ঝিনাইদহে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে অবহেলা ও মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে শৈথিল্যের অভিযোগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৪ শাখা থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মমিনুর রহমান ও শৈলকুপা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরিফ উদ্দিন।
দুই জনকেই ঢাকার আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার কার্যক্রম এবং নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে যেকোনো গাফিলতি অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ।
উভয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে চূড়ান্ত মাত্রার অবহেলা প্রদর্শন ও মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে শৈথিল্য প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী এ ধরনের অসদাচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই বিধিমালার ১২ (১) অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন মনে করেছে মন্ত্রণালয়।
জনস্বার্থে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
সাময়িক বরখাস্তকৃত ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মমিনুর রহমান জানান, গত ৫ জুলাইয়ে সচিবের এক চিঠিতে তিনি ঢাকার আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। কি কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। শৈলকুপা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরিফ উদ্দিনও একই কথা জানান।
উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। যার সম্পূর্ণ সফলতা নির্ভর করে মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতার ওপর।
তবে ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মমিনুর রহমান এবং শৈলকুপা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ তথ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দায়িত্বশীল পদে থেকে তাদের এমন অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণেই সরকারের এই জনকল্যাণমূলক ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি আজ মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
মাহফুজুর/এএফ