যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। নতুন করে সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা।
গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল-জাজিরায় প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়, ভোরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জন্য তারা শত্রুপক্ষকে দায়ী করলেও কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনা এখনো চলমান এবং যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন। এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে জানান, শুক্রবার ভোরের সর্বশেষ হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এক আঞ্চলিক সূত্র জানায়, উভয় পক্ষকে প্রথমে উত্তেজনা কমাতে এবং পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টাহামলার পর কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতাকারীরা টেলিফোন কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। দোহা ও ইসলামাবাদ আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আঞ্চলিক সংকট সমাধানে দোহা এখনো সংলাপ, কূটনীতি ও মধ্যস্থতার পথেই আস্থা রাখছে। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। অন্তর্বর্তী ওই সমঝোতায় উভয় দেশ যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেহরানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালু এবং জব্দ করা কিছু ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
তবে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। ওমান ও জাতিসংঘ বিকল্প নৌপথ চালুর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে প্রণালিতে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করে দেশটির দক্ষিণ উপকূলে হামলা চালায়। জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে।
ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরান!
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকমিছিল চলাকালেও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখর ছিল রাজপথ। ন্যাটো সম্মেলনে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে মার্কিন কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শোকমিছিলেও ট্রাম্পের মৃত্যুদাবি-সংবলিত স্লোগান ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হয়। সূত্র: আল-জাজিরা