কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য এবার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে নতুন ইতিহাস গড়া। একই সঙ্গে এটি হতে পারে অধিনায়ক লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ, যা রূপকথার সমাপ্তি এনে দিতে পারে আলবিসেলেস্তেদের।
তবে শিরোপার স্বপ্নের পথে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের রক্ষণভাগ। নকআউট পর্বের টানা দুই ম্যাচে চার গোল হজম করায় কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সতর্ক হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা শিবির। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রক্ষণে আরও দৃঢ় হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন দলের দুই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস।
রোমেরো বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছি, তবে কিছু জায়গায় উন্নতির সুযোগ অবশ্যই রয়েছে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে চার গোল হজম করেছি, যা আমাদের ভাবাচ্ছে। রক্ষণে আরও মনোযোগী হতে হবে। তবে দলের প্রয়োজনে আমরা সবসময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত এবং কোচের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার রক্ষণ ছিল বেশ দৃঢ়। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে কোনো গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। জর্ডানের বিপক্ষে হজম করে মাত্র একটি গোল। কিন্তু নকআউট পর্বে এসে সেই দৃঢ়তা আর ধরে রাখতে পারেনি দল। শেষ ৩২ ও শেষ ১৬-দুই ম্যাচেই ৩-২ ব্যবধানে জয় পেলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দলের রক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিসান্দ্রো মার্তিনেস বলেন, ‘আমরা গোল খেতে পছন্দ করি না। আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, মনোযোগ বাড়াতে পারলে অনেক গোলই এড়ানো সম্ভব। এটা খেলারই অংশ, তবে এখন এসব ভুল ধরা পড়া ভালো। এতে আমরা আরও সচেতন থাকতে পারব এবং প্রতিপক্ষকে সহজ সুযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারব।’
নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। এরপর শেষ ১৬-তে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও এনজো ফার্নান্দেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।
পাপ্পু/অন্তরা/