ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন বাভির আঘাত ফ্রান্সেরই স্পেনকে ভয় পাওয়া উচিত: ইয়ামাল জয়পুরহাটে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০ বারবার দুর্যোগ নয়, স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনার আহ্বান জামায়াত আমিরের বাংলাদেশসহ ৭ দেশকে ভিসা নিয়ে সুখবর দিল সৌদি পেকুয়ায় পাহাড়ধস, সড়ক ভাঙনে বিচ্ছিন্ন জারুল বনিয়া বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ জামায়াত আমিরের হিলিতে অসহায় বাকপ্রতিবন্ধীর ঘর করে দিলেন বিএনপিকর্মী দুপুরেরর মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা হাতিয়ায় ৯০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ শুভসন্ধ্যা সৈকতে পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার গজারিয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়ায়  উদ্বোধন ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ বৃষ্টির পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ঢাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার গোরানের বাসা থেকে লালমাটিয়া কলেজের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার মায়ামিতে ইতিহাস বনাম স্বপ্ন কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড প্রথমে বিদায় নেবে কোডিং, এরপর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং: অ্যানথ্রোপিক সিইও ‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে ঋণচুক্তি আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া শিবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু সোনারগাঁয় যুবদল নেতার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এমপিপুত্র সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা

সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন
ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরাবাসী নাকাল; জলমগ্ন সেলুনে চুল কাটাচ্ছেন গ্রাহক। ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরায় রাতভর টানা বর্ষণে জেলার শহরের পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কর্মহীন হয়ে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪৬ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করছে।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, রাতভর ভারী বর্ষণে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকা এখন পানির নিচে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, সদর হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রিঅফিসসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের আঙিনায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। এতে সেবা নিতে আসা মানুষ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাঝখোলা এলাকার। এসব এলাকার শত শত মানুষের ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও টয়লেটে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে ভেঙে পড়েছে এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতে এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

​সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের ২০ বছরের বাসিন্দা সবুর গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে তারা একই দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই, ড্রেন বা রাস্তার কাজে শুধু অনিয়মই হয়। আগে সামান্য বৃষ্টিতেই যা হতো, এখনো তাই হচ্ছে। নতুন সরকার আসায় কাজের আশা করলেও, কপাল ফিরবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

​এদিকে আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টির কারণে দুই দিন ধরে ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছেন না চালক ভোলা। তিনি বলেন, রাস্তায় পানি থাকায় মানুষ বের হচ্ছে না, ফলে কোনো ভাড়াও নেই। প্রতিদিনের চাল-ডাল কেনার টাকাই জুটছে না, তার ওপর এনজিওর কিস্তির চাপ থাকায় তিনি দিশেহারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী পুনর্খননের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে এবার শহরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে। সাময়িক সংকট মোকাবিলায় শহরের স্লুইস গেটগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের সমস্ত ড্রেন সচল করে পানি যাতে প্রাণসায়ের খালে গিয়ে পড়ে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাকির হোসেন/আজহার/

জয়পুরহাটে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ এএম
জয়পুরহাটে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০
ছবিঃখবরের কাগজ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, মহব্বতপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম সরদার, আব্দুল গফুর, নাজিদুল সরদার, জামিউল হোসেন, আবু সাইদ, নাদিম সরদার ও নাজু বিবি। অপর পক্ষের দুইজন মঞ্জুরুল ও বেলজান।

ভুক্তভোগী আব্দুল হাকিম সরদার জানান, তিনি ২০২০ সালে মহব্বতপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে নুরুন্নাহানের কাছ থেকে ৯ শতক জমি কিনেন। পরে সেই জমি নুরুন্নাহারের ছোট বোন শারমিন নিজের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় মামলাও হয়। এ অবস্থায় শুক্রবার সেই জমি দখল করতে আসেন শারমিন ও তার লোকজন। এ সময় আব্দুল হাকিম ও তার পরিবার বাধা দিলে তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট করে আটজনকে গুরুতর আহত করা হয়।

এ ঘটনায় অপর পক্ষের দুইজন আহত হয়। পরে আহতদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল ও ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল হোসেন বলেন, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাগর কুমার/হীরা/

পেকুয়ায় পাহাড়ধস, সড়ক ভাঙনে বিচ্ছিন্ন জারুল বনিয়া

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
পেকুয়ায় পাহাড়ধস, সড়ক ভাঙনে বিচ্ছিন্ন জারুল বনিয়া
আলিচান মাতব্বরপাড়া এলাকায় কবরস্থানের পাহাড় ধসে সড়কের ওপর মাটি পড়ে যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ জারুল বনিয়া এলাকায়। এতে চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় মাহাসান (৭০) নামের এক বৃদ্ধ পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি। এর পরের দিন নৌকা করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে কাঠের তৈরি দোলনা। গত দুদিনে একাধিক রোগীকে এভাবে মাইলের পর মাইল কাঁধে বয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর মধ্যে এক প্রসূতিকে হেঁটে ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালেও একই কায়দায় আরেক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়েছেন স্থানীয়রা।

সড়ক বিচ্ছিন্ন থাকায় রোগীকে দোলনায় বহন করে গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বাড়ির পথে ফিরছেন জারুলবনিয়ার কয়েকজন যুবক। ছবি: খবরের কাগজ

স্থানীয় জায়েদ ইবনে আমিন জানান, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শিলখালীর আলিচান মাতব্বর পাড়া সংলগ্ন কবরস্থানের একটি বড় অংশ ধসে প্রধান সড়কের ওপর পড়ে। এতে জারুল বনিয়ার মূল সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনার দিনই পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তবে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকায় মাটি সরানোর ভারী যন্ত্র (এসকেভেটর) দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে ধসে পড়া মাটি ও ধ্বংসস্তূপ এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রধান সড়ক বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে বারাবাকিয়া হয়ে জারুল বনিয়া যাওয়ার আরও একটি রাস্তা থাকলেও সেটিও এখন অচল। পাহাড়ি ছড়ার পানির তীব্র স্রোতে ওই সড়কের দুটি অংশ ভেঙে ধসে গেছে। ফলে কোনো প্রকার যানবাহন এই এলাকায় ঢুকতেও পারছে না, বেরও হতে পারছে না। পুরো এলাকা এখন এক প্রকার অবরুদ্ধ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে।

জারুলবনিয়া এলাকায় পাহাড়ি ঢলে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

ভৌগোলিক কারণে জারুল বনিয়া অঞ্চলটি পেকুয়ার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। প্রতিবছর বর্ষা ও বন্যায় রাজাখালী, মগনামা, কুতুবদিয়া ও উজানটিয়ার মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে, হাজার হাজার মানুষ জানমাল, গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগি নিয়ে এই জারুল বনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। কিন্তু এবার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় দুর্গত মানুষের আশ্রয় নেওয়ার সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উপায়ে হলেও রাস্তার ওপর ধসে পড়া মাটি দ্রুত অপসারণ এবং পাহাড়ি ছড়ার স্রোতে ভেঙে যাওয়া সড়কের অংশগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে ২০ হাজার মানুষের এই দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নেবে এবং যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য সংকটে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

রকিবুল হাসান/অন্তরা/

হিলিতে অসহায় বাকপ্রতিবন্ধীর ঘর করে দিলেন বিএনপিকর্মী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ এএম
হিলিতে অসহায় বাকপ্রতিবন্ধীর ঘর করে দিলেন বিএনপিকর্মী
ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের হিলির ছাতনীতে (বিলপাড়া) অসহায় বাকপ্রতিবন্ধী আলেমন বেগমের (৫৫) পরিত্যক্ত ভাঙা ঘরটি নিজ অর্থায়নে পাকা করে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপিকর্মী ও পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম।

শনিবার (১১ জুলাই) হাকিমপুর হিলি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ছাতনী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছানাউল ইসলামের নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে বাকপ্রতিবন্ধী আলেমনের থাকার জন্য ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। রাজমিস্ত্রিরা ইতোমধ্যে ঘরের মেঝে ও চারদিকের দেওয়ালে প্লাস্টারের কাজ শেষ করেছেন।

আলেমন বেগম ওই গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের মেয়ে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘পাগলী’ নামে পরিচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন আমাদের ছাতনী চৌমুহনী বাজারে ঝাড়ু দিয়ে এবং দোকানদারদের দেওয়া সাহায্য ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকায় কোনো রকমে তার সংসার চলে। বর্ষাকালে তার থাকার মতো কোনো ভালো ঘর ছিল না। আগের ভাঙা ঘরে পানি ঢুকত। ইঁদুরের গর্ত থাকায় ঘর থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। ছানাউল ভাই নিজের খরচে মেঝে পাকাসহ একটি টিনশেড ঘরে থাকার পরিবেশ করে দেন।’

একই এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন খুবই অসহায় একজন মানুষ। তার একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খুব প্রয়োজন ছিল। প্রতিবেশী ছানাউল ভাইয়ের প্রচেষ্টায় আজ থেকে আলেমনের স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা হলো। এতে আমরা গ্রামবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।’

হাকিমপুর পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘আলেমন দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ছাতনী চৌমুহনী বাজারে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করেন। যেকোনো সমস্যায় তিনি আমার কাছে আসতেন। এর আগে তার প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের ব্যবস্থাও আমি করে দিয়েছি। কিন্তু তার রাতে থাকার মতো কোনো ভালো ঘর ছিল না। অনেক দিন থেকেই তাকে একটি ঘর তৈরি করে দেওয়ার চিন্তা করছিলাম। আর্থিক সংকটের কারণে একটু সময় লেগেছে। আগে থেকেই ইট, বালু ও সিমেন্ট জোগাড় করে রেখেছিলাম। রাজমিস্ত্রী লাগিয়ে ঘরের মেঝে পাকাকরণ, চারপাশের ইটের গাঁথুনি ও প্লাস্টারসহ টিনশেড ঘরটির কাজ সম্পন্ন করা হলো। আগামীতে এই ঘরে বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল এবং ল্যাট্রিনের ব্যবস্থাও করে দেব।’

তিনি আরও বলেন দলের একজন কর্মী হিসেবে আমার এলাকার এই অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর পাশে দাঁড়িয়েছি এবং ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকব।

হাকিমপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পৌর তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছানাউল ইসলাম পেশায় একজন সাধারণ কৃষক হলেও তিনি অত্যন্ত বড় মনের মানুষ। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আলেমন বেগমকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। ছানাউল ইসলামের এই উদ্যোগের পাশাপাশি পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে ওই ঘরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’

কুদ্দুস খান/খাদিজা রুমি/

বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা
পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ওরফে সজিব মণ্ডল ও সেবায়েত শান্ত বিশ্বাস

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গিয়ে উল্টো দুই পুরোহিতকে ভ্যান চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আহত করার অভিযোগে ওই দুই পুরোহিতকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে চোর শনাক্ত করা না যাওয়ায় এবং ধস্তাধস্তিতে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা বাবদ তাদের এ জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ ঘটনার পর পুরোহিতরা ভীত থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতেও অনাগ্রহী। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বোয়ালমারী পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার কামারগ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর নিত্যসেবা অঙ্গন আখড়াবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। সে সময় পুরোহিতরা দুপুরের খাবার শেষে বিশ্রামে ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা মন্দির থেকে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কেজি কাঁসা-পিতলের থালা, বাটি, গ্লাস ও কলস একটি বাজারের ব্যাগে ভরে ভ্যানে করে পালিয়ে যায়।

মন্দিরের পাশের এক নারী একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখে বিষয়টি সেবায়েতদের জানান। পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ওরফে সজিব মণ্ডল (২০) ও সেবায়েত শান্ত বিশ্বাস সন্দেহভাজনদের খুঁজতে বের হন।

তাদের দাবি, বোয়ালমারী পৌর বাজারের কৃষি ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় ফুটেজে দেখা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে থামতে বললে তারা ভ্যানে করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হলে তারা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় রাজু নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেয়ালের ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন।

এরপর ভ্যান চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন দুই পুরোহিতের হাত পিঠমোড়া করে রশি দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। 

খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক গিয়ে দুই পুরোহিতকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘আমাদের মারধর করা হয়েছে, খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে গেছে। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমি অন্য একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে বাইরে ছিলাম। পরে জানতে পেরেছি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’

স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘সালিশে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ১৮ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে আমি বৃষ্টির কারণে পৌঁছানোর আগেই সালিশ শেষ হয়ে যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে ঘটনাটি একপেশেভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।’ 

এ ঘটনায় হিন্দু অধ্যুষিত কামারগ্রাম এলাকায় উদ্বেগ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে চোরের মুখ স্পষ্ট বোঝা যায়নি। ঘটনাস্থলে হাতাহাতিতে একজন আহত হয়েছেন। তার চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সালিশে ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোনো পক্ষ এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনকেবি নয়ন/অমিয়/

মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা
মতলব সেতুর উত্তর সংযোগ সড়কে সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে/ ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলবে ধনাগোদা নদীর উপর নির্মিত মতলব সেতুর উত্তর সংযোগ সড়কে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণে সড়কে বড় ধরনের সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারনে সড়কটি ভেঙে এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এবং ঢাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কয়েক মাস আগে এই সড়কের মেরামতের কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে মেরামত করা স্থানটি আবার ভেঙে অচলাবস্থা প্রায়।

ইউপি সদস্য গোলাম নবী খোকন বলেন, 'এই ভাঙা সুরঙ্গ যদি দ্রুত সংস্কার না হয় তাহলে ব্রিজটি আস্তে আস্তে ভেঙে যাবে। প্রায় সময় এই জায়গায় সুরঙ্গ তৈরি হয়। স্থায়ীভাবে সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন রইল।'

পথচারী মো. মিজানুর রহমান  বলেন, 'এই রাস্তা দিয়ে আমরা দিনে-রাতে চলাচল করি। এখন এমন অবস্থা হইছে, যে কোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে।'

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম ইশমাম বলেন, বৃষ্টির কারনে সড়কটি ভেঙে সুরঙ্গ হয়েছে। জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। মেরামতের কাজ চলছে।

সাহাদাত/তামান্না রুপা/