চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত দুই দিন ধরে এলাকায় ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালানোর পর উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন সেনাসদস্যরা।
রবিবার (১২ জুলাই) খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে এবং মেজর রাজু হোসেনের নেতৃত্বে হারুয়ালছড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির অন্যান্য এলাকার মতো হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নও ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়। এতে সাধারণ মানুষ খাদ্য ও পানীয়ের চরম সংকটে পড়েন। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী গত দুই দিন ধরে বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবার, চাল, ডাল ও বিশুদ্ধ পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে আসছে। বর্তমানে বন্যার পানি কিছুটা নেমে যাওয়ার পর এলাকায় ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি এবং বিভিন্ন পানিবাহিত ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এই জরুরি চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ পাঁচশ এর বেশি রোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করেন। নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে একজন নারী চিকিৎসকও এই কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
চিকিৎসা ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সুশৃঙ্খলভাবে ওষুধ বিতরণ দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুর্গম এই এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছে, যা বন্যাদুর্গত ও দরিদ্র মানুষের খুব কাজে আসছে। উপজেলা প্রশাসন এই কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক সাপোর্ট দিচ্ছে।
সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, বন্যায় আমাদের ইউনিয়নের মানুষ চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। পানি নেমে যাওয়ার পর নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই কঠিন সময়ে সেনাবাহিনী আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিন ধরে তারা যেভাবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে এবং আজ এই ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে শত শত অসহায় মানুষ নতুন করে বেঁচে থাকার আলো দেখছেন। আমি ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
এদিকে দুর্যোগের মুহূর্তে হাতের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে চরম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। গলাব্যথার সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই কষ্টে ভুগছিলাম। এমন দুর্দিনে বাড়ির কাছে বিনা পয়সায় চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে আমার খুবই ভালো লাগছে।" স্থানীয়রা জানান, যাতায়াত ও আর্থিক সংকটে যারা খাবার ও চিকিৎসার অভাবে ছিলেন, সেনাবাহিনীর কল্যাণে তারা ঘরে বসেই খাবার এবং বাড়ির কাছেই উন্নত চিকিৎসা পেয়েছেন।
নাজমুল আলম/এসএন