ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু আলোচনায় গুরুত্ব পাবে ঋণ চুক্তি আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ যমুনার ভাঙনে ধুনটে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত তলানিতে মেসিদের সুইস দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ কাজে লাগছে না কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী পুলিশকে বারবার টার্গেট, অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা! সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ন্যাটো নেতাদের রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান চলছে সাইবার মব! গোল্ডেন বুটের লড়াই: মেসি, এমবাপ্পে নাকি হালান্ড? ১১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দেশে ফিরে আত্মসমর্পন করবেন শেখ হাসিনা দুই শিকারির লড়াই বিশ্বকাপ এখন এমবাপ্পের খেলাঘর ১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি তবু সবার সেরা ইয়াসিন বুনু মেসির বিকল্প হওয়া অসম্ভব: নিকো পাজ ‘সতীর্থদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি রোনালদো’ সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, খেলা কবে?

গোল্ডেন বুটের লড়াই: মেসি, এমবাপ্পে নাকি হালান্ড?

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
গোল্ডেন বুটের লড়াই: মেসি, এমবাপ্পে নাকি হালান্ড?
২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে, আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের খেলার সম্মিলিত ছবি | ছবি: এপি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই জমে উঠেছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াই। ফুটবলের কিংবদন্তিদের এক সময়ের দখলে থাকা এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি নিজের করে নিতে বর্তমানে তিন তারকা ফুটবলার সমানে সমানে লড়াই করছেন। গোল্ডেন বুটের এই দৌড়ে এখন একে অপরের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, লিওনেল মেসি এবং আর্লিং হালান্ড।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কে এগিয়ে?

বর্তমানে ৮টি গোল এবং ১টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে তার ঠিক পেছনেই আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট)। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ৭টি গোল নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ৬টি গোল করে এই তারকাদের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত যে খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি গোল করবেন, ফাইনাল ম্যাচ শেষে তার হাতেই তুলে দেওয়া হবে গোল্ডেন বুট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতাকে যথাক্রমে দেওয়া হবে সিলভার বুট এবং ব্রোঞ্জ বুট।

যদি গোল সংখ্যা সমান হয়?

যদি দুই বা তার বেশি খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা সমান হয়, তবে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। যার অ্যাসিস্ট বেশি থাকবে, তিনিই পুরস্কারটি পাবেন। যদি অ্যাসিস্টের সংখ্যাও সমান হয়, তবে গোল এবং অ্যাসিস্ট করতে যে খেলোয়াড় সবচেয়ে কম সময় (মিনিট) মাঠে খেলেছেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

আজহার/

‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ধাপ অতিক্রম করার লক্ষ্যে মেসিদের রণপ্রস্তুতি। ছবি: সংগৃহীত

যে মেসির খেলা দেখার জন্য গোটা বিশ্ব চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকত। যে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার জন্য মানুষ নিজেদের ব্যস্ততা বাইরে রেখে খেলা দেখার সময় বের করত। জয়ে করত উচ্ছ্বাস প্রকাশ, হারে হতো ব্যথিত। হঠাৎ করে সেই মেসি, সেই আর্জেন্টিনার ‘হেটার্স’ বেড়ে গেছে। আর্জেন্টিনা একটি করে ম্যাচ খেলছে আর ‘হেটার্স’ বাড়ছে।

এবারের বিশ্বকাপে বিষয়টি চরম আকার ধারণ করেছে। আর্জেন্টিনার ছন্দ, মেসির নান্দিকতার কোনো মূল্য নেই তাদের কাছে। আর্জেন্টিনার বিদায় এখন তাদের কাছে পরম চাওয়া হয়ে উঠেছে। আর্জেন্টিনা বিদায় নিলে তাদের আনন্দের সীমা থাকবে না। আর জিতে সেমিতে উঠে গেলে দেখা যাবে সেখানেও কোনো না কোনো ভুল ধরা হচ্ছে।

অন্য দল পেনাল্টি পেলে বা তাদের বিপক্ষে গোল বাতিল হলে কোনো রিয়েকশন দেখা না গেলেও আর্জেন্টিনার পক্ষে এ রকম সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মনোভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর সমালোচনার তীর খুব বেশি করে বিদ্ধ হচ্ছে। ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ১৩ মিনিটের ঝলকে আর্জেন্টিনার ‘অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন’-এর গল্প প্রশংসার পরিবর্তে সমালোচিত হচ্ছে বেশি। অবস্থা এমন আকার ধারণ করেছে যে ‘ভিএআর’ নিয়ে ফিফাকে পর্যন্ত বিবৃতি দিতে হয়েছে। অনেকেই এমনও বলাবলি করছেন আর্জেন্টিনা আর মেসির হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার অপেক্ষায় আছে ফিফা! আগামীকাল সকাল ৭টায় সেমিতে উঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে তাই শুধু সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেই লড়তে হবে না, প্রতিকুল পরিস্থিতির বিপক্ষেও লড়তে হবে। মেসি আর আর্জেন্টিনাকে এখন তাই আগুনের পরশমণি হতে হবে।

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর সমালোচনার ডাল-পালা এমন বিস্তার করেছিল যে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিশ্বকাপের খেলা যে এখনো বাকি আছে, সেটিই আড়ালে পড়ে গিয়েছিল। বোস্টনে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের ‘জলতরঙ্গ’ নৈপুণ্য দেখিয়ে ২-০ গোলে জয়ে মানুষ আবার ফুটবলমুখি হয়েছে। সুইসদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কোয়ার্টারে ফাইনালের তিনটি খেলা শেষ হয়ে যাবে। নিশ্চিত হয়ে যাবে সেমির তিন দল। আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পাওয়া যাবে চতুর্থ ও শেষ দল। এই ম্যাচগুলো মানুষকে আবার ফুটবলে প্রেমে নিমজ্জিত করবে। মেতে উঠবেন তারা ফুটবলের অপার সৌন্দর্য্যে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় যত গড়াচ্ছে আর্জেন্টিনাকে ততই শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা সহজেই ৩-০ গোলে আলজেরিয়াকে, ২-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে, ৩-১ গোলে জর্ডানকে পরাস্ত করলেও শেষ বত্রিশে এসে কেপ ভার্দের সামনে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছিল। কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ ভাঙা কঠিন হয়ে উঠেছিল। তারপরও মেসির নেতৃত্বে তারা একবার করে রক্ষণ ভাঙে, কেপ ভার্দে সমতা আনে। এমনি করে দুইবার সমতা আনার পর অবশেষে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে তো হারের মুখেই পড়েছিল ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে। পরে হঠাৎ করে বদলে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। রচিত হয় ১৩ মিনিটের খণ্ডচিত্র। যেখানে তিন গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ বের করে নেয়। শতভাগ জয় নিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টারে দাঁড়িয়ে আছে। স্বপ্ন দেখছে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল খেলার। সে জন্য অবশ্য তাদের কোয়ার্টারের পর সেমির ধাপও অতিক্রম করতে হবে।

স্বপ্ন পূরণের সেই বাঁধা ডিঙ্গিয়ে সেমির দরজায় পৌঁছাতে আর্জেন্টিনার সামনে ফিফার সদর দপ্তরের দেশ সুইজারল্যান্ড পাহাড় সমান বাঁধা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুইসদের সামনে নতুন ইতিহাসের হাতছানি। আগে বারোবার খেলে ‘আলপাইনরা কখনো কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারেনি। সর্বশেষ তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল নিজেদের দেশের আয়োজনে ১৯৫৪ সালে। সময়ের হিসাবে তারা শেষ আটে উঠে এসেছে ৭২ বছর পর। গ্রুপ পর্বে কাতারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে আসর শুরু করার পর তাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়েনি। বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ ও কানাডাকে ২-১ গোলে পরাজিত করে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ বত্রিশে উঠে আসার পর আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে পরাজিত করে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোতে।

এখানে কলম্বিয়াও তাদের সামনে বাঁধা হতে পারনি। টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতে তারা নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে আলবিসেলেস্তেদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। শেষ আটে আর্জেন্টিনাকে পেয়েই আলপাইনদের কোচ মুরাত ইয়াকিন দিয়েছেন হুংকার। জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা অপরাজেয় নয়। হারানো সম্ভব। তাদের হারানোর জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। 

মুকিত ইয়াকিন হুংকার দিলেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের জয়ের কোনো রেকর্ড নেই। সাতবারের দেখায় পাঁচবারই জয় আর্জেন্টিনার। দুইবার হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুইবারের দেখাতে দুইবারই জয়ী আর্জেন্টিনা। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে জয়ের পর ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর টানটান উত্তেজনার লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১১৮ মিনেটে ডি মারিয়ার গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
সময় যত গাড়াচ্ছে আর্জেন্টিনা ততই সংঘবদ্ধ হচ্ছে।

গ্রুপ পর্বে তারা ছিল শুধুই মেসি নির্ভর। প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ গোলের সব কটিই ছিল মেসির। ক্রমান্বয়ে তারা সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছে। প্রয়োজনের সময় যে কেউ জ্বলে উঠে গোল করছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে মেসি ছাড়াও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ গোল পেয়েছিলেন। মিসরের বিপক্ষেও একইভাবে মেসি ছাড়া গোলের দেখা পান রোমেরো ও এনজো মার্তিনেজ। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ নির্ভারতা ছড়ালেও রক্ষণ কিন্তু দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে।

এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে দুইটি করে চারটি গোল হজম করতে হয়েছে। কোচ লিওনেল স্কোলানিকে এই ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে হবে। রক্ষণে লিসান্দ্র মার্তিনেজ-রোমেরো-মেদিনা-মন্তিয়েল বা অন্য যারা খেলতে পারেন, তাদের বিশেষ বার্তা দিয়ে রাখতে হবে। সুইস অধিনায়ক গ্রানাইট জাকা, ব্রেল এম্বোলো, রুবেন ভার্গাসদের ঠেকাতে হবে। এরা সবাই এক থেকে একাধিক গোল পেয়েছেন।

অবশ্য ইনজুরির কারণে আক্রমণ ভাগের প্রাণ তিনটি গোল ও দুইটি এসিস্ট করা জোহান মানজাম্বিকের না খেলাটা আর্জেন্টিনার রক্ষণের জন্য স্বস্তি। তবে তাদের বড় স্বস্তি কোনো ইনজুরি বা কার্ড সমস্যা নেই। দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় যাকে আগামীতে মেসির বিকল্প ভাবা হচ্ছে সেই নিকো পাজ সুইজারল্যান্ডকে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড খুবই ভালো দল। পরের ধাপে যেতে হলে আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। মিসরের বিপক্ষে যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলো শুধরে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপ জয়।’

সুইসদের প্রধান ভরসা তাদের রক্ষণ। গোলে পোস্টে ব্রুসিয়া ডর্টমুন্ডের গ্রেগর কোবেল আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। গ্রুপ পর্বে তিন গোল হজম করলেও নকআউট পর্বে এসে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে উঠেছেন। কোনো গোল হজম করেননি। প্রি-কোয়ার্টারে তিনি আবার কলম্বিয়ার কুচো হার্নান্দেজের চতুর্থ শট ঠেকিয়ে দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। তার সামনে থাকা ডেনিস জাকারিয়া, ম্যানুয়েল আকাঞ্জি, নিকো এলভেদি, রিকোর্ডো রদ্রিগেজ আছেন প্রথম আক্রমণ ঠেকাতে। তবে ইতিহাস সৃষ্টির দ্বারপ্রান্তে থাকা এমন ম্যাচে কোচ মুকিত ইয়াকিন ইনজুরির কারণে আক্রমণভাগের মানজাম্বিককে ছাড়াও পাবেন না মাঝমাঠের মিচেল এবিশার ও রক্ষণের লুকা জ্যাকুয়েজকেও। দলে কার্ডজনিত কোনো সমস্যা নেই।

গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ড ১-১ গোলে কাতারের সঙ্গে ড্র করার পর বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ ও কানাডাকে ২-১ গোলে পরাজিত করে। নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে পরাস্ত করার পর প্রি-কোয়ার্টারে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে ১৯৫৪ সালের পর আবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসে।

‘সতীর্থদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি রোনালদো’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ এএম
‘সতীর্থদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি রোনালদো’
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। তবে দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। এবার সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ফ্রান্সের সাবেক ফুটবলার ইউরি জোরকায়েফ। তার দাবি, পর্তুগাল দলে নিজের সতীর্থদের কাছ থেকেই যথেষ্ট সহযোগিতা পাননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সদস্য জোরকায়েফ মনে করেন, পর্তুগাল কখনোই রোনালদোকে সামনে রেখে দল সাজানোর চেষ্টা করেনি। বরং খেলার ধরনই বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ডকে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোরকায়েফ বলেন, ‘আপনি যদি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দলে রাখেন, তাহলে পুরো দলকে তার জন্য খেলতে হবে। কিন্তু সেটা মোটেও হয়নি। মনে হয়েছে, সতীর্থদের কাছ থেকেই বয়কটের শিকার হয়েছেন তিনি। তারা তাকে সেরাটা দেওয়ার পরিস্থিতিই তৈরি করে দেয়নি।’

সাবেক এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘রোনালদোর খেলার ধরন বহু বছর ধরেই সবার জানা। তাই তাকে দলে রাখলে সেভাবে পরিকল্পনা করেই খেলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই তাকে চিনি। সে সব সময় একই ধরনের ফুটবল খেলেছে। তাহলে তারা কী আশা করেছিল, সে হঠাৎ করেই নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলবে? যদি তাকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে দলকে তাকে কেন্দ্র করেই সাজাতে হবে। আর সেটা না চাইলে তাকে দলে ডাকা বা মাঠে নামানো উচিত নয়।’

বিশ্বকাপে পর্তুগালের হতাশাজনক বিদায়ের পর রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। সূত্র: টিওয়াইসি স্পোর্টস

এসজি/

সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, খেলা কবে?

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম
সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, খেলা কবে?
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো সেমিতে উঠেছে লা রোজারা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের পক্ষে গোল দুটি করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি আসে চার্লস ডি কেটেলারের হেডে। 

ম্যাচের ৮৮ মিনিটে গোল করেন মিকেল মেরিনো। তিনিই শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৯১ মিনিটে গোল করে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলেন। এবার শেষ মুহূর্তে গোল করে স্পেনকে সেমিতে তুললেন এই মিডফিল্ডার। 

এর আগে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স। 

আগামী ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও স্পেন মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

এসজি/

শেষ মুহূর্তে মেরিনো ম্যাজিক, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ এএম
শেষ মুহূর্তে মেরিনো ম্যাজিক, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন
ছবি: সংগৃহীত

আবারও শেষ মুহূর্তের গোল, আবারও স্পেনের ত্রাতা মিকেল মেরিনো। নাটকীয় এক লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। অন্যদিকে কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়েছে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ অভিযান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। তবে ৪১ মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারের দারুণ হেডে সমতায় ফিরে বেলজিয়াম। তাতে সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় বেলজিয়াম। বক্সের ভেতরে বল পেয়েও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি ম্যাক্সিম ডি কুইপার। তার শট চলে যায় জালের বাইরের অংশে।

এরপর দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। লামিনে ইয়ামাল দুর্দান্ত দক্ষতায় বদলি হিসেবে নামা সেইসকে পরাস্ত করে শট নেন, তবে থিবো কোর্তোয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন।

পাল্টা আক্রমণে বেলজিয়ামও সুযোগ তৈরি করে। জেরেমি ডোকু ডান দিক থেকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করেন রোমেলু লুকাকুর উদ্দেশে। তবে সেই আক্রমণ প্রতিহত করে স্পেনের রক্ষণভাগ। এ সময় বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের আবেদন করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি।

৬৩ মিনিটে আবারও ইয়ামালের প্রচেষ্টা দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন কোর্তোয়া। একের পর এক সেভে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ধরে রাখা এই গোলরক্ষক পরে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত পারেননি তিনি। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সেন লামেন্স। অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোলের সুযোগ আসে স্পেনের সামনে। রদ্রির বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে পেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ইয়ামাল।

তবে শেষ পর্যন্ত স্পেনের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন মেরিনো। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৯১ মিনিটে গোল করে স্পেনকে জয় এনে দিয়েছিলেন এই মিডফিল্ডার।

এবারও গোলের পেছনে ছিল বেলজিয়ামের ভুল। বক্সের বাইরে থেকে পাউ কুবারসির নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি বদলি গোলরক্ষক সেন লামেন্স। তার হাত ফসকে বল চলে যায় মেরিনোর সামনে। সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

তবে যোগ করা সময়ে (৯০+৩ মিনিট) নাটকীয়ভাবে আবারও সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। তারা আক্রমণে উঠলে অপ্রত্যাশিত ভুল করে বসেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। আক্রমণ ঠেকাতে তিনি গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা বাইরে চলে আসেন।

সেই সুযোগে বল পেয়ে যান আলেক্সিস সায়েলেমেকার্স। কোণটি কঠিন হলেও তখন সামনে ছিল ফাঁকা গোলপোস্ট। সরাসরি শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি শট না নিয়ে রোমেলু লুকাকুর উদ্দেশে ক্রস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার সেই ক্রস আটকে দেন আইমেরিক লাপোর্তে। ক্লিয়ার করা বল আবারও ফিরে যায় সিমনের হাতে। এমন সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশ হতে হয় বেলজিয়ামকে। 

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন শিবির। দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। আর কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়ে যায় বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

এসজি/

রুইজ-কেটেলারের গোলে প্রথমার্ধ শেষে সমতায় স্পেন-বেলজিয়াম

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ এএম
রুইজ-কেটেলারের গোলে প্রথমার্ধ শেষে সমতায় স্পেন-বেলজিয়াম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। শুরুতে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে গেলেও সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি স্পেন। পরে চার্লস ডি কেটেলারের দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

শুক্রবার (১০ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হয় ম্যাচটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। তবে প্রথম দিকে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয় লা রোজারাদের।

অবশেষে ম্যাচের ৩০ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাম প্রান্তে দুর্দান্ত দক্ষতায় জেরেমি ডোকুকে পরাস্ত করে নিচু ক্রসে বল বাড়ান পেদ্রো পোরো। তার বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে শট নেন দানি ওলমো। তবে সেই প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

কিন্তু ফিরতি বল চলে আসে ফাবিয়ান রুইজের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি। শটটি তিমোথি কাস্তানিয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলেও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের জালে জড়ায়। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।

এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় তারা। লামিনে ইয়ামালের নেওয়া দুর্দান্ত শট অবশ্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।

কিছুক্ষণ পর আবারও আক্রমণে উঠেন ইয়ামাল। দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কে ডোকুকে পেছনে ফেলে কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন তিনি। তবে অল্পের জন্য সেটি পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

তবে স্পেনের আক্রমণের মধ্যেও সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি বেলজিয়াম। ম্যাচের ৪১ মিনিটে তিমোথি কাস্তানিয়ের অসাধারণ ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ হেডে গোল করেন চার্লস ডি কেটেলারে। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো স্পেনের জালে বল জড়াল কোনো দল।

এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।

প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল স্পেনের। তারা বেলজিয়ামের গোলমুখে মোট ১০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম ২টি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

এসজি/