ঢাকা ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
দুপুরেরর মধ্যে ১৬ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা হাতিয়ায় ৯০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ শুভসন্ধ্যা সৈকতে পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার গজারিয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়ায়  উদ্বোধন ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ বৃষ্টির পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ঢাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার গোরানের বাসা থেকে লালমাটিয়া কলেজের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার মায়ামিতে ইতিহাস বনাম স্বপ্ন কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড ‘আগুনে পরশমণি’ পরীক্ষা আর্জেন্টিনার মুক্তাগাছায় বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে ঋণচুক্তি আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানেও যুদ্ধের ছায়া শিবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু সোনারগাঁয় যুবদল নেতার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এমপিপুত্র সাতক্ষীরায় রাতভর রেকর্ড বৃষ্টি: তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ পাহাড়ধসে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা যুদ্ধ বন্ধে তৎপর মধ্যস্থতাকারীরা সোনারগাঁয় পানাম নগরীর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ যমুনার ভাঙনে ধুনটে হুমকির মুখে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত তলানিতে মেসিদের সুইস দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ কাজে লাগছে না কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী পুলিশকে বারবার টার্গেট, অপ্রতিরোধ্য মব সহিংসতা! সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ
বান্দরবানের সদর উপজেলায় বন্যা নিমজ্জিত এলাকা। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। ঘরে বন্দি অসহায় বৃদ্ধের মরদেহ ভেসে উঠেছে বানের পানিতে। নৌকাডুবিতে প্রাণ গেছে কিশোরীর। পানির তোড়ে সড়ক ভেঙেছে। ভেসে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের খেত। পানিবন্দি লোকালয়ে এখন হাহাকার–‘একটু চাল পাওয়া যাবে? শিশুরা কাঁদছে।’

বান্দরবানের সাঙ্গু, মাতামুহুরী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুরে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

বাঁধ ভেঙে প্লাবিত গ্রাম, পানিবন্দি লাখো মানুষ

মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সড়কের কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। পানির স্রোতে ধানখেত ও শাকসবজির ক্ষতি হচ্ছে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিল এলাকা ও মনু নদীর উজিরপুর এলাকা দিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব স্থানে ঝুকিপূর্ণ বাঁধ আছে, তা মেরামতের চেষ্টা চলছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শিশু-বৃদ্ধসহ গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পানিবন্দি পরিবারগুলো। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। 

ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম এলাকায় বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নামছে। এর প্রভাবে তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা ও পাটলাই, জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর ও কুশিয়ারা, দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রক্তি, সদর উপজেলার চলতি নদে পানি বেড়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ারখলা, দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি উঠেছে। এসব পয়েন্টে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১ হাজার ২০১ জন নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও ইরা, ব্র্যাক ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিম, শুকনো খাবার, ওষুধও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভারতের গজলডোবা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। পানির চাপ বাড়লে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীর তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানান ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।’

শেরপুরে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায়ও। মহারশি নদীর পানি বেড়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া সোমেশ্বরী নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শ্রীবরদী উপজেলার রানী শিমুল, গোবিন্দপুর, চক্রপুর ও বড়ইকুচি এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নাকুগাঁও পয়েন্টে ভোগাই নদী এবং নালিতাবাড়ী পয়েন্টের নদীর পানিও বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। 

১০৯ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে যশোর পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল। জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যশোর পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। অবিরাম বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশের মাটি ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। 

খাদ্যসংকট 

টানা আট দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ২০ হাজার মানুষ। মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এসব এলাকায় নিম্ন আয়ের বহু পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে থাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছে।
ঝালকাঠি জেলার নিম্নাঞ্চলে কৃষি শ্রমজীবী মানুষের আয়ের পথও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। মাঠে পানি জমে থাকায় দিনমজুররা কাজে যেতে পারছেন না। 

ঝালকাঠি সদরের বিষখালী নদীতীরবর্তী চর ভাটারকান্দা এলাকায় নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কিছু স্থানে ব্লক দিয়ে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হলেও নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

অসহায় বৃদ্ধের মৃত্যু

এদিকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামে মনু নদের বাঁধ ভেঙে যায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। কিন্তু বৃদ্ধ আশরাফ মিয়া কোথাও যেতে পারেননি। বন্যার পানি বাড়তে থাকে রাতে। পরে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে দেখেন ঘরের ভেতরে পানিতে ভাসছে আশরাফ মিয়ার মরদেহ। টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বন্যার পানিতে ডুবে ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল সকালে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যাওয়ার পথে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝর্ণা (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ আশিক (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
 
যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে 

অতি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে নুরজাহান চা-বাগানের গোয়ালবাড়ী নামক স্থানে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নৌ-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বন্যার কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে নিমজ্জিত। বহু এলাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারও মানুষ।

বন্যা পরিস্থিতির সুখবর নেই

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ধীরগতিতে হ্রাস পেতে পারে, যাতে নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ঘটাতে পারে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং সুরমা নদীসংলগ্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তবে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি ধীরগতিতে হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ ছাড়া ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরি, চোর ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ২ পুরোহিতকে জরিমানা
পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ওরফে সজিব মণ্ডল ও সেবায়েত শান্ত বিশ্বাস

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গিয়ে উল্টো দুই পুরোহিতকে ভ্যান চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আহত করার অভিযোগে ওই দুই পুরোহিতকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে চোর শনাক্ত করা না যাওয়ায় এবং ধস্তাধস্তিতে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা বাবদ তাদের এ জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ ঘটনার পর পুরোহিতরা ভীত থাকায় আইনি পদক্ষেপ নিতেও অনাগ্রহী। 

এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বোয়ালমারী পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার কামারগ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর নিত্যসেবা অঙ্গন আখড়াবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। সে সময় পুরোহিতরা দুপুরের খাবার শেষে বিশ্রামে ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা মন্দির থেকে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কেজি কাঁসা-পিতলের থালা, বাটি, গ্লাস ও কলস একটি বাজারের ব্যাগে ভরে ভ্যানে করে পালিয়ে যায়।

মন্দিরের পাশের এক নারী একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখে বিষয়টি সেবায়েতদের জানান। পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ওরফে সজিব মণ্ডল (২০) ও সেবায়েত শান্ত বিশ্বাস সন্দেহভাজনদের খুঁজতে বের হন।

তাদের দাবি, বোয়ালমারী পৌর বাজারের কৃষি ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় ফুটেজে দেখা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে থামতে বললে তারা ভ্যানে করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হলে তারা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় রাজু নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেয়ালের ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন।

এরপর ভ্যান চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন দুই পুরোহিতের হাত পিঠমোড়া করে রশি দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ কিছু টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। 

খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক গিয়ে দুই পুরোহিতকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগী সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘আমাদের মারধর করা হয়েছে, খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে গেছে। তবে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমি অন্য একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে বাইরে ছিলাম। পরে জানতে পেরেছি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’

স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘সালিশে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আহত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য ১৮ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। তবে আমি বৃষ্টির কারণে পৌঁছানোর আগেই সালিশ শেষ হয়ে যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এড়াতে ঘটনাটি একপেশেভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।’ 

এ ঘটনায় হিন্দু অধ্যুষিত কামারগ্রাম এলাকায় উদ্বেগ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে চোরের মুখ স্পষ্ট বোঝা যায়নি। ঘটনাস্থলে হাতাহাতিতে একজন আহত হয়েছেন। তার চিকিৎসা ব্যয় বাবদ সালিশে ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোনো পক্ষ এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনকেবি নয়ন/অমিয়/

মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ এএম
মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা
মতলব সেতুর উত্তর সংযোগ সড়কে সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে/ ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের মতলবে ধনাগোদা নদীর উপর নির্মিত মতলব সেতুর উত্তর সংযোগ সড়কে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণে সড়কে বড় ধরনের সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারনে সড়কটি ভেঙে এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এবং ঢাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, কয়েক মাস আগে এই সড়কের মেরামতের কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে মেরামত করা স্থানটি আবার ভেঙে অচলাবস্থা প্রায়।

ইউপি সদস্য গোলাম নবী খোকন বলেন, 'এই ভাঙা সুরঙ্গ যদি দ্রুত সংস্কার না হয় তাহলে ব্রিজটি আস্তে আস্তে ভেঙে যাবে। প্রায় সময় এই জায়গায় সুরঙ্গ তৈরি হয়। স্থায়ীভাবে সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন রইল।'

পথচারী মো. মিজানুর রহমান  বলেন, 'এই রাস্তা দিয়ে আমরা দিনে-রাতে চলাচল করি। এখন এমন অবস্থা হইছে, যে কোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে।'

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম ইশমাম বলেন, বৃষ্টির কারনে সড়কটি ভেঙে সুরঙ্গ হয়েছে। জায়গাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। মেরামতের কাজ চলছে।

সাহাদাত/তামান্না রুপা/

হাতিয়ায় ৯০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ এএম
হাতিয়ায় ৯০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলক্ষ মানুষ
এভাবেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পার হচ্ছেন পানিবন্ধী মানুষরা। ছবি: খবরের কাগজ

টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি এবং অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

কিছু এলাকায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও এখনো অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় এবং রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবারে খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা, শাকসবজির খেত এবং অসংখ্য মাছের ঘের। ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।  দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও দুর্গতদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, বুড়িরচর, সোনাদিয়া, হরনী, চানন্দী, চরকিং, সুখচর, নলচিরা, জাহাজমারা, তমরদ্দি ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নসহ হাতিয়া পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, টানা বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নিচু এলাকার পানি বের হওয়ার সুযোগ পায়নি। অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গ্রামের রাস্তাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যানচলাচল প্রায় বন্ধ। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।

ওছখালী ব্যবসায়ীরা খবরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এমন অবস্থা হয়। যদি এই সমস্যা স্থায়ী সমাধান না করা হয় তাহলে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে। ঠিক মতো পানি নামতে না পারা, খাল-নালা ভরাট এবং টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

সোনাদিয়া  ইউনিয়নের কৃষক মো. সৌরাভ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমনের বীজতলা, সবজিখেত ও মাছের ঘের সব শেষ কয়েক মাসের পরিশ্রম এক বৃষ্টিতেই নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে চাষ করার মতো পুঁজিও নেই।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব আলি খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের চারপাশে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। জোয়ার এলেই পানি উঠে যায়। এবার ছয় দিনের বৃষ্টিতে রান্নাঘর ডুবে গেছে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দ্রুত পানি না নামলে আরও বিপদ হবে।

হাতিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনিসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, হাতিয়া উপজেলায় প্রায় ৮০-৯০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ইকবাল খবরের কাগজকে বলেন, হাতিয়া নদীবেষ্টিত একটি উপজেলা। কয়েকটি এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। ২৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় একহাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বৃষ্টি কমলেও এখনো অনেক এলাকায় পানি নামেনি।

দ্রুত পানি নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষিদের পুনর্বাসনে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

হানিফ/এএফ

শুভসন্ধ্যা সৈকতে পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬ এএম
শুভসন্ধ্যা সৈকতে পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার
ছবিঃ খবরের কাগজ

বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্রে নিখোঁজ পর্যটক মো. আসাদুলের (১৬) মরদেহ তিন দিন পর সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় স্রোতে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সৈকত থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে নিদ্রার চর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

গত ৭ জুলাই চার বন্ধুকে নিয়ে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যান আসাদুল। সমুদ্রে গোসল করতে নামলে নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগরের প্রবল ঢেউ ও তীব্র স্রোতে তারা সবাই ভেসে যান। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আসাদুল নিখোঁজ হন। 
 
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালায়। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। 

তিন দিন পর শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা নিদ্রার চর এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি উদ্ধারের পর গায়ে থাকা গেঞ্জি দেখে নিখোঁজ আসাদুলকে শনাক্ত করেছে উপস্থিত স্বজনরা। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

মহিউদ্দিন অপু/অদিতি/

গজারিয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়ায়  উদ্বোধন ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ এএম
গজারিয়ায় আধুনিকতার ছোঁয়ায়  উদ্বোধন ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’
ছবির ক্যাপশন: গজারিয়ায় যাত্রা শুরু করল ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ প্রকৃতির মাঝে অপরূপ এক ফ্যামিলি ডেস্টিনেশন

সোনারগাঁ উপজেলার পাশের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশে অতীত ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় যাত্রা শুরু করলো ব্যতিক্রমধর্মী ফ্যামিলি ডেস্টিনেশন ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে গজারিয়ার বালুয়াকান্দি এলাকায় নির্মিত ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ ফ্যামিলি ডেস্টিনেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব, ঢাকার সাবেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রোকন-উদ-দৌলা।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন বিষয়ক সাময়িকী ‘ভ্রমণ’-এর সম্পাদক আবু সুফিয়ান, কবি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান তরুণ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-র নাতি চরিত্রে অভিনয়শিল্পী শওকত আলী তালুকদার নিপু, উপস্থাপক ও টিভি নাট্য অভিনেতা শাহ সুলতান চৌধুরী (শাহেন শাহ)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিবেশবিদ কাজী হাসান।

প্রায় দুই দশকের সেবার অভিজ্ঞতা, মানবকল্যাণের অঙ্গীকার এবং মানসম্মত বিপণন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। এটি প্রচলিত হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের ধারণাকে নতুন মাত্রা দিয়ে একই ছাদের নিচে মিলিয়েছে প্রকৃতি, বিশুদ্ধ খাবার, আধুনিক সেবা ও পারিবারিক বিনোদনের অনন্য সমন্বয়।

শত শত দেশি-বিদেশী গাছপালা, ২১টি দৃষ্টিনন্দন অ্যাকোয়ারিয়ামে রঙিন মাছের সমাহার এবং পাখির কলতানে ভরা এই নৈসর্গিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের মনের ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি এনে দেবে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের নির্মল সংস্পর্শ। খাদ্যরসিকদের জন্য রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু খাবারের সমাহার। এছাড়া শিশুদের জন্য কিডস জোন, জিম কর্নার, মেশিন ম্যাসাজ জোন ও নামাজের সুব্যবস্থাও রয়েছে।

একই কমপ্লেক্সে রয়েছে শাহ শের আলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, যেখানে সিএনজি, এলপিজি (অটোগ্যাস), অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হয়। আরো রয়েছে অনন্যা মার্ট, আধুনিক জামে মসজিদ এবং ভ্রমণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা। ফলে এটি শুধু একটি রেস্টুরেন্ট নয়, বরং একটি সমন্বিত হাইওয়ে সার্ভিস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে উঠেছে।

বিয়ে, জন্মদিন, করপোরেট সভা, সেমিনার ও অন্যান্য সামাজিক আয়োজনের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সবুজে ঘেরা আধুনিক অনুষ্ঠানস্থল। প্রশস্ত পার্কিং, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আন্তরিক সেবার কারণে ন্যাচার লাউঞ্জ দূরপাল্লার যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত মিলনকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

উল্লেখ্য, শাহ শের আলী গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান শাহ শের আলী কোম্পানি ড্রেজিং ব্যবসার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ২০০০ সালে। পরবর্তীতে ‘শাহ শের আলী সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন’-এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে এবং ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি ওই সময়েই প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সেবার মানসিকতা এবং উন্নত গ্রাহকসেবার ধারাবাহিকতায় আজ (১১ জুলাই) যাত্রা শুরু করল ‘ন্যাচার লাউঞ্জ’ যা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা প্রকৃতি-নির্ভর হাইওয়ে ফ্যামিলি ডেস্টিনেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে স্থানীয়রা।

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/