আমার সমস্ত আকাশজুড়ে
ঘন ঘন কালো মেঘ
শাদা মেঘ কবে ছিল মনে নেই!
ষোড়শ বছরে ঢের হারালাম।
বিষাদে বিষাদ যোগ হয়ে
শাদা মেঘগুলি
কালো বর্ণ ধারণ করে
সমগ্র আকাশে বরষা
এখন, আমার মেঘগুলির নেই ভরসা
কেবল নির্বুদ্ধিতায় ভেসে বেড়ায়
কেউ করে না যতন।
আমার সমস্ত আকাশজুড়ে
ঘন ঘন কালো মেঘ
শাদা মেঘ কবে ছিল মনে নেই!
ষোড়শ বছরে ঢের হারালাম।
বিষাদে বিষাদ যোগ হয়ে
শাদা মেঘগুলি
কালো বর্ণ ধারণ করে
সমগ্র আকাশে বরষা
এখন, আমার মেঘগুলির নেই ভরসা
কেবল নির্বুদ্ধিতায় ভেসে বেড়ায়
কেউ করে না যতন।
শহর থেকে অনেক দূরে থাকে সে
যেখানে চোখের পাশে বর্ষার জল
হারানো দিনের গান, নীপবনে কাক
ভেজা বাতাস লাগে বুকে, রুখে কে?
তার কথায় অসময়ে পাগল হই শুধু
বারান্দার ওপাশে গভীর জগৎ
থেকে থেকে বৃষ্টি থামে, কথার জোয়ারে
ছন্দপতন হয় না। আসে সুরের পাখি।
দুজনার সুবাসে হারাই দুজন
নদীতে প্রবল ঢেউ, আশপাশে নেই কেউ
দীর্ঘ হয় রাত, কীসের জাতপাত?
হৃদয়ে বর্ষা নামুক, খুলে যাক দ্বার...।
আকাশজুড়ে মেঘের ভেলা, কাজল কালো ছায়া
কদম ফুলের গন্ধে মাতাল অদ্ভুত কিছু মায়া।
জানলা ভেজা জলের ফোঁটায় তোমার ছবি আঁকি
বুকের ভেতর ভালোবাসার নাম না জানা পাখি!
অঝোর ধারায় নামলো বৃষ্টি রিমঝিমিয়ে সুরে,
স্মৃতির খেয়া ভাসলো আবার অনেক অনেক দূরে।
জানলা ঘেঁষে একলা আমি, হাত বাড়িয়ে দিই
বৃষ্টির প্রতি ফোঁটায় যেন তোমার ছোঁয়া নিই।
সবুজ পাতা ভিজছে দেখ, ভিজছে মাটির বুক
মেঘের ডাকে লুকিয়ে আছে একলা থাকার সুখ।
শহরের বুকে এই যে নামলো স্নিগ্ধ শ্রাবণ ধারা
তোমার কথা মনে হলে হই যে দিশেহারা !
আকাশের গায়ে মেঘেদের আনাগোনা,
তা দেখে শহর দুচোখে স্বপ্ন সাজায়।
এই বুঝি ফের বৃষ্টির ফোঁটা ঝরবে,
দূরে আনমনে কে যেন বেহাগ বাজায়।
ধোঁয়া ওঠা কাপে রুগ্ন হাতের স্পন্দন,
মন পড়ে থাকে প্রবাসী ছেলের কাছে।
জানালার কাঁচে কাটাকুটি খেলে বৃষ্টি,
ডানা ভাঙা পাখি আশ্রয় খোঁজে গাছে।
ট্রাম ছুটে চলে রোজকার পথ ধরে,
ভিজে বাদামের ঠোঙাতে আটকে মন।
ঝড়ের দাপটে হলো না তো আজ দেখা,
ঝগড়া আদর ছুঁয়ে থাক টেলিফোন।
নোনা ধরা টবে হাসনুহেনার গাছ,
ভাঙা কার্নিশ ভরে ওঠে আগাছায়।
পুরোনো স্মৃতিকে কে আর আঁকড়ে বাঁচে,
ইলিশের প্রেমও জমে যায় বর্ষায়।
আমার শহরে আদুরে বৃষ্টি নামুক,
ধুয়ে যাক যত মন খারাপের দাগ।
ভালোবাসা হোক সে ধ্রুবতারার মতো,
থাক না যতই মান-অভিমান, রাগ।
বেলকোনির বাইরে যে ঝুম বৃষ্টি
তা অবিকল বৃষ্টি নয়
কেবল টুপ টুপ শব্দের ভেতর
প্রকৃত বৃষ্টিরা যায় না
আদী বৃষ্টি–নিঃশব্দে ঝ’রে
শিরি ফরহাদের মতোন
সে রকম বৃষ্টি আমাকেও ছুঁয়ে যাক
যে বৃষ্টি পাহাড়ে যায়
মসজিদ, মন্দিরে যায়
আসলে তাদের নির্দিষ্ট পিতা নেই বলে
আমিও চাই, নন্দনে ভিজি, বৃষ্টিকুহুকে হাঁটি
সেরকম বৃষ্টি, আমার আসুক
তুমুল বৃষ্টির রাত
চৌচির মৃত্তিকাবুকে সজীব নিঃশ্বাস
তৃষ্ণাকাতর পাতার শরীরে জলের নাচন
ভেজা বাতাসের ডানায় ডানায় বৃষ্টির ঘ্রাণ
পাখি দম্পতিরা নিশিস্নান শেষে ফিরে যায় নীড়ে
আমার দুচোখে ঘুম নেই, এপাশ-ওপাশ
হিম বৃষ্টি–সোহাগী বৃষ্টির জলের আঙুল
হৃদয়ের জানালায় টোকা দিয়ে যায়।