টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং ফটিকছড়ির সাংসদ সরোয়ার আলমগীর।
শনিবার (১১ জুলাই) বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এরআগে শুক্রবার নিজ উদ্যোগে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান সাংসদ সরোয়ার আলমগীর।
টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ধুরুং খাল, হালদা নদী ও সর্তা খালের পানি বেড়ে ফটিকছড়ির, নাজিরহাট পৌরসভা, সুন্দরপুর,পাইন্দং, ফকিরচাঁন, হারুয়ালছড়ি, নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়, ফলে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে।
শুক্রবার সাংসদ সরোয়ার আলমগীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফটিকছড়ির সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় তিনি ফটিকছড়ির একটি মানুষও যেন অনাহারে না থাকে, সেই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সমাজের বিত্তবানদেরও নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শনিবার (১১ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেন। এসময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যাকবলিতদের সহায়তায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
শুক্রবার গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের সেনাসদস্যরা বৈরী আবহাওয়া ও বুকসমান পানি পেরিয়ে পায়ে হেঁটে দুর্গম রোসাংগিরি এলাকাসহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত অঞ্চলে পৌঁছে যান। সেখানে তারা ১৭০টি পানিবন্দি পরিবারের দোরগোড়ায় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানিসহ জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন।
ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরাসরি মাঠে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। নাজমুল আলম/এসএন