টানা বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ জারুল বনিয়া এলাকায়। এতে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় মাহাসান (৭০) নামের এক বৃদ্ধ পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি। এর পরের দিন নৌকা করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের তৈরি দোলনা। গত দুদিনে একাধিক রোগীকে এভাবে মাইলের পর মাইল কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর মধ্যে এক প্রসূতিকে হেঁটে ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালেও একই কায়দায় আরেক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জায়েদ ইবনে আমিন জানান, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শিলখালীর আলিচান মাতব্বর পাড়া সংলগ্ন কবরস্থানের একটি বড় অংশ ধসে প্রধান সড়কের ওপর পড়ে। এতে জারুল বনিয়ার মূল সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনার দিনই পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তবে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকায় মাটি সরানোর ভারী যন্ত্র (এসকেভেটর) দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে ধসে পড়া মাটি ও ধ্বংসস্তূপ এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।
প্রধান সড়ক বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে বারাবাকিয়া হয়ে জারুল বনিয়া যাওয়ার আরও একটি রাস্তা থাকলেও সেটিও এখন অচল। পাহাড়ি ছড়ার পানির তীব্র স্রোতে ওই সড়কের দুটি অংশ ভেঙে ধসে গেছে। ফলে কোনো প্রকার যানবাহন এই এলাকায় ঢুকতেও পারছে না, বেরও হতে পারছে না। পুরো এলাকা এখন এক প্রকার অবরুদ্ধ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে।
ভৌগোলিক কারণে জারুল বনিয়া অঞ্চলটি পেকুয়ার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যায় রাজাখালী, মগনামা, কুতুবদিয়া ও উজানটিয়ার মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে, হাজার হাজার মানুষ জানমাল, গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগি নিয়ে এই জারুল বনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। কিন্তু এবার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় দুর্গত মানুষের আশ্রয় নেওয়ার সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উপায়ে হলেও রাস্তার ওপর ধসে পড়া মাটি দ্রুত অপসারণ এবং পাহাড়ি ছড়ার স্রোতে ভেঙে যাওয়া সড়কের অংশগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে ২০ হাজার মানুষের এই দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নেবে এবং যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য সংকটে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
রকিবুল হাসান/অন্তরা/