করা হবে। নানা অনুষ্ঠান করবে; যার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নজরুল সম্পর্কে আরও বেশি বেশি জানতে পারবে। নজরুল চেতনা ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

কবিতা জলের আঙুল

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
জলের আঙুল

তুমুল বৃষ্টির রাত
চৌচির মৃত্তিকাবুকে সজীব নিঃশ্বাস
তৃষ্ণাকাতর পাতার শরীরে জলের নাচন
ভেজা বাতাসের ডানায় ডানায় বৃষ্টির ঘ্রাণ

পাখি দম্পতিরা নিশিস্নান শেষে ফিরে যায় নীড়ে
আমার দুচোখে ঘুম নেই, এপাশ-ওপাশ
হিম বৃষ্টি–সোহাগী বৃষ্টির জলের আঙুল
হৃদয়ের জানালায় টোকা দিয়ে যায়।

কবিতা মেঘ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
মেঘ

মেঘেরও দ্বি-চারিতা আছে... আছে বর্ন ক্লেশ,
শোষণ নিপুণ তেলবাজ এক ভোগবাদী
মানসিকতা... শ্রমজীবী মানুষের থেকে
দূরে এমন এক গিরগিটি ত্বকের মানসী; ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ’...
এই আপ্তবাক্যের অসারত্ব প্রমাণে সিদ্ধহস্ত 
অনর্গল মিথ্যা প্রচারে দক্ষ... ক্রমশ সস্তা 
ধর্মীয় আবেগী চরিত্র এক দলকানা
মানববিরোধী শক্তি অসার আকাশচারী আষাঢ়  নামের কদম বিহারী।

 

কবিতা আষাঢ়ের জলাভিসার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
আষাঢ়ের জলাভিসার

দিগন্তজুড়ে মেঘেরা সেদিন প্রাচীন সংকেত এঁকেছিল
অথচ মানুষের হৃদয় তখনও অনাবৃষ্টির মরুভূমি
ভেজা মৃত্তিকার গন্ধে জেগে উঠেছিল বিস্মৃত জন্মস্মৃতি
আমি কেবল প্রাপ্তির অঙ্ক কষেছি নিরবধি
জলরাশি ধুয়ে নিয়েছিল বৃক্ষের ক্লান্ত ধূলিকণা
আমার অন্তর্লোক রয়ে গেল অনুতাপের আবরণে
দূরের নদী বহন করছিল অব্যক্ত সময়ের ইতিহাস
তীরে দাঁড়িয়ে আমি শুনিনি তার অন্তঃসলিলা ভাষ্য
একদিন সমস্ত স্রোত মিলিয়ে গেল গহন সমুদ্রে
শুধু অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা রয়ে গেল বালুকাবেলার মতো
এখন আষাঢ় এলে মনে হয় প্রতিটি বর্ষণফোঁটা
অস্তিত্বের অবিনশ্বর ক্ষয়লিপি নীরবে পাঠ করে!

কবিতা আষাঢ়ের মুখ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
আষাঢ়ের মুখ

কতটা ফুরালে মানুষের আর থাকে না কোনোই দাম
কতটা হারালে হৃদয়ে সাহারা বিস্তৃত অভিরাম
আড়ালে আড়ালে মৃন্ময়ী চোখ তন্ময় হয়ে যায় 
খুঁজে পেলে সেই আষাঢ়ের মুখ ইতিহাস বদলায়।

ঠোঁটের আগায় প্রেমের সমাধি যমুনার জলে ভাসে
মনের ভেতর অনিয়ম হলে প্রশ্নটা বিশ্বাসে
মাটির চিবুক পিপাসার বুক চাতকের ফলোয়ার
আষাঢ়ের হাতে বায়আত নিতে খুলো রাখে তলোয়ার।

রাতের বাকল খুলে বের হয় আতর মেয়ের দল
জমির গর্ভে লুকায়িত ধন হেসে ওঠে খলখল 
উজালা আকাশ কৃপণতা নেই দু’হাতে বিলায় সব
হৃদয় ভেলায় নিজেকে ভাসায় এক মহা উৎসব। 

সব ছেড়ে দিয়ে যতই থাকুক হয় না থাকাটা ভালো
আষাঢ়ের মুখে হাসি দেখা দিলে কেবলই জমকালো
সব হারিয়েও তৃপ্তি এটুকু আছে তো আষাঢ়ী মুখ
ফের সব হবে শত সহস্র এই আশাতেই বুক।

কবিতা যদিও এই সজল বর্ষা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
যদিও এই সজল বর্ষা

সেগুন ফুলের বনে-বিষণ্ন মাদকতায়
তোমার কথা খুউব মনে পড়ে শুভলক্ষ্মী; 
যখন আষাঢ় ফেটে উড়ে যায় দূরের মেঘ
নদীও জেগে থাকে প্রথম বৃষ্টির আশায়। 

এখনো ভেজা পাতার গায়ে তোমার নাম
জলরঙে লেখা অসমাপ্ত চিঠির মতো রঙিন;
জানালার কাচ বেয়ে নেমে আসে নীরবতা
আর বৃষ্টির ভাষায় অপেক্ষা শেখে হৃদয়। 

দূরের বাদাবন কাঁপিয়ে যায় অচেনা বাতাস
মনে হয় তুমি বুঝি এক্ষুনি আসবে ফিরে;
কদমের গন্ধে ভিজে যায় সন্ধ্যার আলো
চোখে জমে ওঠে অ-নামি মেঘের পাহাড়।

যদিও এই সজল বর্ষা-ধাবমান খরতাপে 
সুপ্রাচীন বিরহ যেন, তোমারই অনুবাদে!