বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয় নয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনেরও একটি প্রক্রিয়া। তাই যে রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনা করে বা করতে চায়, তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করতে হয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দেশকে সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি বলেন, "বৃক্ষরোপণ একটি সামাজিক আন্দোলন। এ আন্দোলনে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে তারেক রহমান শহিদ জিয়ার আদর্শকে এগিয়ে নিচ্ছেন। রাজপথের আন্দোলন, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বরিশাল সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এ সফরে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে দলের নীতিনির্ধারক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শহিদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিম ও আমগাছের চারা রোপণ করেন এবং মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
এসএন/
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ৭৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হলেও নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি।
এ সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ জনে।
রিফাত/
কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, সংকটের এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে এই পদক্ষেপগুলোর কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি প্রধান উদ্যোগ হলো-
১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬. প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
৭. দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে। একই সাথে সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে।
৮. ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
৯. এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।
১০. টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
ফেসবুক পোস্টের শেষে মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন এবং জনগণের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।’
বাসস/এসএন
বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
রিফাত/