ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ত্রাণ বিতরণের পর হারুয়ালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ১০ লাখ নগরবাসীর সেবায় কাজ করছে রসিক: প্রশাসক বীরের মর্যাদায় দলকে বিদায় জানালেন সুইসরা বাকৃবি অধ্যাপক আব্দুল বাতেনের রাজকীয় বিদায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু ‘আমি সকালে টাইগার খেয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে জানি না’ পাঠ্যপুস্তকের বাইরের এক জীবন্ত ক্যাম্পাসের গল্প এক দিনে হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের ত্রাণ বিতরণ বেলিংহাম হতে পারেন ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ফুটবলার: লিনেকার প্রতারণা মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার ভবন ভাঙার সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ২ শ্রমিক আহত ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে সাংবাদিক-শিক্ষক দম্পতির মেয়ে দেশজুড়ে আকিজ পাইপস নিয়ে এলো ‘ফুঁ-বল চ্যাম্পিয়নশিপ’ চুয়েটে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক উৎসবে সেরার মুকুট প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলমারীতে পানিতে ডুবে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী মৌলভীবাজারে বন্যার শঙ্কা কেটেছে, কমছে নদ-নদীর পানি ‘পাওয়ারহাউস’ ইংল্যান্ডের  অপেক্ষায় মেসি সমন্বয় ও নিঃসরণ অধ্যায়ের ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া এশিয়া প্রেস্টিজ ৫০ আন্ডার ৫০ সিইও এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের সিইও মো. নুরুল আফছার বঙ্গোপসাগরে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প খাটের উপর ধসে পড়ল পাহাড়, অল্পে রক্ষা মা-ছেলের হিলিতে ৩ দিনব্যাপী ক্যাশলেস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন রংপুরে বাসচাপায় মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু, বাসে আগুন লক্ষ্মীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ ৯৭ পদ শূন্য, বন্ধ আছে অস্ত্রোপচার গোপালগঞ্জে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত পূর্বাচল ভ্যালীতে দ্বিতীয় ধাপের প্লট হস্তান্তর সম্পন্ন, আস্থার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন

রংপুরে বাসচাপায় মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু, বাসে আগুন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
রংপুরে বাসচাপায় মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু, বাসে আগুন
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে বাসচাপায় এক মাদরাসা সুপার নিহতের ঘটনায় চালককে গ্রেপ্তার করা হলেও ক্ষুব্ধ জনতা বাসে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

 শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে রংপুরের মডার্ণ মোড় তুলা গবেষণা কেন্দ্রের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নিহত আবুল কাশেম জিয়াতপুকুর দাখিল মাদরাসার সুপার ও নগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়া জামে মসজিদের খতিব। তার গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়ায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর থেকে ঢাকাগামী আর এম স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস সকাল ৯টার দিকে মডার্ণ মোড় তুলা গবেষণাকেন্দ্র এলাকায় পেছনে ব্যাক করার সময় পেছনে থাকা পথচারী আবুল কাশেমকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় লোকজন বাসটি আটকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা চালকের শাস্তি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

মিলমপাড়া এলাকার আশিকুর রহমান বলেন, ’আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গাটিতে ফুড ওভার ব্রিজের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন করে আসছি। কারণ এখানকার  কয়েকটি গ্রামের বাচ্চাদের রাস্তা পার হয়ে পাশেই প্রাইমারি স্কুলে যেতে হয়।’

সকাল ১০টার পরে একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

রংপুর মেট্রোপলিটনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত আবুল কাশেমের মরদেহ পরিবার নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় বাসের চালক মর্তুজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। বাসটি উৎসুক জনতা পুড়িয়ে দিয়েছে।’

সেলিম সরকার/খাদিজা রুমি/ 

ত্রাণ বিতরণের পর হারুয়ালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ত্রাণ বিতরণের পর হারুয়ালছড়িতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত দুই দিন ধরে এলাকায় ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালানোর পর উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন সেনাসদস্যরা।

রবিবার (১২ জুলাই) খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে এবং মেজর রাজু হোসেনের নেতৃত্বে হারুয়ালছড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির অন্যান্য এলাকার মতো হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নও ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়। এতে সাধারণ মানুষ খাদ্য ও পানীয়ের চরম সংকটে পড়েন। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী গত দুই দিন ধরে বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল, ডাল ও বিশুদ্ধ পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে আসছে। বর্তমানে বন্যার পানি কিছুটা নেমে যাওয়ার পর এলাকায় ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি এবং বিভিন্ন পানিবাহিত ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এই জরুরি চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচশ এর বেশি রোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করেন। নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে একজন নারী চিকিৎসকও এই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

চিকিৎসা ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সুশৃঙ্খলভাবে ওষুধ বিতরণ দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুর্গম এই এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছে, যা বন্যাদুর্গত ও দরিদ্র মানুষের খুব কাজে আসছে। উপজেলা প্রশাসন এই কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক সাপোর্ট দিচ্ছে।

সেনাবাহিনীর এই  উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বন্যায় আমাদের ইউনিয়নের মানুষ চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। পানি নেমে যাওয়ার পর নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনী আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিন ধরে তারা যেভাবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে এবং আজ এই ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে শত শত অসহায় মানুষ নতুন করে বেঁচে থাকার আলো দেখছেন। আমি ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

এদিকে দুর্যোগের মুহূর্তে হাতের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে চরম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গলাব্যথার সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই কষ্টে ভুগছিলাম। এমন দুর্দিনে বাড়ির কাছে বিনা পয়সায় চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে আমার খুবই ভালো লাগছে।" স্থানীয়রা জানান, যাতায়াত ও আর্থিক সংকটে যারা খাবার ও চিকিৎসার অভাবে ছিলেন, সেনাবাহিনীর কল্যাণে তারা ঘরে বসেই খাবার এবং বাড়ির কাছেই উন্নত চিকিৎসা পেয়েছেন।

নাজমুল আলম/এসএন

১০ লাখ নগরবাসীর সেবায় কাজ করছে রসিক: প্রশাসক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
১০ লাখ নগরবাসীর সেবায় কাজ করছে রসিক: প্রশাসক
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেছেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ১০ লাখ মানুষের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। জনগণের যৌক্তিক দাবির ভিত্তিতে যেসব বিষয়ে আন্দোলন হবে, সেগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা হবে।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে মাহিগঞ্জ সাতমাথা মোড়ের পুলিশ বক্সসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পের উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন  রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন।

এ সময় রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে মাহিগঞ্জ সাতমাথা পর্যন্ত ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কের পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকা এ সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৬৮০ মিটার কার্পেটিং সড়ক, ১১০ মিটার আরসিসি সড়ক, ৬০০ মিটার আরসিসি ড্রেন, ড্রেনের ওপর টাইলসযুক্ত ফুটপাত, ২ হাজার ৫০০ মিটার রোড ডিভাইডার, ৮০০ মিটার রোড সেপারেটর, ১৩০টি লাইটপোল এবং ২৬০টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে কামাল কাছনা, দখিগঞ্জ শ্মশান, তিনমাথা ও মাহিগঞ্জ রেলগেট এলাকায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রতিদিন রংপুরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা থেকে আসা হাজারো মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কাজে এ সড়ক ব্যবহার করলেও তাদের দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

সড়কটি সংস্কারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময় গায়েবানা জানাজা, ভাঙা সড়কে ধানের চারা রোপণ এবং চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবশেষে উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উদ্বোধন শেষে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকা এই সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

সেলিম সরকার/এসএন

‘আমি সকালে টাইগার খেয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে জানি না’

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
‘আমি সকালে টাইগার খেয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি, এরপর কী হয়েছে জানি না’
আটক ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক বিএম জসিম। ছবি: সংংগৃহীত

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে গোসাইরহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে উপজেলার আলাউলপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক বিএম জসিম রেইনকোট, মুখে মাস্ক ও চোখে সানগ্লাস পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি সুযোগ বুঝে সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে একটি কুড়াল বের করে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের ওপর হামলা চালান। এতে শাকিল আহমেদ আহত হন। এ সময় অফিসে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে প্রতিহত করে আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রেখে গোসাইরহাট থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

তবে হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিএম জসিম  সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। 

একটি ভিডিওতে তাকে অসংলগ্ন উত্তর দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘আমি সকালে টাইগার খেয়েছি, আর্জেন্টিনার খেলা দেখেছি। এরপর কী হয়েছে, আমি জানি না।’

এ বিষয়ে আহত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিএম জসিমের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আমি একাধিকবার তাকে সতর্ক ও জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করেছি। এরই জের ধরে তিনি পরিকল্পিতভাবে মুখ ঢেকে আমার কার্যালয়ে এসে কুড়াল দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। সহকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে না এলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বর্তমানে আমি থানায় রয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।’

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযুক্ত ও শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনcf লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধান মজুমদার অনি/এসএন

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
ছবি: খবরের কাগজ

বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলােই) সকাল ৯টা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর পানি ১৫ দশমিক ৮৭ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ১০ দশমিক ০৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। যদিও গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৯টা থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) বান্দরবানে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত কমছে না।

অতি বৃষ্টির কারণে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকায় জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দূরপাল্লার বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ঝুঁকি নিয়ে কিছু ছোট যানবাহন সীমিত পরিসরে চলাচল করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি ও কাদা জমে থাকায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা সদর ছাড়াও লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি ও রুমা উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকার বসতঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। 

বান্দরবান সদর উপজেলার ফায়ার সার্ভিস এলাকা, বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের রেস্ট হাউস এলাকা, সেনাবাহিনীর ব্রিগেড এলাকা, বেতারকেন্দ্র, পুলিশ লাইন্স, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগর, কালাঘাটা, বালাঘাটা ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি থইথই করছে। বিশেষ করে বালাঘাটা ব্রিগেড এলাকা ও পুলিশ লাইন্স এলাকায় মানুষকে নৌকায় করে চলাচল করতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে দোকানপাট বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহেও ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর অনেকের খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে এসেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। 

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ি এলাকায় এখনো ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন অনেক পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন বারবার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানালেও অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে অনিচ্ছুক।

দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চলমান দুর্যোগে এ পর্যন্ত পাহাড়ধসে ৫ জন এবং পানিতে ডুবে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলাজুড়ে ২৬টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই সড়কের ওপর হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

রিজভী রাহাত/খাদিজা রুমি/

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার ভবন ভাঙার সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ২ শ্রমিক আহত

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার ভবন ভাঙার সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ২ শ্রমিক আহত
বিস্ফোরণে রফিকুল ইসলামের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখমের চিহ্ন। ছবি: খবরের কাগজ
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ করার সময় মাটির নিচে থাকা একটি পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। 
 
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
 
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, পুরাতন থানা ভবন ভাঙার কাজের অংশ হিসেবে শ্রমিকরা ভবনের ফ্লোরের নিচের মাটি কাটছিলেন। এ সময় উপজেলার বাজার গ্রামের গফফার মোড়লের ছেলে শ্রমিক রফিকুল ইসলাম কোদাল দিয়ে মাটিতে আঘাত করলে সেখানে মাটিচাপা অবস্থায় থাকা একটি পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
 
বিস্ফোরণে রফিকুল ইসলামের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়। এ সময় পাশে থাকা উপজেলার বাজার গ্রামে বাড়ি অপর শ্রমিক কামরুল হাসান বিস্ফোরণের আঘাতে ডান পায়ে আহত হন।
 
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা দ্রুত আহত দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
 
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মাটির নিচে কীভাবে পরিত্যক্ত ককটেলটি ছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন।
 
আজহার/