বলে কথা, ছিল বলে, শালবনে বৌদ্ধ বিহারে আষাঢ়ি পূর্ণিমায়
স্তূপে স্তূপে চুপচাপ, পাশে নদী খরস্রোতা,
পাথুরে বেপথু অস্তিত্বের সে যে বহমান।
শালবনে চুপিচুপি দুখাকুল মনে রাখে তার পদশোভা;
আনন্দ বিহারে ভিক্ষু যায় প্রব্রজ্যায় নির্জন পাহাড়ে।
বলে কথা, ছিল বলে, শালবনে বৌদ্ধ বিহারে আষাঢ়ি পূর্ণিমায়
স্তূপে স্তূপে চুপচাপ, পাশে নদী খরস্রোতা,
পাথুরে বেপথু অস্তিত্বের সে যে বহমান।
শালবনে চুপিচুপি দুখাকুল মনে রাখে তার পদশোভা;
আনন্দ বিহারে ভিক্ষু যায় প্রব্রজ্যায় নির্জন পাহাড়ে।
তুমুল বৃষ্টির রাত
চৌচির মৃত্তিকাবুকে সজীব নিঃশ্বাস
তৃষ্ণাকাতর পাতার শরীরে জলের নাচন
ভেজা বাতাসের ডানায় ডানায় বৃষ্টির ঘ্রাণ
পাখি দম্পতিরা নিশিস্নান শেষে ফিরে যায় নীড়ে
আমার দুচোখে ঘুম নেই, এপাশ-ওপাশ
হিম বৃষ্টি–সোহাগী বৃষ্টির জলের আঙুল
হৃদয়ের জানালায় টোকা দিয়ে যায়।
মেঘেরও দ্বি-চারিতা আছে... আছে বর্ন ক্লেশ,
শোষণ নিপুণ তেলবাজ এক ভোগবাদী
মানসিকতা... শ্রমজীবী মানুষের থেকে
দূরে এমন এক গিরগিটি ত্বকের মানসী; ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ’...
এই আপ্তবাক্যের অসারত্ব প্রমাণে সিদ্ধহস্ত
অনর্গল মিথ্যা প্রচারে দক্ষ... ক্রমশ সস্তা
ধর্মীয় আবেগী চরিত্র এক দলকানা
মানববিরোধী শক্তি অসার আকাশচারী আষাঢ় নামের কদম বিহারী।
দিগন্তজুড়ে মেঘেরা সেদিন প্রাচীন সংকেত এঁকেছিল
অথচ মানুষের হৃদয় তখনও অনাবৃষ্টির মরুভূমি
ভেজা মৃত্তিকার গন্ধে জেগে উঠেছিল বিস্মৃত জন্মস্মৃতি
আমি কেবল প্রাপ্তির অঙ্ক কষেছি নিরবধি
জলরাশি ধুয়ে নিয়েছিল বৃক্ষের ক্লান্ত ধূলিকণা
আমার অন্তর্লোক রয়ে গেল অনুতাপের আবরণে
দূরের নদী বহন করছিল অব্যক্ত সময়ের ইতিহাস
তীরে দাঁড়িয়ে আমি শুনিনি তার অন্তঃসলিলা ভাষ্য
একদিন সমস্ত স্রোত মিলিয়ে গেল গহন সমুদ্রে
শুধু অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা রয়ে গেল বালুকাবেলার মতো
এখন আষাঢ় এলে মনে হয় প্রতিটি বর্ষণফোঁটা
অস্তিত্বের অবিনশ্বর ক্ষয়লিপি নীরবে পাঠ করে!
কতটা ফুরালে মানুষের আর থাকে না কোনোই দাম
কতটা হারালে হৃদয়ে সাহারা বিস্তৃত অভিরাম
আড়ালে আড়ালে মৃন্ময়ী চোখ তন্ময় হয়ে যায়
খুঁজে পেলে সেই আষাঢ়ের মুখ ইতিহাস বদলায়।
ঠোঁটের আগায় প্রেমের সমাধি যমুনার জলে ভাসে
মনের ভেতর অনিয়ম হলে প্রশ্নটা বিশ্বাসে
মাটির চিবুক পিপাসার বুক চাতকের ফলোয়ার
আষাঢ়ের হাতে বায়আত নিতে খুলো রাখে তলোয়ার।
রাতের বাকল খুলে বের হয় আতর মেয়ের দল
জমির গর্ভে লুকায়িত ধন হেসে ওঠে খলখল
উজালা আকাশ কৃপণতা নেই দু’হাতে বিলায় সব
হৃদয় ভেলায় নিজেকে ভাসায় এক মহা উৎসব।
সব ছেড়ে দিয়ে যতই থাকুক হয় না থাকাটা ভালো
আষাঢ়ের মুখে হাসি দেখা দিলে কেবলই জমকালো
সব হারিয়েও তৃপ্তি এটুকু আছে তো আষাঢ়ী মুখ
ফের সব হবে শত সহস্র এই আশাতেই বুক।
সেগুন ফুলের বনে-বিষণ্ন মাদকতায়
তোমার কথা খুউব মনে পড়ে শুভলক্ষ্মী;
যখন আষাঢ় ফেটে উড়ে যায় দূরের মেঘ
নদীও জেগে থাকে প্রথম বৃষ্টির আশায়।
এখনো ভেজা পাতার গায়ে তোমার নাম
জলরঙে লেখা অসমাপ্ত চিঠির মতো রঙিন;
জানালার কাচ বেয়ে নেমে আসে নীরবতা
আর বৃষ্টির ভাষায় অপেক্ষা শেখে হৃদয়।
দূরের বাদাবন কাঁপিয়ে যায় অচেনা বাতাস
মনে হয় তুমি বুঝি এক্ষুনি আসবে ফিরে;
কদমের গন্ধে ভিজে যায় সন্ধ্যার আলো
চোখে জমে ওঠে অ-নামি মেঘের পাহাড়।
যদিও এই সজল বর্ষা-ধাবমান খরতাপে
সুপ্রাচীন বিরহ যেন, তোমারই অনুবাদে!