ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে, এমনকি ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার ক্ষেত্রেও বর্তমানে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, রিটার্ন প্রস্তুত এবং জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ আইনি দায়িত্ব কিন্তু ঋণ গ্রহীতার নিজের অথবা তার দ্বারা মনোনীত ও অনুমোদিত ট্যাক্স আইনজীবীর। অনেক সময় দেখা যায়, লক্ষ্যমাত্রা বা টার্গেট পূরণের জন্য মূল ব্যাংক বা এজেন্ট ব্যাংকে কর্মরত ব্যক্তিরাও ঋণগ্রহীতার সম্মতিতে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন সাবমিট করে দেন। এটি নিয়মসিদ্ধ বা দোষের কি না–তা এখানে আলোচ্য বিষয় নয়। সঠিক নিয়মে ঋণের হিসাব ফাইলে না দেখালে তা পরবর্তীতে ‘অপ্রদর্শিত আয়’ বা ‘কালো টাকায়’ রূপ নিতে পারে কি না, সেটাই ভাববার বিষয়। এমনকি ট্যাক্স ফাইলের ভুল ব্যাখ্যার কারণে বড় অঙ্কের জরিমানা পর্যন্ত আরোপ হবার আশঙ্কা থাকে। তাই ঋণ গ্রহীতার ফাইল প্রস্তুতকালে দক্ষতার সঙ্গে আইনি কলাকৌশল অবলম্বন ও ক্যালকুলেশন করা খুব বেশি প্রয়োজন। বিশেষত ফাইল প্রস্তুতের সময় খেয়াল রাখতে হয় ঋণের ক্যাটাগরি, ঋণের ব্যবহার, ঋণের প্রভাব, ঋণের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয়াদি। এ ছাড়া আয়-ব্যয়, সম্পদ-দায়, বিনিয়োগ-প্রাপ্তি, ক্ষতি-খরচ, উৎসে কর, প্রদেয় কর এবং কর রেয়াতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো সুনিপুণভাবে পরিগণনার কাজেও এক্সপার্ট হতে হয়। অনলাইন মানেই সবকিছু সোজা–বিষয়টা মোটেও এমন নয়। একটি ভুল বা অসতর্ক রিটার্ন সাবমিশন আপনাকে ভবিষ্যতের বড় আইনি ও আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই ঋণ নেওয়ার আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি আপনার ট্যাক্স ফাইলে সব হিসাব ঠিকঠাকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তো? সময় থাকতেই সচেতন হোন।
পলাশ কুণ্ডু
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকাভুক্ত আয়কর আইনজীবী ও
সদস্য, নীলফামারী ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন
[email protected]