ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
নবীনদের স্বপ্নযাত্রায় অনুষ্ঠিত হলো এডাস্টের বর্ণাঢ্য নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার ট্যাক্স ফাইল প্রস্তুতে সতর্ক হোন শিখা অনির্বাণ চালুর উদ্যোগ নিন বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৪ প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ একাত্তরে যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর অগণতান্ত্রিক শাসনে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে : পরীমনি মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’ আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী, নিরপরাধকে হয়রানি না করার নির্দেশ সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী পল্লী বিদ্যুৎ- এ নিয়োগ, এসএসসি পাসেই নেবে ১,৪৬০ জন পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না শেখ মুজিবের, তাই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: স্পিকার রাজশাহীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্মার্ট ব্যাংকিংয়ে কাজ করবে পূবালী ব্যাংক: ভূমিমন্ত্রী বন্যার কারণে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত টেকনাফে ১০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গেল হাতি, চিকিৎসা দিচ্ছে বনবিভাগ গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর তেঁতুলিয়া সীমান্তে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, ব্যর্থ বিএসএফ পতেঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, পাশে থাকার আশ্বাস মেয়রের বৃষ্টিভেজা আনন্দনগর ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল ১৫৯ যাত্রী টানা বৃষ্টিতে শালিখায় কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে এলাকাবাসী ভোলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ১০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০০ বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক করিডর: সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ কাস্টমার সার্ভিসে সোশ্যাল হওয়ার ৫টি কারণ

বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
বন্যায় বিপর্যস্ত বাঁশখালী, ত্রাণের অপেক্ষায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ
বাঁশখালীতে বন্যায় বিধ্বস্ত কয়েকটি বসতবাড়ি। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের ত্রাণ কার্যক্রম চললেও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক বানভাসি এখনও সহায়তা থেকে বঞ্চিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে না।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা ৯ দিনের ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া এই ভয়াবহ বন্যায় মহা সংকটে পড়েছেন বানবাসীরা। পর্যাপ্ত ত্রাণ বিশুদ্ধ পানি ওষধের সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশই এখন পানির নিচে। বেসরকারি হিসেব মতে প্রায় ১০ হাজারের অধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু পাকা ভবন এবং সেমিপাকা বাসা বাড়িও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আরেক সড়ক ও রাস্তাঘাটে কোমর পানি। হাজার হাজার বসতবাড়ি পানির নিচে। বিশেষ করে বাঁশখালী-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের পশ্চিম অংশ তথা উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি।

এদিকে বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলেও ভানবাসী মানুষের পাশে নেই জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৩টি ইউনিয়ন ছাড়া সবগুলোই জনপ্রতিনিধি শুন্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কার্যক্রম। এসব ইউনিয়নে নামকাওয়াস্তে কিছু সরকারি ত্রাণ বিতরণ হলেও ব্যক্তি উদ্যোগে নেই কোন সহায়তা। 

বিভিন্ন দলের পদধারী বড় নেতাদের দেখা নেই। ত্রাণ কার্যক্রমেও নেই তারা। অথচ করোনা দূর্যোগের সময় বাঁশখালীতে মুজিবুর রহমান সিআইপি কয়েক কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করেন। গন্ডামারার সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী, এসআলম নাছিরসহ অনেক ধনার্ঢ্য ব্যবসায়ী শিল্পপতি কোটি কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করছিলেন। কিন্তু বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির এক সাপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও কোন দানশীল ব্যক্তিবর্গের সাড়া শব্দ নেই।

এমপি জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিকটন খাদ্য শস্যের বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সরকারিভাবে তা বরাদ্দ হয়নি। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগেই ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বন্যার্থদের হাহাকার। নেই পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করলেও তা অপ্রতুল। অপরদিকে প্রধান সড়কের আশপাশের লোকজনই শুধু ত্রাণ পাচ্ছে। দুরদুরান্তের ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, বড়ঘোনা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ ও কাথরিয়া ইউনিয়নের বহু এলাকায় এখনো কোন ত্রাণ সহায়তা পৌছায়নি। 
কাথরিয়া এলাকায় মনির আহমদ জানান, আমি এবং আমার ভাইয়ের ঘর ভেঙে গেছে। আমরা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন কিভাবে এই ঘর মেরামত করব তা নিয়েই আছি দুঃশ্চিন্তায়।

পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস জানান, শুনেছি এমপি সাহেব আসবেন। কিন্তু দেখা মিলেনি। এত এত নেতা, জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন এলে গিজ গিজ করেন। কিন্তু আমাদের দূর্দিনে কাউকে খোঁজ খবর নিতেও চোখে পড়েনি। 

এদিকে বাঁশখালীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্লুইসগেট বন্ধ করে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মাছ চাষের জন্য জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। বৃষ্টির পানি নদীতে নামতে না পেরে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, বাঁশখালীতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি জানান, বাঁশখালীর দূর্গত মানুষের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবুও আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছি।

এদিকে বাঁশখালীতে বন্যায় এ পযর্ন্ত ৪ শিশু নিহত হয়েছে। এরমধ্যে শুক্রবার একদিনেই বাহারছড়াতে নিহত হয়েছে দুই শিশু। এরা সকলে বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায়। শনিবার থেকে সেনাবাহিনীর মোতায়েন করা হলেও এখনো তারা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেনি। তবে বাঁশখালীর বিভিন্ন স্পটে শনিবার দুপুর থেকেই সেনাবাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

শফকত হোসাইন চাটগামী/এসএন

মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’
চিরকুট। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ডেগে টাকা গণনার সময় ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হয় মাজারের টাকা। তখন এই চিঠি পাওয়া যায়।

চিঠির প্রেরক মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ লিখেন, ‘প্রিয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানি না আমর এই চিরকুটটি-আপনার কাছে পৌঁছাবে কি। আমরা সবাই চাই আমাদের বাংলাদেশ সুন্দর ভাবে এগিয়ে যাক। কিন্তু আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ আমাদের দেশে যতগুলো ধর্ষন ও খুন হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই। বিশেষ করে ধর্ষন। আমাদের স্বাধীনতার প্রায় ৫৪ বছর। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো দৃশ্যমান বিচার দেখতে পারছি? আমার মনে হয় না। আমার মনে হয় সাধারণ জনগন বিচারের প্রতি কোনো আস্থা নাই। আমাদের ছোট্ট শিশু রামিসার বিচার কবে কার্যকর হবে।  ৩ মাস, ১ বছর ৫ বছর না ১০ বছর বলা খুব কঠিন।’

‘বিশেষ করে মাদকের সাথে জড়িত যারা, আমার মনে হয় মাদক ব্যবসা যারা করে তাদের হাত অনেক বড়। না হয় থানা ম্যানেজ করে চলে। গ্রামের প্রায় ৯০% মানুষ মাদক আসক্ত শিশু তরুণ কিশোর।

জুবায়ের তার চিঠিতে ‘রামিসা, আছিয়া, হাদী হত্যাকারীদের পাথর দিয়ে মারার বিচার দাবী করেছেন।

শাকিলা ববি/এসএন

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা
বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্টরা একপ্রকার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল চত্বরে ও নীচ তলায় বুকসমান পানি জমে থাকলেও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে মূল ভবন পর্যন্ত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। হাসপাতালে যাতায়াতের একমাত্র সড়কে কোমরসমান হলেও মূল ভবন ও জরুরি বিভাগে বুকসমান পানি। রোগী ও তাদের স্বজনদের পানির মধ্য দিয়েই হাসপাতালে প্রবেশ করতে হচ্ছে। আবার শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাগাছের ভেলার ব্যবস্থা করেছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মূল ভবন থেকে প্রধান ফটকে যাওয়ার সময় সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। পরে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, বন্যার কারণে হাসপাতালে পানি প্রবেশ করেছে। তবুও কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বন্যার মধ্যেও জরুরি বিভাগ, প্রসূতি সেবা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়াও বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। যে-কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দুপুরে আমি পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে মূল ভবন থেকে প্রধান ফটকে যাওয়ার সময় পানির মধ্যেই আমার পায়ে সাপে কাটে। পরে রক্ত পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছি। তবে অন্যান্য চিকিৎসক ও আমার ধারণা, সাপটি বিষাক্ত ছিল না। বর্তমানে আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই আছি।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা
দ্বিতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা। ছবি: খবরের কাগজ

দ্বিতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় দফার গত ১৯ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা জমা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দিনভর গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গণনা শেষে সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক  আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও মাজার সংশ্লিষ্টরা।

গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির অফিশিয়াল হিসাবপত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ দিনে নগদ অর্থ পাওয়া গেছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। দানবাক্সে প্রাপ্ত বিদেশি মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে  সৌদি রিয়েল ১৩৫টি, ২০টি ইউএস ডলার, ২৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২টি কাতারি দেরহাম, ৬টি মালয়েশিয়ান রিংগিত, ২০টি হংকং ডলার, ২০টি ইউরোপিয় ইউনিয়নের ইউরো, ১ দিনার ৪৫০ পয়সা ওমানি দিনার। ৫৪ (৫৪.২) আমিরাতের দেহরাম, ইন্দোনেশিায়র রুপি ৪ হাজার, পাকিস্তানি ৬০ রুপি,  ১০টি সিঙ্গাপুরি ডলার।  নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে মূল্যবান অলংকার ও ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে: সোনা ৯ গ্রাম; স্বর্ণ-সদৃশ বস্তু ১০ গ্রাম এবং রূপা পাওয়া যায় ৩৯.৪ গ্রাম।

সর্বশেষ গণনার দিন থেকে আজ পর্যন্ত দানের গরু এসেছে ১টি। গরুটি লঙ্গরখানায় শিরনি রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। ছাগল পাওয়া গেছে ৬৫টি। তার মধ্যে ৪০টি লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে যার মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

প্রথমবার গণনার ১৯ দিনের ব্যবধানে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে এই মাজারের টাকা। এই গণনা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার প্রকাশ্যে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম শুরু করতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারে আসেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, একই কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছসহ মাজার সংশ্লিষ্টরা।

এবার বাক্স থেকে ৪ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। প্রথমবার গণনায় ১ হাজার ও পাঁচশ টাকার নোট বেশি পাওয়া গেলেও এবার সংখ্যার দিক থেকে লাল রংয়ের নোটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে দেখা যায়।

এর আগে গত ১২ জুন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার পরিদর্শনে যান। মাত্র চারদিকে ওই সময় দানবাক্সে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। টাকাগুলো জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে খোলা সিলেটের সোনালী ব্যাংকে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত ২১ জুন সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তিনি মাজারের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনার ব্যবস্থা করেন। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।

পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের টাকা দ্বিতীয় দফায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

শাকিলা ববি/এসএন

টেকনাফে ১০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গেল হাতি, চিকিৎসা দিচ্ছে বনবিভাগ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
টেকনাফে ১০০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে গেল হাতি, চিকিৎসা দিচ্ছে বনবিভাগ
আহত বন্য হাতি। ছবি: খবরের কাগজ

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে টেকনাফে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পা পিছলে সমতলে পড়ে গিয়ে একটি বন্য নারী হাতি গুরুতর আহত হয়েছে। হাতিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রেখেছে বনবিভাগ।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের নাইট্যংপাড়া শিয়াল্লাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়দের মতে, আহত হাতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট। হাতিটিকে দেখতে ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ ভিড় করেছেন।

স্থানীয় বনবিভাগের সদর বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. উল্লাহ বলেন, পাহাড়ে কাজ করার সময় আমরা নারী হাতিটিকে সব সময় নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় দেখতে পেতাম। হাতিটি খুব শান্ত স্বভাবের ও শক্তিশালী ছিল।

তিনি জানান, শনিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ খবর পাই, বনবিভাগের উত্তরের পাহাড়ের কয়েকশ ফুট ওপর থেকে পাহাড়ের মাটি ধসে হাতিটি নিচে পড়ে গেছে। এতে হাতিটির পেছনের দুই পা অচল হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীরভাবে কেটে যায়।

টেকনাফ বনবিভাগের কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, হাতিটিকে প্রায়ই টেকনাফ বনবিভাগের পেছনের পাহাড় ও দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। শনিবার দুপুরে ভারী বৃষ্টির কারণে পা পিছলে হাতিটি পড়ে যায়। এতে হাতিটি তার পেছনের দুই পা নড়াচড়া করতে পারছে না। এ ছাড়া হাতিটির পেটে লম্বাভাবে কেটে যাওয়ার দুটি চিহ্ন দেখা গেছে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে হাতিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিয়োজিত বনকর্মীরা হাতিটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি জানান, বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী একটি নারী বন্য হাতি প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দুলাহাজারা সাফারি পার্ক থেকে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ঘটনাস্থলটি সংকীর্ণ হওয়ায় হাতিটিকে সরানো সম্ভব নয়। তাই সেখানে অস্থায়ীভাবে পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শাহীন/নাঈম

গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
গোপালগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ ডা. কে এম বাবর
ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে গিয়ে গোপালগঞ্জের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ একটি অপরিকল্পিত শহর; এখানে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও মানসম্মত সড়ক না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

সংসদ সদস্য কে এম বাবার বলেন, আগামীতে আমাদের যে বাজেট আসবে সেই বাজেট দিয়ে কাজ করা হবে। আমরা চাই একটি পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে। 

জলাবদ্ধতা কমাতে খালে জমে থাকা আবর্জনার দ্রুত পরিষ্কার করা হবে। বিগত সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ আসলেও তার সঠিক ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত এসব বাঁধ অপসারণ এবং খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে পৌরসভার সচিবকে নির্দেশ দেন এবং এক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেন।

এর আগে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে যান সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন বাসিন্দারা। কোথাও ড্রেন থাকলেও রাস্তা নেই, আবার কোথাও রাস্তা থাকলেও ড্রেন নেই। এছাড়া অনেক সড়ক এখনো মাটির কাঁচা অথবা ইটের তৈরি হওয়ায় সামান্য কৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এসময় তারা সাথে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

বাদল সাহা/এসএন