টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে সাঙ্গু নদীর পানি বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত এলাকার পরিধি বাড়তে থাকে। উপজেলার বাজালিয়া, পুরানগড়, চরতী, আমিলাইষ, এওচিয়া, ঢেমশা, কেঁওচিয়া ও কাঞ্চনা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বাজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সজিব চৌধুরী বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। যাদের যাওয়ার সুযোগ নেই, তারা বাড়িতেই পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবারে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
ছদাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, হাঙর খালের পানি পাড় উপচে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে এ এলাকায় খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। এ ছাড়াও তারা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীও বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বেশ কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করলেও উপজেলার বিভিন্ন খাল ও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করা অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আমরা উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।
আরিফুল ইসলাম/এসএন