ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের পাঁচ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের প্রশ্ন করতে দিন প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি রাজপাল যাদবের তিন মাসের কারাদণ্ড তহবিল সংকটে ১০ লাখ নারী জরুরি সেবাবঞ্চিত: জাতিসংঘ চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ মৌলভীবাজারে মনু নদের ভাঙনে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন ফিলিপাইনে ভূমিধসে ৫ জন নিহত বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি কমলেও নগরে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিতে থাকা ১০০ পরিবার পেল সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইপসার সহায়তা চকরিয়ায় নৌকাডুবির পর নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আরও ভালো করতে পারতাম: ডেম্বেলে একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির আগ্রহ নরওয়ে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়? এ মাসেই ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র ভারতে ভারী বর্ষণে ১০ জনের মৃত্যু

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক
ছবি: খবরের কাগজ

নানা উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির লেখক সম্মেলন ২০২৬। একাডেমির ৮ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের ৬ জন বিশিষ্ট লেখকের হাতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের 'চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার' তুলে দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় চাঁদপুর শহরের ফিতা কেটে এই বর্ণাঢ্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব, প্রখ্যাত কবি ও গবেষক আমিনুল ইসলাম।

এবারের সম্মেলনে দেশের ৬ বিশিষ্ট সাহিত্যিকের হাতে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের পুরস্কার পেয়েছেন— কবিতায় রহমান হেনরী, কথাসাহিত্যে আকিমুন রহমান ও শিশুসাহিত্যে এনায়েত রসুল। ২০২৬ সালের পুরস্কার পেয়েছেন— কবিতায় জরিনা আখতার, প্রবন্ধসাহিত্যে প্রণব মজুমদার ও নাটকে মোস্তফা কামাল যাত্রা।

এছাড়া নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হন ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী।

উদ্বোধকের বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদপুরের সাহিত্য অঙ্গন অনেক শক্তিশালী। চর্যাপদের এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা দেখে বুঝেছি কতটা নিখুঁতভাবে এখানে পুরস্কার প্রদান করা হয়।’

এছাড়া দেশের সামগ্রিক সাহিত্য চর্চা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণত আমাদের দেশের সাহিত্য অঙ্গনের মানুষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বাড়াবাড়ির কারণে চর্চার জায়গাটা দিন দিন নিরস হয়ে পড়ছে। এই সংকট কাটিয়ে ওঠা জরুরি।’

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন 'বিজয়ী'-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান। একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে এবং মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন আহ্বায়ক শিউলী মজুমদার।

অনুষ্ঠানে জয়ন্তী ভৌমিক, আইরিন সুলতানা লিমা, কামরুন্নাহার বিউটি, পিএম বিল্লাল, মিজানুর রহমান স্বপন ও ঐশী ঘোষ বিজয়ীদের শংসাপত্র পাঠ করেন। দিপান্বিতা দাস, নাজমুল ইসলাম, প্রাপ্তি ও রাসেল ইব্রাহীমসহ বেশ কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও বাচিকশিল্পী কবিতা আবৃত্তি করেন।

আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে ছিল জমকালো সাংস্কৃতিক আয়োজন। দিলীপ ঘোষের হাওয়াইন গিটার ও বেলাল শেখের বাঁশির সুরেলা মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। এছাড়া একাডেমির ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

একাডেমির মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিত পুরস্কার প্রদান করে আসছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীদের পদচারণায় আমাদের চাঁদপুর শহর মুখরিত হয়ে ওঠে’।

এবারের অনুষ্ঠানেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক লেখক, শিল্পী ও সমাজকর্মী সরব উপস্থিতি ছিলেন বলে জানান তিনি।

ফয়েজ/এএফ

সফরের ১০৫ বছর: চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম
সফরের ১০৫ বছর: চাঁদপুরে নেই নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন
চাঁদপুর শহরের রোটারি ভবনের সামনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক তথ্যফলকটি ছিঁড়ে পড়ে আছে। ছবি: খবরের কাগজ

১৯২১ সালের ৮ জুলাই কুমিল্লা থেকে লাকসাম হয়ে প্রথমবার চাঁদপুরে এসেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। রাত কাটিয়েছিলেন শহরের তৎকালীন ডাকবাংলোতে। সেই ঐতিহাসিক সফরের ১০৫ বছর কেটে গেছে। অথচ কবির স্মৃতি সংরক্ষণে সেখানে কোনো স্মৃতিফলক বা প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষকরা।

সাহিত্য গবেষকদের মতে, চাঁদপুরে আসা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যজীবনের শুরুর দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সে সময় তিনি বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও সমাজ বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন। চাঁদপুর সফরও ছিল সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
বর্তমানে চাঁদপুর শহরে জাতীয় কবির স্মৃতি বহন করে কেবল ‘কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক’। একসময় তার সাহিত্য ও সংগীতচর্চা নিয়ে নজরুল গবেষণা পরিষদ এবং নজরুল সংগীত সম্মেলন পরিষদ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করত। তবে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখন তাদের কার্যক্রম অনেকটাই কমে গেছে।

চাঁদপুরের গণমাধ্যমকর্মী মাইনুল ইসলাম জানান, কবি যে ডাকবাংলোতে ছিলেন, সেই সড়কটি তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই ডাকবাংলো থেকে কিছুটা পশ্চিমে রোটারি ভবনের সামনে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত একটি বড় তথ্যফলক আছে। সেখানে তার চাঁদপুর সফরের সময়, অবস্থান ও নানা স্মৃতিরণাণমূলক তথ্য লেখা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যফলকটির অর্ধেকের বেশি অংশ ছিঁড়ে যায় এবং লেখাগুলো অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এর ফলে নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহাসিক স্থানের গুরুত্ব ও নজরুলের চাঁদপুর সফরের ইতিহাস জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এটি সংরক্ষণের কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি।

স্থানীয় সাংবাদিক ও কবি ফরিদ হাসান নজরুলের এই সফর নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তিনি ‘কাজী নজরুল ইসলাম ও চাঁদপুর’ নামে একটি বইও প্রকাশ করেছেন। বইটিতে কবির সফর, অবস্থান ও চাঁদপুরের নানা ঐতিহাসিক তথ্য রয়েছে।

ফরিদ হাসান জানান, চাঁদপুরে কবির স্মৃতি বলতে এখন শুধু নজরুল সড়কটিই আছে। তিনি যখন এখানে আসেন, তখন সে সময়ের কোনো মানুষ তার সফরের তথ্য বা স্মৃতি সংরক্ষণ করে যাননি। ফরিদ হাসান তার গবেষণায় কবির সফরসঙ্গী মুজাফ্ফর আহমেদের একটি বর্ণনা পেয়েছেন। সেখানে

উল্লেখ আছে, নজরুল কুমিল্লা থেকে ট্রেনে চাঁদপুরে এসে ডাকবাংলোতে রাত কাটান এবং পরের দিন সকালে চলে যান।

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট কবি রফিকুজ্জামান রণি বলেন, চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ও ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সঙ্গে কবির খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সওগাত কার্যালয়ে তাদের সাহিত্য আড্ডার অনেক স্মৃতি আছে। তাই চাঁদপুরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় কবির নামে নামকরণ করলে তার স্মৃতি ধরে রাখতে সুবিধা হবে।

চাঁদপুর বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের আহ্বায়ক অভিনেতা শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘স্মরণে রাখার মতো একটি সড়ক ছাড়া চাঁদপুরে আর কোনো স্থায়ী স্মারক নেই। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ডাকবাংলো এলাকায় একটি সুন্দর ম্যুরাল বা স্মৃতিফলক তৈরি করা দরকার। তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে যে জাতীয় কবি একসময় এই শহরে এসেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদপুরের এমপি ও জেলা প্রশাসন আন্তরিক হলে একটি স্থায়ী স্মারক নির্মাণ করা সম্ভব। আমরা শুধু দিবসভিত্তিক আলোচনা নয়, দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ দেখতে চাই।’

স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, কবি যে ডাকবাংলোতে ছিলেন সেখানে একটি স্মৃতিফলক ও তার সফরের ইতিহাস তুলে ধরে তথ্য বোর্ড নির্মাণ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রতিবছর ৮ জুলাই সরকারি উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হলে নতুন প্রজন্ম চাঁদপুরের এই ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, ‘বিভিন্ন সূত্রে আমরা জেনেছি কাজী নজরুল ইসলাম চাঁদপুরে এসেছিলেন। সে সময়ের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি বর্তমান ডাকবাংলোর পশ্চিম পাশে ছিল। সেটি তখন কুমিল্লা জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত হতো। তবে ওই সময়ের কোনো পরিদর্শন বই বা সরকারি নথিপত্র এখন আর সংরক্ষিত নেই।’

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ টন জিরা আমদানি

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ টন জিরা আমদানি
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে তিন টন জিরা আমদানি করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে ওজন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আমদানিকৃত জিরার চালানটি ছাড়পত্র দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে একটি ট্রাকে করে জিরার চালানটি আখাউড়া স্থলবন্দরে পৌঁছায়। এরপর শুল্ক ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার বিকেলে পণ্যটি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়।

জিরা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার মদিনা ট্রেডার্স। চালানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শোয়েব ট্রেডার্স।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী ও শোয়েব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. রাজীব ভুঁইয়া বলেন, প্রতি কেজি জিরা আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ২৩৮ টাকা। তিন টন জিরা আমদানির বিপরীতে সরকার প্রায় ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা রাজস্ব পেয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পণ্যের ওজন, মূল্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আমদানিকৃত জিরার চালানটির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

জুটন বনিক/রিফাত/

সৃজন পাঠচক্রে ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
সৃজন পাঠচক্রে ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’

সম্প্রতি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিল্পসাহিত্যের সংগঠন ‘সৃজন’-এর পাঠচক্র। এবারের পাঠচক্রের প্রথম পর্বে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও বিতার্কিক রাজীব সরকারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. কুদরত-ই-হুদা এবং বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক ড. নূর-ই আলম সিদ্দিকী। আলোচনার শুরুতেই ড. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, সুকুমার বৃত্তির পরিচর্যাহীনতা মানুষকে সৃজনশীলতা থেকে দূরে রাখে। ফলে সুযোগ সন্ধানী দৃষ্টি প্রভাব বিস্তার করে এবং সৃষ্টি হয় বিচ্ছিন্নতা, যা মানুষকে সভ্যতা থেকে পেছনে ঠেলে দেয়। তখন ভেতরের মনস্তত্ত্ব মুনাফার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে এবং সত্যকে দূরে সরিয়ে দেয়। এই অন্ধকার হতে মুক্তি পেতে বই পড়া ও সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তাই অপরিহার্য। রাজীব সরকারের বইটিতে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সংকট তুলে ধরা হয়েছে।

‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ বই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ড. কুদরত-ই-হুদা বলেন, গ্রন্থটিতে এ অঞ্চলে সংস্কৃতির যে প্রভাবশালী স্বরূপ তার রূপায়ণ ঘটেছে। পাঠবিমুখ এ প্রতিকূল সময়ে লেখকের সংস্কৃতি চর্চার নিরলস প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

দুজনের আলোচনা শেষে ‘সংস্কৃতি: দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়’ বইটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লেখক রাজীব সরকার বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে একটি দেশ উন্নত হতে পারে না। দেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা যদি পরিশীলিত, উদার ও মানবিক না হয় তবে সব উন্নয়ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনই শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ করতে পারে। সংস্কৃতি চর্চাকে শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করতে তিনি আহ্বান জানান।

পাঠচক্রের দ্বিতীয় পর্বে সৃজন আয়োজিত মা দিবসের গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রথম পুরস্কার বিজয়ী কাজী আজমিরী, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ী আল মামুন তালুকদার, তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী ফারহানা আশা। পুরস্কার গ্রহণ শেষে বিজয়ীরা তাদের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

পাঠচক্রের শেষ পর্বের আয়োজনে ছিল কবি সফিকুল ইসলামের স্বরচিত একক কবিতা পাঠ এবং পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা। সফিকুল ইসলামের পড়া সাতটি কবিতা মুগ্ধ হয়ে শুনেছেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।

সফিকুল ইসলামের কবিতা নিয়ে কবি, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক বলেন, কবি সফিকুল ইসলামের কবিতা সময়ের, আমাদের প্রতিদিনের আয়না। রাষ্ট্রের, সমাজের, নিজের চেহারা দেখার দিনলিপি। এই কবির ভাষা সহজ সরল এবং দৃষ্টিভঙ্গি সরস প্রজ্ঞার। কোনো আড়াল না রেখে তার কবিতার কথন স্পষ্ট কথাটাই বলেন। তার কবিতার বিষয় চক্ষুষ্মান, যা কিছু সামনে আছে তার সব এবং সবশেষে মানুষ। তাকে কবিতার ভুবনে সুস্বাগতম। সন্দেহ নেই, তিনি এই ভুবনে স্থায়ী হতেই এসেছেন অন্তর তাগিদে, মানবিক বোধে তাড়িত হয়ে। কবি সফিকুল ইসলামকে অভিনন্দন সুখপাঠ্য সুশ্রাব্য কবিতা শোনানোর জন্য।

সফিকুল ইসলামেরর কবিতা নিয়ে লেখক ও গবেষক ড. সেলিম আকন্দ বলেন, এই কবি সমাজের সমস্যা এবং সংকটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তার কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধতা আছে। সুন্দরের প্রার্থনা আছে। তার অবস্থান ন্যায়ের পক্ষে। এই কবি কবিতায় যদি আরও বেশি মনোনিবেশ করেন, তাহলে তার হাত দিয়ে বাংলা কবিতা সমৃদ্ধ হতে পারে।

পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা করতে গিয়ে কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার বলেন, সফিকুল ইসলামের কবিতায় বিরূপ সমাজ বাস্তবতা, স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা, মানবিক বিপর্যয় ও হৃদয়ের উষ্ণ অনুভব প্রকাশিত হয়েছে। কবিতাগুলো বক্তব্যপ্রধান এবং দৈনন্দিন কথোপকথনের ঢঙে লেখা। ফলে খুব সহজেই পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম।

সৃজন পাঠচক্রের এই মনোমুগ্ধকর আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কবি মজিদ মাহমুদ, লেখক ও গবেষক হুসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি জুননু রাইন, কবি কাব্য সুমী সরকার, কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার ফরিদুল ইসলাম নির্জন, কথাসাহিত্যিক খালিদা তালুকদার, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ, নাট্যনির্মাতা মিতুল খান, কবি শারমিন হক, কবি সুলেখা আক্তার, কবি মোহাম্মদ ইমদাদ হোসেন, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন কাজী সিনথিয়া জেরিন।

মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’
গোধূলি বেলায়’ নাটকে মোমেনা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মঞ্চনাটকের অন্যতম গুণী শিল্পী মোমেনা চৌধুরীর জন্মদিনে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক ‘গোধূলিবেলায়’।

 শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ওয়াইএমসিএ ভবনে মঞ্চস্থ হয় নাটকটির। এটি শিল্পীর দ্বিতীয় একক নাটক। 

কোয়ান্টামের মাসিক ‘মিডিয়া সাদাকায়ন’ শেষে ঈদ পুনর্মিলন উপলক্ষে ‘গোধূলিবেলায়’ এর ১২তম মঞ্চায়নটি মঞ্চস্থ হয়। এটি মোমেনা চৌধুরীর লেখা দ্বিতীয় মঞ্চনাটক।

মোমেনা অভিনীত প্রথম একক নাটক ‘লাল জমিন’ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় একক। শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটার মঞ্চে এনেছে নাটকটি। মোমেনা চৌধুরীর রচনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন শামীম সাগর।

২০২৫ সালের জুনে নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকা আর্টস সেন্টারে উদ্বোধনী মঞ্চস্থ হয়েছিল নাটকটি।

 মাহমুদুল আলম/এসএন

সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা
ছায়ানট মিলনায়তনে সুফিয়া কামাল স্মারক বর্ষার অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সম্মিলিত নৃত্যগীত পরিবেশনা। ছবি: খবরের কাগজ

বাইরে গনগনে রোদ, ভ্যাপসা গরমে নগরবাসীর নাভিশ্বাস অবস্থা। প্রকৃতিতে বর্ষার বৃষ্টির দেখা মিলুক বা না মিলুক, সুরের ধারা আর ছন্দের লহরী যেন বর্ষাকে নিয়ে এল ছায়ানটের আঙিনায়।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সংগীতায়ন ছায়ানট আয়োজন করেছিল বর্ষার গানের অনুষ্ঠান। এই আয়োজনটি নিবেদিত ছিল ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

পাকিস্তানের বৈরী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ও নির্ভয়ে এগিয়ে চলার ‘বাতিঘর’ সুফিয়া কামালকে স্মরণ করা হয় পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা স্মরণ করিয়ে দেন, বর্ষা কেবল একটি ঋতু নয়, এটি জীবনের অন্তহীন প্রবাহের এক চিরন্তন উৎসব। তিনি বলেন, ‘বর্ষা আজ শুধু আকাশ থেকে ঝরে পড়বে না, নেমে আসুক আমাদের অনুভবে, আমাদের সংগীতে, আমাদের সম্মিলিত চেতনায়’।

ছায়ানট মিলনায়তনের ভেতরে তখন যেন বর্ষার নিজস্ব ভাষা তৈরি হয়েছে। শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন বর্ষার নানা রাগ-রাগিণীর সুর। সম্মেলক নৃত্যগীত ‘চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে’ দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে মর্তুজা কবির মুরাদের বাঁশির সুরে মূর্ত হয়ে ওঠে প্রকৃতির ব্যাকুলতা। 

এরপর একে একে শোনা যায় ‘ভবনে আসিল অতিথি’, ‘আজি ঝড়ের রাতে’, ‘বরষা ঐ এলো বরষা’ কিংবা ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল’-এর মতো চিরায়ত সব সুর।

শুধু গানেই নয়, রবীন্দ্রনাথের ‘ছিন্নপত্র’ পাঠ ও সুফিয়া কামালের ‘সাঁঝের মায়া’ আবৃত্তিতে অনুষ্ঠানের আবেশ আরও নিবিড় হয়ে ওঠে। সেতার ও যন্ত্রসঙ্গীতের মূর্ছনায় শ্রোতারা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন মেঘের গর্জন আর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের মাঝে।

বাইরের অসহ্য ভ্যাপসা গরমের বিপরীতে ছায়ানটের এই সুর ধারায় নিজেকে সমর্পণ করে উপস্থিত শ্রোতারা যেন খুঁজে পেলেন প্রতীক্ষিত শীতলতা। সম্মেলক গান, ‘রিমঝিম ঘন ঘন রে’ কিংবা ‘এসো শ্যামল সুন্দর’- সব মিলিয়ে বর্ষার এই আয়োজন যেন হয়ে উঠল প্রকৃতির অন্তহীন নব সৃজনের এক সার্থক উদযাপন।

জয়ন্ত সাহা/এএফ