ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্পেনকে হারাতে নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে: লুকাকু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণের দাম নরওয়ের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা কম: হালান্ড খুলনায় বস্তাবন্দি মৃত স্কুলছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত প্রাক-নিকার সভায় থাকবে আরও নতুন থানার প্রস্তাব মোশাররফ করিম ও নীলার ‘ভাসুর’ পেনাল্টি নিতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষায় রাখায় ক্ষুব্ধ দেশম ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা ইরানে দুই দিনে ৯০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কক্সবাজারের পৃথক স্থানে বন্যার পানিতে দুই শিশুর মৃত্যু ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮১১ মোদির বিদেশ সফর মানেই কী আন্তর্জাতিক সম্মাননা! সোনারগাঁয় ছাত্র হত্যা মামলার আসামি কামরুজ্জামান গ্রেপ্তার ন্যাটোতে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ বিভাজন কাপ্তাই থেকে রাঙ্গুনিয়ার নিখোঁজ ব্যবসায়ী মরদেহ উদ্ধার জার্মানিতে তাপপ্রবাহে প্রাণহানি ৫ হাজারের বেশি মনির খানের ‘মন ভালো নাই’ মুখোমুখি স্পেন-বেলজিয়াম: লড়াইটা কর্তোয়া বনাম ইয়ামালেরও আট কারণে প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র কোরআন বুঝে পড়া আবশ্যক হরমুজ প্রণালীতে ৮০০ জাহাজ পারাপারে মার্কিন সহায়তা: সেন্টকম বরিশালে অনিশ্চয়তার মুখে ২০ নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু ৩১ আগস্ট ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় পরিবর্তন পাহাড়ধস ও ডুবে আরও ১০ জনের মৃত্যু প্রাণ গেলেও তারা পাহাড় ছাড়তে রাজি নন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, নতুন বার্তা নেতানিয়াহুর ন্যাটোর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মিথ্যাচার তত্ত্বাবধায়কের অধীনে আগামী নির্বাচন কুমিল্লায় পাহাড়ি ঢলে ভাসল কৃষকের স্বপ্ন পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে: ডিসি ফরিদা

পেনাল্টি নিতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষায় রাখায় ক্ষুব্ধ দেশম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
পেনাল্টি নিতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষায় রাখায় ক্ষুব্ধ দেশম
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

তিন মিনিটের দীর্ঘ অপেক্ষা। এরপর একটি পেনাল্টি মিস। মাঠজুড়ে তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেল ফ্রান্সই। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি শটের আগের নাটকীয়তা যেন মুহূর্তেই ম্যাচের আবহ বদলে দেয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি নেওয়ার আগে এমবাপ্পেকে তিন মিনিটেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এরপর তার নেওয়া স্পট কিকটি রুখে দেন মোরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। শট মিস করার পরপরই অসন্তোষ প্রকাশ করেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরওয়ার্ড। আর্জেন্টাইন রেফারিদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান তিনি।

ম্যাচ শেষে এই ক্ষোভে যোগ দেন কোচ দিদিয়ের দেশমও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এমবাপ্পেকে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হলো? তার দাবি, এই অস্বাভাবিক বিলম্বই এমবাপ্পের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। এই কারণেই ফরাসি স্ট্রাইকার পেনাল্টি মিস করেছেন।

ম্যাচ চলাকালীন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি জানান, পেনাল্টির এই বিলম্ব ‘অতিরিক্ত দীর্ঘ’ ছিল। ফরাসি কোচ দেশম বলেন, ‘আমি হালান্ডের সাথে পুরোপুরি একমত। সেখানে প্রথমে একটি ভিএআর রিভিউ হয়।

এরপর দ্বিতীয় আরেকটি রিভিউ হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই মিনিট সময় নষ্ট হয়। আসলে কী ঘটেছিল আমি নিশ্চিত নই।’
দেশম আরও বলেন, ‘এতে বেশ খানিকটা সময় লেগেছিল। অথচ কিলিয়ান শট নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না। তবে পরিস্থিতিটি মোটেও সহজ ছিল না।’

প্রথমার্ধে সুযোগ হাতছাড়া করলেও বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এমবাপ্পে। বক্সের প্রান্ত থেকে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। এটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার ২০তম বিশ্বকাপ গোল। চলতি টুর্নামেন্টে এটি তার অষ্টম গোল।

এর কিছুক্ষণ পরই ওসমানে দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। ফলে ২-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে দেশম শিষ্যরা। এই জয়ের মাধ্যমে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল। আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের।

পাপ্পু/নাঈম

স্পেনকে হারাতে নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে: লুকাকু

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ এএম
স্পেনকে হারাতে নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে: লুকাকু
লুকাকু। ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়াম ও স্পেন। এই ম্যাচে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে হারাতে বেলজিয়ামকে একটি ‘নিখুঁত ম্যাচ’ খেলতে হবে। এমনটাই মনে করেন দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রোমেরু লুকাকু।

যুক্তরাষ্ট্রের সোফি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের এই দুই পরাশক্তি। এই ম্যাচে জয় পেলে বেলজিয়াম সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছিল তারা। তবে এবার তাদের সামনে বড় বাধা স্পেন। চলতি টুর্নামেন্টে স্প্যানিশরা এখনও অপরাজিত এবং কোনো গোল হজম করেনি।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লুকাকু বলেন, ‘আগামীকাল আমাদের একটি নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হবে। টুর্নামেন্টে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। স্পেন অসাধারণ একটি দল। ২০০৮ সাল থেকে তারা একই ধরনের চেনা ফুটবল খেলছে।’

স্পেনের কৌশল নিয়ে লুকাকু বলেন, ‘তারা সবসময় ফাঁকা জায়গায় থাকা তৃতীয় খেলোয়াড়কে খুঁজে নেয়। দুই উইংয়ে তাদের দারুণ গতি রয়েছে। ফেরান তোরেস আক্রমণে গভীরতা তৈরি করে। তবে আমাদেরও ভালো প্রস্তুতি রয়েছে। আমাদের এমন কিছু শক্তি আছে, যা তাদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে।’

চলমান বিশ্বকাপে লুকাকুর ভূমিকা বদলে দিয়েছেন কোচ রুডি গার্সিয়া। শুরুর একাদশের বদলে তাকে ‘ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট’ হিসেবে নামানো হচ্ছে। কোচের এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই সফল হয়েছে। টুর্নামেন্টে তিনটি গোল করেছেন লুকাকু। শেষ ষোলোর ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা হয়েছিল তার গোল থেকেই।

নিজের নতুন ভূমিকা নিয়ে লুকাকু বলেন, ‘আমার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দল সবসময় বড়। গত কয়েক বছর ধরে এটাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমি সবসময় নিজের আগে দলের কথা ভাবি।’

নরওয়ের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা কম: হালান্ড

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩ এএম
নরওয়ের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা কম: হালান্ড
নরওয়ের জাতীয় দলের খেলোয়ার হালান্ড। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে নিজেদের সম্ভাবনাকে এখনো ‘খুবই কম’ মনে করছেন আর্লিং হালান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই মন্তব্য করলেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার। 

চলমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন হালান্ড। ৫ ম্যাচে ৭ গোল করে নরওয়েকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ আটে তুলেছেন তিনি। তবুও তিনি মনে করেন, থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডই শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার।

বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হেসে বলেন, ‘এখনো বলব খুবই কম। টুর্নামেন্টে কয়েকটি স্পষ্ট ফেভারিট দল আছে। ইংল্যান্ড তাদের একটি। তাই সব চাপ ইংলিশদের ওপরই থাকা উচিত।’

হালান্ড আরও বলেন, ‘এটি আমার জন্য বিশেষ একটি ম্যাচ। আমার জন্ম ইংল্যান্ডে এবং আমি সেখানেই খেলি। তাছাড়া ক্লাবের সতীর্থদের বিপক্ষেও খেলতে হবে। ম্যাচটি বেশ উপভোগ্য হবে।’

২০২৪ সালে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচের পর ইংলিশ সমর্থকদের ‘স্টে হাম্বল’ বলেছিলেন হালান্ড। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সবারই বিনয়ী থাকা উচিত। তবে ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ তারা ইংল্যান্ড।’

আগামী রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩ টায় মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।

পেনাল্টি নিতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষায় রাখায় ক্ষুব্ধ দেশম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
পেনাল্টি নিতে এমবাপ্পেকে অপেক্ষায় রাখায় ক্ষুব্ধ দেশম
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

তিন মিনিটের দীর্ঘ অপেক্ষা। এরপর একটি পেনাল্টি মিস। মাঠজুড়ে তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেল ফ্রান্সই। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি শটের আগের নাটকীয়তা যেন মুহূর্তেই ম্যাচের আবহ বদলে দেয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি নেওয়ার আগে এমবাপ্পেকে তিন মিনিটেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এরপর তার নেওয়া স্পট কিকটি রুখে দেন মোরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। শট মিস করার পরপরই অসন্তোষ প্রকাশ করেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরওয়ার্ড। আর্জেন্টাইন রেফারিদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান তিনি।

ম্যাচ শেষে এই ক্ষোভে যোগ দেন কোচ দিদিয়ের দেশমও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এমবাপ্পেকে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হলো? তার দাবি, এই অস্বাভাবিক বিলম্বই এমবাপ্পের মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। এই কারণেই ফরাসি স্ট্রাইকার পেনাল্টি মিস করেছেন।

ম্যাচ চলাকালীন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি জানান, পেনাল্টির এই বিলম্ব ‘অতিরিক্ত দীর্ঘ’ ছিল। ফরাসি কোচ দেশম বলেন, ‘আমি হালান্ডের সাথে পুরোপুরি একমত। সেখানে প্রথমে একটি ভিএআর রিভিউ হয়।

এরপর দ্বিতীয় আরেকটি রিভিউ হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই মিনিট সময় নষ্ট হয়। আসলে কী ঘটেছিল আমি নিশ্চিত নই।’
দেশম আরও বলেন, ‘এতে বেশ খানিকটা সময় লেগেছিল। অথচ কিলিয়ান শট নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না। তবে পরিস্থিতিটি মোটেও সহজ ছিল না।’

প্রথমার্ধে সুযোগ হাতছাড়া করলেও বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এমবাপ্পে। বক্সের প্রান্ত থেকে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি। এটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার ২০তম বিশ্বকাপ গোল। চলতি টুর্নামেন্টে এটি তার অষ্টম গোল।

এর কিছুক্ষণ পরই ওসমানে দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। ফলে ২-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে দেশম শিষ্যরা। এই জয়ের মাধ্যমে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল। আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের।

পাপ্পু/নাঈম

সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা?

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ এএম
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা?
ছবি: সংগৃহীত

মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে জয় নিশ্চিত করে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার নেওয়া পেনাল্টি শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত শটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিচের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।

সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ।

আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

এসজি/

উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ এএম
উত্থানের বিশ্বকাপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন ক্লিন্সমান
ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানের অভিজ্ঞতার পরিধি খুব কম মানুষেরই আছে। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়, কোচ হিসেবে দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া, আর এখন টুর্নামেন্টের কারিগরি বিশ্লেষক–বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের সঙ্গে তার সম্পর্ক কয়েক দশকের।

জার্মানির এই কিংবদন্তি স্ট্রাইকার খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেন। ১৯৯০ সালে ইতালিতে পশ্চিম জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি করেন ১১টি গোল। পরে কোচ হিসেবে ২০০৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক জার্মানিকে সেমিফাইনালে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ ষোলোতে তুলেছিলেন।

বর্তমানে ক্লিন্সমান ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের (টিএসজি) সদস্য। এই দলের কাজ হলো বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের গভীর কারিগরি বিশ্লেষণ করা এবং সেই বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবল সম্পর্কে বোঝাপড়াকে আরও সমৃদ্ধ করা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করা ক্লিন্সমান এবার ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। টুর্নামেন্টের চমক, নতুন দলগুলোর সাফল্য, মিসর ও নরওয়ের উত্থান, অভিজ্ঞ তারকাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ–বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ সম্পর্কে আপনার সামগ্রিক মূল্যায়ন কী?
৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় আমরা এই টুর্নামেন্টে অনেক দারুণ চমক দেখেছি। এর ফলে বিশ্বকাপে সাধারণত যতটা দেখা যায়, তার চেয়ে কয়েকটি বেশি আন্ডারডগ দল সুযোগ পেয়েছে এবং তারা ভালোও করেছে। কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে কঠিন চাপে ফেলেছিল। এমন কিছু দলকে আমরা দেখেছি, যারা বড় দলগুলোকে ভুগিয়েছে। দর্শক উপস্থিতির দিক থেকে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি অসাধারণ হয়েছে। সব স্টেডিয়ামই দর্শকে পরিপূর্ণ, পরিবেশ দুর্দান্ত, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও সমর্থকরা উদযাপন করছেন।

এত বড় একটি টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দেশগুলো অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারা অনেক সাহায্য করে। তারা সবাই নকআউট পর্বে উঠেছে, এটি বিশাল একটি বিষয়। মাঠে এবং মাঠের বাইরে–দুই দিক থেকেই এটি দারুণ সফল হয়েছে।

চারটি অভিষিক্ত দলের মধ্যে কেপ ভার্দে এত ভালো করল কেন? সামগ্রিকভাবে এটি ফুটবল সম্পর্কে কী বার্তা দেয়?
এটি দেখায় যে বাছাইপর্বগুলো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং তারা একটি কারণেই এখানে এসেছে–তারা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের প্রাপ্য। আপনি যদি আফ্রিকার মতো একটি অঞ্চল থেকে উঠে আসেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো দল হতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা টুর্নামেন্টে অনেক আনন্দ এবং অসংখ্য চমকপ্রদ মুহূর্ত এনে দিয়েছে। তারা দারুণ ফুটবল খেলেছে এবং এটিও বিশ্বকাপের গল্পেরই একটি অংশ। শেষ পর্যন্ত, যখন আপনি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাবেন, তখন সাধারণত প্রত্যাশিত দলগুলোকেই সেখানে দেখতে পাবেন। হয়তো এমন একটি চমকপ্রদ দল থাকবে, যাদের আপনি আগে ভাবেননি। তবে বিশ্বকাপে এমন গল্প তৈরি হওয়া দারুণ ব্যাপার এবং এটি টুর্নামেন্টে বাড়তি রোমাঞ্চ যোগ করে।

মিসর আগে কখনোই বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও জেতেনি, তাদের এত দূর যাওয়া এবং দীর্ঘদিন পর ফিরে এসে নরওয়ের ভালো পারফরম্যান্সকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
তারা এমন দুটি দেশ, যারা ভবিষ্যতে পরাশক্তিতে পরিণত হবে। তাদের মধ্যে এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে তারা বিশ্বের সেরা ১০ দলের একটি হয়ে উঠতে পারে। মিসর সব সময়ই বিশ্বের সবার কাছ থেকে অনেক সম্মান পেয়ে এসেছে। তারা এখনও বিশ্বকাপে সেটি দেখাতে পারেনি, যেমনটি মরক্কো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে দেখিয়েছিল। তবে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে তারা সবসময়ই শেষ চারে থাকে এবং ইউরোপের বিভিন্ন লিগে তাদের শীর্ষমানের খেলোয়াড় রয়েছে, যা অনেক বড় বিষয়।

নরওয়েকে নিয়ে বলতে গেলে, আমরা এখন এমন একটি দেশকে দেখতে পাচ্ছি, যারা ১৯৯০-এর দশকের ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে কিছুটা মিল রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে এত উদ্যম, প্রতিভা এবং গুণগত মান রয়েছে যে, আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে তারা আজকের ক্রোয়েশিয়ার মতোই একটি বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হতে সক্ষম। বর্তমান নরওয়ে দলটির সঙ্গে আমি সেই ক্রোয়েশিয়া দলের মিল দেখতে পাই, কারণ এটি শুধু আর্লিং হালান্ড বা মার্টিন ওডেগার্ডকে ঘিরে নয়, এর চেয়ে অনেক বেশি কিছু। তাদের দলে অনেক গভীরতা রয়েছে এবং এটি এমন একটি দেশ, যারা খুবই উদ্যমী। ফলে তাদের মানসিকতা শীর্ষ পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। অলিম্পিকভিত্তিক খেলাগুলোতেও আপনি এটি দেখতে পাবেন, যেখানে নরওয়ে সেরাদের অন্যতম।

ত্রিশের শেষ দিকে এবং চল্লিশের শুরুর দিকে থাকা এত খেলোয়াড়কে পঞ্চম ও ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে দেখে আপনার মূল্যায়ন কী?
এই ক্রীড়াবিদদের দেখে দারুণ লাগে এবং বিষয়টি সত্যিই মুগ্ধকর যে তারা বুঝতে পেরেছে, নির্দিষ্ট জীবনধারা এবং নিজের পেশার প্রতি নিবেদনের মাধ্যমে তারা তাদের ক্যারিয়ার চতুর্থ, পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করতে পারে। চল্লিশের শুরুর দিকে খেলা–২০ বা ৩০ বছর আগে কেউই এটি কল্পনা করতে পারত না। এখন শুধু ফুটবল নয়, সব ধরনের খেলাতেই আপনি এটি দেখতে পাচ্ছেন। আমার কাছে এটি অনেক তরুণ ক্রীড়াবিদ ও শিশুদের অনুপ্রাণিত করে যে, আপনি যদি নিজের যত্ন নেন, তাহলে ২০ বছরেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের নিবেদন ও মনোযোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

এই টুর্নামেন্টে আপনারা অভিজ্ঞ প্রজন্মের খেলোয়াড়দের দেখছেন, যেমন–লুকা মদ্রিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, ম্যানুয়েল নয়্যার এবং এ ধরনের আরও অনেকে। এরপর রয়েছে লামিনে ইয়ামাল বা জুড বেলিংহামের মতো উদীয়মান তরুণরা, যারা এখনও বেশ তরুণ এবং এখন তাদের সামনে অনুসরণ করার মতো আদর্শ রয়েছে। আমি যদি ফ্লোরিয়ান উইর্টজে হতাম এবং এই মুহূর্তে মেসি ও রোনালদোকে দেখতাম, তাহলে ভাবতাম–আমি যদি নিজের যত্ন নিই এবং আশা করি বড় কোনো চোট না পাই, তাহলে আমার সামনে এখনও ১৫-১৮ বছরের ক্যারিয়ার পড়ে আছে। এটি নতুন প্রজন্মের জন্য দারুণ একটি দিকনির্দেশনা।