ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় চবিতে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি ফার্মা ও বিজনেস খাতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে ঢাবিতে আইএসবিএম ক্যারিয়ার ওয়ার্কশপ বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ফ্লোরিডার বিমানবন্দরের নাম হলো ‘ট্রাম্প’ আবুল কাসেম ফজলুল হক নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক: ন্যাপ মহাসচিব ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লবের পরিবেশ পদকে সম্মানিত ৬ প্রকৃতি সংরক্ষক দেশের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের প্রশ্ন করতে দিন প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি রাজপাল যাদবের তিন মাসের কারাদণ্ড তহবিল সংকটে ১০ লাখ নারী জরুরি সেবাবঞ্চিত: জাতিসংঘ চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গু, জুলাই-সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ঝুঁকি ফিলিপাইনে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ মৌলভীবাজারে মনু নদের ভাঙনে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি, আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ জন ফিলিপাইনে ভূমিধসে ৫ জন নিহত বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে স্পেন: দে লা ফুয়েন্তে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি কমলেও নগরে রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিতে থাকা ১০০ পরিবার পেল সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইপসার সহায়তা চকরিয়ায় নৌকাডুবির পর নিখোঁজ কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী আরও ভালো করতে পারতাম: ডেম্বেলে একদিনে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ইতালির আগ্রহ

প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড় ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। তবে এই ট্র্যাজেডির পেছনে কেবল প্রকৃতির বর্ষণই দায়ী নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় কাটা এবং তার পাদদেশে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার মানুষের আত্মঘাতী খেলাই এর মূল কারণ।

দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার পরিবার চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বসবাস করছে। আধুনিক দালানকোঠা বা পাকা-সেমিপাকা, মাটির ও কাঁচা বাড়ির মোহে পাহাড়ের বুক কেটে খাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ফলে, সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির বাঁধন আলগা হয়ে সেই বিশাল স্তূপ ধসে পড়ছে নিচের ঘরবাড়ির ওপরে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালেই পাহাড় কাটায় বেশি মেতে ওঠে। তাদের ধারণা, শুকনো সময়ে স্কেভেটর বা কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে বন বিভাগ মামলা দেবে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে কোদাল বা অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না এবং বৃষ্টির পানিতে কাটার দাগও মুছে যাবে। এই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক কৌশলের কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিল।

পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমি রয়েছে যার বেশিরভাগই এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে।

মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় নিম্ন অঞ্চলের মানুষ এই পাহাড় কাটার মূল জোগানদার। ওইসব এলাকা লবণাক্ত এবং বর্ষায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকায় তারা স্থায়ী আবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। একসময়ের স্থানীয় দখলদাররা এখন এই নবাগতদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারি রিজার্ভের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সমতল ভূমির মতো এখানেও ইট-কংক্রিটের দালান তোলার প্রতিযোগিতা চলায় চারপাশের প্রাকৃতিকভাবে উঁচু পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

নির্বিচারে পাহাড় ও বনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গর্জন গাছ কাটার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার পাহাড়গুলো এভাবে বিলীন হতে থাকলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং সময়মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এককালের সুজলা-সুফলা ও ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন আর ঋতুবৈচিত্র্যের সেই রূপ নেই। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অপূরণীয় পরিবেশগত বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড়ধসের অন্যতম প্রধান কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে তা আমাদের পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লোক-দেখানো মামলা দিয়ে পেকুয়া-চকরিয়ার এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে এবং বন বিভাগের ভেতরের 'কালো ভেড়া'দের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃতির এই প্রতিশোধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

রকিবুল হাসান/এসএ

বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
মোহাম্মদ আশিক। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ আশিক (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আশিক বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানির স্রোতের কবলে পড়ে আশিক ভেসে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাঁশখালী হাসপাতালের প্রধান ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

শফকত হোসাইন/রিফাত/

প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড় ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। তবে এই ট্র্যাজেডির পেছনে কেবল প্রকৃতির বর্ষণই দায়ী নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় কাটা এবং তার পাদদেশে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার মানুষের আত্মঘাতী খেলাই এর মূল কারণ।

দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার পরিবার চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বসবাস করছে। আধুনিক দালানকোঠা বা পাকা-সেমিপাকা, মাটির ও কাঁচা বাড়ির মোহে পাহাড়ের বুক কেটে খাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ফলে, সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির বাঁধন আলগা হয়ে সেই বিশাল স্তূপ ধসে পড়ছে নিচের ঘরবাড়ির ওপরে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালেই পাহাড় কাটায় বেশি মেতে ওঠে। তাদের ধারণা, শুকনো সময়ে স্কেভেটর বা কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে বন বিভাগ মামলা দেবে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে কোদাল বা অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না এবং বৃষ্টির পানিতে কাটার দাগও মুছে যাবে। এই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক কৌশলের কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিল।

পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমি রয়েছে যার বেশিরভাগই এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে।

মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় নিম্ন অঞ্চলের মানুষ এই পাহাড় কাটার মূল জোগানদার। ওইসব এলাকা লবণাক্ত এবং বর্ষায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকায় তারা স্থায়ী আবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। একসময়ের স্থানীয় দখলদাররা এখন এই নবাগতদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারি রিজার্ভের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সমতল ভূমির মতো এখানেও ইট-কংক্রিটের দালান তোলার প্রতিযোগিতা চলায় চারপাশের প্রাকৃতিকভাবে উঁচু পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

নির্বিচারে পাহাড় ও বনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গর্জন গাছ কাটার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার পাহাড়গুলো এভাবে বিলীন হতে থাকলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং সময়মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এককালের সুজলা-সুফলা ও ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন আর ঋতুবৈচিত্র্যের সেই রূপ নেই। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অপূরণীয় পরিবেশগত বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড়ধসের অন্যতম প্রধান কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে তা আমাদের পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লোক-দেখানো মামলা দিয়ে পেকুয়া-চকরিয়ার এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে এবং বন বিভাগের ভেতরের 'কালো ভেড়া'দের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃতির এই প্রতিশোধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

রকিবুল হাসান/এসএ

রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা
ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটিতে শনিবার (৪ জুলাই) থেকে চলা বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে জেলা জুড়েই পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

এরমধ্যেই আবার নতুন করে শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ঘন্টায় মাঝারি থেকে ভারী ও কিছু কিছু জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

এতে ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

এতে পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধ্বসের প্রবল ঝুঁকি ও বিভিন্ন জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দেশে চলমান বৃষ্টি বিভিন্ন স্থানে আরও ৩-৫ দিন চলতে পারে-বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

রিফাত/

থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর সদর মডেল থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙ্গে আটক এক নারী আসামি পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলায় এক উপপরিদর্শক ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সদর মডেল থানার অস্থায়ী ভবনের ভেতর এ ঘটনা ঘটে।

পালিয়ে যাওয়া ওই নারীর নাম হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) রমজান আলী সজল ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার  বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার কোন ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মো: রফিকুল ইসলাম/এসএন

শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা
উপকারভোগীদের মাঝে চেক তুলে দিচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিভিন্ন দপ্তরাধীন উপকারভোগীদের মাঝে চেক ও পুরস্কার বিতরণ করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পুলিশ সুপার আশিস বিন্ হাসান।

 অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরাধীন উপকারভোগীদের হাতে সরকারের দেওয়া চেক, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, ফুটবল, স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

এর আগে মন্ত্রী শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে বৈঠক করেন। এসময় মন্ত্রী উপজেলার জনমানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ডাক্তারদের প্রতি দিকনির্দেশনা দেন।

তিনি আরও জানান, উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেছে যা শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে।

আলমগীর/এএফ