ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফ্রান্সেরই স্পেনকে ভয় পাওয়া উচিত: ইয়ামাল বাংলাদেশসহ ৭ দেশকে ভিসা নিয়ে সুখবর দিল সৌদি পেকুয়ায় পাহাড়ধস, সড়ক ভাঙনে বিচ্ছিন্ন জারুল বনিয়া বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ জামায়াত আমিরের হিলিতে অসহায় বাকপ্রতিবন্ধীর ঘর করে দিলেন বিএনপিকর্মী দুপুরেরর মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা হাতিয়ায় ৯০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ শুভসন্ধ্যা সৈকতে পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার গজারিয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়ায়  উদ্বোধন ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ বৃষ্টির পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ঢাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার গোরানের বাসা থেকে লালমাটিয়া কলেজের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার মায়ামিতে ইতিহাস বনাম স্বপ্ন কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড প্রথমে বিদায় নেবে কোডিং, এরপর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং: অ্যানথ্রোপিক সিইও ‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে ঋণচুক্তি আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া শিবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু সোনারগাঁয় যুবদল নেতার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এমপিপুত্র সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল
উখিয়ায় জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর/ ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিনের টানা প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ার পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড়ধসে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজারে। সেখানে মারা গেছে ১৯ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ৫ জন করে এবং রাঙামাটি জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।  মাটিচাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ট্র্যাজেডির পেছনে কেবল বৈরী প্রকৃতিই দায়ী নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে তোলার অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড এ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

পেকুয়ার শিলখালী, টৈটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার পরিবার চরম ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। আধুনিক দালানকোঠা বা পাকা-সেমিপাকা, মাটির ও কাঁচা বাড়ির মোহে পাহাড়ের বুক কেটে খাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মাটির বাঁধন আলগা হয়ে সেই বিশাল স্তূপ ধসে পড়ছে নিচের ঘরবাড়ির ওপর।

অনুসন্ধানে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ শুকনো মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালেই পাহাড় কাটায় বেশি মেতে ওঠে। তাদের ধারণা, শুকনো সময়ে এস্কেভেটর বা কোদাল দিয়ে মাটি কাটলে বন বিভাগ মামলা দেবে। কিন্তু বৃষ্টির দিনে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের কেউ দেখতে আসবে না। বৃষ্টির পানিতে কাটার দাগও মুছে যাবে। এই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক কৌশলের কারণে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। যাতে ঘটছে হতাহতের ঘটনা। 

পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার একর সরকারি রিজার্ভ বনভূমি রয়েছে, যার বেশির ভাগই এখন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও কুতুবদিয়ার মতো উপকূলীয় নিম্ন অঞ্চলের মানুষ এই পাহাড় কাটার মূল কারিগর। ওইসব এলাকা লবণাক্ত ও বর্ষায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত থাকায় তারা স্থায়ী আবাসের জন্য পাহাড়ি অঞ্চলকে বেছে নিচ্ছে। একসময়ের স্থানীয় দখলদাররা এখন এই নবাগতদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকায় সরকারি রিজার্ভের জায়গা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। সমতল ভূমির মতো এখানেও ইট-কংক্রিটের দালান তোলার প্রতিযোগিতা চলায় চারপাশের পাহাড়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ–এই পাহাড়খেকো বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং স্থানীয় মাঝি (দালাল) সিন্ডিকেট। মাসোহারা বা বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা পাহাড় কাটায় পরোক্ষ সহযোগিতা দেন এবং আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচানোর নিশ্চয়তা দেন। তবে কোনো কর্মকর্তা বদলি হওয়ার সময় হলে বা ওপরের মহলের চাপ থাকলে তড়িঘড়ি করে কিছু মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে পাহাড়ের অস্তিত্ব আর থাকে না। সচেতন মহলের দাবি, গত দুই বছর আগে থেকে যদি কঠোর আইন প্রয়োগ করা হতো, তবে আজকে এই মৃত্যুর মিছিল দেখতে হতো না।

অনুসন্ধানে পাহাড়ধসের একটি প্রধান কারিগরি কারণ উঠে এসেছে। পাহাড়ি এলাকায় যারা বাড়ি তৈরি করছে, তারা শুধু নিজেদের সীমানার ভেতরের পাহাড়ের অংশটুকু কেটে সমতল করছে। এর ফলে ঠিক তার পাশেই থাকা অন্যজনের জমির পাহাড়ের অংশটি খাড়া দেয়ালের মতো উঁচুতে ঝুলে থাকছে। প্রাকৃতিকভাবে ঢালু পাহাড়কে এভাবে সোজা (৯০ ডিগ্রি) খাড়া করে কেটে ফেলায় ওপরের অংশটির পুরো ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে যখনই ভারী বর্ষণ হয়, তখন ওপরের ওই খাড়া ও অরক্ষিত অংশটির মাটি নরম হয়ে হুড়মুড় করে নিচের তৈরি করা ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। মানুষের এই অবিবেচক ও আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের কারণেই পাহাড়ধসের ঘটনাগুলো ঘটছে।

নির্বিচারে পাহাড় ও বনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গর্জন গাছ কাটার ফলে স্থানীয় জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার পাহাড়গুলো এভাবে বিলীন হতে থাকলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক মানচিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে। 

পাহাড় কাটা রোধে প্রশাসন ও বন বিভাগের অভিযান চললেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা। তবে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে পাহাড় কাটা ও গর্জন গাছ পাচারের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি পাহাড় কাটা রোধে রাতের বেলা দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আমাদের বন কর্মীদের ওপর স্থানীয় সিন্ডিকেটের হামলা ও আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় যারাই অন্যায় করবে, তাদের কাউকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড়ধসের অন্যতম প্রধান কারণ অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। যারা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করছে, বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। 

লোকদেখানো মামলা দিয়ে পেকুয়া-চকরিয়ার এই মহাবিপর্যয় রোধ করা সম্ভব নয়। পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে হলে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দালাল সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হবে, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে এবং বন বিভাগের ভেতরের দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃতির এই প্রতিশোধ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

চট্টগ্রামে বৃষ্টি কমায় স্বস্তি, রয়ে গেছে পাহাড়ধসের শঙ্কা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: টানা পাঁচ দিনের রেকর্ড বর্ষণ ও জোয়ারের পানির দাপট কাটিয়ে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম নগরীতে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসায় মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এতে পাঁচ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে নগরজীবন। তবে মহানগরের সড়কগুলো থেকে পানি নামলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়ে গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদের মতো বাণিজ্যিক এবং নিচু এলাকার মূল সড়কগুলো থেকে পানি অনেকটাই নেমে গেছে। কয়েকদিন ধরে এসব এলাকার যেসব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে ছিল, পানি কমায় শুক্রবার সেগুলোতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। সড়কে পানি কমে আসায় গণপরিবহন ও রিকশা চলাচলও অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। 

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ৫ দিনে চট্টগ্রামে ১০২০ মিলিমিটারের বেশি ঐতিহাসিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির বেগ ও স্থায়িত্ব কমে এসেছে। যদিও সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এখনো বহাল রয়েছে।

এদিকে পানি নেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কষ্ট কমলেও নগরীর পাহাড়গুলোতে তৈরি হয়েছে চরম উৎকণ্ঠা। টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি সম্পূর্ণ নরম হয়ে যাওয়ায় লালখান বাজার, মতিঝরনা, আকবরশাহ, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী এলাকার পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগরে পাহাড় ও দেয়াল ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে আগে থেকেই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জোরদার মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। নগরীর আকবরশাহ ও খুলশী এলাকার পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী বেশ কিছু পরিবারকে জোরপূর্বক চসিকের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের দখল ছেড়ে অন্যত্র যেতে রাজি নয় বসতিরা। তাই পাহাড় থেকে মানুষকে সরাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহেদুল ইসলাম মিঞা বলেন,  মহানগরে পাহাড়ধসে আর যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল ভূঁইয়া খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আগামী রবিবার থেকে আরও স্বাভাবিক হবে আবহাওয়া। তবে বৃষ্টিপাত কমলেও পাহাড়ধসের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। কারণ পাহাড়ের মাটি নরম। 

১০০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

টানা বর্ষণ ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর ও বাঁশখালীর ১০০টি পরিবারকে আগাম আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়। 

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘নো রিগ্রেট পলিসি’ অনুসারে আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৮ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় এবং ৯ জুলাই বাঁশখালী উপজেলার পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০টি পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।

পেকুয়ায় পাহাড়ধস, সড়ক ভাঙনে বিচ্ছিন্ন জারুল বনিয়া

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
পেকুয়ায় পাহাড়ধস, সড়ক ভাঙনে বিচ্ছিন্ন জারুল বনিয়া
আলিচান মাতব্বরপাড়া এলাকায় কবরস্থানের পাহাড় ধসে সড়কের ওপর মাটি পড়ে যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ জারুল বনিয়া এলাকায়। এতে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় মাহাসান (৭০) নামের এক বৃদ্ধ পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি। এর পরের দিন নৌকা করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের তৈরি দোলনা। গত দুদিনে একাধিক রোগীকে এভাবে মাইলের পর মাইল কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর মধ্যে এক প্রসূতিকে হেঁটে ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালেও একই কায়দায় আরেক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়েছেন স্থানীয়রা।

সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় রোগীকে দোলনায় বহন করে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বাড়ির পথে ফিরছেন জারুলবনিয়ার কয়েকজন যুবক। ছবি: খবরের কাগজ

স্থানীয় জায়েদ ইবনে আমিন জানান, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শিলখালীর আলিচান মাতব্বর পাড়া সংলগ্ন কবরস্থানের একটি বড় অংশ ধসে প্রধান সড়কের ওপর পড়ে। এতে জারুল বনিয়ার মূল সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনার দিনই পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তবে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকায় মাটি সরানোর ভারী যন্ত্র (এসকেভেটর) দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে ধসে পড়া মাটি ও ধ্বংসস্তূপ এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রধান সড়ক বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে বারাবাকিয়া হয়ে জারুল বনিয়া যাওয়ার আরও একটি রাস্তা থাকলেও সেটিও এখন অচল। পাহাড়ি ছড়ার পানির তীব্র স্রোতে ওই সড়কের দুটি অংশ ভেঙে ধসে গেছে। ফলে কোনো প্রকার যানবাহন এই এলাকায় ঢুকতেও পারছে না, বেরও হতে পারছে না। পুরো এলাকা এখন এক প্রকার অবরুদ্ধ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

জারুলবনিয়া এলাকায় পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

ভৌগোলিক কারণে জারুল বনিয়া অঞ্চলটি পেকুয়ার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যায় রাজাখালী, মগনামা, কুতুবদিয়া ও উজানটিয়ার মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে, হাজার হাজার মানুষ জানমাল, গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগি নিয়ে এই জারুল বনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। কিন্তু এবার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় দুর্গত মানুষের আশ্রয় নেওয়ার সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উপায়ে হলেও রাস্তার ওপর ধসে পড়া মাটি দ্রুত অপসারণ এবং পাহাড়ি ছড়ার স্রোতে ভেঙে যাওয়া সড়কের অংশগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে ২০ হাজার মানুষের এই দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নেবে এবং যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য সংকটে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

রকিবুল হাসান/অন্তরা/

হিলিতে অসহায় বাকপ্রতিবন্ধীর ঘর করে দিলেন বিএনপিকর্মী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ এএম
হিলিতে অসহায় বাকপ্রতিবন্ধীর ঘর করে দিলেন বিএনপিকর্মী
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের হিলির ছাতনীতে (বিলপাড়া) অসহায় বাকপ্রতিবন্ধী আলেমন বেগমের (৫৫) পরিত্যক্ত ভাঙা ঘরটি নিজ অর্থায়নে পাকা করে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপিকর্মী ও পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম।

শনিবার (১১ জুলাই) হাকিমপুর হিলি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ছাতনী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছানাউল ইসলামের নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে বাকপ্রতিবন্ধী আলেমনের থাকার জন্য ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। রাজমিস্ত্রিরা ইতোমধ্যে ঘরের মেঝে ও চারদিকের দেওয়ালে প্লাস্টারের কাজ শেষ করেছেন।

আলেমন বেগম ওই গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের মেয়ে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘পাগলী’ নামে পরিচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন আমাদের ছাতনী চৌমুহনী বাজারে ঝাড়ু দিয়ে এবং দোকানদারদের দেওয়া সাহায্য ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকায় কোনো রকমে তার সংসার চলে। বর্ষাকালে তার থাকার মতো কোনো ভালো ঘর ছিল না। আগের ভাঙা ঘরে পানি ঢুকত। ইঁদুরের গর্ত থাকায় ঘর থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ছানাউল ভাই নিজের খরচে মেঝে পাকাসহ একটি টিনশেড ঘরে থাকার পরিবেশ করে দেন।’

একই এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন খুবই অসহায় একজন মানুষ। তার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খুব প্রয়োজন ছিল। প্রতিবেশী ছানাউল ভাইয়ের প্রচেষ্টায় আজ থেকে আলেমনের স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা হলো। এতে আমরা গ্রামবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।’

হাকিমপুর পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছাতনী চৌমুহনী বাজারে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করেন। যেকোনো সমস্যায় তিনি আমার কাছে আসতেন। এর আগে তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের ব্যবস্থাও আমি করে দিয়েছি। কিন্তু তার রাতে থাকার মতো কোনো ভালো ঘর ছিল না। অনেক দিন থেকেই তাকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার চিন্তা করছিলাম। আর্থিক সংকটের কারণে একটু সময় লেগেছে। আগে থেকেই ইট, বালু ও সিমেন্ট জোগাড় করে রেখেছিলাম। রাজমিস্ত্রী লাগিয়ে ঘরের মেঝে পাকাকরণ, চারপাশের ইটের গাঁথুনি ও প্লাস্টারসহ টিনশেড ঘরটির কাজ সম্পন্ন করা হলো। আগামীতে এই ঘরে বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিনের ব্যবস্থাও করে দেব।’

তিনি আরও বলেন দলের একজন কর্মী হিসেবে আমার এলাকার এই অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর পাশে দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকব।

হাকিমপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম পেশায় একজন সাধারণ কৃষক হলেও তিনি অত্যন্ত বড় মনের মানুষ। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আলেমন বেগমকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। ছানাউল ইসলামের এই উদ্যোগের পাশাপাশি পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে ওই ঘরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’

কুদ্দুস খান/খাদিজা রুমি/

বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা
পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ওরফে সজিব মণ্ডল ও সেবায়েত শান্ত বিশ্বাস

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গিয়ে উল্টো দুই পুরোহিতকে ভ্যান চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আহত করার অভিযোগে ওই দুই পুরোহিতকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে চোর শনাক্ত করা না যাওয়ায় এবং ধস্তাধস্তিতে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা বাবদ তাদের এ জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ ঘটনার পর পুরোহিতরা ভীত থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতেও অনাগ্রহী। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বোয়ালমারী পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার কামারগ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর নিত্যসেবা অঙ্গন আখড়াবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। সে সময় পুরোহিতরা দুপুরের খাবার শেষে বিশ্রামে ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা মন্দির থেকে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কেজি কাঁসা-পিতলের থালা, বাটি, গ্লাস ও কলস একটি বাজারের ব্যাগে ভরে ভ্যানে করে পালিয়ে যায়।

মন্দিরের পাশের এক নারী একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখে বিষয়টি সেবায়েতদের জানান। পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ওরফে সজিব মণ্ডল (২০) ও সেবায়েত শান্ত বিশ্বাস সন্দেহভাজনদের খুঁজতে বের হন।

তাদের দাবি, বোয়ালমারী পৌর বাজারের কৃষি ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় ফুটেজে দেখা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে থামতে বললে তারা ভ্যানে করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হলে তারা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় রাজু নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেয়ালের ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন।

এরপর ভ্যান চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন দুই পুরোহিতের হাত পিঠমোড়া করে রশি দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। 

খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক গিয়ে দুই পুরোহিতকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘আমাদের মারধর করা হয়েছে, খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে গেছে। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমি অন্য একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে বাইরে ছিলাম। পরে জানতে পেরেছি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’

স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘সালিশে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ১৮ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে আমি বৃষ্টির কারণে পৌঁছানোর আগেই সালিশ শেষ হয়ে যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে ঘটনাটি একপেশেভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।’ 

এ ঘটনায় হিন্দু অধ্যুষিত কামারগ্রাম এলাকায় উদ্বেগ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে চোরের মুখ স্পষ্ট বোঝা যায়নি। ঘটনাস্থলে হাতাহাতিতে একজন আহত হয়েছেন। তার চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সালিশে ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোনো পক্ষ এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনকেবি নয়ন/অমিয়/

মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা
মতলব সেতুর উত্তর সংযোগ সড়কে সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে/ ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলবে ধনাগোদা নদীর উপর নির্মিত মতলব সেতুর উত্তর সংযোগ সড়কে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণে সড়কে বড় ধরনের সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারনে সড়কটি ভেঙে এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এবং ঢাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কয়েক মাস আগে এই সড়কের মেরামতের কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে মেরামত করা স্থানটি আবার ভেঙে অচলাবস্থা প্রায়।

ইউপি সদস্য গোলাম নবী খোকন বলেন, 'এই ভাঙা সুরঙ্গ যদি দ্রুত সংস্কার না হয় তাহলে ব্রিজটি আস্তে আস্তে ভেঙে যাবে। প্রায় সময় এই জায়গায় সুরঙ্গ তৈরি হয়। স্থায়ীভাবে সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন রইল।'

পথচারী মো. মিজানুর রহমান  বলেন, 'এই রাস্তা দিয়ে আমরা দিনে-রাতে চলাচল করি। এখন এমন অবস্থা হইছে, যে কোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে।'

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম ইশমাম বলেন, বৃষ্টির কারনে সড়কটি ভেঙে সুরঙ্গ হয়েছে। জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। মেরামতের কাজ চলছে।

সাহাদাত/তামান্না রুপা/

হাতিয়ায় ৯০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩২ এএম
হাতিয়ায় ৯০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ
এভাবেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পার হচ্ছেন পানিবন্ধী মানুষরা। ছবি: খবরের কাগজ

টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি এবং অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

কিছু এলাকায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও এখনো অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় এবং রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবারে খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, শাকসবজির খেত এবং অসংখ্য মাছের ঘের। ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।  দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও দুর্গতদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, সোনাদিয়া, হরনী, চানন্দী, চরকিং, সুখচর, নলচিরা, জাহাজমারা, তমরদ্দি ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নসহ হাতিয়া পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, টানা বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নিচু এলাকার পানি বের হওয়ার সুযোগ পায়নি। অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের রাস্তাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যানচলাচল প্রায় বন্ধ। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

ওছখালী ব্যবসায়ীরা খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এমন অবস্থা হয়। যদি এই সমস্যা স্থায়ী সমাধান না করা হয় তাহলে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। ঠিক মতো পানি নামতে না পারা, খাল-নালা ভরাট এবং টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

সোনাদিয়া  ইউনিয়নের কৃষক মো. সৌরাভ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমনের বীজতলা, সবজিখেত ও মাছের ঘের সব শেষ কয়েক মাসের পরিশ্রম এক বৃষ্টিতেই নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে চাষ করার মতো পুঁজিও নেই।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব আলি খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের চারপাশে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। জোয়ার এলেই পানি উঠে যায়। এবার ছয় দিনের বৃষ্টিতে রান্নাঘর ডুবে গেছে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দ্রুত পানি না নামলে আরও বিপদ হবে।

হাতিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনিসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, হাতিয়া উপজেলায় প্রায় ৮০-৯০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, হাতিয়া নদীবেষ্টিত একটি উপজেলা। কয়েকটি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় একহাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বৃষ্টি কমলেও এখনো অনেক এলাকায় পানি নামেনি।

দ্রুত পানি নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

হানিফ/এএফ