ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
গোরানের বাসা থেকে লালমাটিয়া কলেজের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার মায়ামিতে ইতিহাস বনাম স্বপ্ন কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড ‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু আলোচনায় গুরুত্ব পাবে ঋণ চুক্তি আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া সোনারগাঁয় যুবদল নেতার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এমপিপুত্র সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ যমুনার ভাঙনে ধুনটে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত তলানিতে মেসিদের সুইস দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ কাজে লাগছে না কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী পুলিশকে বারবার টার্গেট, অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা! সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ন্যাটো নেতাদের রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান চলছে সাইবার মব! গোল্ডেন বুটের লড়াই: মেসি, এমবাপ্পে নাকি হালান্ড? ১১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দেশে ফিরে আত্মসমর্পন করবেন শেখ হাসিনা দুই শিকারির লড়াই বিশ্বকাপ এখন এমবাপ্পের খেলাঘর ১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। নতুন করে সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা।

গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল-জাজিরায় প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়, ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জন্য তারা শত্রুপক্ষকে দায়ী করলেও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা এখনো চলমান এবং যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন। এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানান, শুক্রবার ভোরের সর্বশেষ হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এক আঞ্চলিক সূত্র জানায়, উভয় পক্ষকে প্রথমে উত্তেজনা কমাতে এবং পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টাহামলার পর কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতাকারীরা টেলিফোন কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দোহা ও ইসলামাবাদ আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আঞ্চলিক সংকট সমাধানে দোহা এখনো সংলাপ, কূটনীতি ও মধ্যস্থতার পথেই আস্থা রাখছে। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। অন্তর্বর্তী ওই সমঝোতায় উভয় দেশ যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালু এবং জব্দ করা কিছু ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। ওমান ও জাতিসংঘ বিকল্প নৌপথ চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে প্রণালিতে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালায়। জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে।

ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান!

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকমিছিল চলাকালেও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। ন্যাটো সম্মেলনে গত  বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে মার্কিন কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শোকমিছিলেও ট্রাম্পের মৃত্যুদাবি-সংবলিত স্লোগান ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হয়। সূত্র: আল-জাজিরা

আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনে অংশ নিতে দেশটির পবিত্র নগরী মাশহাদের প্রধান সড়কে সমবেত হন শোকাহত মানুষ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দেশটির পবিত্র নগরী মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের সবচেয়ে পবিত্র শিয়া মুসলিম ধর্মীয় স্থান ইমাম রেজা মাজারে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর মাধ্যমে ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের পাঁচটি শহরে টানা ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এ জানাজা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি হলো। তবে দাফনের আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুরো আয়োজনজুড়ে যুদ্ধের ছায়া স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ইরাক থেকে একটি বিমান খামেনি, তার নাতনি, জামাতা, মেয়ে এবং মোজতবার স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে মাশহাদে পৌঁছায়। কালো পোশাক পরা হাজারও শোকাহত মানুষ মাশহাদের প্রধান সড়কে সমবেত হন। অনেকের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুদণ্ডের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টাহামলার কারণে যুদ্ধ অবসানে প্রাথমিক সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই এ দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অভিযোগ করে, খামেনির দাফন অনুষ্ঠানকে ম্লান করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র রাতের আঁধারে তেহরান থেকে মাশহাদগামী রেলপথের দুটি সেতুতে বোমা হামলা চালিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন তেহরানে নিজ বাসভবনে ইসরায়েলি হামলায় খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। তার মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে একই হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার খবরের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তেহরান ও কোমে অনুষ্ঠিত জানাজা কিংবা মাশহাদের দাফন অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি।

ইমাম রেজা ছিলেন শিয়াদের দ্বাদশ ইমামদের মধ্যে অষ্টম। নবম শতকে নির্মিত তার সুবিশাল সোনালি গম্বুজ ও মিনারসমৃদ্ধ মাজারে প্রতিবছর লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ তীর্থযাত্রা করেন। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদেই খামেনির জন্ম। সেখানকার ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি কোমে যান, যা ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় ৩৭ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি দেশটির রাজনীতি ও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও জানুয়ারির সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর জাতীয় ঐক্য ও শক্তির বার্তা দিতেই খামেনির শোকানুষ্ঠান রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে শোকানুষ্ঠানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে হামলা-পাল্টাহামলায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) টানা দ্বিতীয় রাতের হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এর চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।’ মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে। জবাবে আইআরজিসি জানায়, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।

তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে একমত হয়েছিল।

গত সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানায়, দোহায় পরোক্ষ বৈঠকে উভয় পক্ষ অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং খামেনির শোকানুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আবার আলোচনা শুরু হবে।

সূত্র: বিবিসি

যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। নতুন করে সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা।

গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল-জাজিরায় প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়, ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জন্য তারা শত্রুপক্ষকে দায়ী করলেও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা এখনো চলমান এবং যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন। এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানান, শুক্রবার ভোরের সর্বশেষ হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এক আঞ্চলিক সূত্র জানায়, উভয় পক্ষকে প্রথমে উত্তেজনা কমাতে এবং পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টাহামলার পর কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতাকারীরা টেলিফোন কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দোহা ও ইসলামাবাদ আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আঞ্চলিক সংকট সমাধানে দোহা এখনো সংলাপ, কূটনীতি ও মধ্যস্থতার পথেই আস্থা রাখছে। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। অন্তর্বর্তী ওই সমঝোতায় উভয় দেশ যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালু এবং জব্দ করা কিছু ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। ওমান ও জাতিসংঘ বিকল্প নৌপথ চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে প্রণালিতে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালায়। জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে।

ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান!

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকমিছিল চলাকালেও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। ন্যাটো সম্মেলনে গত  বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে মার্কিন কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শোকমিছিলেও ট্রাম্পের মৃত্যুদাবি-সংবলিত স্লোগান ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হয়। সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত তলানিতে

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত তলানিতে
যুক্তরাষ্ট্রের গালফ উপকূলের মাটির নিচে লবণের গুহায় তেল সংরক্ষণের একটি সংরক্ষণাগার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর এর বড় ধাক্কা লেগেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই। এরই মধ্যে দেশটির কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ-এসপিআর) ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত তেল মজুত ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ৩১৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগ্যান প্রশাসনের সময়ের পর এটিই সর্বনিম্ন মজুত।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৮ জুলাই) সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখনই ইরানে হামলা চালায়, তখনই তেলের দাম বেড়ে যায়, এবারও তাই হয়েছে।’ গত বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ১৯ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। দিন শেষে ব্রেন্ট তেলের দাম দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে। আগের দিনের তুলনায় যা ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎস থেকে তেল কিনতে প্রতিযোগিতায় নামবে। এতে বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের ভোক্তাদের ওপর। কৌশলগত তেল মজুত মূলত জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা হয়। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের সরবরাহ-সংকটে সরকারকে সময় দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। এটি কোনো সংকটের পুরো সমাধান নয়।

টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি স্টাডিজের (সিইএস) অনাবাসিক ফেলো অভি রাজেন্দ্রন বলেন, ‘এ ধরনের সংকটের জন্যই এই মজুত রাখা হয়। এটি একটি নিরাপত্তা বাফার, যা দাম নিয়ন্ত্রণে এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।’

স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) কী?

স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেল মজুত ব্যবস্থা। যেখানে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল রয়েছে। ১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই তেল মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের গালফ উপকূলের চারটি স্থানে মাটির নিচে লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ে। এতে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও জরুরি মজুত অনেক কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এরপর আবার তেল কিনে মজুত পূরণের চেষ্টা করছে। তবে বর্তমান উত্তেজনার মধ্যে মজুতের পরিমাণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে না এলেও এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালি এখনো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবহন করা হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি দিয়ে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণ তেল আমদানি করে। তবে দেশটির অনেক মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার এই পথের তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এসব দেশকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে তেলের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বিশ্ববাজারে দাম আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এসপিআরে থাকা ৩১৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেলের সবটুকু ব্যবহারযোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাজেন্দ্রনের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত কিছু তেল বর্তমান পরিশোধনাগার বা রপ্তানির জন্য পুরোপুরি উপযোগী নাও হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা

ন্যাটো নেতাদের রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
ন্যাটো নেতাদের রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান
ছবি: সংগৃহীত

ন্যাটো সম্মেলন শেষে জোটের প্রতিটি রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানকে বিদায়ী উপহার হিসেবে একটি করে ভিনটেজ রিভলবার ও গুলি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরতেই তিনি এই ব্যতিক্রমী উপহার দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে নেতাদের হাতে এই উপহার তুলে দেওয়া হয়। নিজের দেশে ফিরে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ভেভার তার লাগেজে হ্যান্ডগান ও গুলি দেখে বিস্মিত হন।

বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নেতাদের দেওয়া উপহারটি ছিল তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমকেই-এর তৈরি বিরল ‘গুমুসায় .৩৫৭ ম্যাগনাম’ রিভলবার। ১৯৯০-এর দশকে উৎপাদিত এই ছয় চেম্বারের রিভলবারটি একটি কাঠের বাক্সে রাখা ছিল। বাক্সে তুরস্কের জাতীয় পতাকা, ন্যাটোর লোগো এবং তুর্কি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল, ‘আমাদের দেশে উৎপাদিত প্রথম হ্যান্ডগান গুমুসায়।’ লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদার কার্যালয় প্রকাশিত ছবিতে ওই উপহারের চিত্র দেখা যায়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মুখপাত্র জানান, প্রত্যেক নেতাকে একই ধরনের রিভলবার দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটির গায়ে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী তার রিভলবারটি নিরাপদ সংরক্ষণের জন্য ব্রাসেলস বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কির এক সহকারী জানান, তার রিভলবারটি ওয়ারশ বিমানবন্দরে শুল্ক ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে।

নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের উপহার পাওয়া রিভলবার দুটি আঙ্কারায় নিজ নিজ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসের রিভলবারটি অচল (ডিঅ্যাকটিভেট) করা হবে, আর সুইডেনেরটি আমদানিসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য দেওয়া রিভলবারের সঙ্গে একটি পরিষ্কার করার কিট এবং ৫০০ রাউন্ড গুলিও ছিল বলে ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র জানিয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির রিভলবারটি ইতোমধ্যে রোমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পালাজ্জো কিজি’তে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উপহারের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মজা করে বলেন, ‘আমার দেওয়া ম্যাপল সিরাপের উপহারটির তুলনায় তুরস্কের উপহারটি অনেক বড় হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, এটি আগেই অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভবত কানাডার জাতীয় যুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
সূত্র: সিএনএন

রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেশে ফিরে আত্মসমর্পন করবেন শেখ হাসিনা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১ এএম
দেশে ফিরে আত্মসমর্পন করবেন শেখ হাসিনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে তিনি দেশের আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে রয়টার্সকে দেওয়া দীর্ঘ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে এটিই শেখ হাসিনার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎকার।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। দীর্ঘ দুই বছর পর এবারই প্রথম তিনি দেশে ফেরার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করলেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তাও আমাকে যেতে হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন আমার নিজের মাটিতেই হয়। সেখানে আমার বাবা-মা শুয়ে আছেন এবং তাদের রক্ত মিশে আছে।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দলের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেকে আত্মগোপনে আছেন। তাই তিনি দলের সবাইকে একসঙ্গে আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তবে রয়টার্স অন্য নেতাদের অবস্থান বা তাদের বক্তব্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

শেখ হাসিনা আরও উল্লেখ করেন, দেশে ফেরার এই পরিকল্পনা নিয়ে তিনি ঢাকার সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন আলোচনা বা যোগাযোগ করেননি। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।’ একই সঙ্গে তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান এবং চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দেন।

শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে। গত দুই বছর ধরে চলমান অস্থিরতার পর বর্তমান সরকার যখন স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখন তার এই ঘোষণা রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ঢাকা তাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। এই বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা আমাকে ফিরিয়ে নিতে বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত এপ্রিলে তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের হস্তান্তরের অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং তারা ঢাকার নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকারের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও, তার বিরুদ্ধে ভিন্নমত ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন-নির্যাতন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সেই গণ-অভ্যুত্থানের সময় অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভুলত্রুটি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দীর্ঘদিন সরকার চালালে কিছু ভুল হতেই পারে। কোনো সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে সরকারের ভালো-মন্দ বিচারের অধিকার একমাত্র জনগণের। আমি সেই বিচার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’

আদালতের রায়ের কারণে নিজে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দলকে পুনর্গঠনের জন্য তিনি ইতোমধ্যে ১২৫টি সংসদীয় আসনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তারা আমাকে সাজা দিতেই পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা হবে? আমরা যদি খারাপ কিছু করে থাকি, তবে জনগণই তা নির্ধারণ করবে।’ সূত্র: রয়টাস, বিবিসি