বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, উন্নত যন্ত্রপাতি, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির দৃঢ় আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত ‘Italian Textile Technologies with B2B Meetings’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে দুই বিলিয়ন ইউরোরও বেশি বাণিজ্য বিদ্যমান, যার মধ্যে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য ইতালি বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে ইতালীয় অংশীদারদের অবদান চার দশকেরও বেশি সময়ের এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, কর্মপরিবেশ ও কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে উন্নত যন্ত্রপাতি, উদ্ভাবনী ফ্যাব্রিক, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ইতালীয় কোম্পানিগুলো এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
চট্টগ্রামকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতালীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এখানকার সম্ভাবনা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উপযুক্ত সময়।
চিটাগং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, ফ্রি ট্রেড জোন এবং আঞ্চলিক সংযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও লজিস্টিকস হাবে পরিণত হতে পারে।
তিনি ইতালীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান এবং টেক্সটাইল, লেদার, স্টিলসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইতালির অনারারি কনসাল এবং ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে ইতালীয় যন্ত্রপাতির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ধরনের বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) কর্মশালা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী শিল্প সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
কর্মশালায় ইতালিয়ান ট্রেড এজেন্সি, ACIMIT-এর প্রতিনিধি, ইতালির ১১টি টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
বিজ্ঞপ্তি/