দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত এলাকার সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে তাদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবায় গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে আগামী ১২ জুলাই জরুরি সংবাদ সম্মেলন করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়৷
শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক কার্যবিবরণী থেকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।
এর আগে গত ১০ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে একটি জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। জরুরি ওই সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং সব সিভিল সার্জন সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আপনার লেখাটি বানান ও ভাষাগতভাবে সংশোধন করে দেওয়া হলো-
১) বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন মনোনয়ন দিতে হবে। মনোনীত ফোকাল পারসনরা কন্ট্রোল রুম এবং অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করবেন। যোগাযোগ ও সমন্বয়ের সুবিধার্থে ফোকাল পারসনদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের সরবরাহ করতে হবে।
২) বন্যা দুর্গত জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে আক্রান্ত সব উপজেলা ও জেলায় মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে।
৩) বন্যা দুর্গতদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গৃহীত সব কার্যক্রম সম্পর্কে ফোকাল পারসনরা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জানাতে একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪) বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস (স্যালাইন) এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৫) সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বন্যা আক্রান্ত সব উপজেলায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রাখতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬) আক্রান্ত সব উপজেলায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিকে হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।
৭) বন্যা আক্রান্ত এলাকার সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
জয়ন্ত সাহা/রিফাত/