কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় টাইফুন ‘বাভি’ এর প্রভাবে ফিলিপাইনে ভূমিধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া তাইওয়ানে শত শত মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ও শনিবার (১১ জুলাই) টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব এবং জাপানের প্রত্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর চীনে আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ছয়জন নিখোঁজ হয়েছেন।
তাইওয়ানের বন্দরনগরী কিলুংকে দ্বীপটির সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেখানে বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত করেছেন। দোকানের সামনে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন। কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা মেনে তারা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সোমবার সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করার সময় বাভির শক্তি কিছুটা কমে টাইফুনে পরিণত হয়।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, শুক্রবার বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার। বৃহস্পতিবারের তুলনায় এর গতি কিছুটা কমেছে।
সিডব্লিউএর আবহাওয়াবিদ ওয়াং পিং-শিয়াং এএফপিকে বলেন, ‘পরিবেশগত পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় টাইফুনটি আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং ও ইলান সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে। আর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পার্বত্য এলাকায়।’
বাভির প্রবল বাতাসের বিস্তৃতি ৩৮০ কিলোমিটার । ফলে এটি ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে যাচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানী তাইপেসহ উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানের বহু স্কুল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে শত শত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
জাপানের দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনে এবং তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত অতিক্রম করার পর সপ্তাহান্তে পূর্ব চীনে বাভির আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এএফ/