ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু আলোচনায় গুরুত্ব পাবে ঋণ চুক্তি আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া সোনারগাঁয় যুবদল নেতার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এমপিপুত্র সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ যমুনার ভাঙনে ধুনটে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত তলানিতে মেসিদের সুইস দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ কাজে লাগছে না কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী পুলিশকে বারবার টার্গেট, অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা! সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ন্যাটো নেতাদের রিভলবার উপহার দিলেন এরদোয়ান চলছে সাইবার মব! গোল্ডেন বুটের লড়াই: মেসি, এমবাপ্পে নাকি হালান্ড? ১১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দেশে ফিরে আত্মসমর্পন করবেন শেখ হাসিনা দুই শিকারির লড়াই বিশ্বকাপ এখন এমবাপ্পের খেলাঘর ১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি তবু সবার সেরা ইয়াসিন বুনু মেসির বিকল্প হওয়া অসম্ভব: নিকো পাজ ‘সতীর্থদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি রোনালদো’

ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা
প্রতীকী ছবি।

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর একমাত্র আসামি ওয়াহিদ শেখকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মো. ওয়াহিদ শেখ ওই শিশু পরিবার এলাকার একটি বাজারে দর্জির দোকানের মালিক। তিনি সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন গত ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশু পরিবার থেকে স্কুলে যাতায়াত করার সুবাদে গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এর ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে শারীরিক জটিলতার শিকার হয়। গত ৬ জুলাই শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষার পর জানা যায় সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

এদিকে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে গত ৮ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার ও আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধিনে নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফাজতের আবাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মামলার একদিন পরেই অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার বেরুলিয়া গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো, উত্তরপাড়া এলাকার মো. আজিজুল হকের মেয়ে তানজিনা (৭) ও একই এলাকার মো. মাসিদুল ইসলামের মেয়ে মারিয়া খাতুন (৭)। তারা সম্পর্কে বোন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাড়ির পাশে দুই শিশু খেলাধুলা করেছিল। কিছুক্ষণ পরে তাদের পরিবারের লোকজন না পেয়ে খুঁজতে  শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় বাড়ির পূর্ব পাশে কচুয়া বিলের পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসালয়ে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মুক্তাগাছা থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুখলেসুর রহমান বলেন, বাড়ির পূর্ব পাশে কচুয়া বিলে পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং সুরতহাল শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, দুই শিশুর ডুবে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কামরুজ্জামান/এএফ

সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন
ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরাবাসী নাকাল; জলমগ্ন সেলুনে চুল কাটাচ্ছেন গ্রাহক। ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরায় রাতভর টানা বর্ষণে জেলার শহরের পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কর্মহীন হয়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৬ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করছে।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, রাতভর ভারী বর্ষণে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা এখন পানির নিচে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, সদর হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রিঅফিসসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের আঙিনায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। এতে সেবা নিতে আসা মানুষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাঝখোলা এলাকার। এসব এলাকার শত শত মানুষের ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও টয়লেটে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে ভেঙে পড়েছে এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

​সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের ২০ বছরের বাসিন্দা সবুর গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা একই দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই, ড্রেন বা রাস্তার কাজে শুধু অনিয়মই হয়। আগে সামান্য বৃষ্টিতেই যা হতো, এখনো তাই হচ্ছে। নতুন সরকার আসায় কাজের আশা করলেও, কপাল ফিরবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

​এদিকে আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টির কারণে দুই দিন ধরে ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছেন না চালক ভোলা। তিনি বলেন, রাস্তায় পানি থাকায় মানুষ বের হচ্ছে না, ফলে কোনো ভাড়াও নেই। প্রতিদিনের চাল-ডাল কেনার টাকাই জুটছে না, তার ওপর এনজিওর কিস্তির চাপ থাকায় তিনি দিশেহারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী পুনর্খননের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে এবার শহরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে। সাময়িক সংকট মোকাবিলায় শহরের স্লুইস গেটগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের সমস্ত ড্রেন সচল করে পানি যাতে প্রাণসায়ের খালে গিয়ে পড়ে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাকির হোসেন/আজহার/

পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল
উখিয়ায় জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর/ ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড়ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে মারা গেছে ১৯ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।  মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ট্র্যাজেডির পেছনে কেবল বৈরী প্রকৃতিই দায়ী নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড এ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

পেকুয়ার শিলখালী, টৈটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার পরিবার চরম ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। আধুনিক দালানকোঠা বা পাকা-সেমিপাকা, মাটির ও কাঁচা বাড়ির মোহে পাহাড়ের বুক কেটে খাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির বাঁধন আলগা হয়ে সেই বিশাল স্তূপ ধসে পড়ছে নিচের ঘরবাড়ির ওপর।

অনুসন্ধানে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালেই পাহাড় কাটায় বেশি মেতে ওঠে। তাদের ধারণা, শুকনো সময়ে এস্কেভেটর বা কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে বন বিভাগ মামলা দেবে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না। বৃষ্টির পানিতে কাটার দাগও মুছে যাবে। এই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক কৌশলের কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। যাতে ঘটছে হতাহতের ঘটনা। 

পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমি রয়েছে, যার বেশির ভাগই এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় নিম্ন অঞ্চলের মানুষ এই পাহাড় কাটার মূল কারিগর। ওইসব এলাকা লবণাক্ত ও বর্ষায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকায় তারা স্থায়ী আবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। একসময়ের স্থানীয় দখলদাররা এখন এই নবাগতদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারি রিজার্ভের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সমতল ভূমির মতো এখানেও ইট-কংক্রিটের দালান তোলার প্রতিযোগিতা চলায় চারপাশের পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ–এই পাহাড়খেকো বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং স্থানীয় মাঝি (দালাল) সিন্ডিকেট। মাসোহারা বা বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা পাহাড় কাটায় পরোক্ষ সহযোগিতা দেন এবং আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচানোর নিশ্চয়তা দেন। তবে কোনো কর্মকর্তা বদলি হওয়ার সময় হলে বা ওপরের মহলের চাপ থাকলে তড়িঘড়ি করে কিছু মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে পাহাড়ের অস্তিত্ব আর থাকে না। সচেতন মহলের দাবি, গত দুই বছর আগে থেকে যদি কঠোর আইন প্রয়োগ করা হতো, তবে আজকে এই মৃত্যুর মিছিল দেখতে হতো না।

অনুসন্ধানে পাহাড়ধসের একটি প্রধান কারিগরি কারণ উঠে এসেছে। পাহাড়ি এলাকায় যারা বাড়ি তৈরি করছে, তারা শুধু নিজেদের সীমানার ভেতরের পাহাড়ের অংশটুকু কেটে সমতল করছে। এর ফলে ঠিক তার পাশেই থাকা অন্যজনের জমির পাহাড়ের অংশটি খাড়া দেয়ালের মতো উঁচুতে ঝুলে থাকছে। প্রাকৃতিকভাবে ঢালু পাহাড়কে এভাবে সোজা (৯০ ডিগ্রি) খাড়া করে কেটে ফেলায় ওপরের অংশটির পুরো ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যখনই ভারী বর্ষণ হয়, তখন ওপরের ওই খাড়া ও অরক্ষিত অংশটির মাটি নরম হয়ে হুড়মুড় করে নিচের তৈরি করা ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। মানুষের এই অবিবেচক ও আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের কারণেই পাহাড়ধসের ঘটনাগুলো ঘটছে।

নির্বিচারে পাহাড় ও বনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গর্জন গাছ কাটার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার পাহাড়গুলো এভাবে বিলীন হতে থাকলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। 

পাহাড় কাটা রোধে প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান চললেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। তবে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে পাহাড় কাটা ও গর্জন গাছ পাচারের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি পাহাড় কাটা রোধে রাতের বেলা দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আমাদের বন কর্মীদের ওপর স্থানীয় সিন্ডিকেটের হামলা ও আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় যারাই অন্যায় করবে, তাদের কাউকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড়ধসের অন্যতম প্রধান কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। 

লোকদেখানো মামলা দিয়ে পেকুয়া-চকরিয়ার এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে এবং বন বিভাগের ভেতরের দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃতির এই প্রতিশোধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমায় স্বস্তি, রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: টানা পাঁচ দিনের রেকর্ড বর্ষণ ও জোয়ারের পানির দাপট কাটিয়ে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম নগরীতে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসায় মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে পাঁচ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নগরজীবন। তবে মহানগরের সড়কগুলো থেকে পানি নামলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়ে গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদের মতো বাণিজ্যিক এবং নিচু এলাকার মূল সড়কগুলো থেকে পানি অনেকটাই নেমে গেছে। কয়েকদিন ধরে এসব এলাকার যেসব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে ছিল, পানি কমায় শুক্রবার সেগুলোতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। সড়কে পানি কমে আসায় গণপরিবহন ও রিকশা চলাচলও অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৫ দিনে চট্টগ্রামে ১০২০ মিলিমিটারের বেশি ঐতিহাসিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির বেগ ও স্থায়িত্ব কমে এসেছে। যদিও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এখনো বহাল রয়েছে।

এদিকে পানি নেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কষ্ট কমলেও নগরীর পাহাড়গুলোতে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি সম্পূর্ণ নরম হয়ে যাওয়ায় লালখান বাজার, মতিঝরনা, আকবরশাহ, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী এলাকার পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগরে পাহাড় ও দেয়াল ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে আগে থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জোরদার মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। নগরীর আকবরশাহ ও খুলশী এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বেশ কিছু পরিবারকে জোরপূর্বক চসিকের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের দখল ছেড়ে অন্যত্র যেতে রাজি নয় বসতিরা। তাই পাহাড় থেকে মানুষকে সরাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম মিঞা বলেন,  মহানগরে পাহাড়ধসে আর যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আগামী রবিবার থেকে আরও স্বাভাবিক হবে আবহাওয়া। তবে বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। কারণ পাহাড়ের মাটি নরম। 

১০০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

টানা বর্ষণ ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর ও বাঁশখালীর ১০০টি পরিবারকে আগাম আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়। 

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘নো রিগ্রেট পলিসি’ অনুসারে আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৮ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ৯ জুলাই বাঁশখালী উপজেলার পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০টি পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।

ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা
প্রতীকী ছবি।

ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর একমাত্র আসামি ওয়াহিদ শেখকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মো. ওয়াহিদ শেখ ওই শিশু পরিবার এলাকার একটি বাজারে দর্জির দোকানের মালিক। তিনি সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন গত ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশু পরিবার থেকে স্কুলে যাতায়াত করার সুবাদে গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ওই এলাকার এক দর্জির দোকানের মালিক মো. ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এর ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে শারীরিক জটিলতার শিকার হয়। গত ৬ জুলাই শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষার পর জানা যায় সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

এদিকে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে গত ৮ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার ও আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ৮ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে সমাজসেবা বিভাগের অধিনে নারী ও শিশু কিশোরী মহিলা হেফাজতের আবাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মামলার একদিন পরেই অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি
ছবির ক্যাপশন:পানাম নগরীর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঐতিহাসিক পানাম নগরীর প্রবেশদ্বারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন সেতুটি পুরনো আদলে পুনর্নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পানাম নগরীতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সোনারগাঁয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি।

মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক সোনারগাঁ পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক আরিফুর রহমান, কমিটির সদস্যসচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, সোনারগাঁ সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক কবি মোয়াজ্জেনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাখখার সাগর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সোনারগাঁ শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন, সুমন আল হাসান এবং প্রকৌশলী বাবুল মোল্লাসহ আরও স্থানীয় ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, পানাম নগরীর প্রবেশপথে এক সময় একটি ছোট কিন্তু ঐতিহাসিক প্রাচীন সেতু ছিল। সেতুটি পানাম নগরীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০১ সালের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সেতুটি ভেঙে ফেলে। ফলে হারিয়ে যায় এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন।

তারা আরও বলেন, পানাম নগরী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। এর হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সেতুটি আগের নকশা ও আদলে দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/