ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কোটি কোটি নতুন সমর্থকই বেলজিয়ামের প্রেরণা: গার্সিয়া তিস্তার 'ক্রেডিট' নিতে জামায়াতের আন্দোলন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ভেজা বাতাস চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ কালো মেঘ শাদা মেঘ কুমিল্লায় সংস্কৃতি মন্ত্রী: প্রস্তুতি শেষ, শিগগিরই চালু হচ্ছে জুলাই জাদুঘর বান্দরবান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত সাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার শ্রাবণের চিঠি জলছবি কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় আরোহী মৃত্যু, স্ত্রী আহত আদি বৃষ্টি সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে বৃদ্ধের মৃত্যু ব্যাঙের শিক্ষা নরসিংদীতে বৃদ্ধা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হত্যা ও টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৫ জলের আঙুল মেঘ আষাঢ়ের জলাভিসার আষাঢ়ের মুখ চবির লাকসাম-মনোহরগঞ্জ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ইসরাত ও বাবলু যদিও এই সজল বর্ষা প্রাইমারি স্কুলের অনিয়মে নজর দিন হবিগঞ্জে বাঁধ ভাঙনে ২৫ গ্রাম পানিবন্দি, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার বাসিন্দা মেঘের সৌধ থেকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল আবেগ এক নতুন সম্ভাবনা বৃষ্টি ভেজার কাঁপন

চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ
নিখোঁজ ঝর্না। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ঝর্না (১২) নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ঝর্না স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় আব্দুল মালেক তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকাযোগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রসুলাবাদ এলাকায় প্রবল স্রোতে নৌকাটি আকস্মিকভাবে উল্টে যায়। নৌকায় থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, মুহূর্তের মধ্যে পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় ১২ বছরের কিশোরী ঝর্না।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসে কোনো নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল তলব করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল জানান, বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে নিমজ্জিত। বহু এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক দিদারুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পানির গভীরতা ও স্রোত বেশি থাকায় ডুবুরি দলের সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল চাওয়া হয়েছে, তারা দ্রুতই এসে পৌঁছাবে। বর্তমানে নৌকার সাহায্যে আমাদের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযান চলছিল। এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রকিবুল হাসান/অন্তরা/

বান্দরবান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
বান্দরবান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের পর বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে পানি কমে গেলেও উন্নতি হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, ক্যাচিংঘাটা, নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুপুর পর্যন্ত ৩ ফুট পানি কমে গেছে। তবে এখনও জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এ দিকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক গত দুই দিন বিচ্ছিন্ন থাকলেও, সকাল থেকে পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় অল্প সংখ্যাক ছোট যানবাহন চলাচল করছে। তবে রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এ ছাড়াও জেলার ৭টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়ে ও সড়কে পাহাড় ধসে অনেক উপজেলার সড়কে যান চলাচল এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম। উপজেলায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

অন্য দিকে জেলার লামা-আলীকদম সড়কের শীবাতলী, রেপারপাড়া, পশ্চিম শীলের তুয়া এলাকায় সড়কের উপর পানি থাকায় সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন আছে।

আলীকদমের বাসিন্দা সুজন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, বন্যায় প্লাবিত হওয়ার কারনে গত ৩দিন ধরে লামা-আলীকদমের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

গত কয়েকদিন ধরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশংকায় স্থানীয়দের নিরাপদে আশ্রয় নিতে জেলার ৭টি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ২ হাজার ১৭৩ জন এবং বেসরকারি হিসাবে অন্তত ৭ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ছাড়াও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এবং পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক জানান, আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্নাকরা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, মশার কয়েল প্রদান করা হচ্ছে।

রিজভী রাহাত/থিওটোনিয়াস/

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার
প্রত্যাহারকৃত ওসি শফিকুল ইসলাম খান/ খবরের কাগজ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে তাকে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক স্বাক্ষরিত এক আদেশে কোম্পানীগঞ্জের ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানায় এখনো নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বালু ও পাথর সিন্ডিকেটের কাছ থেকে পুলিশের চাঁদা আদায়ের অভিযোগে কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল উঠে।

এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘সফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তামান্না রুপা/

কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
কক্সবাজারে সৈকতে গলিত কঙ্কাল
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন কচুবুনিয়া-কাটাবুনিয়া ঘাট এলাকার সমুদ্রতীর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সম্পূর্ণ গলিত কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে টেকনাফ বিজিবির আওতাধীন শাহপরীরদ্বীপ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সমুদ্রের তীরে কঙ্কালটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি জানালে শাহপরীরদ্বীপ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আইনি কার্যক্রম শুরু করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি, অথবা সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবি কিংবা নিখোঁজ হওয়া কোনো জেলের মরদেহ এটি হতে পারে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণে মরদেহটি সম্পূর্ণ গলিত অবস্থায় কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কঙ্কালটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কঙ্কালটির পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব ধরনের আইনি ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন সেন্টমার্টিন, শাহপরীরদ্বীপ ও সদর উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও তিন অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 শাহীন/খাদিজা রুমি/

সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
সাজেকে আটকা পড়া ৩১১ পর্যটককে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটির সাজেকে দুই দিন ধরে আটকা পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে আজ আরও ৩১১ জন গন্তব্যে ফিরে গেছেন। এর আগে গতকাল ফিরেন ১৫০ পর্যটক। তবে আরও একশ জন পর্যটক এখনও সাজেক আটকা রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারাও গন্তব্যে ফিরে যাবেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল নয়টায় ফিরেছেন সেনাবাহিনীর প্রথম স্কটেই পর্যটকরা সাজেক থেকে বের হয়ে নিরাপদে বাঘাইহাট অতিক্রম করেন আটকে থাকা এ সব পর্যটক।

মূলত সাজেক-খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়কের মাচালং, সীমানাছড়া, বাঘাইহাট বাজার ও কবাখালী এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পর্যটকরা সাজেকে আটকা পড়েন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে পর্যটকদের নিয়ে আসার কার্যক্রম শুরু করে বাঘাইহাট সেনা জোন। সেনাবাহিনীর স্কট দিয়ে মোটরবাইক, অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের (মাহেন্দ্রা) সাহায্যে পর্যটকদের সাজেক থেকে নিয়ে আসে। পথে মাচালং, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজারে পৃথকভাবে নৌকা ও ভেলায় করে পর্যটকদের পার করে। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দেড়শো জন পর্যটককে নিয়ে আসতে সক্ষম হয় বাঘাইহাট জোন।

এর আগে বৈরী আবহাওয়ায় নিরাপত্তা বিবেচনায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যেই সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকে আটকা পড়েন ৫৬১ জন পর্যটক।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা মারজান খবরের কাগজকে বলেন, সাজেকে আটকা পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুই দফায় ৪৬১ জনকে সরিয়ে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাকি পর্যটকদেরও সরিয়ে আনা হবে।

জিয়াউর রহমান/থিওটোনিয়াস/

চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
চকরিয়ায় আশ্রয়ের খোঁজে নৌকাডুবিতে কিশোরী নিখোঁজ
নিখোঁজ ঝর্না। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ঝর্না (১২) নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ঝর্না স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় আব্দুল মালেক তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকাযোগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে রসুলাবাদ এলাকায় প্রবল স্রোতে নৌকাটি আকস্মিকভাবে উল্টে যায়। নৌকায় থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, মুহূর্তের মধ্যে পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় ১২ বছরের কিশোরী ঝর্না।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসে কোনো নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল তলব করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল জানান, বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে নিমজ্জিত। বহু এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক দিদারুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। পানির গভীরতা ও স্রোত বেশি থাকায় ডুবুরি দলের সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল চাওয়া হয়েছে, তারা দ্রুতই এসে পৌঁছাবে। বর্তমানে নৌকার সাহায্যে আমাদের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযান চলছিল। এলাকায় এ ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রকিবুল হাসান/অন্তরা/