ময়মনসিংহে শেকড়ের সংস্কৃতি ও বাউল দর্শনের শুদ্ধ রূপ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যানের বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী বাউল গানের আসর ‘ভাব তরঙ্গ’।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে শুরু হয় এই আয়োজন। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।
নগরীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই আসরে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মনোযোগ দিয়ে বাউল গান উপভোগ করেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, বাউল গান কেবল সংগীত নয়, এটি বাংলার লোকজ দর্শন। জীবনবোধ ও মানবিক চেতনার এক অনন্য প্রকাশ। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতেই ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হবে ‘ভাব তরঙ্গ’। প্রতিটি পর্বে স্থান পাবে একজন করে বাউল সাধকের জীবনদর্শন ও গানের বাণী।
উদ্বোধনী পর্বটি উৎসর্গ করা হয় সাধকশিরোমণি লালন ফকিরকে।
অনুষ্ঠানে লালনের গান পরিবেশন করেন বাউল স্বদেশ তালুকদার, নুর ইসলাম মিয়া, মো. দুলাল সরকার, দুলাল নাগ ও গোপাল চন্দ্র কর। তাদের কণ্ঠে একের পর এক পরিবেশিত হয় মানবতা, প্রেম, সহমর্মিতা ও আত্মঅন্বেষণের বাণীবাহী লালনের গান।
হারমোনিয়ামে স্বদেশ তালুকদার, ঢোলে শিপন বর্মন, দোতারায় বিপ্লব সরকার এবং মন্দিরায় গোপিনাথের সংগত পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বাউল গান শোনতে আসা ছামাদ মন্ডল বলেন, আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে এ ধরনের আয়োজন লোকসংস্কৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াবে। শেকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ আরও দৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ’বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী ধারক বাউল সাধকেরা তাদের গানের মধ্য দিয়ে মানবতা, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিকতার চাপে সেই শুদ্ধ ধারাটি ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, আজ সংস্কৃতির নামে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গীত বাণিজ্যিক বিনোদনের উপকরণে পরিণত হচ্ছে। ফলে শেকড়ের সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাউল সাধকদের গানের বাণী ও দর্শনের শুদ্ধ রূপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘ভাব তরঙ্গ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/খাদিজা রুমি/