ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি রাজপাল যাদবের তিন মাসের কারাদণ্ড তহবিল সংকটে ১০ লাখ নারী জরুরি সেবাবঞ্চিত: জাতিসংঘ চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ মৌলভীবাজারে মনু নদের ভাঙনে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন ফিলিপাইনে ভূমিধসে ৫ জন নিহত বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি কমলেও নগরে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিতে থাকা ১০০ পরিবার পেল সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইপসার সহায়তা চকরিয়ায় নৌকাডুবির পর নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আরও ভালো করতে পারতাম: ডেম্বেলে একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির আগ্রহ নরওয়ে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়? এ মাসেই ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র ভারতে ভারী বর্ষণে ১০ জনের মৃত্যু চট্টগ্রাম বোর্ডে শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ফ্রান্সে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত ৪ ঝিনাইদহে শিশু যৌন হয়রানির ঘটনায় দোকানি আটক চুয়াডাঙ্গায় টানা ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত সাতক্ষীরায় নিখোঁজের ২ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার কোটি কোটি নতুন সমর্থকই বেলজিয়ামের প্রেরণা: গার্সিয়া

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে এখনো পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার ৮ উপজেলা ও দুই পৌর এলাকায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার ৬ উপজেলায় ছোট-বড় ১২৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির স্রোতে নিখোঁজ হয়ে জেলার মগবান ও বিলাইছড়ির ফারুয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।  

তবে রাঙামাটির সাজেকে তিনদিন ধরে আটকা পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আরও ৩১১ জন গন্তব্যে ফিরে গেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ফিরেন ১৫০ পর্যটক। তবে আরও একশজন পর্যটক এখনও সাজেক আটকা রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারাও ফিরে যাবেন গন্তব্যে। মূলত সাজেক-খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়কের মাচালং, সীমানাছড়া, বাঘাইহাট বাজার ও কবাখালী এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পর্যটকরা সাজেকে আটকা পড়েন। 

এদিকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হলেও পানি সরে যাওয়ায় আজ থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

শনিবার থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও অতিবর্ষণ ও উজানের ঢলে বুধবার সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে। এরমধ্যেই বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। সেখানে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩শ ৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া সেখানকার ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলের খেত তলিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে। পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় সেখানে ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

এছাড়া রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ছোট-বড় ১২৫টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। 

পাহাড়ধসের শঙ্কা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা, জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি এবং দুই পৌরসভা রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌর এলাকায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩শ ৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।  

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন-জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে তিনবেলা খাবারসহ স্যানিটেশন, সুপেয় পানি প্রদান করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সরবরাহ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে।  

রিফাত/

সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি
ছবি: খবরের কাগজ

সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টিপাত আর হয়নি। তারপরও বাড়ছে সুরমা নদীসহ সব নদী ও হাওরের পানি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বৃষ্টি কম হলেও দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাত আবার শুরু হয়।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা, দুর্গাপুর এলাকায় এখনো পানি আছে। এসব স্থানে বৃহস্পতিবার যান চলাচলে সমস্যা হলেও শুক্রবার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। সড়কে পানি থাকায় ওই পথে টাঙ্গুয়ার হাওরে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিপাত কম হলেও সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জে বন্যার সতর্কতা জারি করে জানায়, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সিলেট সুনামগঞ্জের বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর পানি শুক্রবার বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ৭ দশমিক ৩০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতদিনের তুলনায় নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

এদিকে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নামছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মৌসিনরাম (মেঘলায়) ১৭৭ মিলিমিটার ও চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা ও পাটলাই, জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর ও কুশিয়ারা, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রক্তি, সদর উপজেলার চলতি নদে পানি বেড়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আরও ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এতে পানি আরও বাড়বে। যেহেতু সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা ভারতে চেরাপুঞ্জি ও মৌরসিনরামে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাই সুনামগঞ্জ জেলায় স্বল্প মেয়াদি একটি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সুনামগঞ্জের হাওর নেতা অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ জানান, সুনামগঞ্জের মানুষ বন্যাসহ প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে টিকে থাকতে হয় তা জানে। যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জে বন্যার সতর্কতা জারি করেছে তাই সুনামগঞ্জে হাওর এলাকার মানুষ একই সঙ্গে শহরের মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যদি এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকে এবং বাড়ির আঙ্গিনার ডুবে যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুইতলা বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। এর আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আসবাবপত্র ঘরের মধ্যে উঁচু মাচা করে তুলে রাখলে নষ্ট হবে না। বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ঔষধ, নাপা, স্যালাইন, সর্দি-জ্বরের ঔষধ, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রাখলে ভালো হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মোমবাতি, দিয়াশলাই, হারিকেন রাখলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে। হাওরের সাহসী মানুষ বন্যা শুরু আগে এই গুলো প্রস্তুত রাখলে তারপরও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারবে।

সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন জানান, যেহেতু সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা প্রায় প্রতি বছর সুনামগঞ্জের মানুষ বন্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই এই অঞ্চলের মানুষ জানে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় তারপরও মানুষ নিজে এবং তাদের গবাদিপশু হাঁস মোরগ নিয়ে কষ্ট করেন। তাই বন্যা শুরু আগেই নিজেদের গবাদি পশু, হাঁস মোরগ নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে রেখে আসতে পারেন। এবং খড় ধান নিয়ে রাখলে গবাদিপশুসহ হাঁস মোরগকে খাওয়াতে পারবেন এতে করে নিজেরাও বাঁচবেন সঙ্গে তাদের গবাদিপশু, হাঁস মোরগেকেও বাঁচাতে পারবেন।

এ দিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে জানিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সুনামগঞ্জের সব বাহিনী এবং কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নিয়ে দুর্যোগপূর্ণ, দুর্যোগকালীন, দুর্যোগউত্তর প্রস্তুতি সভা জেলা এবং ১২টি উপজেলায় সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৪৮৪ টি নৌকা, আটটি স্পিডবোট, স্বেচ্ছাসেবক ১২০১ জন ছাড়াও ইরা, ব্র্যাক এবং রেডক্রিসেন্ট এর প্রায় ১২০০ জন, মেডিক্যাল টিম ১০৫৬টি, দুর্যোগকালীন জিআর চাল, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ২,৯৯,৫০০ টি, শুকনা খাবার, ঢেউটিন, ইত্যাদি ১২ টি উপজেলায় প্রস্তুত আছে।

রিফাত/

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার। গত জুন মাসে যেখানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২২ জন। সেখানে জুলাইয়ের প্রথম ৯ দিনেই আক্রান্ত হয়েছে ১০৮ জন। 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। সেটির প্রমাণ মিলেছে জুলাই মাসের প্রথম ৯ দিনে। এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে চট্টগ্রামে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অক্টোবর বা নভেম্বর মাস পর্যন্তও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। একইসাথে বছরের কোন্ মাসগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রবণতা বা ঝুঁকি বেশি থাকে তা যাচাই করেছে খবরের কাগজ। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এই চার বছরে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে। 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। অপরদিকে বছরটিতে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৪৭ জন। এই পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ৩৩ জন। ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪৬৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। ওই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ২৪৭ জন। এসময়ে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ৯৩ জন। 

তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। ওই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬৫ জন। এসময়ে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ৩৮ জন। ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ৪৪৫ জন। ওই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এসময়ে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ২৪ জন। এখান থেকে প্রমাণ মিলছে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটি বেশি প্রভাব বিস্তার করে।

চলতি বছরের জুলাই মাস চলছে। বছরটির প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে পর্যন্ত) মোট ১৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২২ জন। অপরদিকে শুধুমাত্র জুলাই মাসের প্রথম নয় দিনেই (১ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত) আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮ জন। এতেই বোঝা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকির মাসও শুরু হয়েছে।

ঝঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত আট এলাকা 

নগরের জালালাবাদ (২ নং ওয়ার্ড), পাঁচলাইশ (৩ নং ওয়ার্ড), উত্তর কাট্টলী (১০ নং ওয়ার্ড), পশ্চিম বাকলিয়া (১৭ নং ওয়ার্ড), দক্ষিণ বাকলিয়া (১৯ নং ওয়ার্ড), পাথরঘাটা (৩৪ নং ওয়ার্ড), দক্ষিণ হালিশহর (৩৯ নং ওয়ার্ড) ও দক্ষিণ পতেঙ্গা (৪১ নং ওয়ার্ড) কে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগ। 

ডেঙ্গু রোধে নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে চসিক। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫০ বেডের ডেঙ্গু ব্লক প্রস্তুত করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই দুপুরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডেঙ্গু ব্লক উদ্বোধন করেন।

চসিক মেয়র ও চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। চসিক নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মেয়র বলেন, চমেক হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ায় রোগীরা দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সেবার পরিবেশ আরও উন্নত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, এবছর জুন থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেড়েছে। তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এ সময়ে পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, ফুলের টবে তিনদিনের বেশি পানি জমে থাকলে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। জনগণের উদ্দেশে বলতে চাই, বাড়ির আশপাশ পরিস্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতন থাকতে হবে। দিনে বা রাতের বেলা যখনই বিছানায় যাবেন- মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশা যাতে কামড়াতে না পারে সেজন্য কিছু ক্রিম আছে যা দিনের বেলা ব্যবহার করতে পারেন। জ্বর হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। বিশেষ করে এই মৌসুমে জ্বর হলে অবশ্যই ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষাগুলো সরকার বিনামূল্যে বিভিন্ন হাসপাতালে করার ব্যবস্থা করেছে।  

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে জীবাণুবাহী এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। এই মৌসুমটিতে ভ্যাপসা গরমের সাথে ঝিরি কিংবা থেমে বৃষ্টি হয়। এটি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে এডিস মশা এবং এতে মশার বংশবিস্তারও ত্বরান্বিত হয়। 

এসএন/

মৌলভীবাজারে মনু নদের ভাঙনে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
মৌলভীবাজারে মনু নদের ভাঙনে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

অব্যাহত বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় মনু নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে মনু নদ, ধলাই নদী, জুড়ী নদীসহ কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর ৩টায় মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মনু নদের রেলওয়ে ব্রিজে পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে ১৭০ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি ১১ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় প্রথমে মনু নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। পরে গভীর রাতে আকুয়া এলাকার প্রতিরক্ষা রিং বাঁধও ভেঙে যায়। এতে আকুয়া, হরিপাশা, উজিরপুর, সৈয়দনগর, আদিনাবাদসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

বন্যার পানিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তারাপাশা-টেংরা সড়ক এবং তারাপাশা বাজারের একাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মনু নদের পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে।

পুলক পুরকায়স্থ/এসএন

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে এখনো পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার ৮ উপজেলা ও দুই পৌর এলাকায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার ৬ উপজেলায় ছোট-বড় ১২৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির স্রোতে নিখোঁজ হয়ে জেলার মগবান ও বিলাইছড়ির ফারুয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।  

তবে রাঙামাটির সাজেকে তিনদিন ধরে আটকা পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে আরও ৩১১ জন গন্তব্যে ফিরে গেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার ফিরেন ১৫০ পর্যটক। তবে আরও একশজন পর্যটক এখনও সাজেক আটকা রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারাও ফিরে যাবেন গন্তব্যে। মূলত সাজেক-খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়কের মাচালং, সীমানাছড়া, বাঘাইহাট বাজার ও কবাখালী এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পর্যটকরা সাজেকে আটকা পড়েন। 

এদিকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হলেও পানি সরে যাওয়ায় আজ থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

শনিবার থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও অতিবর্ষণ ও উজানের ঢলে বুধবার সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে। এরমধ্যেই বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। সেখানে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩শ ৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া সেখানকার ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলের খেত তলিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে। পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় সেখানে ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

এছাড়া রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ছোট-বড় ১২৫টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। 

পাহাড়ধসের শঙ্কা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা, জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি এবং দুই পৌরসভা রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌর এলাকায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩শ ৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।  

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন-জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে তিনবেলা খাবারসহ স্যানিটেশন, সুপেয় পানি প্রদান করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সরবরাহ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে।  

রিফাত/

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি কমলেও নগরে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি কমলেও নগরে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

টানা পাঁচ দিনের রেকর্ডভাঙা বর্ষণ ও জোয়ারের পানির দাপট কাটিয়ে অবশেষে কিছুটা স্বস্তিতে ফিরতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম নগরীতে। তবে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসায় মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে পাঁচ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নগরজীবন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, খাতুনগঞ্জ এবং আগ্রাবাদের মতো বাণিজ্যিক ও নিচু এলাকার মূল সড়কগুলো থেকে পানি অনেকটাই নেমে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে এসব এলাকার যেসব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে ছিল, পানি কমায় শুক্রবার সেগুলোতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। সড়কে পানি কমে আসায় গণপরিবহণ ও রিকশা চলাচলও বৃহস্পতিবার তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক।​

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৫ দিনে চট্টগ্রামে ১০২০ মিলিমিটারের বেশি ঐতিহাসিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির বেগ ও স্থায়িত্ব কমে এসেছে। যদিও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এখনো বহাল রয়েছে।​

এদিকে পানি নেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কষ্ট কমলেও নগরীর পাহাড়গুলোতে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি সম্পূর্ণ নরম হয়ে যাওয়ায় লালখান বাজার, মতিঝরনা, আকবরশাহ, বায়েজিদ, বোস্তামী ও খুলশী এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগরে পাহাড় ও দেয়াল ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ​ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে আগে থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জোরদার মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। নগরীর আকবরশাহ ও খুলশী এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বেশ কিছু পরিবারকে জোরপূর্বক চসিকের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু পাহাড়ের দখল ছেড়ে অন্যত্র যেতে রাজি নয় বসতিরা। তাই পাহাড় থেকে মানুষকে সরাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মহানগরে পাহাড়ধসে আর যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভুঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দিনদিন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু হয়েছে। আগামী রবিবার থেকে আরও স্বাভাবিক হবে আবহাওয়া। তবে বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। কারণ পাহাড়ের মাটি নরম। 

রিফাত/