ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি রাজপাল যাদবের তিন মাসের কারাদণ্ড তহবিল সংকটে ১০ লাখ নারী জরুরি সেবাবঞ্চিত: জাতিসংঘ চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ মৌলভীবাজারে মনু নদের ভাঙনে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন ফিলিপাইনে ভূমিধসে ৫ জন নিহত বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি কমলেও নগরে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিতে থাকা ১০০ পরিবার পেল সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইপসার সহায়তা চকরিয়ায় নৌকাডুবির পর নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আরও ভালো করতে পারতাম: ডেম্বেলে একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির আগ্রহ নরওয়ে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! এআই ব্যবহারে কম বয়স বলতে কতটুকু বয়স বোঝায়? এ মাসেই ঢাকায় আতিফ আসলামের কনসার্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ লেখক টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কক্সবাজার, খোলা হয়েছে ৬৪০ আশ্রয়কেন্দ্র ভারতে ভারী বর্ষণে ১০ জনের মৃত্যু চট্টগ্রাম বোর্ডে শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ফ্রান্সে বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত ৪

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার। গত জুন মাসে যেখানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২২ জন। সেখানে জুলাইয়ের প্রথম ৯ দিনেই আক্রান্ত হয়েছে ১০৮ জন। 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। সেটির প্রমাণ মিলেছে জুলাই মাসের প্রথম ৯ দিনে। এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে চট্টগ্রামে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অক্টোবর বা নভেম্বর মাস পর্যন্তও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। একইসাথে বছরের কোন্ মাসগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রবণতা বা ঝুঁকি বেশি থাকে তা যাচাই করেছে খবরের কাগজ। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এই চার বছরে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে। 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। অপরদিকে বছরটিতে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৪৭ জন। এই পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ৩৩ জন। ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪৬৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। ওই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ২৪৭ জন। এসময়ে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ৯৩ জন। 

তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। ওই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৭৬৫ জন। এসময়ে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ৩৮ জন। ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ৪৪৫ জন। ওই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এসময়ে (জুলাই-নভেম্বর) মারা গেছেন ২৪ জন। এখান থেকে প্রমাণ মিলছে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোগটি বেশি প্রভাব বিস্তার করে।

চলতি বছরের জুলাই মাস চলছে। বছরটির প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে পর্যন্ত) মোট ১৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২২ জন। অপরদিকে শুধুমাত্র জুলাই মাসের প্রথম নয় দিনেই (১ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত) আক্রান্ত হয়েছেন ১০৮ জন। এতেই বোঝা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকির মাসও শুরু হয়েছে।

ঝঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত আট এলাকা 

নগরের জালালাবাদ (২ নং ওয়ার্ড), পাঁচলাইশ (৩ নং ওয়ার্ড), উত্তর কাট্টলী (১০ নং ওয়ার্ড), পশ্চিম বাকলিয়া (১৭ নং ওয়ার্ড), দক্ষিণ বাকলিয়া (১৯ নং ওয়ার্ড), পাথরঘাটা (৩৪ নং ওয়ার্ড), দক্ষিণ হালিশহর (৩৯ নং ওয়ার্ড) ও দক্ষিণ পতেঙ্গা (৪১ নং ওয়ার্ড) কে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগ। 

ডেঙ্গু রোধে নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে চসিক। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫০ বেডের ডেঙ্গু ব্লক প্রস্তুত করা হয়েছে। গত ৪ জুলাই দুপুরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডেঙ্গু ব্লক উদ্বোধন করেন।

চসিক মেয়র ও চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। চসিক নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মেয়র বলেন, চমেক হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ায় রোগীরা দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সেবার পরিবেশ আরও উন্নত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, এবছর জুন থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেড়েছে। তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু বাড়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এ সময়ে পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, ফুলের টবে তিনদিনের বেশি পানি জমে থাকলে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। জনগণের উদ্দেশে বলতে চাই, বাড়ির আশপাশ পরিস্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতন থাকতে হবে। দিনে বা রাতের বেলা যখনই বিছানায় যাবেন- মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশা যাতে কামড়াতে না পারে সেজন্য কিছু ক্রিম আছে যা দিনের বেলা ব্যবহার করতে পারেন। জ্বর হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। বিশেষ করে এই মৌসুমে জ্বর হলে অবশ্যই ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষাগুলো সরকার বিনামূল্যে বিভিন্ন হাসপাতালে করার ব্যবস্থা করেছে।  

উল্লেখ্য, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে জীবাণুবাহী এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। এই মৌসুমটিতে ভ্যাপসা গরমের সাথে ঝিরি কিংবা থেমে বৃষ্টি হয়। এটি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে এডিস মশা এবং এতে মশার বংশবিস্তারও ত্বরান্বিত হয়। 

এসএন/

প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড় ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। তবে এই ট্র্যাজেডির পেছনে কেবল প্রকৃতির বর্ষণই দায়ী নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় কাটা এবং তার পাদদেশে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার মানুষের আত্মঘাতী খেলাই এর মূল কারণ।

দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার পরিবার চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বসবাস করছে। আধুনিক দালানকোঠা বা পাকা-সেমিপাকা, মাটির ও কাঁচা বাড়ির মোহে পাহাড়ের বুক কেটে খাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ফলে, সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির বাঁধন আলগা হয়ে সেই বিশাল স্তূপ ধসে পড়ছে নিচের ঘরবাড়ির ওপরে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালেই পাহাড় কাটায় বেশি মেতে ওঠে। তাদের ধারণা, শুকনো সময়ে স্কেভেটর বা কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে বন বিভাগ মামলা দেবে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে কোদাল বা অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না এবং বৃষ্টির পানিতে কাটার দাগও মুছে যাবে। এই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক কৌশলের কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিল।

পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমি রয়েছে যার বেশিরভাগই এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে।

মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় নিম্ন অঞ্চলের মানুষ এই পাহাড় কাটার মূল জোগানদার। ওইসব এলাকা লবণাক্ত এবং বর্ষায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকায় তারা স্থায়ী আবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। একসময়ের স্থানীয় দখলদাররা এখন এই নবাগতদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারি রিজার্ভের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সমতল ভূমির মতো এখানেও ইট-কংক্রিটের দালান তোলার প্রতিযোগিতা চলায় চারপাশের প্রাকৃতিকভাবে উঁচু পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

নির্বিচারে পাহাড় ও বনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গর্জন গাছ কাটার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার পাহাড়গুলো এভাবে বিলীন হতে থাকলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং সময়মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এককালের সুজলা-সুফলা ও ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন আর ঋতুবৈচিত্র্যের সেই রূপ নেই। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অপূরণীয় পরিবেশগত বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড়ধসের অন্যতম প্রধান কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে তা আমাদের পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লোক-দেখানো মামলা দিয়ে পেকুয়া-চকরিয়ার এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে এবং বন বিভাগের ভেতরের 'কালো ভেড়া'দের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃতির এই প্রতিশোধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

রকিবুল হাসান/এসএ

রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে শনিবার (৪ জুলাই) থেকে চলা বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে জেলা জুড়েই পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

এরমধ্যেই আবার নতুন করে শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ঘন্টায় মাঝারি থেকে ভারী ও কিছু কিছু জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

এতে ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

এতে পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধ্বসের প্রবল ঝুঁকি ও বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দেশে চলমান বৃষ্টি বিভিন্ন স্থানে আরও ৩-৫ দিন চলতে পারে-বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

রিফাত/

থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর মডেল থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙ্গে আটক এক নারী আসামি পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলায় এক উপপরিদর্শক ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সদর মডেল থানার অস্থায়ী ভবনের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া ওই নারীর নাম হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার  বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মো: রফিকুল ইসলাম/এসএন

শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা
উপকারভোগীদের মাঝে চেক তুলে দিচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিভিন্ন দপ্তরাধীন উপকারভোগীদের মাঝে চেক ও পুরস্কার বিতরণ করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পুলিশ সুপার আশিস বিন্ হাসান।

 অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরাধীন উপকারভোগীদের হাতে সরকারের দেওয়া চেক, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, ফুটবল, স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

এর আগে মন্ত্রী শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে বৈঠক করেন। এসময় মন্ত্রী উপজেলার জনমানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ডাক্তারদের প্রতি দিকনির্দেশনা দেন।

তিনি আরও জানান, উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেছে যা শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে।

আলমগীর/এএফ

সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি
ছবি: খবরের কাগজ

সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টিপাত আর হয়নি। তারপরও বাড়ছে সুরমা নদীসহ সব নদী ও হাওরের পানি।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বৃষ্টি কম হলেও দুপুরের পর থেকে বৃষ্টিপাত আবার শুরু হয়।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা, দুর্গাপুর এলাকায় এখনো পানি আছে। এসব স্থানে বৃহস্পতিবার যান চলাচলে সমস্যা হলেও শুক্রবার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। সড়কে পানি থাকায় ওই পথে টাঙ্গুয়ার হাওরে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টিপাত কম হলেও সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জে বন্যার সতর্কতা জারি করে জানায়, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সিলেট সুনামগঞ্জের বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর পানি শুক্রবার বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ৭ দশমিক ৩০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতদিনের তুলনায় নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

এদিকে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নামছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মৌসিনরাম (মেঘলায়) ১৭৭ মিলিমিটার ও চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা ও পাটলাই, জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর ও কুশিয়ারা, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রক্তি, সদর উপজেলার চলতি নদে পানি বেড়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আরও ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এতে পানি আরও বাড়বে। যেহেতু সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা ভারতে চেরাপুঞ্জি ও মৌরসিনরামে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে তাই সুনামগঞ্জ জেলায় স্বল্প মেয়াদি একটি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সুনামগঞ্জের হাওর নেতা অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ জানান, সুনামগঞ্জের মানুষ বন্যাসহ প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে টিকে থাকতে হয় তা জানে। যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জে বন্যার সতর্কতা জারি করেছে তাই সুনামগঞ্জে হাওর এলাকার মানুষ একই সঙ্গে শহরের মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যদি এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকে এবং বাড়ির আঙ্গিনার ডুবে যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুইতলা বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। এর আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আসবাবপত্র ঘরের মধ্যে উঁচু মাচা করে তুলে রাখলে নষ্ট হবে না। বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ঔষধ, নাপা, স্যালাইন, সর্দি-জ্বরের ঔষধ, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রাখলে ভালো হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মোমবাতি, দিয়াশলাই, হারিকেন রাখলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে। হাওরের সাহসী মানুষ বন্যা শুরু আগে এই গুলো প্রস্তুত রাখলে তারপরও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারবে।

সুনামগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন জানান, যেহেতু সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা প্রায় প্রতি বছর সুনামগঞ্জের মানুষ বন্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই এই অঞ্চলের মানুষ জানে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় তারপরও মানুষ নিজে এবং তাদের গবাদিপশু হাঁস মোরগ নিয়ে কষ্ট করেন। তাই বন্যা শুরু আগেই নিজেদের গবাদি পশু, হাঁস মোরগ নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে রেখে আসতে পারেন। এবং খড় ধান নিয়ে রাখলে গবাদিপশুসহ হাঁস মোরগকে খাওয়াতে পারবেন এতে করে নিজেরাও বাঁচবেন সঙ্গে তাদের গবাদিপশু, হাঁস মোরগেকেও বাঁচাতে পারবেন।

এ দিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে জানিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সুনামগঞ্জের সব বাহিনী এবং কমিটির সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নিয়ে দুর্যোগপূর্ণ, দুর্যোগকালীন, দুর্যোগউত্তর প্রস্তুতি সভা জেলা এবং ১২টি উপজেলায় সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৪৮৪ টি নৌকা, আটটি স্পিডবোট, স্বেচ্ছাসেবক ১২০১ জন ছাড়াও ইরা, ব্র্যাক এবং রেডক্রিসেন্ট এর প্রায় ১২০০ জন, মেডিক্যাল টিম ১০৫৬টি, দুর্যোগকালীন জিআর চাল, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ২,৯৯,৫০০ টি, শুকনা খাবার, ঢেউটিন, ইত্যাদি ১২ টি উপজেলায় প্রস্তুত আছে।

রিফাত/