আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর সবুজ গ্যালারিতে চলছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের উত্তাপ শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, তার ঢেউ পৌঁছে গেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) প্রাণচঞ্চল ক্যাম্পাসেও। বিশ্বকাপের সেই রঙিন উন্মাদনা যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের গ্রাফিতিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দেয়ালে আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে আঁকা হয়েছে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতিকৃতি। মেসির মুখচ্ছবিতে ফুটে উঠেছে স্বপ্ন, সংগ্রাম ও কোটি ভক্তের ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি আর মেসির বিশ্বকাপ চুম্বনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের দেয়ালে ব্রাজিল ফ্যান ক্লাবের আয়োজনে ও চারুকলার শিক্ষার্থী নাসিরুল ইসলামের সহযোগিতায় অঙ্কিত হয়েছে ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়রের প্রতিকৃতি। দুই তারকার এই শিল্পরূপ যেন ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপের দুই বড় ফুটবল দর্শনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেসি-নেইমারের গ্রাফিতি জাককানইবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এনে দিয়েছে এক অনন্য আবেগঘন আমেজ। প্রতিদিনই টিএসসি ও দ্বিতীয় গেটের দেয়ালের সামনে ভিড় করছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুদের নিয়ে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিচ্ছেন, আবার কেউ মুগ্ধ দৃষ্টিতে শিল্পকর্মগুলো দেখছেন। শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, বহিরাগত দর্শনার্থীরাও ছুটে আসছেন এই গ্রাফিতির সামনে স্মৃতি ধরে রাখতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু টিএসসির দেয়াল বা দ্বিতীয় গেটেই নয়, দোলনচাঁপা হলসংলগ্ন দেয়ালেও আঁকা হয়েছে আর্জেন্টিনার জার্সি ভিত্তিক একটি থিম। বিদ্রোহী হল ও বিবিএ ভবনে শোভা পাচ্ছে বিশাল আকৃতির আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাস্তা, হলের বারান্দা ও খোলা প্রাঙ্গণে উড়ছে অসংখ্য পতাকা। কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক, কোথাও জাতীয় পতাকা, আবার কোথাও ফুটবল তারকাদের প্রতিকৃতি, সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাস যেন রঙিন এক ফুটবল উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে এই সাজসজ্জা শুধু খেলাপ্রেম নয় বরং শিক্ষার্থীদের শিল্পবোধ, সৃজনশীলতা ও সম্মিলিত আবেগেরও প্রকাশ। গ্রাফিতির সামনে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেমন স্মৃতি ধরে রাখছেন, তেমনি প্রবীণ ফুটবলপ্রেমীরা স্মরণ করছেন ফুটবলের সোনালি দিনের গল্প। মেসির জাদু, নেইমারের নৈপুণ্য আর বিশ্বকাপের আবেগ মিলেমিশে জাককানইবি ক্যাম্পাসকে পরিণত করেছে ফুটবল ভালোবাসার এক উজ্জ্বল মিলনমেলায়।
কথা হয় ব্রাজিল সমর্থক নাসিরুল ইসলামের সঙ্গে। তার কাছে নেইমার শুধুই একজন ফুটবলার নন, বরং এক টুকরো আবেগ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই গ্রাফিতি আঁকা। ব্রাজিল ফ্যানস ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য ভাইদের সহযোগিতায় প্রায় ১৮ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া এই দেয়ালচিত্রটি সম্পন্ন করেছি। নেইমার আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার, তাই তাকে এই গ্রাফিতিতে বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, এটি ব্রাজিল সমর্থকদের ভালো লাগবে। ব্রাজিল হয়তো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বাদ পড়েছে। কিন্তু ব্রাজিল এবং নেইমারের প্রতি ভালোবাসা অক্ষুণ্ণ থাকবে আমাদের। সামনের দিনগুলোতে ব্রাজিল আবারও নিজেদের সেরা ফুটবল খেলবে বলে আশা রাখছি।’
এ দিকে আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লবের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সাকিবুল হাসান সজীব খবরের কাগজকে বলেন, এই গ্রাফিতিটি শুধু একটি দেয়ালচিত্র নয়, এটি বাংলাদেশ আর্জেন্টিনা ফ্যানদের ভালোবাসা, আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতীক। বিশ্বকাপ ট্রফিতে মেসির চুম্বনের মুহূর্তটি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ও গর্বের মুহূর্ত, তাই সেটিই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি শিল্পকর্ম ফুটবলপ্রেম, সৃজনশীলতা ও ঐক্যের বার্তা বহন করছে। আমরা আশা করি, এই গ্রাফিতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সেই ঐতিহাসিক অর্জনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মো. তাসনিম/থিওটোনিয়াস/