ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
নোবিপ্রবির সৈকতের অনন্য প্রত্যাবর্তন ঈশ্বরদীতে বৃত্তির হাসি ২০৬ শিক্ষার্থীর মুখে রাজশাহী কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামাজিক স্কুল ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি মিয়ানমার সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে পাচারচক্র, আটক দুই যুবক নরওয়ে ‘ডাকাতির’ শিকার: আলফ-ইঙ্গে হালান্ড যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, হামলায় আহত ১০ সিআইপিএস এশিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের চার পুরস্কার বাংলালিংকের ত্রাণ বিতরণের পর হারুয়ালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ১০ লাখ নগরবাসীর সেবায় কাজ করছে রসিক: প্রশাসক বীরের মর্যাদায় দলকে বিদায় জানালেন সুইসরা বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল বাতেনের রাজকীয় বিদায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু ‘আমি সকালে টাইগার খেয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে জানি না’ পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প এক দিনে হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের ত্রাণ বিতরণ বেলিংহাম হতে পারেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ফুটবলার: লিনেকার প্রতারণা মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার ভবন ভাঙার সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ২ শ্রমিক আহত ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে সাংবাদিক-শিক্ষক দম্পতির মেয়ে দেশজুড়ে আকিজ পাইপস নিয়ে এলো ‘ফুঁ-বল চ্যাম্পিয়নশিপ’ চুয়েটে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে সেরার মুকুট প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলমারীতে পানিতে ডুবে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী মৌলভীবাজারে বন্যার শঙ্কা কেটেছে, কমছে নদ-নদীর পানি ‘পাওয়ারহাউস’ ইংল্যান্ডের  অপেক্ষায় মেসি সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
ছবি: খবরের কাগজ

বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলােই) সকাল ৯টা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর পানি ১৫ দশমিক ৮৭ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ১০ দশমিক ০৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। যদিও গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত কমছে না।

অতি বৃষ্টির কারণে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকায় জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দূরপাল্লার বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ঝুঁকি নিয়ে কিছু ছোট যানবাহন সীমিত পরিসরে চলাচল করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি ও কাদা জমে থাকায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা সদর ছাড়াও লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি ও রুমা উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকার বসতঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। 

বান্দরবান সদর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস এলাকা, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের রেস্ট হাউস এলাকা, সেনাবাহিনীর ব্রিগেড এলাকা, বেতারকেন্দ্র, পুলিশ লাইন্স, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর, কালাঘাটা, বালাঘাটা ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি থইথই করছে। বিশেষ করে বালাঘাটা ব্রিগেড এলাকা ও পুলিশ লাইন্স এলাকায় মানুষকে নৌকায় করে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে দোকানপাট বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহেও ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর অনেকের খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে এসেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। 

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ি এলাকায় এখনো ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন অনেক পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন বারবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানালেও অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে অনিচ্ছুক।

দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চলমান দুর্যোগে এ পর্যন্ত পাহাড়ধসে ৫ জন এবং পানিতে ডুবে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলাজুড়ে ২৬টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই সড়কের ওপর হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

রিজভী রাহাত/খাদিজা রুমি/

ঈশ্বরদীতে বৃত্তির হাসি ২০৬ শিক্ষার্থীর মুখে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ঈশ্বরদীতে বৃত্তির হাসি ২০৬ শিক্ষার্থীর মুখে
সর্বোচ্চ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুলপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: খবরের কাগজ

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীর ১ হাজার ১৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি পেয়েছে ২০৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৬ জন ট্যালেন্টপুল (মেধাবৃত্তি) ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ৮০ জন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২১ জন ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ২৯ জন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ঈশ্বরদীর সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বমোট ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৯৪০ ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল ২৪০ জন।

উপজেলার স্কুলপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ২২ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৫ জন পেয়েছে সাধারণ বৃত্তি। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। শিক্ষা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইক্ষু গবেষণা উচ্চ বিদ্যালয়। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৭ ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ১০ জন।

জানা গেছে, বৃত্তি পরীক্ষার নিয়মানুযায়ী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসিক ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসিক ২২৫ টাকা পাবেন।

জাহাঙ্গীর হোসেন/এসএন

 

মিয়ানমার সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে পাচারচক্র, আটক দুই যুবক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
মিয়ানমার সীমান্তে জেলের ছদ্মবেশে পাচারচক্র, আটক দুই যুবক
ছবি: সংগৃহীত

জেলের ছদ্মবেশে মিয়ানমারে সার ও তেল পাচার করে বাংলাদেশে ফেরার সময় উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত থেকে নগদ ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকাসহ দুই যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

রবিবার (১২ জুলাই) ভোররাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী সীমান্তের গুইল্লাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক হওয়া দুই যুবক হলেন উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে লোকমান হাকিম (২২) এবং পালংখালী বড়তলী এলাকার বাসিন্দা আজিম উদ্দিনের ছেলে আবছার (২০)।

উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম (জি) রবিবার বিকেল ৪টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ভোররাতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় গুইল্লাখালী সীমান্ত দিয়ে দুই যুবককে সন্দেহজনকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পর থামার সংকেত দেন। কিন্তু তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

পরে তাদের সঙ্গে থাকা মাছ বহনের ডোলা তল্লাশি করে নগদ বাংলাদেশি ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বিজিবিকে জানান, তারা জেলের পরিচয়ে নাফ নদী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার ও তেল নিয়ে যান। সেখানে এসব পণ্য বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে ফেরার সময় বিজিবির হাতে ধরা পড়েন।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে সার, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ পাচার রোধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

এদিকে আটক ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, পালংখালী এলাকার নৌকার মাঝি ইসলাম ও লালুর নেতৃত্বে তারা এই টাকা বাংলাদেশে নিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও তদন্ত করছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

মো. শাহীন/এসএন

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, হামলায় আহত ১০

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, হামলায় আহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে আয়নাল হক নামে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় বালু ফেলায় বাধা দেওয়ায় হামলায় নয়ন মোল্লা নামে এক ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। 

রবিবার (১২ জুলাই)  সকালে উপজেলার তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবদল নেতা আয়নাল হক তারাব পৌর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ সভাপতি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নয়ন মোল্লা বলেন,যুবদল নেতা আয়নাল বেশ কিছুদিন যাবৎ চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেওয়ায় রবিবার ভোরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে বালু ফেলে রাখে। খবর পেয়ে আমি ও আমার স্ত্রীসহ আত্মীয় স্বজনরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে আমাদের উপর হামলা করে। হামলায় আমি আমার স্ত্রী পারভীন সুলতানা, মোমেন, সুমন,রোকন,হাসান, জাকারিয়াসহ ১০ জন আহত হয়। এ হামলার ঘটনায় সুস্পষ্ট বিচার চাই।

আহত স্ত্রী পারভীন সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত যুবদল নেতা আয়নাল আমার স্বামীর কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে দোকানে সামনে বালু ফেলে রাখে। এতে বাঁধা দিলে আমার উপর হামলা করে। এ হামলার বিচার চাই।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা আয়নাল হক বলেন, আমার নামে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ২০১৮ সালে ব্যবসায়ী আমাদের কাছে জমি বায়না করেন। ৮ বছর হয়েছে আমাদের কাছ থেকে জমি না নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করছে। আমার জমিতে আমি বালু ফেলেছি। আমি কোন চাঁদাবাজি ও হামলা করিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

এ ব্যাপার রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এএইচ এমএ সালাউদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত কোন অভিযোগ পায়নি, পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: রুবেল শিকদার/এসএন

ত্রাণ বিতরণের পর হারুয়ালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ত্রাণ বিতরণের পর হারুয়ালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত দুই দিন ধরে এলাকায় ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালানোর পর উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন সেনাসদস্যরা।

রবিবার (১২ জুলাই) খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে এবং মেজর রাজু হোসেনের নেতৃত্বে হারুয়ালছড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির অন্যান্য এলাকার মতো হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নও ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়। এতে সাধারণ মানুষ খাদ্য ও পানীয়ের চরম সংকটে পড়েন। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী গত দুই দিন ধরে বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল, ডাল ও বিশুদ্ধ পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে আসছে। বর্তমানে বন্যার পানি কিছুটা নেমে যাওয়ার পর এলাকায় ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি এবং বিভিন্ন পানিবাহিত ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এই জরুরি চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচশ এর বেশি রোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করেন। নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে একজন নারী চিকিৎসকও এই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

চিকিৎসা ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সুশৃঙ্খলভাবে ওষুধ বিতরণ দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুর্গম এই এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছে, যা বন্যাদুর্গত ও দরিদ্র মানুষের খুব কাজে আসছে। উপজেলা প্রশাসন এই কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক সাপোর্ট দিচ্ছে।

সেনাবাহিনীর এই  উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বন্যায় আমাদের ইউনিয়নের মানুষ চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। পানি নেমে যাওয়ার পর নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনী আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিন ধরে তারা যেভাবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে এবং আজ এই ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে শত শত অসহায় মানুষ নতুন করে বেঁচে থাকার আলো দেখছেন। আমি ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

এদিকে দুর্যোগের মুহূর্তে হাতের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে চরম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গলাব্যথার সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই কষ্টে ভুগছিলাম। এমন দুর্দিনে বাড়ির কাছে বিনা পয়সায় চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে আমার খুবই ভালো লাগছে।" স্থানীয়রা জানান, যাতায়াত ও আর্থিক সংকটে যারা খাবার ও চিকিৎসার অভাবে ছিলেন, সেনাবাহিনীর কল্যাণে তারা ঘরে বসেই খাবার এবং বাড়ির কাছেই উন্নত চিকিৎসা পেয়েছেন।

নাজমুল আলম/এসএন

১০ লাখ নগরবাসীর সেবায় কাজ করছে রসিক: প্রশাসক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
১০ লাখ নগরবাসীর সেবায় কাজ করছে রসিক: প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেছেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ১০ লাখ মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। জনগণের যৌক্তিক দাবির ভিত্তিতে যেসব বিষয়ে আন্দোলন হবে, সেগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা হবে।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে মাহিগঞ্জ সাতমাথা মোড়ের পুলিশ বক্সসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পের উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন  রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন।

এ সময় রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে মাহিগঞ্জ সাতমাথা পর্যন্ত ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কের পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকা এ সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৬৮০ মিটার কার্পেটিং সড়ক, ১১০ মিটার আরসিসি সড়ক, ৬০০ মিটার আরসিসি ড্রেন, ড্রেনের ওপর টাইলসযুক্ত ফুটপাত, ২ হাজার ৫০০ মিটার রোড ডিভাইডার, ৮০০ মিটার রোড সেপারেটর, ১৩০টি লাইটপোল এবং ২৬০টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে কামাল কাছনা, দখিগঞ্জ শ্মশান, তিনমাথা ও মাহিগঞ্জ রেলগেট এলাকায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রতিদিন রংপুরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা থেকে আসা হাজারো মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কাজে এ সড়ক ব্যবহার করলেও তাদের দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সড়কটি সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময় গায়েবানা জানাজা, ভাঙা সড়কে ধানের চারা রোপণ এবং চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উদ্বোধন শেষে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকা এই সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

সেলিম সরকার/এসএন