স্পেনে জন্ম, সেখানেই বেড়ে ওঠা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকও হয়েছে স্পেনেই। তবু জাতীয় দলের জার্সি বেছে নেওয়ার সময় এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি নিকো পাজ। শৈশবেই তার মনে জন্ম নিয়েছিল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসাই এখন তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ২১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলছেন, লিওনেল মেসির সঙ্গে একই দলে বিশ্বকাপ খেলতে পারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণের মতো।
ফিফার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার নিকো বলেন, ‘এটা আমার ছোটবেলার স্বপ্ন। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারা বিশাল সম্মানের বিষয়। ছোটবেলা থেকেই বাবা আমার মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি আমার নাম লেখা আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে দিতেন, দূরে থেকেও সব সময় দেশের জন্য উচ্ছ্বাস দেখাতেন।’
নিকোর বাবা পাবলো পাজও ছিলেন আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার এবং বিশ্বকাপে খেলেছেন। ছেলের বিশ্বাস, বাবার অভিজ্ঞতাই তাকে বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাবা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন। তিনি জাতীয় দলে খেলেছেন, বিশ্বকাপ খেলেছেন। তাই ছোটবেলা থেকেই আমাকে বিশ্বাস করিয়েছেন, একদিন আমিও এখানে পৌঁছাতে পারব।’
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে নিকো পাজ খেলেছিলেন ১১ মিনিট। জর্ডানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন, খেলেছেন ৬০ মিনিট। তবে কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাননি নিকো পাজ।
এই বিশ্বকাপ সম্ভবত লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই তার সঙ্গে একই দলে থাকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেই মনে করেন নিকো। তার মতে, ‘আমি বোঝার চেষ্টা করি, কী অসাধারণ একটা মুহূর্তের মধ্যে আছি। বিশ্বকাপ খেলছি, জাতীয় দলের হয়ে খেলছি, আবার মেসির শেষ বিশ্বকাপের অংশও আমি। এটা এমন এক অভিজ্ঞতা, যা সবাই পেতে চায়।’
মেসির উত্তরসূরি হিসেবে অনেকেই নিকোকে দেখছেন। তবে এমন তুলনা একেবারেই মানতে নারাজ এই তরুণ, ‘মেসির জায়গা নেওয়া অসম্ভব। তিনি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। তার মতো আর কেউ হবে না। তার সঙ্গে একই দলে থাকা, অনুশীলন করা কিংবা কয়েক মিনিটও মাঠ ভাগাভাগি করতে পারা আমার জন্য স্বপ্নের মতো।’
সমর্থকদের ভালোবাসাও তাকে বিস্মিত করে। নিকোর ভাষায়, ‘এত মানুষ আমাকে ভালোবাসে, এটা ভাবতেই অবাক লাগে। তবে এতে চাপ নয় বরং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। মাঠে নেমে তাদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি।’
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না নিকো। তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড খুবই ভালো দল। তাদের দলে বল নিয়ন্ত্রণে দক্ষ অনেক ফুটবলার আছে। পরের ধাপে যেতে হলে আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। মিসরের বিপক্ষে যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলো শুধরে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই; বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করা।’