ঢাকা ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ মামলা, তদন্তে ধীরগতিতে ক্ষোভ চুয়েট হলে গাঁজাসহ ৯ শিক্ষার্থী আটক স্পেনে নিয়ন্ত্রণের বাইরে দাবানল, বাড়ছে প্রাণহানি জামালপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এমপির গাড়ি ভাঙচুর ট্রাম্পকে হত্যার ছক: ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য ওয়াশিংটনের হাতে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: হাইকমিশন বেরোবিতে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় আনন্দ মিছিল বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফে ১২শ পরিবার পানিবন্দি, ৫০০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা মাদারীপুর থানায় নারী আসামি পালানোর অভিযোগ ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে অবহেলা, ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত উন্নয়ন ও প্রকৃতি একসাথে হাতে হাত রেখে চলবে: পরিবেশমন্ত্রী বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম কুষ্টিয়ার খোকসায় খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’-এর কমিটি গঠন টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় চবিতে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি ফার্মা ও বিজনেস খাতের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে ঢাবিতে আইএসবিএম ক্যারিয়ার ওয়ার্কশপ বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ফ্লোরিডার বিমানবন্দরের নাম হলো ‘ট্রাম্প’ আবুল কাসেম ফজলুল হক নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক: ন্যাপ মহাসচিব ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লবের পরিবেশ পদকে সম্মানিত ৬ প্রকৃতি সংরক্ষক দেশের পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে শ্রেণিকক্ষে শিশুদের প্রশ্ন করতে দিন প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের সতর্কতা থানার গ্রিল ভেঙে নারী আসামির পালানো, এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার শৈলকুপায় সরকারি সহায়তার চেক ও পুরস্কার পেলেন উপকারভোগীরা বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমলেও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে হাওর-নদীর পানি

ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফে ১২শ পরিবার পানিবন্দি, ৫০০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফে ১২শ পরিবার পানিবন্দি, ৫০০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি ও জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের সহায়তায় প্রথম ধাপে ৫০০ পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সরকারি ত্রাণ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। 

এর মধ্যে সাবরাং ইউনিয়নে ২০০, হ্নীলা ইউনিয়নে ২০০ এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ১০০ পরিবার ত্রাণ পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ৭০০ পরিবারের মাঝেও ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পানিবন্দি এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ত্রাণ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে অধিকাংশ এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ছাড়া শনিবারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সব ইউনিয়নে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোঃ শাহীন/এসএন

ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফে ১২শ পরিবার পানিবন্দি, ৫০০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ভারী বৃষ্টিতে টেকনাফে ১২শ পরিবার পানিবন্দি, ৫০০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি ও জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের সহায়তায় প্রথম ধাপে ৫০০ পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সরকারি ত্রাণ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। 

এর মধ্যে সাবরাং ইউনিয়নে ২০০, হ্নীলা ইউনিয়নে ২০০ এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ১০০ পরিবার ত্রাণ পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ৭০০ পরিবারের মাঝেও ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পানিবন্দি এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ত্রাণ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে অধিকাংশ এলাকার পানি কমতে শুরু করেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ছাড়া শনিবারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সব ইউনিয়নে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মোঃ শাহীন/এসএন

মাদারীপুর থানায় নারী আসামি পালানোর অভিযোগ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
মাদারীপুর থানায় নারী আসামি পালানোর অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুর সদর থানা থেকে হাসিনা বেগম নামে এক নারী আসামি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। একইসঙ্গে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাদারীপুরের ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (উপপরিদর্শক) মোকসেদ হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মাদারীপুর সদর থানায় নিয়ে আসা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রাত ১টার দিকে তিনি থানা হেফাজত থেকে পালিয়ে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নারী আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সত্য। 
ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সদর থানা পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। তবে তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশ না পায় সেজন্য মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদারীপুর সদর থানার ওসি এবং মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। এসএমএস করলেও জবাব দেননি।

তবে মাদারীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মহসিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমি বর্তমানে অফিসের বাইরে রয়েছি।’ 

রফিকুল ইসলাম/রিফাত/

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে অবহেলা, ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে অবহেলা, ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে অবহেলা ও মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে শৈথিল্যের অভিযোগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৪ শাখা থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মমিনুর রহমান ও শৈলকুপা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরিফ উদ্দিন।

দুই জনকেই ঢাকার আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার কার্যক্রম এবং নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে যেকোনো গাফিলতি অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ।

উভয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে চূড়ান্ত মাত্রার অবহেলা প্রদর্শন ও মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে শৈথিল্য প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী এ ধরনের অসদাচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই বিধিমালার ১২ (১) অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন মনে করেছে মন্ত্রণালয়।

জনস্বার্থে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।

সাময়িক বরখাস্তকৃত ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মমিনুর রহমান জানান, গত ৫ জুলাইয়ে সচিবের এক চিঠিতে তিনি ঢাকার আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। কি কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। শৈলকুপা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরিফ উদ্দিনও একই কথা জানান।

উল্লেখ্য, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। যার সম্পূর্ণ সফলতা নির্ভর করে মাঠ পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতার ওপর।

তবে ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মমিনুর রহমান এবং শৈলকুপা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ তথ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দায়িত্বশীল পদে থেকে তাদের এমন অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণেই সরকারের এই জনকল্যাণমূলক ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি আজ মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

মাহফুজুর/এএফ

বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
মোহাম্মদ আশিক। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ আশিক (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আশিক বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে পানির স্রোতের কবলে পড়ে আশিক ভেসে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাঁশখালী হাসপাতালের প্রধান ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।

শফকত হোসাইন/রিফাত/

প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
প্রকৃতির নয়, লোভের ধসে মরছে মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড় ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। তবে এই ট্র্যাজেডির পেছনে কেবল প্রকৃতির বর্ষণই দায়ী নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় কাটা এবং তার পাদদেশে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার মানুষের আত্মঘাতী খেলাই এর মূল কারণ।

দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার পরিবার চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে বসবাস করছে। আধুনিক দালানকোঠা বা পাকা-সেমিপাকা, মাটির ও কাঁচা বাড়ির মোহে পাহাড়ের বুক কেটে খাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ফলে, সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির বাঁধন আলগা হয়ে সেই বিশাল স্তূপ ধসে পড়ছে নিচের ঘরবাড়ির ওপরে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালেই পাহাড় কাটায় বেশি মেতে ওঠে। তাদের ধারণা, শুকনো সময়ে স্কেভেটর বা কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে বন বিভাগ মামলা দেবে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে কোদাল বা অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না এবং বৃষ্টির পানিতে কাটার দাগও মুছে যাবে। এই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক কৌশলের কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিল।

পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমি রয়েছে যার বেশিরভাগই এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে।

মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় নিম্ন অঞ্চলের মানুষ এই পাহাড় কাটার মূল জোগানদার। ওইসব এলাকা লবণাক্ত এবং বর্ষায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকায় তারা স্থায়ী আবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। একসময়ের স্থানীয় দখলদাররা এখন এই নবাগতদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারি রিজার্ভের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সমতল ভূমির মতো এখানেও ইট-কংক্রিটের দালান তোলার প্রতিযোগিতা চলায় চারপাশের প্রাকৃতিকভাবে উঁচু পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

নির্বিচারে পাহাড় ও বনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গর্জন গাছ কাটার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার পাহাড়গুলো এভাবে বিলীন হতে থাকলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং সময়মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এককালের সুজলা-সুফলা ও ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন আর ঋতুবৈচিত্র্যের সেই রূপ নেই। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অপূরণীয় পরিবেশগত বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড়ধসের অন্যতম প্রধান কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে তা আমাদের পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লোক-দেখানো মামলা দিয়ে পেকুয়া-চকরিয়ার এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে এবং বন বিভাগের ভেতরের 'কালো ভেড়া'দের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃতির এই প্রতিশোধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

রকিবুল হাসান/এসএ