দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন থানা, নৌ থানা ও পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের একাধিক প্রস্তাব নিয়ে প্রাক-নিকার সচিব কমিটিতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দুপুর আড়াইটায় প্রাক-নিকার সচিব কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সংক্রান্ত নোটিশে এ কথা বলা হয়েছে।
সভায় কক্সবাজারে একটি নতুন থানা, ভোলায় একটি পূর্ণাঙ্গ নৌ থানা এবং বগুড়া ও কুমিল্লায় দুটি নতুন পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সভার আলোচ্যসূচির মধ্যে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাকে বিভক্ত করে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের বটতলী এলাকায় ‘মাতামুহুরী থানা’ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এ থানার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫৮টি নতুন পদ সৃষ্টি, ২৯টি যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করারও প্রস্তাব রয়েছে। এ বাবদ বছরে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রস্তাবটিতে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশ রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার-সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভোলা জেলায় নৌ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় পূর্ণাঙ্গ ‘ধলী গৌরনগর নৌ থানা’ স্থাপনের প্রস্তাবও সভায় উঠছে। এ থানার জন্য ৩৫টি পদ সৃষ্টি, ১২টি যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা।
বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের কামতারা এলাকায় নতুন ‘কামতারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র’ স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য ৩১টি পদ, ১৩টি যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংযোজন প্রস্তাবের পাশাপাশি এর জন্য বছরে প্রায় এক কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে এমন উল্লেখ রয়েছে সার-সংক্ষেপে।
একই সঙ্গে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানাধীন ‘সুলতানপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র’ স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ তদন্তকেন্দ্র পরিচালনায় ২২টি পদ সৃষ্টি ও ৫টি যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, চারটি প্রস্তাবই পুলিশ অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, রেঞ্জ ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনারের মতামত নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাক-নিকার সভায় প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা শেষে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেলে পরে সেগুলো প্রাক-নিকার সচিব কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ও সেবার পরিধি বাড়বে, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।