গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের। গুরুর মুখ উজ্জ্বল হয় শিষ্যের উন্নতিতে। সেই গুরুকেই আবার দুয়ো শুনতে হয় শিষ্যের উন্নতিতে। ফুটবলে কোচ আর ফুটবলারদের সম্পর্কটা ঠিক এমনই। বিশ্বকাপে যত গভীরে যেতে পারে দল, সেই কোচের মাথা তত উঁচু হয় বিশ্বদরবারে। আর ব্যর্থতায় নত হয় মাথা। চলমান বিশ্বকাপও এর ব্যতিক্রম নয়। মাঠের খেলায় প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না দেখিয়ে ইতোমধ্যে ১০ গুরুর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছেন শিষ্যরা।
হাভিয়ের আগুইরে (মেক্সিকো)
বিশ্বকাপে মেক্সিকোর সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা। এবার তিন আয়োজকের একটি হয়েও এই পর্যায়ে উন্নীত হতে পারেনি তারা। শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলের হারে থেমে গেছে মেক্সিকান ওয়েভ। স্বাভাবিকভাবেই এটাকে ধরা হয়েছে ব্যর্থতা হিসেবে, যার দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করেছেন কোচ হাভিয়ের আগুইরে।
৬৭ বছর বয়সী এই কোচ নিশ্চিত করেছেন যে, মেক্সিকো জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটিই ছিল তার তৃতীয় ও শেষ অধ্যায়। এর আগে ২০০২ এবং ২০১০ বিশ্বকাপেও তিনি মেক্সিকোকে শেষ ষোলোতে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবার আরও ভালো কিছুর লক্ষ্যে গত জুলাইয়ে তাকে আবারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
মেক্সিকান ফুটবল কর্মকর্তারা আগেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, আগুইয়েরের পর দলের দায়িত্ব নেবেন তার সহকারী ও মেক্সিকান ফুটবল কিংবদন্তি রাফা মার্কুয়েজ। মেক্সিকোর বিদায়ের পর এখন সবার নজর ২০৩০ বিশ্বকাপ এবং ৪৭ বছর বয়সী মার্কুয়েজের পরিকল্পনার দিকে। মার্কুয়েজ তার খেলোয়াড়ি জীবনে দেশের হয়ে ১৪৭ ম্যাচে ১৭টি গোল করেছেন এবং রেকর্ড পাঁচটি বিশ্বকাপে (২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮) দলের অধিনায়কত্ব করেছেন।
জুলিয়ান নাগেলসমান (জার্মানি)
চলমান বিশ্বকাপের রাউন্ড-৩২-এ সবচেয়ে বড় অঘটন ছিল জার্মানির বিদায়। প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয় চারবারের চ্যাম্পিয়নদের। এই ব্যর্থতার মাশুল দিতে হয়েছে কোচ জুলিয়ান নাগেলমানকে। ৩৮ বছর বয়সী কোচের সঙ্গে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চুক্তি ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত। বিদায়ের পরও তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায়ও বসেন। তবে জার্মান গণমাধ্যম ‘বিল্ড’ জানিয়েছে, বিশ্বকাপে দলের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পেছনে নাগেলসম্যানের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি কর্মকর্তারা। ফলস্বরূপ তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। ‘স্কাই জার্মানি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিভারপুলের সাবেক ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপ জার্মানি জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন।
জামাল সেলামি (জর্ডান)
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর কোচ জামাল সেলামির সঙ্গে পথ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া সেলামি জর্ডানকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করান। তবে গ্রুপ পর্বে ‘জে’ গ্রুপের অস্ট্রিয়া, ইরাক এবং আর্জেন্টিনার কাছে তিনটি ম্যাচেই হেরে যায় জর্ডান।
জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল হুসেইন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জর্ডান জাতীয় দলের সঙ্গে আপনার (জামাল সেলামি) যাত্রার সমাপ্তি লগ্নে, আপনার প্রচেষ্টা, অসামান্য নিষ্ঠা এবং আমাদের দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক অর্জনে অবদানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’
সেলামি জর্ডানকে ২০২৫ সালের আরব কাপের ফাইনালে তুলেছিলেন এবং তার অসাধারণ অবদানের জন্য তাকে (মরক্কো) জর্ডানের নাগরিকত্বও দেওয়া হয়েছিল। তার অধীনে জর্ডান ১৮টি ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে ৮টি জয়, ৩টি ড্র এবং ৭টি হার রয়েছে।
রোনাল্ড কোম্যান (নেদারল্যান্ডস)
মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে নেদারল্যান্ডস বিদায় নেওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ডাচ কিংবদন্তি রোনাল্ড কোম্যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোম্যান বলেন, ‘আমি ডাচ জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সবাই এমন একটি বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে আমরা ইতিহাস গড়ব। কিন্তু তা হয়নি। আমার চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নয়। কোচ হিসেবে এই ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণ আমার।’
রোনাল্ড কোম্যান দুই মেয়াদে ডাচ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে মোট ৬৪টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।
তার প্রথম মেয়াদে (২০১৮-২০২০) ২০ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের জয় ছিল ১১টি, ড্র ৫টি এবং হার ৪টি। দ্বিতীয় মেয়াদে (২০২৩-২০২৬) ৪৪ ম্যাচে জয় ২৪টি, ড্র ৯টি এবং হার ১১টি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পর কোম্যান দ্বিতীয়বারের মতো ডাচ দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি কোচ ছিলেন। কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল।
হং মিউং-বো (দক্ষিণ কোরিয়া)
২০০২ সালে ঘরের মাঠে দক্ষিণ কোরিয়ার অবিশ্বাস্যভাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পেছনে অধিনায়ক হিসেবে হং মিউং-বো ছিলেন জাতীয় নায়ক। তবে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার দ্বিতীয় অধ্যায়টি তার জনপ্রিয়তা তলানিতে এনে ঠেকিয়েছে।
২০১৪ বিশ্বকাপেও তার অধীনে দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলে সমর্থকরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপেও মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দক্ষিণ কোরিয়া, যার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
হং মিউং-বো বলেন, ‘যারা কোরিয়ান ফুটবলকে ভালোবেসেছেন এবং সবসময় জাতীয় দলকে সমর্থন করেছেন, সেই সব নাগরিকদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমি দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এই দায়িত্ব নেওয়া আমার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না, তবে একবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমি অন্য কিছুর কথা ভাবিনি। আমি বিশ্বাস করেছিলাম, শেষ পর্যন্ত আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করাই আমার একমাত্র কাজ ছিল।’
কোচ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে দুই মেয়াদে মোট ৪৫টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। যার মধ্যে ছিল ২০টি জয়, ৯টি ড্র এবং ১৬টি পরাজয়।
মিরোস্লাভ কুবেক (চেক রিপাবলিক)
বিশ্বকাপে অত্যন্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর চেক প্রজাতন্ত্রের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মিরোস্লাভ কুবেক। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মাত্র ১টি ড্র এবং ‘এ’ গ্রুপের তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে তারা।
ইউরোপীয় প্লে-অফের কঠিন বাধা পার করে ২০০৬ সালের পর প্রথমবার চেক প্রজাতন্ত্রকে বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছিলেন কুবেক। তবে উত্তর আমেরিকার এই টুর্নামেন্টে দল মোটেও ভালো করতে পারেনি। এ জন্য কুবেক অতিরিক্ত ভ্রমণসূচি এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও পারফরম্যান্সের ঘাটতিকে দায়ী করেন।
পদত্যাগের পর কুবেক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অর্ধসত্য ও মনগড়া গল্প নিয়ে গণমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়েছে, তাও আমার এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে চেক জাতীয় দলের জন্য কাজ করা আর অর্থহীন।’
সাব্রি লামুশি (তিউনিসিয়া)
বিশ্বকাপের শুরুতেই বড় বিপর্যয়ের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে তিউনিসিয়া। সুইডেনের কাছে উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর পরই কোচ সাব্রি লামুশিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সৌদি আরবের সাবেক কোচ হার্ভে রেনার্ড।
৫৪ বছর বয়সী লামুশি চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং শুধু ৫টি ম্যাচে দলের ডাগআউটে ছিলেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র একটি ম্যাচের পর বরখাস্ত হওয়া প্রথম কোচের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন তিনি।
বাছাইপর্বে একটি গোলও না হজম করে বিশ্বকাপে আসা তিউনিসিয়াকে নিয়ে বড় আশা ছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ তাদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়, যেখানে ৩টি ম্যাচেই হেরে মোট ১২টি গোল হজম করে তারা।
স্টিভ ক্লার্ক (স্কটল্যান্ড)
দীর্ঘ ২৮ বছর পর স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে এনেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্টিভ ক্লার্ক।
‘সি’ গ্রুপে এক জয় এবং দুই হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল স্কটল্যান্ড। তবে রাউন্ড অব থার্টি-টুতে যাওয়ার জন্য শীর্ষ আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় তারা।
ক্লার্ক তার বিদায়ী বার্তায় বলেন, ‘এই বিদায়ের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি হলো আমার খেলোয়াড়রা, যাদের ছাড়া ২০১৯ থেকে এখন পর্যন্ত আমরা এত সুন্দর স্মৃতি তৈরি করতে পারতাম না। তারা সব প্রশংসা ও সম্মানের যোগ্য এবং তাদের কোচ হিসেবে পরিচিত হওয়াটা আমার জন্য সত্যিই সম্মানের ছিল। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ এবং আমার উত্তরসূরির জন্য শুভকামনা।’
২০১৯ সাল থেকে দলের দায়িত্বে থাকা ক্লার্কের অধীনে স্কটল্যান্ড ৩৬টি ম্যাচ জিতেছে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসের যেকোনো কোচের চেয়ে সর্বোচ্চ।
সেবাস্তিয়ান বেকাসেস (ইকুয়েডর)
রাউন্ড অব থার্টি-টুতে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ইকুয়েডরের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সেবাস্তিয়ান বেকাসেস।
গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিলেও, মেক্সিকোর ক্লিনিকাল পারফরম্যান্সের সামনে টিকতে পারেনি ইকুয়েডর।
ম্যাচ শেষে বেকাসেস বলেন, ‘বিশ্বকাপের সঙ্গেই আমাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করতে পারিনি। আজ আমার বিদায় নেওয়ার পালা। আমি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কারণ খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তাতে কাজ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু ফুটবল কীভাবে চলে তা আমি বুঝি। এটি কষ্টদায়ক, তবে আমার সিদ্ধান্ত একদম পরিষ্কার।’
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ইকুয়েডর তার অধীনে মোট ২৪টি ম্যাচ খেলেছে যার, মধ্যে ৯টি জয়, ১২ টি ড্র এবং ৩টি পরাজয় ছিল।
জ্লাতকো দালিচ (ক্রোয়েশিয়া)
বিশ্বকাপের শেষ-৩২-এর ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় ক্রোয়েশিয়া। যার পর পরই জ্লাতকো দালিচ কোচের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে কোচের দায়িত্ব নেওয়া ৫৯ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ডার প্রায় ৯ বছরের গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ফেডারেশন জানায়, ‘দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর, প্রধান কোচ জ্লাতকো দালিচ ক্রোয়েশিয়ার হয়ে তার অবিশ্বাস্য ও সফল অধ্যায়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
দালিচের অধীনেই লুকা মদ্রিচের মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ক্রোয়েশিয়ার ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’ ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের উয়েফা নেশনস লিগেও তারা রানার্স-আপ হয়েছিল।
পদত্যাগের বিষয়ে দালিচ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে সবার সমর্থন দেখে আমি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু... এখনই সঠিক সময়। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে আরও নতুন নতুন সাফল্য পাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা এখনো আমার আছে, তবুও আমার মনে হচ্ছে এই অবিশ্বাস্য অধ্যায়টি শেষ করার এটাই উপযুক্ত সময়।’
ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন দালিচের এই দীর্ঘ পথচলাকে একটি ‘অবিস্মরণীয় যাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং একে একটি ‘গর্বিত বিদায়’ বলে উল্লেখ করেছে। তার অধীনে ক্রোয়েশিয়া মোট ১১১টি ম্যাচ খেলে ৬২টি জয় পায়।