ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী’ ইংল্যান্ডের হয়েও খেলতে পারতেন হালান্ড, এখন তিনিই প্রতিপক্ষ সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন লামেন্স: কোর্তোয়া ‘ইয়েস ফ্যাশন’র ট্রেন্ডি জুব্বা হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী মেহজাবীনের হাত ধরে ওসান লাইফস্টাইল মিরপুরে বন্যার শঙ্কায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ৪০ হাজার মানুষ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র গ্রিল ভেঙে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, কেরানীগঞ্জে আটক আসামি ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু ত্রাণ পৌঁছাতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী টেকসই সবুজায়ন ও শতবর্ষী বৃক্ষ সংরক্ষণে শুধু রোপণ নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদি যত্ন আড়াই বছরে ১০ হাজার ৮৩০ ধর্ষণ মামলা: শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ কোথায় চকরিয়া-পেকুয়ায় পানিবন্দি লাখো মানুষ, কাটেনি দুর্ভোগ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন সেনেগাল তারকা সাদিও মানে ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ রবিবার রেশন সুবিধা পাবেন যেসব সরকারি চাকরিজীবীরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও ৫ শিশু হাসপাতাল চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় বিদেশনির্ভরতা কমাতে ইন্টার্নরাই মূল ভরসা: প্রধানমন্ত্রী বর্ষায় জয়েন্ট পেইন কমাতে ‘হলুদ চা’ গোল নয়, দলের জয়ই ইয়ামালের কাছে বড় সারাদেশে ১ লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
ফটিকছড়িতে বন্যাদুর্গতদের পাশে সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যাপ্লাবিত দুর্গত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন শত শত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শনিবার (১১ জুলাই) গুইমারা রিজিয়নের অধীনে লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি ত্রাণ বিতরণ করে সেনাবাহিনী।

সেনাসদস্যরা নৌযান ও অন্যান্য উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ তুলে দেন।

সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং খাদ্যসংকট মোকাবিলায় গুইমারা রিজিয়নের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নাজমুল আলম/খাদিজা রুমি/

সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
সাঙ্গু থেকে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। বাজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত এলাকার পরিধি বাড়তে থাকে। উপজেলার বাজালিয়া, পুরানগড়, চরতী, আমিলাইষ, এওচিয়া, ঢেমশা, কেঁওচিয়া ও কাঞ্চনা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বাজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সজিব চৌধুরী বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। যাদের যাওয়ার সুযোগ নেই, তারা বাড়িতেই পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবারে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

ছদাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, হাঙর খালের পানি পাড় উপচে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে এ এলাকায় খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। এ ছাড়াও তারা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীও বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বেশ কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও উপজেলার বিভিন্ন খাল ও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করা অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আমরা উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।

আরিফুল ইসলাম/এসএন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৩ কোটি টাকার মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে বিজয়নগরের ভাগলপুর সীমান্ত এলকায় এ অভিযান চালায় বিজিবি ২৫ ব্যাটালিয়ন।

দুপুরে বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।

বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভাগলপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ৭-৮ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে দুইটি বাইসাইকেলে চটের বস্তা নিয়ে আসতে দেখে বিজিবির টহলদল তাদেরকে ধাওয়া করলে বস্তাসহ বাইসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বস্তা থেকে ৩ হাজার ৯৬০ পিস ভারতীয় মোবাইলফোনের ডিসপ্লে জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এগুলো কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়া হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/অমিয়/

বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
বন্যাদুর্গত ফটিকছড়িতে ত্রাণ সহায়তা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং ফটিকছড়ির সাংসদ সরোয়ার আলমগীর।

শনিবার (১১ জুলাই) বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গতদের মাঝে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এরআগে শুক্রবার নিজ উদ্যোগে ত্রাণ নিয়ে ছুটে যান সাংসদ সরোয়ার আলমগীর।

টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ধুরুং খাল, হালদা নদী ও সর্তা খালের পানি বেড়ে ফটিকছড়ির, নাজিরহাট পৌরসভা, সুন্দরপুর,পাইন্দং, ফকিরচাঁন, হারুয়ালছড়ি, নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়, ফলে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে।

শুক্রবার সাংসদ সরোয়ার আলমগীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফটিকছড়ির সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় তিনি ফটিকছড়ির একটি মানুষও যেন অনাহারে না থাকে, সেই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সমাজের বিত্তবানদেরও নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

শনিবার (১১ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেন। এসময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যাকবলিতদের সহায়তায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

শুক্রবার গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের সেনাসদস্যরা বৈরী আবহাওয়া ও বুকসমান পানি পেরিয়ে পায়ে হেঁটে দুর্গম রোসাংগিরি এলাকাসহ বিভিন্ন বন্যাকবলিত অঞ্চলে পৌঁছে যান। সেখানে তারা ১৭০টি পানিবন্দি পরিবারের দোরগোড়ায় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আলু, শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানিসহ জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন। 

ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরাসরি মাঠে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। নাজমুল আলম/এসএন

হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমেছে, ভেসে গেছে মানুষের স্বপ্ন
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও কাটেনি মানুষের দুর্ভোগ। আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে অনেকেই ফিরছেন নিজ নিজ বাড়িতে। কিন্তু বাড়িতে ফি অনেকেই কান্নায়ে ভেঙে পড়ছেন। বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ি, নেই মাথা গোজার ঠাঁই। ভেসে গেছে ঘরে থাকা অনেক প্রয়োজনীয় মালামাল।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের হাতিরথান গ্রামের বিধবা রানু বেগমও তাদের একজন। অসুস্থ মা, এক ছেলে ও কিশোরী মেয়েকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার তার। ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরই ছিল পরিবারের একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু শুক্রবার রাতে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই ধসে পড়ে সেই ঘর। এখন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

রানু বেগম বলেন, ‘আমার স্বোমী মারা যাওয়ার পর মেয়েটাই কোম্পানীতে চাকরি করে সংসার চালায়। আমার ও একমাত্র ছেলে অসুস্থ। 

চোখের সামনে ঘরটা ভেঙে পড়ে গেল। কিছুই বের করতে পারিনি। কাপড়চোপড়, চাল-ডাল, বিছানাপত্র, সব নষ্ট হয়ে গেছে। মেয়ের সামান্য আয়ে সংসার চলে। এখন নতুন ঘর তুলব কীভাবে?

একই গ্রামের আমেনা খাতুনের অবস্থাও প্রায় একই। বন্যার পানিতে ধসে পড়েছে তার বসতঘরও। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার পরিবারের। ভাঙা ঘরের দিকে ভেজা চোখে তাকিয়ে থাকা এই নারী বলেন, ‘মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। ঘরের যা ছিল সব শেষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালাই। ঘর তুলার ক্ষমতা আমার নাই। সরকার ঘর না দিলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’

শুধু রানু বা আমেনা নন, হাতিরথান, কালিগঞ্জ, চরহামুয়াসহ বন্যা কবলিত প্রত্যেকটি গ্রামেই এখন এমন নির্মম হাজারো গল্প। যেদিকে চোখ যায় শুধু দুর্ভোগ আর বানের পানিতে হাবুডু খাওয়া মানুষের কান্না। কোথাও ঘর ধসে গেছে, কোথাও বসতঘর কাদায় ভরে গেছে। অনেক পরিবার এখনও বাড়িঘর পরিষ্কার করতেই ব্যস্ত।

বৃহস্পতিবার রাতে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।রাতের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

শনিবার (১১ জুলাই) পানি কমতে শুরু করলে তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, ঘরের আসবাবপত্র, বিছানাপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের গবাদিপশুর খাবারও নষ্ট হয়েছে।

শনিবার অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও নিচু এলাকাগুলোতে এখনও কোমরসমান পানি রয়েছে। অনেক কাঁচা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

চরহামুয়া এলাকার বদরুল আলম বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এমন অবস্থা দেখিনি। বাধা ভেঙে যাওয়ার আধা ঘন্টার ভেতরে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের কোনকিছুই অবশিষ্ট নেই, হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে, নাহলে ভেসে গেছে।’

হাতিরথানা এলাকার ফাহিম রহমান বলেন, ‘দুইদিন ধরে এই এলাকার অনেক মানুষ খেয়ে না খেয়ে আছে। কিন্তু কেউ এসে একবার দেখেওনি, ত্রাণ সহায়তা দেবেতো দূরের কথা।’

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুদ আছে। আমরা পর্যাক্রমে সেগুলো বিতরণ করছি।

কাজল সরকার/এসএন

কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
কামড়ের পর মৃত সাপ নিয়ে হাসপাতালে হাজির রোগী
সাপে কাটা রোগী ও ইনসেটে কামড় দেওয়া সাপ। ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ে একই দিনে পৃথক দুই ঘটনায় সাপের কামড়ে আহত হন নজরুল ইসলাম (৪৬) ও উমর ফারুক (২০) নামে দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা নিতে আসার সময় সঙ্গে নিয়ে আসেন তাকে কামড় দেওয়া সাপটিও।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে বিষধর বলে শনাক্ত করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক এন্টিভেনম দেন।

অপরদিকে, একই দিন পাটক্ষেতে কাজ করার সময় সাপের কামড়ে আহত আরেক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সাপে কাটা রোগী নজরুল ইসলাম আটোয়ারী উপজেলার চুচুলী বটতলী এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে ও উমর ফারুক বোদা উপজেলার ময়দানদিঘি ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ বাড়ির খড়ির ঘরে কাজ করার সময় নজরুল ইসলামকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে স্বজনরা সাপটি মেরে সেটি সঙ্গে নিয়েই বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সাপটি দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে কোবরা সাপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে বিষধর বলে নিশ্চিত হয়ে তাকে তাৎক্ষণিক এন্টিভেনম দেন। 

একই দিন দুপুরে বোদা উপজেলার একটি পাটক্ষেতে পাট কাটার সময় উমর ফারুক সাপের কামড়ে আহত হন। পরে তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

নজরুল ইসলামের বাবা ইউনুস আলী বলেন, বাসার খড়ির ঘরে কাজ করছিলাম। এ সময় একটি সাপ এসে আমার ছেলেকে পায়ে কামড় দেয়। পরে সাপটি মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে এসে ডাক্তাররা ইনজেকশন দিয়েছেন। এখন সে সুস্থ আছে।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল কবীর বলেন, শনিবার সাপে কাটা দুইজন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামকে বিষধর সাপ কামড় দিয়েছিল। তাই তাকে এন্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। অন্য রোগী উমর ফারুককে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রনি/নাঈম